জিম্বাবুয়ের লেখক সিম্বারশে কুন্দিজেজা তার পুরস্কারজয়ী ছোটগল্প 'দ্য ব্লু ফাইটার' লিখতে এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন। এই গল্পটির জন্যই তিনি চলতি বছর আফ্রিকান সাহিত্যের জন্য দেওয়া কেইন প্রাইজ জিতেছেন।
৬ অক্টোবর, আফ্রিকান লেখকদের জন্য মর্যাদাপূর্ণ কেইন প্রাইজের বিজয়ী হিসেবে কুন্দিজেজার ‘দ্য ব্লু ফাইটার’ গল্পটির নাম ঘোষণা করা হয়। এর পাঁচ দিন পর মার্কিন সাময়িকী দ্য আটলান্টিকে প্রকাশিত একটি প্রবন্ধে দাবি করা হয় যে, এআই ডিটেকশন সফটওয়্যার প্যানগ্রাম দিয়ে গল্পটি পরীক্ষা করে দেখা গেছে, এটি সম্পূর্ণ এআই দিয়ে তৈরি।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সিম্বারশে কুন্দিজেজা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স এবং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দেওয়া বিবৃতির মাধ্যমে তার বক্তব্য তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, গল্পটি সম্পূর্ণ তার নিজের লেখা। ২০০২ সালের দিকে জিম্বাবুয়ের অর্থনৈতিক সংকটের সময় তার নিজের পারিবারিক অভিজ্ঞতা ও তার বাবার জীবনের বাস্তব কিছু ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি এটি লিখেছেন। এছাড়া ঘানায় একটি অনুষ্ঠানে দক্ষিণ আফ্রিকান কবি ভ্যাঙ্গিলে গান্টশো এর একটি কবিতা শুনেও তিনি এই গল্প লেখার অনুপ্রেরণা পান।
এআই সনাক্তকারী প্রযুক্তিগুলোর বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব এবং বিভিন্ন ত্রুটির অভিযোগ করেছেন কুন্দিজেজা। তার দাবি, বর্তমানে আফ্রিকান বা কৃষ্ণাঙ্গ লেখকদের লেখার শৈলীকে ভুলভাবে এআই জেনারেটেড হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।
এদিকে কুন্দিজেজার বিরুদ্ধে উঠা এই অভিযোগের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্বজুড়ে অনেক লেখক ও পাঠক তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। এমনকি কেইন প্রাইজের ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি এলা ওয়াকাতামা, তাড়াহুড়ো করে কোনো পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ছাড়া এ ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশের সমালোচনা করেছেন। এছাড়া এ ধরনের অভিযোগকে কৃষ্ণাঙ্গ লেখকদের ওপর অযৌক্তিক হয়রানি বলেও অভিহিত করেছেন অনেক লেখক।
উল্লেখ্য, কেইন প্রাইজ হলো আফ্রিকান লেখকদের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত শীর্ষস্থানীয় একটি সাহিত্য পুরস্কার। ২০০০ সালে ব্রিটেনে প্রতিষ্ঠিত এই পুরস্কারটি প্রতি বছর আফ্রিকান লেখকদের ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত সেরা মৌলিক ছোটগল্পের জন্য দেওয়া হয়। সাহিত্যের জগতে আফ্রিকান কণ্ঠস্বরকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে পুরস্কারটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় এটিকে ‘আফ্রিকান বুকার’ নামেও ডাকা হয়। বুকার পুরস্কার পরিচালনা কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান স্যার মাইকেল হ্যারিস কেইনের স্মরণে এই পুরস্কারের নামকরণ করা হয়। বিজয়ী লেখককে পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয় ১০ হাজার ব্রিটিশ পাউন্ড (১৩ হাজার মার্কিন ডলার)।