সেদিন বৃষ্টি ছিল না, তবু লোকটা ছাতাটি খুলে হাঁটছিল,
মৃত স্ত্রীর শেষ উপহার, বৃষ্টিহীন আকাশেও যার প্রয়োজন ফুরোয়নি।
বাজারের থলিতে আধ সের চাল, একটু লবণ, আর একগোছা কাচের চুড়ি;
কোন বিস্মৃত অভ্যাসের টানে কেনা, সে জানে না।
বাড়ি ফিরে দেখে, দেওয়ালঘড়িতে সময়ের মৃত্যু হয়েছে,
সে কাঁটা ঘুরিয়ে দেয়; মৃত সময়েরও কি পুনর্জন্ম হয়!
হাঁড়িতে ভাত চড়ালো, জানলার বাইরে সন্ধ্যা নামে,
দ্বিতীয় থালাটির গায়ে হাত রেখে সে যেন কার ছায়া খোঁজে।
মানুষ চলে গেলে তার ব্যবহৃত জিনিসেরা বড় অসহায় হয়ে পড়ে,
আলমারির শাড়িতে লেগে থাকে শরীরহীন এক ঋতুর গন্ধ।
রাতে পাশের বাড়িতে হুল্লোড় শোনা যায়,
নতুন বধূর আগমনে, সে জানালা খোলা রাখে;
সুখের শব্দে তার আপত্তি নেই।
শুধু ঘুমোতে যাওয়ার আগে দরজার ছিটকিনিটা খুলে রাখে,
যদি কোনোদিন ফিরে এসে তার স্ত্রী দেখে, পৃথিবী কতখানি বদলেছে।
অন্ধকারে শুয়ে ভাবে, মৃত্যু কি সত্যিই এত দূরের দেশ,
যেখানে পৌঁছালে আর কারও জন্য দরজা খুলে রাখতে হয় না!