রফিক ঘরে ঢুকতেই একলোক লুঙ্গি ঠিক করতে করতে ঘর থেকে বের হয়ে চলে গেল। সাবিনা জামা পড়ছে। রফিক তাকিয়ে আছে তার বউ সাবিনার দিকে। সাবিনা এখন দিন দিন আরো সুন্দর হচ্ছে।
রফিক সেদিকে না খেয়াল করে পকেট থেকে সিগারেট বের করে ধরায়। তারপর ঝাঁঝালো কন্ঠে বলে, টাকা দে। কাস্টমার কত টাকা দিল?
টাকার কথা শুনে সাবিনার মন খারাপ হয়। রফিক তাকে দিয়ে দেহ ব্যবসা করাচ্ছে এতে তার কষ্ট নয়, কষ্ট রফিকের খারাপ ব্যবহারে। লোকটাকি কখনও শুধরাবে না।
সাবিনা মিথ্যা বলল, ১হাজার টাকা দিয়েছে। ওই আলমারীর ওপর রাখা তুমি নিয়ে যাও।
টাকাটা নিয়ে রফিক সিগারেট টানতে টানতে বের হয়ে গেল।
কাস্টমার দিয়েছিল ২হাজার টাকা। সাবিনা বাকি ১হাজার টাকা তার মায়ের বাড়ি পাঠাবে। টাকা পাঠালে তার মা অনেক খুশি হন। কোথাথেকে টাকা আসছে এসব ব্যপারে তার আগ্রহ নাই।
রফিক সিএনজি চালক। সে এক পোটলা গাজা ধরিয়ে জুয়া খেলতে বসে গেরেজে। খাটের ওপর পা তুলে আরাম করে বসে সে। গাজার পিনিকে তার মাথা ভো ভো করে। সে জুয়ায় হারতে থাকে। প্রথমে ১০০ পরে ২০০ এমন করে সব টাকা হেরে যায়।
গাজার কারনে তার হারাটা সহ্য করতে পারে না। সামনের লোককে হাত টেনে কানের মধ্যে থাপ্পড় দেয়। সামনের লোকও তাকে লুঙ্গি ঠিক করে লাথি দিয়ে ফেলে দেয় মাটিতে। তারপর গালি দিয়ে বলে, তোর বউকে লাগাই। সালা বউ ব্যবসায়ী।
মার খেয়েও হাসতে থাকে রফিক। একদিকে প্রচন্ত কষ্ট পায়। আরেকদিকে গাজার নেশা তার কষ্ট ভুলিয়ে রাখে।
(সমাপ্ত)
ছোটগল্প: বউ ব্যবসায়ী
লেখক: রুদ্র সিয়াম