অদ্ভুত এই বিচ্ছেদে আমরা কেমন সহজে সব মেনে নিলাম!
আমাদের বসবাসের সোনালি বেলা কিংবা অমূল্য কথকতা,
আজ কেবল স্মৃতির সিন্দুকে মূল্যহীন, ধূসর উপাখ্যান।
যে প্রাঙ্গণ রোদ-বৃষ্টির ঝাপটায় মুখর রাখত আমাদের উচ্ছ্বাস,
সেখানে আজ পরম যত্নে জমেছে প্রগাঢ় শূন্যতার ধুলো।
তোমার করতল থেকে খসে পড়া উষ্ণতা হারিয়ে গেছে অজ্ঞাত বাঁকে,
আর আমার জীর্ণ ডায়েরির পাতাগুলো দীর্ঘশ্বাসে ফিসফিস করে,
কী অবলীলায় না বদলে গেল আমাদের চেনা পৃথিবী!
আমরা কি আদতে চেয়েছিলাম এমন এক বিয়োগান্ত পরিণতি?
নাকি মহাকালের উদাসীন স্রোত আমাদের ভাসিয়ে নিয়ে গেল ভিন্ন তটে?
ক্লান্ত দ্বিপ্রহরে হঠাৎ মুঠোফোনের স্নিগ্ধ আলোয় চোখ আটকে যায়,
মনে হয় এই বুঝি ভেসে উঠবে কাঙ্ক্ষিত সেই চেনা নাম,
অথচ স্ক্রিনের আয়নায় প্রতিবিম্বিত হয় কেবলই আমার ভাঙা ছায়া।
অব্যক্ত কথামালা আর অজস্র কথার ভিড়ে আজ প্রগাঢ় মৌনতা,
শব্দহীন সংলাপগুলো ম্লান হতে হতে হারিয়ে গেছে বিস্মৃতির অতলে।
তবে কি বিগত দিনগুলো ছিল দুজনের নিছক কোনো অভিনব ছলনা?
নাকি নিঃশেষ হয়ে গিয়েছিল আমাদের অনুরাগের চিরন্তন জ্বালানি?
অথচ হৃদয়ে নেই কোনো অতল হাহাকার, নেই কোনো অমূলক ক্ষোভ;
অদ্ভুত এই বশ্যতার নিভৃত কুঠুরিতেই হয়তো লুকিয়ে আছে আজ
আমাদের অনন্তকালের তরে চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার এক মৌন চুক্তি।