আমাদের সমাজে জিন আক্রান্ত হওয়া নিয়ে নানা ধারণা প্রচলিত আছে। অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে ঘুমের সমস্যা, অস্থিরতা, বারবার দুঃস্বপ্ন কিংবা শরীরের অজানা ব্যথায় ভোগেন, কিন্তু বুঝে উঠতে পারেন না এর কারণ কী। বিশ্বাসীদের মতে, এসব কিছু লক্ষণ জিনের প্রভাবের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
নিচে ঘুম, স্বপ্ন, শারীরিক অবস্থা ও আচরণ, এই চারটি ভাগে সেই লক্ষণগুলো তুলে ধরা হলো। লক্ষণগুলো মিলিয়ে দেখুন, তবে মনে রাখবেন, এর অনেকগুলো সাধারণ শারীরিক বা মানসিক সমস্যার কারণেও হতে পারে। তাই কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
জিন আক্রান্তের লক্ষণ
১. ঘুম সংক্রান্ত লক্ষণ
সারারাত ঘুম হয় না, হলেও খুব কম।
উদ্বিগ্নতার জন্য রাতে বারবার ঘুম ভেঙে যায়।
ঘুমের সময় কেউ চেপে ধরেছে এমন অনুভূত হওয়া, নড়াচড়া করতে না পারা।
স্বপ্নের মধ্যেও দম আটকে যাওয়া।
ঘুমের মাঝে প্রায়ই চিৎকার করা, গোঙানো, হাসি-কান্না করা।
২. স্বপ্ন সংক্রান্ত লক্ষণ
স্বপ্নে কোনো গোরস্থান, পরিত্যক্ত জায়গা, নদী অথবা মরুভূমির সড়ক দেখা। এটি জিনের পাশাপাশি জাদু আক্রান্ত হওয়ারও ইঙ্গিত বহন করে। আর স্বপ্নে একই জায়গা বারবার দেখলে সেখানে জাদুর জিনিসগুলো থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষ আকৃতির মানুষ দেখা, যেমন অনেক লম্বা, খুবই খাটো বা খুব কালো কাউকে দেখা।
স্বপ্নে জিন-ভূত দেখা অথবা অন্যান্য ভয়ানক দুঃস্বপ্ন দেখা।
স্বপ্নে কোনো প্রাণীকে আক্রমণ বা ধাওয়া করতে দেখা, বিশেষত কুকুর, বিড়াল, ইঁদুর, উট, গরু, মহিষ, বাঘ, সিংহ, শিয়াল, সাপ বা এই ধরনের হিংস্র প্রাণী।
যদি স্বপ্নে সবসময় দুইটা বা তিনটা প্রাণী আক্রমণ করতে আসছে দেখে, তাহলে বুঝতে হবে সাথে দুইটা বা তিনটা জিন আছে।
স্বপ্নে নিজেকে অনেক উঁচু কোনো জায়গা থেকে পড়ে যেতে দেখা।
৩. শারীরিক লক্ষণ
হাই ওঠা, ঘুম আসা, মাথা ভার ভার লাগা বা ব্যথা।
বুক ধড়ফড়, অস্থিরতা, বমির ভাব, বমি আসা।
পেটে শক্ত লাগা বা কাঁপা, শরীর ভার ভার বা অবশ লাগা।
ঘাড়-কোমর ব্যথা, দেহের বিভিন্ন জায়গায় ব্যথা।
হাত-পা বা দেহের যে কোনো অংশ নিজে থেকে কাঁপা।
দেহ চুলকানো।
৪. আচরণগত লক্ষণ
শুনতে বিরক্ত লাগা বা কান্না আসা, মেজাজ গরম, রাগ আসা।
মারমুখী হওয়া, কানে হাত দেওয়া।
সন্দেহ, মনোযোগ নষ্ট হওয়া, বিনা কারণে হাসাহাসি করা।