সায়মার জন্ম হয় একটি নিম্নবিত্ত পরিবারে। একটি প্রাণ পৃথিবীতে আসলে সবাই খুশি হয়, কিন্তু সায়মার ক্ষেত্রে ঘটলো উলটো। তার জন্মের পর তার জন্মদাত্রী মা যখন নানু কে জিজ্ঞেস করলো আমার কি সন্তান হয়েছে? তখন নানু বললো মেয়ে। সাথে সাথে সায়মার মা এর মুখ কালো হয়ে গেল। কচু হইসে!!
সায়মারা ৪ ভাই বোন এর আগে ২ বোন আর একটি ভাই আছে। সায়মার মা চেয়েছিল আরেকটি ছেলে। কিন্তু কপাল পোড়া হলে যা হয়, সায়মা একটি মেয়ে হয়ে জন্ম নিলো। অনাদরে অবহেলায় সায়মা বড় হতে লাগলো। সায়মার চেহারা ও অন্য ভাই বোন দের মতো মায়া নেই। কেমন যেন ছেলে ছেলে ভাব। আবার ছেলে ও না। কেউ তাকে তেমন একটা আদর করে না। সায়মার ভাই বাসার সবার মধ্যমণি। সবাই তাকে নিয়েই ব্যস্ত।
সায়মা ধীরে ধীরে বড় যত বড় হচ্ছে তত আশেপাশের মানুষের হিংস্রতা ক্রমশ তাকে কেমন যেন ভেতর থেকে শেষ করে দিতে লাগলো। শিশু বয়সের পর সায়মা কৈশোরে পা দিল। তারপর সে আরেকটি কঠিন সত্যের মুখোমুখি হলো।আশেপাশের সব মেয়ে কে বড় ভাইয়া রা খুব এটেনশন দিচ্ছে, তার সব কাজে উৎসাহ দিচ্ছে। কেউ কেউ প্রেমপত্র পাচ্ছে। কিন্তু সায়মা কখনো প্রেমপত্র পায় না। এর মধ্যে সায়মার একটা ছেলে কে ভালো লেগে যায়। কিন্তু সেই ছেলে সায়মার দিকে ফিরে ও তাকায় না। সায়মা নানা ভাবে তাকে আকর্ষণ করার চেষ্টা করে।কিন্তু সব চেষ্টায় বিফল হয়ে যায়।
সায়মা রাতে বালিশ চাপা দিয়ে কাদে। তার বুক ফেটে যায়।
এভাবে সায়মা এসএসসি পাশ করে। তখন একটা ছেলের সাথে মুঠোফোনে পরিচয় হয়। লং ডিস্ট্যান্স ছিল। এরপর যখন সামনাসামনি দেখা হয় ছেলে টা কিছুক্ষণ কথা বলে চলে গেল। এরপর থেকেই আর কখনো যোগাযোগ করেনা। সায়মা অনেক চেষ্টা করলো তার সাথে সম্পর্ক ঠিক করার। কিন্তু সব চেষ্টা বিফলে গেল।
এইচ এস সি পাশ করার পর সায়মার বিয়ে দেওয়া হয়। ছেলে দেখতে শুনতে ভালো ছিল। সব ঠিকঠাক ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই সায়মা আবিষ্কার করলো এতদিন ওদের পরিবার যে মেন্টালিটি নিয়ে চলতো এই ছেলের পরিবার সম্পূর্ণ বিপরীত। পরিবারের কর্তার কথাই শেষ কথা। সায়মা কে নানাভাবে শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার করা হতে লাগলো। এর মধ্যে সায়মার পেটে বাচ্চা এসে যায়। বাচ্চা হওয়ার পরে পরিস্থিতি আরো করুণ হয়। সায়মাকে নানাভাবে অপদস্ত করা হচ্ছে। সায়মা যাই করে তাতেই তারা নানা ভাবে সায়মা কে হেয় প্রতিপন্ন করছে।
এইসব প্রতিকূলতার মাঝেও সায়মা পড়াশোনা চালিয়ে যায়। স্বামীর বাড়ি থেকে সব সহযোগিতা না পেলেও সে বাপের বাড়ির সহায়তায় পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করে।এর মধ্যে অত্যাচার এর মাত্রা দিন দিন মাত্রাছাড়া হয়ে যায়। সায়মা শেষ পর্যন্ত বাপের বাড়ি চলে আসে। তারপর একদিন সায়মা ঠিক করে এই লোকের সাথে আর সংসার করবেনা। সে আত্মনির্ভরশীল হবে।
শেষ পর্যন্ত লোক টা কে ডিভোর্স দিয়ে সায়মা একটা জবে জয়েন করে। এবং নিজের কাজ চালিয়ে যায়। সায়মা চায় একদিন সে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবে। এবং মেয়েদের উন্নতির জন্য এমন একটি সংস্থা বানাবে যারা অসহায় মেয়েদের নিয়ে কাজ করে এবং তাদের আত্মকর্মসংস্থান এ সহায়তা করে।