সদরঘাটের আর্দ্র ও কোলাহলমুখর পন্টুনে
ভিজে ডালের গায়ে সেঁটে থাকা পাঁপড়ির মতো
খসে পড়ে বিবর্ণ মানুষের ক্লান্ত মুখগুলো।
বুড়িগঙ্গার কালচে জলে ডুবে আছে এখনো লস্করি নৌকা,
আর মোগল সুবাদারের দালানের ভাঙা ইটের অবশিষ্টাংশ
ভাসছে প্লাস্টিক-আবর্জনায় মোড়া বুড়িগঙ্গার সুড়ঙ্গে।
টুকরো টুকরো পোড়ামাটি, আহসান মঞ্জিলের ধুলোমাখা ছাদ,
আর লালবাগের মিনারে ঝুলে থাকা শতাব্দীর সিক্ত পায়রা,
সব একাকার হয়ে জমে বুড়িগঙ্গা পেরিয়ে মেঘনার তলানিতে।
হলুদ কুয়াশার চাদরে ঢাকা এই নগরীর ট্রাফিকে
কোনো ঋতু নেই, নেই কোনো শান্ত গোধূলির আকাশ;
আছে কেবল হাড় কাঁপানো কারখানার বর্জ্যের গন্ধ
আর রিকশার ঘড়ঘড় শব্দে বোবা হয়ে যাওয়া মগজ।
হে মৃতপ্রায় জনপদ,
তোমার ইটের খাঁজে জমে আছে সুলতানি আমলের রক্তমাখা ইশতেহার।
একটি শুকনো পাতার পতন,
অথবা বুড়িগঙ্গার কালচে জলে খসে পড়া রাজমুকুট।
সবই আজ সমান অর্থহীন, সমান মৌন।