এখন, কল্পলোকের গল্প বলে দাদি ঘুম পাড়ায় না
গাজীর গানের আসরেতে এখন কেউ দাঁড়ায় না।
রাখাল ছেলে বাঁশের বাঁশি বাজায় না আর মাঠে
নৌকাগুলো বাঁধা থাকে নির্জন এক ঘাটে।
উঠোন জুড়ে চাঁদের আলোয় বসে না আর মেলা
ঝাঁঝালো রোদে ধুলো মেখে কানামাছি খেলা।
বটের ছায়ায় জিরোয় না কেউ ক্লান্তিতে আর
শীতের ভোরে জমে না যে পিঠেপুলির বাহার।
চিঠির খামে ভালোবাসার গন্ধ মেলে না তো
নক্সী কাঁথায় কেউ বোনে না স্মৃতির শত ক্ষত।
ঢেঁকির শব্দে ভোরভাঙা সেই মিষ্টি সুরের ডাক
হারিয়ে গেছে কোলাহলে নিঝুম নদীর বাঁক।
হ্যারিকেনের টিমটিমে চোখ খুঁজে ফেরে আলো
মানুষগুলো যন্ত্র হয়ে বাসছে শুধু ভালো।
পাখির কলকাকলিতে ভাঙে না কারো ঘুম
ইট-পাথরের ধূসর খাঁচায় ব্যস্ততারই ধুম।
পুকুরঘাটে হাসির কলরোল থামল চিরতরে
মাটির ঘরের মায়াবী রূপ হারাল অগোচরে।
দাওয়ায় বসে রাতজাগা সেই রূপকথাদের দিন
সময়ের এই স্রোতে সবই বিলীন হলো বিলীন।
মেঠোপথের ধুলোর গন্ধে নেইকো ব্যাকুল টান
বুকের ভেতর জাগে না আর রাখালিয়া গান।
স্মৃতির পাতায় জমেছে ধূলি, শুকিয়ে গেছে জল
হারিয়ে গেছে শৈশবেরই নিষ্পাপ কোলাহল।
সাঁঝের বাতি জ্বলে না আর তুলসীতলার কোণে
স্বার্থের এই ভিড়ের মাঝে সবাই বাঁচে মনে।
হারিয়ে যাওয়া সেই দিনগুলো ডাকে ব্যাকুল সুরে
আমরা কেবল মরীচিকার ছুটছি পিছু দূরে।