সিজান: মা। আমি কাল থেকে রোজা রাখবো।
মা: না৷ তোমার বয়স মাত্র ৮। তোমার রোজা রাখার দরকার নেই। তুমি অসুস্থ হয়ে পড়বে।
সিজান: না। মা। তোমরা বড়রা রোজা রাখতে পারলে আমিও পারবো।
সিজান নিজের জেদ করেই রাত ৪ টা বাজে ওঠে৷ উঠে দেখলো তার বাবা মা সেহরী খাচ্ছেন।
বাবা: কি গো। সাহেব? এতো রাতে ঘুম ভেঙে গেছে নাকি? যাও ঘুমিয়ে পড়ো.
সিজান: না। বাবা। আমি সেহরী খেয়ে রোজা রাখতে চাই।
বাবা: ঠিক আছে। তবে শুধু আজকের জন্য।
সিজান তার বাবার সাথে সেহরী খায়। তারপর ফজরের আজান দেওয়ার পর। তার বাবার হাত ধরে মসজিদে যায়। নামায শেষে সে বাসায় এসে ঘুমায়।
সিজান ঘুমিয়ে যাওয়ার পর তার বাবা মা কি যেন কথা বলে।
মা: তুমি ওকে রোজা রাখতে বললে কেন? তুমি জানো না। ওর পেটে আলসারের সমস্যা। না খেয়ে থাকলে ও তো মারা যাবে।
বাবা: চিন্তা করো না। একদিন রোজা রাখলে তেমন কিছু হয় না।
পরেরদিন সিজান আবার সেহরীর সময় ওঠে আর সেহরী খেয়ে রোজা রাখে। এভাবে ২৭ দিন চলে যায় ।
২৭ তম রোজার দিন। সিজান বাথরুমে কুলি করার সময় দেখলো। তার মুখ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে৷ সে ভয় পেয়ে তার আম্মুর কাছে যায়৷ সব খুলে বলে।
ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া হয় সিজানকে। ডাক্তার বলে, ভয় পাওয়ার কিছু নেই৷ ও এমনেই সেরে যাবে।
পরদিন সেহরী খাওয়ার পর সিজান ঘুমিয়ে পড়ে। কিন্তু তার আর কখনও ঘুম ভাঙেনি। সে নিজেকে আল্লাহর রাস্তায় কুরবানী করে দিয়েছে।
আর নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর রাস্তায় নিজেকে কুরবানী করে দেয়৷ তাদের জন্য রয়েছে বেহেশত।
(আশা করি। এই ছোটগল্প টি আপনাদের ভালো লেগেছে।)
গল্প: সেহরী।
লেখক: রুদ্র সিয়াম (Rudro Siyam)