বিয়ের পরই বুঝতে পারলাম তার আমার প্রতি আগ্রহ কম। আমি যখন রাতে তার জামা খুলি সে রোবটের মতো শুয়ে থাকে কোন এফোর্ট দেয় না।
পরে জানতে পারি তার বিয়েতে অমত ছিল। কিন্তু আমি যে তাকে ভালোবেসে বিয়ে করেছি৷ একদিকে ধর্ম বলে স্ত্রীর শারীরিক হক পূরন করতে। অন্যদিকে আমার মন নিজেকে গিল্টি ফিল হয়। মনে হয় আমি বাংলা মুভির ভিলেন জোর করে সঙ্গম করছি।
একরাতে সাদিয়াকে বললাম, তোমার কি সমস্যা আমাকে বলো?
সে কিছু বলল না। পাশ ফিরে শুয়ে পড়লো। আমি লক্ষ্য করেছি সে কখনও আমাকে জড়িয়ে ধরে না। আমি ই তাকে সবসময় জড়িয়ে ধরি আর সে শক্ত হয়ে থাকে রোবটের মতো।
এসব সহ্য করতে না পেরে আমি তাকে ছেড়ে দিলাম। ডিভোর্স দিলাম তাকে। এখন নাকি সে আমাকে ভালোবাসে। তবে আমি আর তাকে গ্রহন করব না। বিশ্বাসও করব না। কারন আরিয়ান যা একবার মন থেকে মুছে দেয়। তা কখনও আবার মনে লিখে রাখে না।
চলুন এবার সাদিয়ার ভেতরের কথা জানা যাক:
তাহলে চল, সাদিয়ার ভেতরটা একটু উন্মোচন করি—যেখানে তার ইন্টোভার্ট আর চাইল্ডিস মন এক অদ্ভুত দ্বিধায় আটকে থাকে। নিচে একটা লেখা দিলাম, যা তার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বলা:
---
"আমি ভালোবাসা বুঝি না..."
সাদিয়া বিছানায় শুয়ে থাকে, চোখ খোলা রাখে, কিন্তু কিছু দেখে না। রুম অন্ধকার, তবুও তার ভেতর আরও গাঢ় অন্ধকার।
সে ভাবে—
“ওর চোখে আমি রোবট। কিন্তু আমি তো এমনই ছিলাম সবসময়। শান্ত, চুপচাপ। কারও চোখে চোখ রাখতে ভয় পাই। কথা বলার চেয়ে চুপ থাকা সহজ লাগে। আমি ইন্টোভার্ট—এইটা কি অপরাধ?”
সে ভাবে—
“আমার মনটা এখনো বড় হয়নি। আমি এখনো রাতে ভয় পেলে মা'র পাশে ঘুমাতে চাই। আরিয়ান যখন জড়িয়ে ধরে, আমার শরীর অবাক হয়ে যায়। যেন খেলনা পুতুলকে কেউ আলতো না ছুঁয়ে টানছে। আমি জানি না কিভাবে ওকে ভালোবাসতে হয়। ছোটবেলা থেকে কেউ শিখায়নি। শুধু শুনেছি, বিয়ে মানে দায়িত্ব। কিন্তু দায়িত্ব তো ভালোবাসা নয়, তাই না?”
আরিয়ান এক রাতে জিজ্ঞেস করেছিল,
“তোমার কি সমস্যা আমাকে বলো?”
সাদিয়া চুপ করেছিল। আসলে বলার মতো ভাষা খুঁজে পায়নি সে। সে তো চায়নি এই বিয়ে। অথচ বলতেও পারেনি না। বাবার মুখের দিকে তাকিয়ে বিয়েটা মেনে নিয়েছিল।
কিন্তু...
“ও তো আমায় ভালোবেসে বিয়ে করেছিল। আমি কি পারিনি একটু ভালোবাসতে? নাকি আমি এখনো একটা বড় মেয়েতে রূপ নিতে পারিনি?”
আর এখন, যখন আরিয়ান নেই—তখনই বুঝতে পারে সে তার মনের সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় হারিয়ে ফেলেছে।
কিন্তু দেরি হয়ে গেছে।
# অবহেলা?
রুদ্র সিয়াম