অরূপ কুহকে ঘেরা এই প্রপঞ্চময় মায়ানগরীতে বসে
আমরা কেবল সন্ধান করে ফিরি সেই অচিন পাখির অদৃশ্য পদধ্বনি।
নশ্বর এই মৃন্ময় খাঁচায় অসীম শূন্যতার দীর্ঘশ্বাস জমে ওঠে,
আর না দেখার এক অতল আকুলতায় ব্যাকুল হয় মনের মানুষ।
শহরের কোলাহলে কিংবা নদীভাঙা প্রান্তরের উদাসীন বাতাসে,
কোথাও কি বাজে না সেই আশ্চর্য একতারার প্রগাঢ় সুর?
আমরা তো স্রেফ পঞ্চভূতের এই জীর্ণ কাঠামো নিয়ে হেঁটে বেড়াই,
অথচ অন্তরের অন্তস্তলে কে যেন অবিরত বাজিয়ে যায় নিখিল বাঁশী।
মহাজাগতিক এই সাঁওতালির স্রোতে ভাসে কত শত অতৃপ্ত কুয়াশা,
অথচ কেউ জানে না এই অপার ভবসাগরের ওপারে কার ঠিকানা।
মায়ার মোহজালে জড়িয়ে আমরা প্রত্যেকেই যেন অন্ধ পথচারী,
আয়নার অন্তরালে প্রতিবিম্বিত হয় কেবলই পরম শূন্যতা।
লালনের নদীর ঘাটে আজ আর নৌকা ভিড়ে না কোলাহলে,
কেবল না-বলা প্রজ্ঞার প্রদীপে জেগে থাকে একাকী এক উদাসী প্রহর।
দেহ খাঁচার অঙ্গনে বয়ে চলা এই অবিনশ্বর জীবন-নদীর তীব্র জোয়ারে
আমরা কি তবে সত্যিই এক দিন বিলীন হবো মহাশূন্যের অমোঘ নীলে?