সবুজ আঁচল বিছিয়ে দিয়ে ঘুমায় যেন গাঁ,
দিঘির জলে আলতো করে ধুয়ে নেয় তার পা।
বটের ছায়ায় রাখাল ছেলে বাজায় বাঁশের বাঁশি,
কাশফুলের ওই চরের বুকে ছড়ায় রোদের হাসি।
মাঠের পরে মাঠ ছুটেছে সবুজ রঙের বান,
বাতাস এসে দোলা দিয়ে যায় গেয়ে গাঁয়ের গান।
পাহাড় চূড়ায় মেঘের মেলা, আকাশ নীলে নীল,
ডানা মেলে শূন্যে ওড়ে শঙ্খচিল আর গাঙচিল।
পাথর কেটে ঝরনা ধারা বইছে অবিরাম,
প্রকৃতির এই শান্ত বুকে জড়িয়ে আছে আরাম।
ঘাসের ডগায় মুক্তো ছড়ায় ভোরের শিশির কণা,
ফুলের গন্ধে ব্যাকুল প্রজাপতির আনাগোনা।
ক্লান্ত সাঁঝে নদীর বুকে রূপো ঢালে ওই চাঁদ,
ঝিনুক যেন বুনে চলেছে জলছবির এক ফাঁদ।
গাছের পাতায় মরমর ধ্বনি, হাওয়ায় দোলে লতা,
প্রকৃতি তার রূপের ডালিতে বলছে কত কথা!
ঝুম বৃষ্টিতে ধুয়ে যায় যখন শহরের সব ধুলো,
মাটির সোঁদা গন্ধে তখন ফোটে কদম ফুলগুলো।
ছয়টি ঋতুর রঙ লেগেছে মাটির ক্যানভাসে,
শীতের শেষে কোকিল ডাকে মধুর বসন্তে এসে।
ইঁট-পাথরের খাঁচা থেকে একটু বাইরে এলে,
সবুজ প্রকৃতি জুড়িয়ে দেবে শান্ত দুচোখ মেলে।