"অবন্তী" ছদ্মনাম অবশ্যই।
আজকে ওর ঘটনা বলি; ঘটনাটা সত্যি শুধু নামটাই বানানো।
পুজো মানেই আনন্দ, আলো, নতুন পোশাক, ঢাকের শব্দ আর প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানো কিছু সুন্দর মুহূর্ত। কিন্তু কখনো কখনো একটি ছোট্ট অসাবধানতা মুহূর্তের মধ্যে বদলে দিতে পারে একটি জীবনের গল্প।
বেলা গেলে সন্ধে প্রদীপ জ্বালিস ঘরে -
অবন্তীও চেয়েছিল পুজোর সন্ধ্যায় প্রদীপ জ্বালিয়ে ঘরটাকে আলোয় ভরিয়ে দিতে। চারদিকে উৎসবের আমেজ, বাড়িতে আনন্দের ব্যস্ততা। নিজের হাতে প্রদীপ জ্বালাতে গিয়েছিল সে। কে জানত, সেই প্রদীপের শিখাই তার জীবনে এত বড় অন্ধকার ডেকে আনবে!
হঠাৎ তার পরনের নতুন কাপড়ে আগুন ধরে গেল। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ল শরীরে। আতঙ্ক, চিৎকার, ছুটোছুটি—উৎসবের আনন্দ নিমেষেই পরিণত হলো এক ভয়াবহ দুঃস্বপ্নে।
অবন্তীর মুখ ও শরীরের বিভিন্ন অংশ পুড়ে গেল। শুরু হলো হাসপাতালে দীর্ঘ চিকিৎসা, একের পর এক যন্ত্রণাদায়ক ড্রেসিং, অপারেশন, অপেক্ষা আর অনিশ্চয়তার দিন। পরিবারের মানুষগুলোর চোখে তখন একটাই প্রশ্ন—তাদের আদরের মেয়েটা কি আবার সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরতে পারবে?
শারীরিক যন্ত্রণা তো আছেই সেই সাথে মানসিকভাবেও ও ভেঙে পড়েছিল। সুন্দর মুখশ্রীর এই পরিবর্তন ও কিছুতেই মেনে নিতে পারছিল না। যদিও ওর মা ছিল ওর জন্যে সবচে বড় প্রেরণার জায়গা। মেয়েকে মানসিকভাবে চাঙ্গা রাখতে উনি চেষ্টার কোন ত্রুটি করেন নি। মেয়ের সামনে খুব উৎফুল্ল থাকলেও মেয়ের আগত ভবিষ্যৎ নিয়ে আমার সাথে দীর্ঘক্ষণ কথা বলতেন, অনেকদিন কেঁদেছেন। ওর আগের ছবি দেখিয়ে হাহাকার করেছেন "আহা! আমার প্রতিমার মতন দেখতে মেয়েটা"!
অবশেষে, দীর্ঘ সংগ্রামের পর একদিন অবন্তী হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরল। পরিবারের চোখে আনন্দাশ্রু, বুকে স্বস্তি—প্রিয় মানুষটিকে ফিরে পাওয়ার আনন্দ। কিন্তু সেই আনন্দের আড়ালে রয়ে গেল এক কঠিন শিক্ষা: আগুনের কয়েকটি মুহূর্তের অসাবধানতা সারিয়ে তুলতে কখনো কখনো লেগে যায় মাসের পর মাস, এমনকি বছরের পর বছর।
অবন্তীর গল্প আমাদের মনে করিয়ে দেয়, উৎসবের আলো যেন কারও জীবনে অন্ধকার হয়ে না নামে।