আমার ছোট মেয়ের সাথে যদি এমন অনভিপ্রেত চুমুর ঘটনা কোনো মাঝবয়সী লোক ঘটাত আমি তার উদগ্র লালসাকে চিরতরে নিশ্চিহ্ন করে দিয়ে জেলে গিয়ে বসে থাকতাম। কারণ আমরা রোজই দেখে চলেছি- পেডোফাইল ও পেডারাস্টদের শিশুকামিতার রকমসকম কী!
সেখানে শাহজালাল রুমি একটা থাপ্পড় মেরে পিতৃত্বের দায়বোধ দেখিয়েছেন মাত্র। শাহজালাল তার মেয়ের মুখে 'চুমু দেয়ার কথা কাউকে জানালে মেরে ফেলব' -এইটুকু ঘটনা শুনেই ক্ষিপ্ত হননি। মাদ্রাসায় গেছেন, প্রিন্সিপালের কাছে জবাবদিহি চেয়েছেন। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে বিহিত করতে বলেছেন। কিন্তু যথারীতি সব শিয়ালের এক হুক্কাহুয়ার মতো অভিযুক্ত শিশুকামী তথাকথিত শিক্ষকের পক্ষ নিয়েছে প্রিন্সিপালসহ অন্যরা। অতঃপর সরাসরি অভিযুক্ত শিক্ষকের কাছে জবাবদিহি চেয়েছেন ভিকটিম কন্যার বাবা। ওই লোক সবার সামনে স্বীকার করেছে, চুমু খেয়েছে এবং শিশুটিকে মুখও বন্ধ রাখতে বলেছে। এর আগেই ওই দুশ্চরিত্র শিক্ষকটি কন্যার স্বজনদের কাছে কৃতকর্মের জন্য কয়েকবার মাফ চেয়ে এসেছে। এখন বলেন, এই কথা সরাসরি নিজ কানে শুনবার পর -কোনো সংবেদনশীল বাবা কি স্থির থাকতে পারেন? পিতা তার সন্তানের প্রতি মমতা, দায়িত্ববোধ ও বিবেক থেকে ওই মোল্লার গালে কষে এক চড় মেরেছেন -অতঃপর আইনের দ্বারস্থ হয়েছেন।
ওরে বাবা এই একটা চড় খেয়ে সব পেডোফাইল এক হয়ে গেছে। তারা শাহজালালের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছে। থানায় মামলা পর্যন্ত করেছে। ভিডিও'র পর ভিডিও বানিয়ে ওদের শত্রু ইহুদিদের ফেসবুক ভরিয়ে ফেলছে! ঘোষণা দিচ্ছে শাহজালাল রুমিকে অ্যারেস্ট না করলে তার বাড়িতে গিয়ে মব করবে! হাউ রিডিকুলাস! এ কোন আইয়ামে জাহেলিয়াতের যুগ কায়েম করতে চায় এরা? এবার তো এদের বিরুদ্ধে সরকারকে নড়েচড়ে বসতে হবে। কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ করবার প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে।
ওরে পামর, ওরে পাষণ্ড -ধিক আপনাদের। ন্যূনতম বিবেক-বোধ ও চক্ষুলজ্জা থাকলে শিশুকামী অপরাধীর বিচার চাইতেন আপনারা। শরমে মরে যেতেন। প্রতিদিন ছেলেশিশু ধ'র্ষণ করতে করতে আপনাদের এত বাড় বেড়ে গেছে যে -এখন আপনারা পেডোফিলিয়া ও পেডারাস্টিকে নিজেদের অধিকার দাবি করে বসছেন। ছিঃ! আপনারা মানুষ? এই গ্রহে আপনাদের জায়গা হওয়া উচিত? আপনার নিজের শিশুও তো আপনাদের কাছে নিরাপদ নয়।
আপনারা এই সমাজের Liability. আপনারা এই রাষ্ট্রের Burden. আপনারা দিন দিন পৃথিবীর সভ্য সমাজ থেকে বাংলাদেশকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলছেন। আপনারা ধর্মীয় শান্তি বিনষ্ট করছেন, প্রকৃত আলেমদের মর্যাদা ধুলিসাৎ করছেন। মানুষকে ধর্মবিমুখ করবার তাজা রসদ জোগাচ্ছেন।
আপনার আপত্তি থাকতে পারে, অভিযুক্ত লোকটিকে চড় মারা ঠিক হয়নি। সেই আপত্তি জানান, অবশ্যই জানান। কিন্তু যে ব্যক্তি একটি শিশুকে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে চুমু দিয়েছে বলে সে নিজে স্বীকার করেছে, তার কাজটির নিন্দা না করে শুধু চড় মারার প্রতিবাদে সরব হচ্ছেন কোন মুখে?
আপনারা মবের জনক -এখন এক চড়েই আইনের শাসন চাচ্ছেন, মব জাস্টিসের বিরোধিতা করছেন। এটা ভালো। কিন্তু অপরাধীর প্রতি অন্ধ পক্ষপাতে নেমেছেন -এটা তো রীতিমতো ভয়াবহ নির্লজ্জতা। এভাবে প্রকৃত অপরাধীকে আড়াল করবেন না। কারণ, অন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোর সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হলো -একদিন সেই অন্যায়ের শিকার আপনার নিজের সন্তানও হতে পারে। আপনারা যেভাবে শিশুদের শৈশব নষ্ট করে দিয়ে তাদেরকে অথর্ব করে দিচ্ছেন -এর কড়া জবাব একদিন মহাপ্রকৃতি আপনার কাছ থেকে নেবেই নেবে। সেইদিনের জন্য প্রস্তুত থাকেন।
▪️
লেখক: সাংবাদিক
২৩ অক্টোবর ২০২৬