আমি জানি ছবি, তোমারও নিজস্ব একটা হাঁটার গতি আছে,
চায়ে চুমুক দেওয়ার সময় তোমারও আঙুল সামান্য কাঁপতে পারে,
তোমার চোখজুড়ে কখনো বা নেমে আসে পার্থিব ক্লান্তির ম্লান মেঘ।
তুমি কোনো পৌরাণিক দেবী নও, রক্তমাংসের একদম বাস্তব একজন,
যার গায়ের সুবাসে লেগে থাকে শহরের ব্যস্ত দুপুর।
তবুও তোমাকে হাতের মুঠোয় পাওয়ার কোনো উদগ্র লোভ আমার নেই,
তোমাকে রোজ পাশে বসিয়ে রাখার কোনো নিশ্চিত নিশ্চয়তা আমি চাই না।
কারণ পাওয়ার ভেতরে লুকিয়ে থাকে একটা অলস স্থবিরতা,
পাওয়ার পরে মানুষ ভুলে যায় অলৌকিক বিস্ময়।
তার চেয়ে এই যে তোমার না-থাকা ঘরের কোণে জমে থাকা নীরবতা,
এই যে একাকী টেবিলে বসে কফির কাপে ধোঁয়া উঠতে দেখা,
আর সেই ধোঁয়ার ভেতরে তোমার কাজললেপা দুই চোখ আঁকার চেষ্টা,
এ যেন পেয়ে যাওয়ার চেয়ে অনেক বেশি রঙিন, অনেক বেশি জীবন্ত।
তোমার কথা ভাবা মানে এক নতুন রূপকথা লেখা,
যেখানে প্রতি সন্ধ্যায় তুমি আবার নতুন করে ফিরে আসো।
তোমার কথা ভেবে একটা দীর্ঘ কবিতা শেষ করার পর
আমার মনে হয়, আমি তোমাকে পুরোটা পেয়ে গেছি নিজের মতো করে।
সে পাওয়ার ভেতরে কোনো হারানোর ভয় নেই,
সে পাওয়ার ভেতরে কোনো প্রাত্যহিক ঝগড়া বা মলিনতা নেই।
রক্তমাংসের তুমি হয়তো সাময়িক,
কোনো এক ট্রাফিকের ভিড়ে হারিয়ে যাওয়ার মতো,
কিন্তু স্মৃতির ক্যানভাসে তোমাকে বারবার আঁকার এই ব্যাকুলতা,
আমায় অমর করে রাখে, আমার শব্দগুলোকে বাঁচিয়ে রাখে।
ছবি, তুমি অধরা থাকলেই তোমাকে পাওয়ার আনন্দটা হাজার গুণে বাড়ে,
তুমি কাছে না এলেই তোমার পদশব্দ প্রতিটা ছন্দে বাজতে থাকে।
অধিকার দিয়ে তো তোমায় বাঁধতে পারতাম এক সাধারণ ঘরে,
কিন্তু তোমার বিরহ তোমায় স্থান দিয়েছে শব্দের এক নক্ষত্রমণ্ডলে।
তাই তোমায় না পাওয়াটাই আমার সবচেয়ে বড় উপহার,
তোমার অনুপস্থিতিই আমার কবিতার মূল রক্তস্রোত।