Article

কর্পোরেট পলিটিক্স

October 25, 2026

8 views

ফাতিয়া একটি কর্পোরেট অফিসে জব করে। খুব পর্দাশীল। হাতে মোজা, পায়ে মোজা না পড়ে সে চলাফেরা করেনা। অফিসে যখন খাবার খায় তখন নেকাব এর ফাঁক দিয়ে খাবার পেটে চালান করে। অফিসের কেউ এই পর্যন্ত ফাতিয়ার চেহারা দেখেনি। অফিসে কঠিন শিফট চলা অবস্থাতে ও সে এক ওয়াক্ত নামাজ ও মিস দেয় না। মাঝে মাঝে রান্না করে নিয়ে আসে বাসা থেকে টিমলিডার কে লাঞ্চে আলাদা করে ডেকে নিয়ে সে খাবার খাওয়ায়। একটা অফিসেই সে প্রায় তিন বছর ধরে জব করছে। যদি ও সে পর্দাশীল তবুও সে অফিসের ছেলে কলিগদের সাথে কথা বলতেই বেশি কম্ফোর্ট ফিল করে৷ কাজের ফাঁকে ফাঁকে গিয়ে ভাইয়াদের খোঁজ খবর নিয়ে আসে। একে তো পর্দাশীল তার উপর খাওয়ায়। এজন্য টিমলিডার রা তারে পছন্দই করে।

নওশিন অফিসে নতুন জয়েন করেছে। সে আবার পর্দার ধার ধারেনা। তার পরনে হালের ওয়েস্টার্ন থাকে। নিত্যনতুন ড্রেস পরতে সে খুব পছন্দ করে৷ওর চুল ডিপ শাইনিং করা এবং গোল্ডেন ব্লন্ড করা। চেহারা ও ভালোই। শরীরের গড়ন মিডিয়াম। নওশিনকে দেখে যেকোন ছেলে এমনিতেই কথা বলতে চায়। অফিসে নতুন জয়েন করেই নওশিন টিমলিডারদের মনোযোগ আকর্ষণ করে নিয়েছে। এছাড়া অন্য কলিগ রা ও বিভিন্নভাবে তার সাথে কথা বলার ছুতো খুঁজে। নওশিন যেহেতু জবে একেবারে নতুন সে এখনো ভাইয়াদের তেল দেওয়া রপ্ত করতে পারেনি। চেষ্টা করে যে নম্র ভাবে কথা বলতে। এবং কাজ শিখে নিতে।

নওশিন আসার পর থেকেই ফাতিয়ার রাতের ঘুম হারাম হয়ে যায়। আগে ফাতিয়ার সাথে যে ভাইয়ারা কথা বলতো তারা ও এখন তেমন একটা বলে না। সবাই নওশিনের সাথেই কথা বলতে আগ্রহী। টিমলিডার ভাইয়াদের ও এখন আর তেমন ভাবে পাওয়া যায় না। ফাতিয়া নিত্যনতুন খাবার রান্না করে আনতে থাকে তবুও কারো মন পায় না।

ফাতিয়ার মনে হলো যেভাবেই হোক নওশিন কে সরিয়ে দিতে হবে। এভাবে চলতে থাকলে কেউ আর তাকে এটেনশন দিবে না। তাই সে সারাক্ষন নওশিন কে ফলো করতে থাকে। নওশিনের ছোটখাটো ভুল পেলে সাথে সাথে নোট করে নেয়। আর ইচ্ছেকৃত নওশিন কে খোঁচা দিয়ে কথা বলে। নওশিন যেহেতু এখনো জব সেক্টরে নতুন তাই সে কিছু না বুঝেই রিয়েক্ট করে ফেলে। আর সুযোগ বুঝে ফাতিয়া টিমলিডার দের বোঝাতে সক্ষম হয় নওশিন খুব আনপ্রফেশনাল। সে অফিসের নিয়ম কানুন এর ধার ধারে না।

ওইদিকে ভাইয়ারা যখন নওশিন কে বকা দেয়, তখন নওশিনের মন খারাপ দেখে আবার তাকে টিমলিডারদের নামে কান ভাঙানি দেয়। এভাবে দিন যত যায় নওশিনের অফিসের ওয়েদার চূড়ান্ত টক্সিক মনে হয়। একসময় নওশিন মনে করে এই অফিসে সবার সামনে এভাবে অপমানিত হওয়ার চেয়ে বেকার থাকা ভালো। তারপর একদিন নওশিন অফিস থেকে রিজাইন দেয়।

ফাতিয়ার সুদিন আবার ফিরে আসে। সে আবার আগের মতো রান্না করে ভাইয়াদের খাওয়ায়। আর ওয়েল ম্যাসাজ করতে থাকে। এভাবেই সে অফিস টাকেই শ্বশুরবাড়ি বানিয়ে সুখে শান্তিতে বসবাস করতে থাকে।

The end.

Picked up where you left off

Comments

Be this story’s first reader

+25 XP

Nobody has commented yet. Sign in, read it, and be first with a thoughtful comment to earn the bonus.

Sign in to claim

    Please login to post comment. Login

  • Borhan Mahmud 8 hours ago

    অন্যকে ছোট করে পাওয়া সাময়িক মনোযোগ কখনো প্রকৃত যোগ্যতার বিকল্প হতে পারে না। গল্পটাতে আজকালকার কর্পোরেট এনভায়রনমেন্টের কমন কিন্তু টক্সিক কিছু দৃশ্য তুলে এনেছেন।