শহরের বুকে নেমে আসে অবধারিত স্তব্ধতা,
বুটের আওয়াজে কেঁপে ওঠে পিচঢালা চেনা রাস্তা।
সারাদিনের কোলাহল ধুলোয় মিশে যাওয়ার পর,
দরজার চৌকাঠে জমে থাকে এক অদ্ভুত শূন্যতা।
টেলিভিশনের পর্দায় ভেসে ওঠে সতর্কবাণী, ঘরের বাইরে যাওয়া মানা।
অথচ এই অবরুদ্ধ ঘড়িতেও তোমার কথা
ভাবা ছাড়া আমার আর কোনো কাজ থাকে না।
জানালা দিয়ে দেখা যায় থমথমে গলিতে টহল দিচ্ছে সশস্ত্র প্রহরী,
আর ঘরের ভেতর আমি বুনে চলেছি তোমার সঙ্গে কাটানো মুহূর্তের ক্যানভাস।
বাইরে যখন নিষিদ্ধ কারফিউয়ের কালো ছায়া দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়,
তখন আমার বুকজুড়ে কেবলই তোমার উষ্ণ উপস্থিতির জয়গান।
এ কেমন অবরুদ্ধ সময় বলো তো?
যেখানে দেখা হওয়া এক অপরাধ,
অথচ এই দূরত্বের দেয়াল ভেঙে
আমাদের অদৃশ্য হাতদুটো ঠিকই ছুঁয়ে ফেলে একে অন্যকে।
টেলিফোনের তারে আটকে থাকা আমাদের অব্যক্ত দীর্ঘশ্বাস
আজ ছাদ পেরিয়ে মিশে যায় আকাশে।
আর কারফিউয়ের এই কঠিন প্রহরগুলো তখন
নরম হয়ে গলে যায় তোমার চোখের গহিন বাতাসে।