" ন্যাংটাবাবা "
@রুদ্র সিয়াম
বটগাছের নিচে আসন পেতে বসে আছে ন্যাংটাবাবা শামীম। সবাই ওনাকে ন্যাংটাবাবা ডাকে। তার কারন উনি নগ্ন ই থাকেন। সারাক্ষন শুধু ধ্যান করেন। চারুলতা গ্রামের সবাই উনাকে পছন্দ করেন। যেকোন বিপদ হলেই সবার আগে ছুটবে ন্যাংটাবাবার কাছে।
একবার এক মহিলার বাচ্চা হয় না। সেই মহিলা আসলো শামীমের কাছে। শামীম মহিলার রুপ দেখে বলল, প্রতিরাতে একবার তার ঘরে আসতে হবে। সেখানে জল চিকিৎসা হবে। মহিলাও প্রতিরাতে শামীমের ঘরে যেত। একসময় মহিলার বাচ্চা হয়। মজার ব্যাপার হলো সেই শিশু ন্যাংটাবাবার চেহারা পেয়েছে। এ যেন এক অলৌকিক ব্যপার?
২ বছর আগের কথা:
শামীম তখন বাথরুমে ঢুকে আকিজ বিড়ি খাচ্ছিল। বাথরুমের দরজা লাগাতে সে ভুলে গেছে। হঠাৎ ওর বাবা দরজা খুলে ফেলে। আর শামীম কে দেখে মনের সুখে আকিজ বিড়ি খাচ্ছে। তারপর শামীমের কলার ধরে ওকে ঘর থেকে বের করে দেয়।
শামীম হাটতে হাটতে পাহাড় নদী,নালা, পর্বত পাড়ি দিয়ে আসে এই চারুলতা গ্রামে। গ্রামে পৌছানোর পর বটগাছের নিচে একটু শুয়ে ছিল। হঠাৎ এক মহিলা তাকে দেখে প্রণাম করলো। শামীম শোয়া থেকে উঠে বসে। আর মহিলাকে আশীর্বাদ দেয়। বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর এতোদিতে শামীমের লম্বা দাড়ি গোফ হয়ে গেছে আর ওর জামা কাপড় ছিড়ে প্রায় ন্যাংটো হয়ে গিয়েছিল। তাই তাকে ওই মহিলা ন্যাংটাবাবা ভেবে প্রণাম করছিল।
তারপর ওই মহিলারা এক বাটিতে শামীমকে দুধ কলা দিত, ওই মহিলার দেখাদেখি আশে পাশের অনেকেই খাবার দিতে শুরু করলো।
এভাবেই শামীম হয়ে উঠলো ন্যাংটাবাবা।
আজ ২২টা বছর কেটে গেল।
শামীম আজও বাড়ি ফিরলো না।
(সমাপ্ত)
#ছোটগল্প
#Rudro_Siyam_Story