গ্রীষ্মের এই খাঁ খাঁ তপ্ত দুপুরে হঠাৎ
বাংলা মটরের সিগন্যালে নেমে ছবিকে হেঁটে
যেতে দেখলাম পরীবাগের দিকে, ফুটপাত ধরে। মাথার
উপর সূর্য তখন আগুন ঢালছে, পিচঢালা
রাস্তায় উবে যাচ্ছে চেনা শহরের ক্লান্তি,
অথচ রাস্তার অন্য পাশে দাঁড়িয়ে আমি যখন
ওর একলা হেঁটে যাওয়া দেখছিলাম, বুকের ভেতর
হঠাৎ যেন এক অলৌকিক নদী ভেসে উঠল। ছবি
জানলই না, ওর ওই সুতির শাড়ির নীল
আঁচল বাতাসে উড়তে উড়তে কীভাবে থমকে
দিল মোড়ের ট্রাফিক, কীভাবে এক নিমেষে
নিভিয়ে দিল এই প্রখর জ্যৈষ্ঠের তাপদাহ।
তোমাকে কাছে ডাকার কোনো ব্যাকুল স্পর্ধা
আজ আমার ছিল না, ছবি; তোমাকে শুধু
দূর থেকে অন্য প্রান্তে দাঁড়িয়ে দেখতে পাওয়ার
ভেতরই বেঁচে থাকল আমার তীব্র বেঁচে থাকার
আনন্দ। এই তো নাগরিক জীবন, যেখানে ছুঁতে
না পাওয়ার অলীক শূন্যতাকেই ভালোবাসা বলা হয়ে থাকে।