এক জন্ম কেবল চেয়ে থাকার প্রতীক্ষায় কেটে গেল
চোখের পাতায় জমল শতাব্দীর ধুলো আর ক্লান্তি।
আমার বুকের ভেতর বয়ে চলা অতলান্ত নদী
প্রতিটি তরঙ্গে কেবল তোমারই ছায়া খোঁজে।
পথের বাঁকে আলো নিভে যায় প্রতি সন্ধ্যায়
মেঘলা আকাশ ভেঙে নামে বৃষ্টির ধারাপাত;
আমি ভিজে একাকার হই একা, নিস্তব্ধ শহরে
তবু তৃষ্ণার চাতক চোখ দুটো খুঁজে ফেরে তোমাকে।
কত সহস্র বছর আমি দাঁড়িয়ে আছি এই চত্বরে
পাথর হয়ে গেছে পায়ের নিচের তৃণাঙ্কুর
রোদের তীব্র খরতাপ পুড়ে খাক করে চামড়া
তবু পলক ফেলার সাহস আমার হয়ে ওঠেনি কখনো
যদি সেই ক্ষণিকের আঁধারে তুমি হেঁটে চলে যাও!
রাতের নিঝুম অন্ধকারে চাঁদের আলো যখন চুইয়ে পড়ে
আমার খোলা জানালার কাঁচে এঁকে দিই এক অস্পষ্ট মুখাবয়ব;
আঙুলের ছোঁয়ায় মুছে যায় সেই কুয়াশাচ্ছন্ন অবয়ব
আবার জমে ওঠে দীর্ঘশ্বাসের ঘন বাষ্প
কত বসন্ত এসে মিলিয়ে গেল মহাকালের গহ্বরে
পলাশ আর শিমুলের লাল রঙে রাঙা হলো ধরণী
শুধু আমার শূন্য ক্যানভাসে আঁকা হলো না তোমার রূপ
রঙহীন রয়ে গেল আমার এই আজন্ম তৃষিত দৃষ্টি।
তবু আমি ক্লান্ত হই না, এই অপেক্ষাই আমার বেঁচে থাকা
হাজারো জন্মের দূরত্ব পেরিয়ে যদি কোনোদিন আসো
আমি দুচোখ ভরে পান করব তোমার পূর্ণ অবয়ব।
সেই একটি পলকের দেখা পাওয়ার লোভে
আমি অনন্তকাল এই তৃষ্ণা বুকে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে রাজি।