কী ঘোলাটে আঁধার নেমেছে এখানে —
বিষণ্নতার যেন সুগভীর প্রপাত।
বেলি, কামিনী, রজনী, বাহারি রঙের ফুল —
পাখিসব কোথায় হারিয়ে গেল?
শ্যামল ঘাটের তীর আজ শূন্য,
রাখাল বিলীন — বাঁশি নেই।
হেমন্ত নেই, নেই মধুপাখির বসন্তও —
তবু… তবু আমি আছি।
আমি আছি কেন এই থেকে যাওয়া?
পৃথিবীর কোথাও সুখের সুপ্রভাত নেই,
নেই একফোঁটা রশ্মি, নেই আলো।
দিবাকর নিস্তব্ধ, নিরব, নিস্তেজ —
কী ঘোলাটে আঁধার নেমেছে এখানে,
তবু মৃত্যু নেই।
সন্ন্যাসী সুখের তীর খুঁজে দুখী,
হাজার বছরের পথে — তবু ক্লান্তি নেই।
সুখ চাই — নাই — তবু মৃত্যু নেই।
নেই ব্যক্তিত্ব, নেই সাহস, নেই লড়াইয়ের বল,
শক্তিচিত্তহীন, ভীষণ ভীতু — কতটা দুর্বল।
তবু মৃত্যু নেই।
বেঁচে আছি মরার মতো — তবু দুঃখ নেই।
নিলামে দিয়েছি সব প্রতিজ্ঞা,
ফেরা বোধহয় আর হবে না —
স্বর্গরূপ মায়ের কোলে আর ফেরা নেই।
মস্তিষ্কের ছায়াও বিলীনপুরে হারিয়েছে,
শুকিয়ে মরে গেছে —
পাতাশূন্য আমি।
তবু আমার মুক্তি নেই,
নেই বাঁচিবার অধিকারটুকুও।
হয়তো তবে — সে…
কষ্টই নরক করছে আমার চির প্রতীক্ষা।