আমার ১৩ বছরের ফুপাতো বোন নাজিমাকে কে যেন প্রেগন্যন্ট করে দিয়েছে। এজন্য ফুপু আমাকে ফোন করে যেতে বলেছেন।
আমিও বিকেলবেলা হাজির হলাম তাদের বাসায়। বলে রাখা ভালো আমি কোন প্রফেশনাল গোয়েন্দা না। তবে টুকটাক পরিবারে যেকোন সমস্যা হলে সবার আগে আমাকে ফোন দেয়।
ঘরে ঢুকে দেখলাম সোফার রুমে গালে হাত দিয়ে বসে আছেন ফুপু। আর ফুপা সোফার বসা ফোন টিপসেন। নাজিমা অন্যরুমে মন খারাপ করে বসা। তার ইন্টারভিউ পরে নিব।
ফুপু বললেন, আইসোস। বস। চা খাবি?
আমি বললাম, অবশ্যই।
নাজিমা আসলে উনাদের দত্তক নেওয়া মেয়ে। আমার ফুপার শারিরীক সমস্যার কারনে উনাদের বেবী হয়নি। তাই নাজিমা যখন মাত্র ৭দিন এর তখনই তারা দত্তক নেয়। বলতে গেলে টাকা দিয়ে কিনে নেয় বাচ্চা। তারপর ফুপা নিজের মেয়ের মতো বড় করেছেন স্কুলে পড়াচ্ছেন। নাজিমা মাত্র ক্লাস ৭ এ পড়ে৷ তবে আমি এখনও বুঝতে পারছি না সে প্রেগন্যান্ট হলো কিভাবে?
ফুপু আমাকে চা দিলেন।
ফুপু বললেন, গত ২মাস ধরে নাজিমার পিরিয়ড হয় না৷ তারপর মিডফোর্ট হাসপাতাল নিয়ে যাই। সেখানে রোগ ধরা পড়ে না৷ এরে আল্ট্রাসোনো করে দেখে পেটে বাচ্চা।আমি তো অনেক মারছি নাজিমাকে তাও স্বীকার করেনি বাচ্চা কার। তুই একটু ট্রাই করে দেখ।
আমি বললাম, তোমার কার ওপর সন্দেহ?
ফুপু বললেন, ওর ইংরেজি টিচার ওই বেডায় পড়াতে আসে দুপুর ৪টায়। স্যারের নাম ইয়াসীন। ইয়াসীন এর নজর ভালো না। লুইচ্চা স্যার। আমার তো মনে হয় ইয়াসীন ই এই কাজ করেছে?
আমি বললাম, তাহলে কি আমি ইয়াসীনকে জিজ্ঞেস করবো সে কেন এসব কাজ করলো পিচ্চি একটা মেয়ের সাথে?
ফুপু বললেন, ভুলেও না৷ এসব আমাদের পারিবারিক ব্যপার। আমি চাই না বাইরে জানাজানি হোক। পরে মেয়ের বিয়ে দিতে পারব না।
আমি বললাম, তাহলে তোমরা কি চাও?
ফুপু বললেন, আমি জানতে চাই এই আকাম কে করলো নাজিমার সাথে?
আমি বললাম, ডিএনএ টেস্ট করাই চলো।
ফুপু বললেন, এসব ডিএনএ ফিএনএ বুঝি না বাবা। তুই সহজে এমন কিছু কর যাতে ওর পেটের কথা বের হয়। তুই তো অনেক সাইকলোজি, মাইকলোজি জানোস। এজন্যই তো তোরে ডাক দিসি।
আমি চিন্তায় পড়ে গেলাম। এটা তো গল্প না যে সবাইকে সন্দেহ করবো শেষে একজনকে ক্রিমিনাল বানাই দিলাম আর দর্শক হাততালি দিয়ে বলবে আমাদের মাথায় তো কখনই আসেনি যে এই কাজ উনি করতে পারে। রিয়েল লাইফে গল্পের চেয়েও মারাত্মক টুইস্ট পাওয়া যায়।
আমি এবার নাজিমার সাথে কথা বলার জন্য তার রুমে ঢুকলাম। নাজিমার চোখে অপরাধবোধ ও ভয় একসাথে। তার চোখ ফ্লোরের দিকে। যেন ভয় পাচ্ছে নয়তো কিছু একটা লুকাচ্ছে আমার থেকে।
আমি সাধারন ভাবে শুরু করলাম।
আমি বললাম, কেমন আছো নাজিমা?
