চলেন নিষিদ্ধ নগরী (Forbidden City) নিয়ে গল্প জমাই। কিছু দিন আগেই ঘুরে এসে টাটকা স্মৃতি থেকে আসলো এই লেখা।
চীনের রাজধানী বেইজিং শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত নিষিদ্ধ নগরী (Forbidden City) বিশ্বের অন্যতম বিখ্যাত ঐতিহাসিক স্থাপনা। এটি চীনের সম্রাটদের রাজপ্রাসাদ হিসেবে ব্যবহৃত হতো। ১৪০৬ সালে মিং রাজবংশের সম্রাট ইয়ংলে এই প্রাসাদ নির্মাণের কাজ শুরু করেন এবং ১৪২০ সালে এর নির্মাণ সম্পন্ন হয়। প্রায় ৫০০ বছর ধরে এটি চীনের ২৪ জন সম্রাটের আবাসস্থল ও শাসনকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
নিষিদ্ধ নগরীর নামকরণের পেছনে রয়েছে একটি বিশেষ ইতিহাস। প্রাচীনকালে সাধারণ মানুষ এবং অনুমতি ছাড়া কোনো ব্যক্তি এই প্রাসাদে প্রবেশ করতে পারতেন না। কেবল সম্রাট, রাজপরিবারের সদস্য এবং নির্দিষ্ট কর্মকর্তারাই এখানে প্রবেশের অনুমতি পেতেন। এ কারণেই এর নাম হয় ‘নিষিদ্ধ নগরী’।
এই বিশাল প্রাসাদ কমপ্লেক্সটি প্রায় ৭২ হেক্টর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। এখানে প্রায় ৯৮০টি ভবন এবং অসংখ্য কক্ষ রয়েছে। প্রাসাদটির স্থাপত্যশৈলীতে চীনের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও রাজকীয় ঐশ্বর্যের অপূর্ব প্রকাশ ঘটেছে। ভবনগুলোর লাল দেয়াল, সোনালি ছাদ, কারুকার্যখচিত দরজা এবং সুন্দর বাগান দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। চীনা সংস্কৃতিতে লাল রং সুখ ও সমৃদ্ধির প্রতীক এবং সোনালি রং রাজকীয় মর্যাদার পরিচায়ক।
১৯২৫ সালে নিষিদ্ধ নগরীকে জাদুঘর হিসেবে সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। বর্তমানে এটি ‘প্যালেস মিউজিয়াম’ নামে পরিচিত। এখানে চীনের প্রাচীন চিত্রকর্ম, মূর্তি, পোশাক, অলংকার, মূল্যবান আসবাবপত্র এবং ঐতিহাসিক নিদর্শন সংরক্ষিত রয়েছে। ১৯৮৭ সালে ইউনেস্কো নিষিদ্ধ নগরীকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের স্বীকৃতি দেয়।