আরেকবার এসে আমায় ছুঁয়ে যাও, ছবি।
হিজলের বনে যখন নামে শ্রাবণের মেঘেদের দীর্ঘ ছায়া,
তখন বুকের গহীনে জমে ওঠে তোমার জন্য সেই চেনা মায়া।
আমি কেবল একা বসে ভাবি,
তুমি কি তখনো মধুমতী নদীর কূলে দাঁড়িয়ে থাকো?
আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে আরও অনেক কথা বলার ছিল আমাদের।
অথচ জীবনানন্দের মতো আমিও তো জানি, সব পাখি ঘরে ফেরে না।
হাতের রেখায় আজ শুধু নদীভাঙা ধুলোর আলপনা,
আর মুঠোফোনের নীল আলোয় তোমার অবয়ব ফুরিয়ে আসে।
তবুও মাঝরাতে বুক চিরে ভেসে ওঠে সেই চেনা সুবাস,
মনে হয়, এই বুঝি তুমি দরজা ঠেলে ঘরে প্রবেশ করবে।
দিনান্তে সব নদীর জলে যেমন করে গলে পড়ে সন্ধ্যার তিমির,
তেমনি আমার নিঃসঙ্গ ডানায় আজও তোমার ওমের কুয়াশা।
বলো তো, কত যুগ পার হলে তবে দেখা হবে আবার?
আরেকবার এসে আমায় ছুঁয়ে যাও, ছবি,
নতুবা এই শূন্য জীবনে আমি চিরকাল একা রয়ে যাবো!