মহানবমীর আলোয় বিদায়ের সুর
আদিত্য ভৌমিক
তারিখ:২০/১০/২০২৬
শরতের নীল আকাশজুড়ে মেঘের আনাগোনা,
কাশফুলের দোলায় দোলে মায়ের আগমনী বেদনা।
শিউলির গন্ধে ভরে আছে বাংলার প্রতিটি প্রান্তর,
ঢাকের তালে জেগে উঠেছে উৎসবমুখর অন্তর।
আজ মহানবমী, পূজার বুকে আবেগের ঢেউ ওঠে,
মায়ের মুখের স্নিগ্ধ হাসি হৃদয়জুড়ে ফোটে।
অঞ্জলিভরা ফুলের মাঝে কত না প্রার্থনা,
মায়ের চরণে সমর্পিত জীবনের সব কামনা।
ধূপের ধোঁয়ায় মিশে থাকে অজস্র মনের কথা,
আনন্দেরই আড়ালজুড়ে জমে ওঠে ব্যথা।
কত দিনের অপেক্ষা শেষে এসেছেন মা ঘরে,
কেন তবে বিদায়ের সুর বাজে অন্তরে অন্তরে।
পুরোহিতের মন্ত্রধ্বনিতে কাঁপে মণ্ডপপ্রাঙ্গণ,
ঢাকির তালে দুলে ওঠে উৎসবেরই ক্ষণ।
আলোয় আলোয় সাজানো আজ পূজামণ্ডপখানি,
তবু হৃদয় বুঝতে পারে, ফুরিয়ে আসে বাণী।
আগামীকাল বিজয়া দশমী, বিদায়ের সেই ক্ষণ,
সিঁদুররাঙা আবেগ নিয়ে কাঁদবে ভক্তের মন।
দেবীবরণ, মিষ্টিমুখ আর কোলাকুলির ভিড়ে,
অশ্রুজলে ভিজবে চোখ মা বিদায় নেবেন ফিরে।
মা কি শুধু প্রতিমাতেই, মণ্ডপেরই মাঝে,
মা তো থাকেন মমতারূপে প্রতিটি সুখদুঃখের কাজে।
যে মায়ের কাছে প্রার্থনা করি দুঃসময়ের রাতে,
সেই মা যেন শক্তি হয়ে থাকেন সবার সাথে।
বিদায় মানে শেষ নয় মা, এ তো ফিরে আসার আশা,
বিরহের বুকেই লুকিয়ে থাকে মিলনমধুর ভাষা।
এক বছরের প্রতীক্ষা নিয়ে রাখব প্রদীপ জ্বেলে,
আবার এসো মা গো ফিরে শরতের কাশের মেলে।
যত অন্ধকার ঘিরে থাকুক, জাগুক আলোর গান,
মানুষে মানুষে গড়ে উঠুক ভালোবাসার টান।
অশুভ শক্তি দূরে যাক, মুছে যাক সব গ্লানি,
শান্তি, মৈত্রী, সম্প্রীতিতে ভরে উঠুক ধরণিখানি।
আজ মহানবমীর প্রার্থনা, আগামীকাল বিদায়,
মায়ের আশিস সঙ্গে নিয়ে কাটুক সবার সময়।
বিজয়ার এই পবিত্র ক্ষণে এইটুকুই চাই,
সকল প্রাণে মঙ্গল হোক, দুঃখ যেন না পাই।
মা দুর্গা, আবার এসো, আপন আলোয় ভরে,
তোমার আশিস থাকুক সবার জীবনজুড়ে।
বিদায়ের অশ্রু মুছে যাক আশার নতুন ভোরে,
আগমনী গান বাজুক আবার বাংলার ঘরে ঘরে।