আজ ১৫ বছর পর রাহুল বলল, বাবা তুমি নাকি আমাকে দত্তক নিয়েছিলে। তার মানে আমি তোমার সন্তান না।
আবির হোসেন তার চমশা ঠিক করলেন। টেনসনে থাকলে তিনি বার বার চশমায় হাত রাখেন এটা তার অভ্যাস।
আবির হোসেনকে চুপ করা দেখে রাহুল আবারো বলল, তাহলে আমার আসল পিতা মাতা কে?
আবির হোসেনের সামনে ভেসে উঠলো কিছু অতীতের স্মৃতি বৃষ্টি পড়ছে মেয়েটা তাকে ডাকছে। সেও দৌড়ে নেমে পড়লো বৃষ্টিতে তারপর থেকে প্রেম। মেয়েটা ছিল তার ফুপাতো ভাইয়ের বান্ধবী। বিন্দাস, ফুর্তিবাজ মেয়ে, সিগারেট খায় আর তার অনেক ছেলেবন্ধু। এমন মেয়েদের আবির দুঃচক্ষে দেখতে পারতো না। কিন্তু রিয়ার সাথে পরিচয় হয়ে তার ধারনা পাল্টে গিয়েছিল। সিগারেট খেলেই কেউ খারাপ হয় না।
সেদিন প্রথমবার আবির তার ফুপাতো ভাইয়ের সাথে ঘুরতে গিয়েছিল। সেখানে রিয়াও আসে। এভাবেই তাদের পরিচয়। তারপর বৃষ্টিতে একসাথে ভেজা, হাত ধরে হাটা, একরাতে খুব ঝড় হচ্ছিল। সেদিন আবির রিয়াকে তার বাসায় থেকে যেতে বলল, রিয়াও রাজি হলো। তখন কেউ ছিল না বাসায়। তারা দুজন মিলিত হলো। আর তার কয়েক মাস পর রিয়া জানালো সে প্রেগন্যান্ট।
আবির তখনও পড়াশোনা শেষ করেনি। মাত্র ভার্সিটিতে উঠেছে। সে বলল, আমি এই বাচ্চার দ্বায়িত্ব নিতে পারব না। তুমি এভোর্সন করাও। যত টাকা লাগে আমি দিব।
রিয়া চাইছিল না এভোর্সন করাতে। শেষে বাচ্চা ডেলিভারি হয়, আর অল্পবয়সে মা হয়েও নিজের ছেলের মুখ দেখতে পারে না রিয়া। তার আগেই পৃথিবী ছেড়ে যায় আর রেখে যায় একটা চিঠি। যেখানে লেখা প্রমিজ করো আমার কিছু হলে তুমি আমার ছেলেকে দেখে রাখবে।
বাচ্চা হয়েছে তা জানতো না আবির। তার ফুপাতো ভাই বলায় জানতে পারে। তারপর নিজের বাচ্চাকে কোলে নিয়ে বাসায় আসে আর বলে এটা সে দত্তক নিয়েছে তার মা মারা গেছে।
আজ ১৫ বছর পর কি সে তার ছেলে রাহুলকে সত্য কথা জানাবে? যে রাহুল তার ই আপন ছেলে? তার ই পাপের ফল সে।
ছোটগল্প: নষ্টনীড়
লেখক: রুদ্র সিয়াম