চিঠি দিয়ো, অন্তত একটা নীল খামে ভুল বানানে হলেও লিখো,
বহুদিন আমি কোনো চেনা অক্ষরের অলৌকিক স্পর্শ পাইনি।
শহরের এই কোলাহল, কৃত্রিম আলোর ভিড়ে বুক যখন হাঁপিয়ে ওঠে,
আমি তখন মেট্রো স্টেশনের ধারে দাঁড়িয়ে তোমার কোনো ডাকপিয়নের খোঁজ করি।
কত বছর কেটে গেল, কেউ আর হাতে লেখা কোনো বিষাদ পাঠায় না,
কেউ আর খামের কোণে জমা করে রাখে না থমকে থাকা এক ফোঁটা জল।
তুমি অন্তত কয়েকটা এলোমেলো বাক্যে বলে দিয়ো কেমন আছ,
তোমার সেই পুরোনো বারান্দায় এখনো কি বিকেলে রোদ আসে আগের মতো?
যদি লেখার মতো কিছু নাও থাকে, শুধু একটা শুকনো পাতার ভাজ পাঠিয়ে দিয়ো,
আমি বুঝে নেব তোমার শহরের বাতাসেও এখন শীতের হাওয়া বইছে।
যদি কোনো অভিমান জমে থাকে বুকের গহীনে,
তবে তাই লিখে ভরিয়ে দাও পাতা,
আমি সেই ভালোবাসার প্রতিটি অন্যায় অক্ষরে শতবার চুমু খাব।
তুমি চিঠি দিয়ো, ডাকবাক্সটা এখন আর শুধু লোহার একটা বাক্স নয়,
সেটা আমার একলা বেঁচে থাকার একমাত্র নিঃশব্দ অবলম্বন।
যদি আজ রাতে বৃষ্টি নামে তোমার জানালায়, একটা দীর্ঘশ্বাস পাঠিয়ে দিয়ো,
আমি বুঝে নেব, বহুদূরে কোথাও তুমি এখনো আমাকে মনে রেখেছ।