আয়ারল্যান্ড ও ওয়েলসের দুজন প্রখ্যাত শিশুসাহিত্যিক জনপ্রিয় আইরিশ লেখক স্যালি রুনিকে তাদের বই থেকে পাওয়া রয়্যালটি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ফিলিস্তিনপন্থী গ্রুপ 'প্যালেস্টাইন অ্যাকশন' এর প্রতি সমর্থনের কারণে ব্রিটেনে রুনির বইয়ের সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর তার প্রতি সংহতি জানাতে এই ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ নিয়েছেন তারা।
ক্রিস হটন এবং নিকোলা ডেভিস যথাক্রমে আয়ারল্যান্ড ও ওয়েলসের 'চিলড্রেনস লিটারেচার লরিয়েট' (সম্মানজনক জাতীয় পদবি)। তারা স্যালি রুনির রয়্যালটি বন্ধের বিষয়টিকে একটি প্রহসন ও আইনের অপব্যবহার বলে উল্লেখ করেছেন। উভয় শিশুসাহিত্যিক ব্রিটেনে তাদের বই বিক্রির রয়্যালটির অর্থ রুনিকে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন এবং এই পদক্ষেপকে শৈল্পিক স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান হিসেবে অভিহিত করেছেন।
ক্রিস হটনের বই বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ কপি বিক্রি হয়েছে। তিনি বলেছেন, 'আমি একটি বিষয় তুলে ধরতে চেয়েছি যে, একজন বেস্টসেলিং লেখকের পক্ষে নিজের লেখা বইয়ের ব্রিটেনে বিক্রিলব্ধ রয়্যালটি না পাওয়াটা কতটা অযৌক্তিক। আর এই পরিস্থিতির কারণ হলো, তিনি ফিলিস্তিনপন্থী একটি গ্রুপকে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন।'
তিনি আরও বলেছেন, 'আমি স্যালি রুনির প্রতি আমার পূর্ণ সমর্থন জানাতে চাই। আমি যেহেতু অধিকাংশ সময় ব্রিটেনে থাকি, তাই তিনি যা করেছেন তা আমার পক্ষে করা সম্ভব নয়। তবে প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে সমর্থন করার পরিবর্তে আমি তাকে সমর্থন করতে পারি।'
আয়ারল্যান্ডের জনপ্রিয় এই শিশুসাহিত্যিক বলেছেন, 'লেখক হিসেবে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আমাদের মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। এটাই আমাদের মূল সত্তা। আর আমি এমন একজন লেখকের প্রতি সংহতি প্রকাশ করছি, যিনি সাহসের সঙ্গে নিজের কণ্ঠস্বর তুলে ধরেছেন।'
এদিকে ওয়েলসের ‘চিলড্রেনস লরিয়েট’ নিকোলা ডেভিস বলেছেন, 'আমি যদি গাজা উপত্যকার শিশুদের হত্যা ও অঙ্গহানির ঘটনা দেখেও নীরব থাকি, তবে আমি আর দাবি করতে পারি না যে, আমি ওয়েলসের শিশুদের পক্ষে দাঁড়িয়ে আছি।'
তিনি আরও বলেছেন, 'গাজা উপত্যকা ওয়েলসের ফ্লিন্টশায়ার কাউন্টির চেয়েও ছোট। পরিস্থিতিটা এমন যেন ওয়েলসের সব শিশুকে সেখানে জড়ো করা হয়েছে এবং তাদের ওপর বোমা বর্ষণ করা হচ্ছে। তাই স্যালি রুনি যে অবস্থান নিয়েছেন, আমি তাকে সমর্থন জানাই।'
৬৮ বছর বয়সী এই শিশুসাহিত্যিক তার ‘দ্য ডে ওয়ার কেম’ নামক বইটির আগামী ছয় মাসের রয়্যালটি স্যালি রুনিকে দান করবেন বলে জানিয়েছেন।যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চল থেকে আসা এক শিশু শরণার্থীকে নিয়ে লেখা এই বইটি ২০১৮ সালে প্রকাশিত হয়। তবে ইউক্রেন ও ফিলিস্তিনের সংঘাতের কারণে বর্তমানে এই বইটির বিক্রি বেড়ে গেছে।
সম্প্রতি রুনি জানিয়েছেন, 'প্যালেস্টাইন অ্যাকশন' এর প্রতি সমর্থন জানানোর কারণে তাকে ব্রিটেনের বাজারে ব্রিক্রির জন্য রাখা তার বইগুলো প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য করা হচ্ছে। এক বিবৃতিতে ৩৫ বছর বয়সী এই লেখক বলেছেন, '২০২৫ সালের জুলাই মাসে প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে ব্রিটেনে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। যেহেতু এই গোষ্ঠীটি আয়ারল্যান্ডে আইনত নিষিদ্ধ নয়, তাই আমি এদের প্রতি আমার সমর্থন অব্যাহত রাখার পাশাপাশি আমার বইয়ের রয়্যালটির অর্থও তাদের জন্য ব্যয় করার ঘোষণা দিয়েছিলাম।'
তিনি আরও বলেছেন, 'এখন ব্রিটেনে আমার লেখা প্রকাশের চুক্তিগুলো কার্যকর রাখা একটি গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। তাই বিস্তারিত আলোচনা ও পর্যালোচনার পর এবং আমার পূর্ণ সম্মতিক্রমে আমার প্রকাশক ফ্যাবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, তারা আর যুক্তরাজ্যে আমার লেখা সরবরাহ করতে পারবে না।'
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’ ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে কাজ করে থাকে। ব্রিটেনভিত্তিক এই সংগঠনটি গাজা যুদ্ধে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের ব্যাপক নিন্দা জানিয়েছে। ব্রিটেনে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার দায়ে হাজার হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।