Critic

ভারতীয় আধিপত্যবাদ থেকে মুক্তির উপায়...

October 28, 2026

80 views

আপনি ভারতীয় আধিপত্যবাদ থেকে মুক্তি পাবেন না -যতক্ষণ না আপনার দৈনন্দিন কাজ থেকে রামদাকে সরায়ে রাখতে পারছেন। যতক্ষণ না রামগঞ্জকে রহিমগঞ্জে রূপান্তর করতে পারছেন। রামছাগল বাদ দিয়া এখন থেকে পাকছাগল কোরবানি দেবেন।

ভারতীয় আধিপত্যবাদের এক নাম্বার আইকন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা ন্যাশনাল অ্যান্থেম 'আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি' গাইতে রাষ্ট্রকে বাধা দিন। এমনকি জাপানে গিয়াও এই সঙ্গীত বাজানো থামায়ে দেন। পৃথিবীর সব লাইব্রেরি থেকে এই লোকের পাঠ সরিয়ে রাখেন -যাতে বাংলা ভাষাভাষী কিংবা অবাঙালিরাও বাংলাসাহিত্যের এই দিকপালকে নিয়ে গবেষণা দূরের কথা পড়তেও না পারে।

আপনি ভারতীয় আগ্রাসনকে ছাড়তে পারবেন না -যতক্ষণ না রামগড় জামে মসজিদ থেকে 'রাম' অপসারণ করতে পারছেন।

আপনার হবে ভাই -ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ব্রাহ্মণকে যদি ঝেটিয়ে বিদায় করতে পারেন। দেবেন্দ্র কলেজ থেকে দেবেন্দ্র, ব্রজমোহন কলেজ থেকে ব্রজ, আনন্দমোহন কলেজ থেকে আনন্দ এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জগন্নাথকে বাদ দিবার না পারলে আপনি স্বকীয় মানুষ হিসাবে দাঁড়াতেই পারবেন না।

বৈশাখ, জ্যৈষ্ঠ, আষাঢ়, শ্রাবণ, কার্তিক, গণেশ সব বাদ দিতে হবে। অবশ্যই ত্যাগ করবেন শনি, রবি, সোম, মঙ্গল। শুক্রতো রাখতেই পারবেন না -ওটা ভয়াবহ খারাপ জিনিস। নারীস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

আপনি বাংলা ভাষায় কথা বলতে পারবেন না। বাংলা ভাষার অক্ষর গড়ে দিয়েছেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর আর বাংলাভাষার বাক্যকাঠামো, অলংকার, রূপক, কাব্য, সুর ও সাহিত্যসম্ভার প্রায় সবই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান। এই দুই হিন্দুকে আপনার ঠোঁটের ডগায় রেখে হিন্দুয়ানির হ্যাপা থেকে আপনি রক্ষা পাবেন না।

এই যে বাংলা অক্ষর ‘ই, ঈ, উ, ঊ, ঐ, ঔ, ট, ঠ’ -এর উপরের মাত্রাকে কী বলে জানেন তো? চৈতন বা টিকি -ঠিক ধরেছেন হিন্দুরা মাথা ন্যাড়া করে পেছনে একটু টিকি রাখে না -এটা সেই টিকিই। হিন্দু প্রিচার চৈতন্যদেব মাথায় রেগুলার টিকি রাখতেন -এটা সেখান থেকেই পাওয়া। যতবার ওয়াজ মাহফিলে গিয়া চান্দার 'টাকা' আপনি সওয়াব মনে করে গুণতেছেন -ঠিক ততবার আপনি হিন্দুর টিকিকে সম্মান জানাচ্ছেন।

শিখদের পুরুষেরা ধর্মাদেশ জ্ঞানে চুল লম্বা রাখে। ওই চুল সামলে রাখতে পাগড়ি পরা বাধ্যতামূলক। ঠিক ওই পাগড়িটাই প্রাচীন লিপিকারেরা বাংলা অক্ষর 'ঙ' এর উপরে এনে বসিয়েছেন। আপনি যতবার ভিন্নমতাবলম্বীদের ঠ্যাং ভেঙে দিতে চান -ততবার শিখদের পাগড়িকে স্মরণ করেন।

বাংলাদেশে লালন, হাসন রাজা, শাহ আব্দুল করিম, দূরবীন শাহ, রাধারমণদের ভিটেমাটি স্মৃতিচিহ্ন রাখা যাবে না। এরা সবাই প্রাচ্য তথা ভারতীয় দর্শনের যুগশ্রেষ্ঠ আইকন। এদের সোহবত থেকে যুবসমাজকে মুক্ত রাখতে না পারলে ভারতীয় আধিপত্যবাদ থেকে রেহাই মিলবে না।

বাঙালি মুসলমানের নিজস্ব কোনো কবি নেই। কাজী নজরুল ইসলাম কখনোই মুসলমানের কবি না। মানবতাবাদী তিনি পূর্ণাঙ্গভাবে সর্বমানুষের কবি। নজরুলকে বাঙালি মুসলমান হিন্দুত্ববাদের বিরুদ্ধে দাঁড় করাতে চান। আফসোস নজরুলের জন্মই হিন্দুস্তানে।

ভারতীয় আধিপত্যবাদ থেকে মুক্তির কংক্রিট কতগুলো উপায় বাতলে দিলাম। আমাদের সবার উচিত এসব প্র্যাকটিস এখন থেকেই শুরু করা।

সবার আগে যেটা করতে হবে একযোগে আমাদের সবার মুখ বন্ধ রাখতে হবে। মুখ খুললেই টিকটকে যেতে ইচ্ছা করবে। অমনি চৈতনের চৈতন্যদেব এসে চোখের সামনে হাজির হবে। তখন রবিঠাকুরের কণিকার 'যথাকর্তব্য' পাঠ ছাড়া অন্যবিধ আর কোনো উপায় থাকবে না-

ছাতা বলে, ‘ধিক ধিক, মাথা মহাশয়,

এ অন্যায় অবিচার আমারে না সয়।

তুমি যাবে হাটে বাটে দিব্য অকাতরে,

রৌদ্র বৃষ্টি যত কিছু সব আমা-’পরে।

তুমি যদি ছাতা হতে কী করিতে, দাদা।’

মাথা কয়, ‘বুঝিতাম মাথার মর্যাদা।

বুঝিতাম, তার গুণে পরিপূর্ণ ধরা,

মোর একমাত্র গুণ তারে রক্ষা করা।’

▪️

লেখক: সাংবাদিক

২৯ অক্টোবর ২০২৬

Picked up where you left off

Comments

Shakil Rony was this story’s first reader

+40 XP

    Please login to post comment. Login

  • Shakil Rony 2 days ago First reader

    স্যাটায়ার নাকি সার্কাজম? এই দ্বন্দ্ব তো আছেই পাঠক মনে৷ শিরোনামের সাথে কোনোভাবে এলাইন হলো না লেখাটা। হয়তো একটা ক্রোধ ছিল।