রাস্তায় আজ মানুষের এই বিপুল স্রোত, চেনা কিংবা অচেনা মুখের মিছিল,
তারা কোথায় যায়?
কেউ বলে ওদিকে ধর্মের সভা হচ্ছে, স্বর্গ ও নরকের গূঢ় বয়ান;
কেউ বা ভাঙা গলায় বিলাপ করে, কোন এক মহীরূহ নাকি ঝরে গেছে আজ।
আমি কারও কথায় কান দিই না, কেবল দেখি এই হেঁটে যাওয়া।
উদ্দেশ্যহীন পদাঘাতে ধুলো ওড়ে,
মানুষ যেন শুধুই চলবার ভান করে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে।
কিন্তু এই পৃথিবীতে মানুষের আসল কাজটা কী?
একটি গাছ চুপচাপ বেড়ে ওঠে, মাটি আঁকড়ে ধরে ফুল ও ফল দেয়,
জীবজন্তু কেবল টিকে থাকার আদিম নিয়মে বেঁচে থাকে আর মরে যায়।
তাদের সরল জীবনে কোন জটিল প্রশ্নের বোঝা তারা বহন করে না।
কিন্তু মানুষ? মানুষ কি কেবল খাওয়া, পরা আর মৃত্যুর মিছিলে শামিল হওয়া?
না, মানুষের জন্ম তো অন্য সব কিছুর মতো নিছক অস্তিত্ব রক্ষার জন্য নয়।
সে এসেছে দ্রষ্টা হতে, সৃষ্টির অপার বিস্ময়কে অনুভবে ধারণ করতে।
গাছ আলো চেনে, কিন্তু আলোর সৌন্দর্য নিয়ে কবিতা লিখতে পারে না।
পশু তৃষ্ণা মেটায়, কিন্তু জলের অতল গাম্ভীর্য কিংবা বেদনায় সে কাঁদে না।
মানুষের কাজ হলো ভালোবাসার একটি স্থায়ী প্রদীপ জ্বেলে রাখা,
হাজারো অর্থহীনতার মাঝে দাঁড়িয়ে জীবনের গভীর কোনো অর্থ খোঁজা,
আর এই ক্ষণস্থায়ী যাত্রাপথে নিজের ভেতরের আলোটুকু
অন্যের বুকে সঁপে দিয়ে শান্তভাবে বিদায় নেওয়া।
তবুও দিনশেষে বুকের ভেতরে গুমরে ওঠে এক তীক্ষ্ণ জিজ্ঞাসা,
মানুষ কি সত্যি সেসব মহান কাজ করে,
নাকি স্রেফ পোকামাকড়ের মতো বেঁচে থাকে আর মরে যায়?