সানিয়া আমার দিকে কেমন যেন রাগি দৃষ্টিতে চেয়ে আছে। আমি হাসি মুখে তার পাশে বসলাম।
সানিয়া বিরক্ত হয়ে বলল, রোজ রোজ এই একই কালো শার্ট পড়ো কে তুমি?
আমি বললাম, আমার যে আর শার্ট নেই, সানিয়া।
সানিয়া এবার বড় বড় করে বলল, মিথ্যে বলছো কেন? তোমার ফেসবুকে দেখেছি আমি তোমার অনেক জামা-কাপড়।
আমি বিনয়ী হয়ে বললাম, সেগুলো আমার কাজিনদের আমি ছবি তোলার জব্য পড়ি। ছবি তোলা শেষ হলে আবার তাদের পোশাক তাদেরকে দিয়ে দেই।
সানিয়া বলল, তোমাকে না বলেছিলাম আমার জন্য ফুল আনতে। আমার গোলাপ ফুল কই?
আমি হেসে বললাম, ভুলে গেছি সানিয়া। (আসলে ভুলে যাইনি। টাকার কারনে আনতে পারিনি।)
সানিয়া বলল, পরেরবার যাতে ভুল না হয়।
আমি বললাম, আচ্ছা!
সানিয়া বলল, চলো! একটা রেস্টুরেন্ট এ গিয়ে বসি।
কথাটা শুনে আমার গলা শুকিয়ে গেল। কারন আমার পকেটে মাত্র ১০টাকা আছে। যা দিয়ে মেসে ফিরে ১টা ডিম কিনে ভেজে খাবো।
আমি বললাম, আজ না, সানিয়া। আর এমনিতেও আমার রেস্টুরেন্ট এর খাবার ভালোলাগে না।
সানিয়া বিরক্ত হয়ে গেল। সে বলল, আচ্ছা! তুমি এতো বোরিং আর ক্ষ্যাত কেন? অন্যের বয়ফ্রেন্ডরা কত স্মার্ট।
আমি মনে মনে ভাবছি যখন প্রথম সানিয়ার সাথে একটা বিয়ে বাড়িয়ে দেখা হয় আমার। তখন সানিয়াই আামাকে প্রপোজ করে। আমার কথা বলার স্ট্রাইল নাকি তাকে মুগ্ধ করেছে। আর এখন সে এসব বলছে। মানুষ বদলায়। খুব দ্রুত বদলায়।
সানিয়া আমাকে ফোনে বলল, তোমার কিসের এতো কষ্ট আমাকে বলো।
আমি কি সানিয়াকে বলতে পারি আমার অতীতের কথা। এসব সানিয়াকে বলার কোন মানে হয় না। সে কষ্ট পাবে। কিন্তু আমি তাকে কষ্ট দিতে চাই না।
তার থেকে ভালো আমি সানিয়াকে জোকস বলি। আমি বললাম, একটা সংসারে নতুন বাচ্চা জন্ম নিল। বাচ্চা যখন কথা বলতে শিখলো। তখন সে যার নাম নেয়। সেই মারা যায়। প্রথমে বলল, নানা। আর সাথে সাথে দাদা মারা গেল। তারপর বলল, মামা। আর তার মামা মারা গেল। তারপর যখন বলল, বাবা। তখন দেখা গেল পাশের বাসার এক লোক মারা গেছে।
জোকস শুনে সানিয়া হো হো করে হাসে। আমি তার মুখে সবসময় হাসি দেখতে চাই। আমি চাই সানিয়া সুখে থাকুক।
চায়ের দোকানে বসে চা আর সিগারেট একসাথে খাচ্ছিলাম। তখন সানিয়া কল দিল। আমি কল বেক করলাম। ফোনে ওপাশ থেকে সানিয়া বলল, কি করছো?
আমি বললাম, তোমার কথাই ভাবছিলাম আর তুমি কল দিয়ে দিলে। এটাকে বলে ট্যালিপ্যাথি।
সানিয়া বলল, ট্যালিপ্যাথি না কচু। কাকতালীয় ভাবে হয়তো হবে।