সম্প্রতি একটি নতুন সাহিত্য পুরস্কার চালু করা হয়েছে, যার লক্ষ্য হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের সহায়তায় লেখা কাজের স্বীকৃতি দেওয়া। ফ্রান্সের তিনজন প্রযুক্তি বিষয়ক উদ্যোক্তা জানিয়েছেন, তারা এআই ব্যবহার করে লেখা বইয়ের জন্য একটি সাহিত্য পুরস্কার চালু করেছেন। তাদের দাবি অনুযায়ী, এটি এ ধরনের প্রথম পুরস্কার।
গত সপ্তাহে ফ্রান্সে ‘প্রি পাসকাল দ্য লিতেরাতুর আইএ’ নামের এই সাহিত্য পুরস্কারটি চালু করা হয়। আয়োজকরা লেখকদের কাছ থেকে এআইয়ের সহায়তায় লেখা পাণ্ডুলিপি আহ্বান করেছেন। আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত পাণ্ডুলিপি জমা নেওয়া হবে এবং ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে পুরস্কারটি প্রদান করা হবে। বিজয়ী পাণ্ডুলিপিটি প্রকাশের নিশ্চয়তাও দেওয়া হয়েছে। অবশ্য পুরস্কারটির জন্য এখনও কোনো বিচারকমণ্ডলীর নাম বা পুরস্কারের অর্থমূল্য ঘোষণা করা হয়নি।
ফরাসি উদ্যোক্তা ফিলিপ রদ্রিগেজ, আলবিন সার্ভিয়ান্ত এবং জিল মঁত্রে এক বিবৃতিতে বলেছেন, 'এ পুরস্কারটি ফরাসি ভাষায় লেখালেখি করা যেকোনো ব্যক্তির জন্য উন্মুক্ত, তিনি ফরাসিভাষী বিশ্বের যেখানেই থাকুন না কেন। এতে জাতীয়তা বা নির্দিষ্ট কোনো স্থানে বসবাসের কোনো শর্ত নেই এবং কোনো প্রকাশকের প্রয়োজনও নেই।'
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, 'পাণ্ডুলিপিটি ফরাসি ভাষায় লেখা একটি অপ্রকাশিত কথাসাহিত্য হতে হবে, যা এআইয়ের সহায়তায় লেখা। এটি এমন কিছু করার সাহস দেখাবে, যা আগে কখনো পড়া হয়নি।'
সাহিত্যে এআইয়ের ব্যবহার নিয়ে গত মাস থেকে ফ্রান্সের সাহিত্যজগতে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। কানাডীয়-হাইতীয় লেখক থেলিসোঁ ওরেলিয়েনের বিরুদ্ধে এআইয়ের সহায়তায় উপন্যাস লেখার অভিযোগ ওঠার পর ফ্রান্সের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ সাহিত্য পুরস্কার গঁকুরের সংক্ষিপ্ত তালিকা থেকে তার বই বাদ দেওয়া হয়েছে।
২০২৬ সালে প্রকাশিত ‘ইট ওয়াজ আইদার দ্যাট অর ডাই’ বইটি ওরেলিয়েনের প্রথম উপন্যাস ছিল। সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে এটি ফ্রান্সের মর্যাদাপূর্ণ সাহিত্য পুরস্কার 'এফএনএসি' জয় করে। তবে পরবর্তীতে ওরেলিয়েনের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ ওঠে। অনেকেই দাবি করেন, উপন্যাসটি লিখতে তিনি এআইয়ের সহায়তা নিয়েছেন। তবে ওরেলিয়েন বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছেন। তিনি ‘লিবারাসিওঁ’ এর সাংবাদিক রাশিদ লায়রেশকে জানিয়েছেন, ঐতিহাসিক গবেষণার প্রয়োজনে তিনি বাইরের বিভিন্ন উৎস থেকে বিভিন্ন তথ্য নিয়েছেন।
এদিকে কানাডায় ওরেলিয়েনের মূল প্রকাশক ‘বোরিয়াল’ জানিয়েছে, তারা নিশ্চিত হয়েছে যে, তিনি উপন্যাসটি লেখায় এআই ব্যবহার করেছিলেন। এক বিবৃতিতে বোরিয়াল বলেছে, 'গত কয়েক দিনে পাওয়া নতুন তথ্য থেকে জানা যায় যে, উপন্যাসটির লেখার প্রক্রিয়ায় এআই ব্যবহার করা হয়েছিল। আমরা মিস্টার ওরেলিয়েনের সঙ্গে আমাদের পেশাগত সম্পর্ক ছিন্ন করছি।'
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সাহিত্য রচনায় এআইয়ের ব্যবহার নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বইগুলো যে মানুষের দ্বারা লেখা, এমন লেবেল যুক্ত করার উদ্যোগগুলো জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠিত সাহিত্য পুরস্কারের আয়োজকরা তাদের নিয়মাবলী নতুন করে সাজাচ্ছেন। এতে এআইয়ের সহায়তায় লেখা কোনো রচনাকে অন্তর্ভুক্ত না করার শর্তও দেওয়া হচ্ছে।
তবে বিষয়টি বেশ কিছু জটিল প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। লেখকরা কি গবেষণা বা লেখার বিষয়ে পরামর্শ চাওয়ার জন্য চ্যাটজিপিটি বা ক্লড এর মতো পরিষেবাগুলো ব্যবহার করতে পারবেন? এছাড়া এআইয়ের সহায়তায় করা গবেষণা ঠিক কখন এআই লিখিত রচনা হিসেবে বিবেচনা করা হবে? নতুন নীতিমালায় এসব প্রশ্নের সুস্পষ্ট জবাব প্রত্যাশা করছেন লেখকেরা।