টেবিলের ওপর রাখা ঘড়িটায় ঠিক রাত বারোটা বাজল। পুরো পাড়া একদম নিঝুম, কোথাও কোনো শব্দ নেই। শুধু আমার টেবিল ল্যাম্পের মৃদু আলোটাই যা একটু জেগে আছে। ঠিক তখনই হঠাৎ জানালার কাচে অদ্ভুত একটা খটখট শব্দ হলো।
প্রথমে পাত্তা দিইনি, ভেবেছিলাম হয়তো রাতের বাতাস বা কোনো পাখি। কিন্তু ঠিক পরক্ষণেই আবার শব্দটা হলো—খুব হিসেবি আর স্পষ্ট তিনটে টোকা। একটু খটকা লাগল। বিছানা ছেড়ে গুটিগুটি পায়ে জানালার দিকে এগিয়ে গেলাম। পর্দাটা সরাতেই বুকের ভেতরটা কেমন যেন ধক করে উঠল। আমাদের চারতলার জানালার ঠিক বাইরে কোনো কার্নিশ নেই, কোনো গাছও নেই। তাহলে শব্দটা করল কে?
কাচ বেয়ে নামা কুয়াশার ওপাশে, নিচের অন্ধকার রাস্তায় একটা আবছা মূর্তি দাঁড়িয়ে আছে। তার একহাতে অদ্ভুত একটা পুরনো লণ্ঠন ঝুলছে। আচমকাই সেই আলোর হলদে আভায় লোকটা ওপরের দিকে মুখ তুলল। আর তখনই আমার শিরদাঁড়া দিয়ে একটা হিমশীতল স্রোত বয়ে গেল। ওটা আর কেউ নয়, অবিকল আমি নিজে দাঁড়িয়ে আছি নিচে! লোকটা আমার দিকে তাকিয়ে খুব চেনা একটা হাসি দিল, আর ঠোঁট নেড়ে ফিসফিস করে বলল—“অনেক তো হলো, এবার আমার ফেরার পালা।”
ভয়ে আমার হাত-পা জমে বরফ হয়ে আসছিল। লণ্ঠনের আলোয় লোকটার মুখের প্রতিটি রেখা আমার চেনা আয়নার প্রতিচ্ছবির সাথে মিলে যাচ্ছিল। আমি জানালার লকটা খুলব নাকি চিৎকার করে বাড়ি মাথায় করব, তা ভেবেই বুকটা কাঁপতে লাগল।"