সেলস ড্যাশবোর্ড তৈরি করতে প্রথমেই আপনার সেলস ডাটা গুছিয়ে নিন। যে ডাটার প্রয়োজন নেই, তা বাদ দিন। অহেতুক সারি ও কলাম রাখবেন না। ডাটায় কোনো ভুল আছে কি না, একবার ভালোভাবে যাচাই করুন। টিম ম্যাপিং ঠিক আছে কি না, টার্গেট সঠিকভাবে দেওয়া হয়েছে কি না এবং সর্বশেষ আপডেটেড টার্গেট ব্যবহার করা হয়েছে কি না—এসবও দেখে নিন।
এরপর ঠিক করুন, আপনি কেমন ড্যাশবোর্ড চান। প্রয়োজনে কাগজে একটি ধারণাগত নকশা এঁকে নিতে পারেন। ড্যাশবোর্ডের মূল বিষয় বা বটম লাইন কী হবে, শিরোনাম কী হবে এবং বটম লাইনের নিচে কোন কোন তথ্য থাকবে—আগেই ঠিক করে নিন।
ধরা যাক, আপনি একটি Safiq REF Dealer-Wise Lifting Dashboard তৈরি করতে চান। ড্যাশবোর্ডের শুরুতেই থাকতে পারে মোট বিক্রির পরিমাণ—কোয়ানটিটি ও ভ্যালুতে। পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি বিক্রি করা ডিলারের নাম ও তার বিক্রির পরিমাণ দেখানো যেতে পারে। আগস্ট ও সেপ্টেম্বর—এই দুই মাসের বিক্রিও ভ্যালু ও কোয়ানটিটি অনুযায়ী তুলে ধরা যেতে পারে।
এরপর থাকতে পারে জোনাল ম্যানেজারভিত্তিক বিক্রির তথ্য। এখানেই ড্যাশবোর্ডটি আরও কার্যকর হয়ে উঠবে। একজন জোনাল ম্যানেজারকে নির্বাচন করলে উপরের মূল সারাংশে তার মোট বিক্রি দেখা যাবে। একই সঙ্গে নিচে মডেলভিত্তিক এবং ডিলারভিত্তিক বিক্রির বিস্তারিত তথ্য দেখা যাবে।
মডেলভিত্তিক বিক্রির তুলনা সহজে বোঝানোর জন্য বার চার্ট ব্যবহার করা যেতে পারে। সবশেষে ডিলারভিত্তিক বিস্তারিত তথ্য রাখা যায়। সেখানে বিলিং তারিখ, বিক্রির ভ্যালু, কোয়ানটিটি, জোন, এএম, টিএম, ডিলারের ধরনসহ প্রয়োজনীয় তথ্য থাকবে।
ড্যাশবোর্ডে একটি সার্চ সুবিধা রাখা যেতে পারে। সেখানে ডিলার কোড বা এএমের নাম দিয়ে তথ্য খোঁজা যাবে। কোনো এএমের নামে ক্লিক করলে তার অধীনে থাকা সব ডিলারের তথ্য এবং একটি সারাংশ একসঙ্গে দেখা যাবে।
ড্যাশবোর্ডকে আকর্ষণীয় ও সহজবোধ্য করতে প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন রঙ ব্যবহার করা যায়। গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো আলাদা করে তুলে ধরা যায়। তবে অতিরিক্ত রঙ ব্যবহার না করে পরিচ্ছন্ন ও পেশাদার নকশা রাখা জরুরি। বক্স ও গোলাকার উপাদানগুলো কালো রেখায় রাখা যেতে পারে।
ড্যাশবোর্ড তৈরি হয়ে গেলে কাজ শেষ নয়। প্রথমে সেটি ডাউনলোড করে নিজেই ভালোভাবে পরীক্ষা করতে হবে। কোথাও ভুল, তথ্যের অসামঞ্জস্য বা প্রদর্শনের সমস্যা থাকলে এআইকে দিয়ে সংশোধন করতে হবে। প্রয়োজন হলে কয়েকবার পরীক্ষা ও সংশোধন করতে হবে।
সবকিছু ঠিক থাকলে চূড়ান্ত ড্যাশবোর্ড প্রকাশ করুন। এরপর প্রকাশিত ড্যাশবোর্ডটি অন্য একজন সহকর্মীকে দিয়ে দেখে নিতে পারেন—তার কম্পিউটার বা ডিভাইসে সব তথ্য ঠিকভাবে দেখা যাচ্ছে কি না, কোনো বাটন কাজ করছে কি না, ফিল্টার বা সার্চ ঠিকমতো চলছে কি না। সবকিছু ঠিক থাকলে এবার সেটি বসের কাছে উপস্থাপন করা যাবে।
একই ড্যাশবোর্ড বারবার ব্যবহার
ড্যাশবোর্ডটি তৈরি হওয়ার পর এআইকে বলা যায়—এই ড্যাশবোর্ডটি ‘ক’ নামে মনে রাখো। ভবিষ্যতে নতুন সেলস ডাটা দিলে একই কাঠামো ঠিক রেখে শুধু ডাটা আপডেট করতে হবে। অর্থাৎ মূল কাঠামো, বিন্যাস ও প্রয়োজনীয় বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন না করে নতুন ডাটা বসিয়ে ড্যাশবোর্ডটি হালনাগাদ করা যাবে।
পরবর্তী সময়ে নতুন ডাটা হাতে এলে শুধু বলা যাবে, ‘ক’ ড্যাশবোর্ডটি নতুন ডাটা দিয়ে আপডেট করে দাও। এতে প্রতিবার শুরু থেকে নতুন করে ড্যাশবোর্ড তৈরির প্রয়োজন হবে না।
তবে পুরো প্রক্রিয়ায় কোথাও আটকে গেলে অন্য এআই টুলের সহায়তাও নেওয়া যায়। যেমন, ক্লডকে সমস্যাটি জানালে সে ধাপে ধাপে করণীয় বুঝিয়ে দিতে পারে। অর্থাৎ এআই শুধু ড্যাশবোর্ড তৈরি করেই দেবে না, তৈরি থেকে পরীক্ষা, সংশোধন ও হালনাগাদ—পুরো প্রক্রিয়াতেই সহায়তা করতে পারে।