"ভাই দেখ দেখ!"
"কি!"
"মানুষের বাচ্চা!"
"চল ভয় দেখাই।"
"না ভাই, এই মানুষের বাচ্চাটা হাড় বজ্জাৎ।"
"কেন কি করছে?"
"আমার লেজ খামচি দিয়ে ধরছিলো আর ছাড়ে নাই।"
"খামচি দিতে পারিস নাই?"
"দিছিলাম তো।"
"তাইলে?"
"আমার গোঁফ ধরে টান দিছিলো।"
"কোথায় খামচি দিছিলি?"
"ওর পাছুতে।"
"আরে গাধা। দেখিস না ডায়াপার পরে আছে। তোর মতো দশটা ভেজা বিলাইরে ভিজাই ঢুকাই রাখা যাবে ঐ ডায়াপারে। ঐখানে খামচি দিলে কি কিছু হয়।"
"তাইলে কই দিমু?"
"মুখে দিবি। চল তোরে শিখাই দিয়া আসি।"
"না ভাই আমি যামু না তুই যা।"
নাদুস বুঝে গেছে ওর ভাই নুদুস ওর মতো সাহসী না। সে নিজেই চলে গেলো মানুষের বাচ্চাকে খামচি দিতে। আসে পাশে কেউ নাই। আস্তে করে বাচ্চাটার পিছনে গিয়ে দাঁড়ালো। যেই বাচ্চাটার সামনে গিয়ে মুখে খামচি দিতে যাবে অমনি বাচ্চাটা খপাৎ করে নাদুসের গোঁফ ধরে ফেললো।
নাদুস মিঁউ মিঁউ করে নুদুসকে ডাকলো। কিন্তু নুদুস ভয়ে আরো পিছিয়ে গেল। নাদুস বাচ্চাটাকে খামচি দিচ্ছে হাতে। তবুও বাচ্চাটা ওর গোঁফ ছাড়েনা। ভাজ্ঞিস এমন সময় বাচ্চাটার মা চলে আসছিলো। নয়তো আজ সব গোঁফ টেনেই ছিঁড়ত। বাচ্চাটার হাত থেকে নাদুসকে ছাড়িয়ে নিয়ে কোলে নিতেই নাদুস দিলো দৌড়।
"ভাই বলছিলাম না ঐ মানুষের বাচ্চাটা হাড় বজ্জাৎ!"
"হ ভাই। আগে বুঝি নাই।"
নাদুস নুদুসের মা যে কখন ওদের পিছনে এসে দাঁড়ালো ওরা টেরও পায়নি। দুই ভাইকে কাছে ডেকে বলল, "শোন বাপধনরা। তোরা হইলি বিলাইর বাচ্চা। আর ঐ মানুষের বাচ্চা হইলো বিলাইর হাড্ডি। সাপ নিয়া খেলা করা যায় কিন্তু মানুষ নিয়া না।"
"কেন মা?"
"সাপের সাথে তোরা খেলা করতে গেলে তোদের ছোবল দিবে হয়তো। তোরা ব্যথাও পাবি। কিন্তু মানুষের সাথে খেলা করতে গেলে তোদেরই ওরা পোষ মানাইয়ে ওদের খেলনা বানাই ফেলবো।"
"খেলনা বানাইলে কি হবে মা?"
"এই যে মানুষের ঘরে সোফার নিচে তোদের নিয়া যেমনে পইড়া আছি এমনে পইড়া থাকতে হবে। কাটা খাইতে দিলে কাটা খাবি। সেলফি তোলার সময় ক্যামেরার দিকে তাকাই হাসি দিবি। বিড়াল না বিলাই হইয়্যা থাকা লাগবে সারা জীবন।"
নাদুসনুদুস || শাকিল রনি
১৫০২১৭
#শাকিল_রনির_পোস্ট_সমগ্র