নাজিমা কোন উত্তর দিল না। ফ্লোরের দিকেই তাকিয়ে আছে।
আমি আবার বললাম, তুমি কি জানো তুমি প্রেগন্যান্ট?
(একটু লজ্জা পেলাম পিচ্চি একটা মেয়েকে এসব প্রশ্নে করে)
নাজিমা শুধু মাথা নেড়ে হ্যা বললো।
আমি বললাম, কে এই বাচ্চার বাবা?
নাজিমা মাথা নেড়ে 'না' বললো। তারপর আঙুল দিয়ে দেয়ালের দিকে দেখিয়ে দিল৷ আমি দেয়ালের দিকে তাকালাম৷
সেখানে ছেলে বার্বিডল রাখা। বুঝলাম নাজিমা আমার সাথে মজা করছে। সত্য সে বলবে না। মায়ের হাতে মাইর খেয়ে মেয়েটা ভয়ে চুপ হয়ে গেছে।
আমি সিগারেট খাওয়ার জন্য বারান্দায় এসে দাড়ালাম। সিগারেট টানছি আর ভাবছি কে হতে পারে ক্রিমিনাল?
তখনই আমার ফোনে স্যাম এর কল আসলো। স্যাম ফুপার বন্ধুর ছেলে৷ হঠাৎ আমাকে কেন কল দিল? স্যামকে আমি ছোটবেলা থেকেই চিনি। ওর সাথে ভালোই সম্পর্ক ফ্রেন্ডলি ভাইয়ের মতো।
আমি স্যামের কল ধরলাম। ওপাশ থেকে স্যাম বলল, ভাই তুই তো এখন নাজিমার বাসায়। একটা বড় আকাম হয়ে গেছে। নাজিমা সেদিন আমাদের বাসায় আসে তখন রাত ২টা বাজে। আম্মু বলে তোরা দুইজন একই ঘরে ঘুমিয়ে থাক। তোরা তো পোলাপান কিছু হবে না৷ এদিকে আমি ১৯ বছরের পোলা, হরমোনে লাড়া দিল রাতে। তারপর নাজিমাকে কিস করছি তারপর ওসব হয়ে গেছে?
আমি স্যামের কথা শুনে মনে হলো চটি গল্পের কাহিনী বলছে। এসব কি বিশ্বাস করা যায়। যেহেতু নাজিমা সত্যি ই প্রেগন্যন্ট তো স্যাম সত্যি ই বলসে। এই থেকে কি বুঝলাম। কিশোরী মেয়েকে কখনও বন্ধুর বাসায় রাতে একা থাকতে দিও না। দূর জ্ঞান দেওয়া আমার কাজ না।আমার কাজ গল্প বলা। পাঠক নিজেরাই জ্ঞানী।
তারপর আর কি যেহেতু জেনে গেছি আকাম কে করছে। সিগারেট খাওয়া শেষে আবার নাজিমার ঘরে ঢুকলাম। নাজিমা খাটে চুপচাপ বসে আছে। আলমারীর ওপর যে ছেলে বার্বিডল রাখা। তার পাশেই একটা ছবি দেয়ালে সেখানে নাজিমার ১২তম জন্মদিনে নাজিমা ও স্যাম কাধে হাত রেখে ছবি তুলেছে দুজনে৷ আগে কেন আমার ছবিটা চোখে পড়লো না। তার মানে নাজিমা ইশারায় স্যামের কথাই বলেছিল। যা আমি নোটিস করিনি।
আমি চলে যাব তখন ফুপু চিন্তিত হয়ে বলল, চলে যাচ্ছিস?
আমি বললাম, অবশ্যই।
তারপর চলে আসলাম সেখান থেকে ক্যাস সলভ।
#কিশোরী_প্রেগন্যন্ট_রহস্য
#রুদ্র_সিয়াম