পরীমনি যখনই কোনো ঘটনায় আলোচিত-সমালোচিত হন তখনই আমার স্কুল লাইফের সময়কার The Dirty Picture মুভির কথা মনে পড়ে। এই মুভিতে বিদ্যা বালান যার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন সেই সিল্ক স্মিতার জায়গায় আমি পরীমনিকে দেখি।
সিল্ক স্মিতা ছিলেন আশির দশকের দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রের তুমুল জনপ্রিয় নাম। তিনি জনপ্রিয় হয়েছিলেন তার নাচ আর আবেদনময়ী উপস্থিতির কারণে। তিনি এত জনপ্রিয় ছিলেন যে তাঁর উপস্থিতি অনেক সময় সিনেমার মূল অভিনেত্রীদেরও ছাপিয়ে যেত। দর্শক তাঁকে দেখতে সিনেমা হলে হুমড়ি খেয়ে পড়তেন। প্রযোজকেরা তাঁর জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে ব্যবসা করতেন। আশির দশকে তিনি একেকটি নাচের দৃশ্যের জন্য ৫০ হাজার রূপি পারিশ্রমিক নিতেন, এই ক্ষেত্রে তার কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল না। এবং তিনি প্রায় পাঁচ শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।
কিন্তু চলচ্চিত্রশিল্প বড় নির্মম। একজন অভিনেত্রীর রূপ সৌন্দর্য যতদিন থাকে, ততদিন জনপ্রিয়তা থাকে, তখন তাঁকে ঘিরে থাকে প্রযোজক, পরিচালক, গণমাধ্যম, ভক্ত এবং অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী।
তাঁর উপস্থিতি দিয়ে ব্যবসা হয়, তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খবর তৈরি হয়, তাঁর সৌন্দর্য নিয়ে আলোচনা হয়। কিন্তু সময় বদলালে এই মানুষগুলোর অনেকেই অন্য তারকার দিকে চলে যান। দর্শকের রুচি বদলায়, নতুন মুখ আসে, বাজারের চাহিদা পাল্টে যায়।
যারা শিল্পী সত্তার বাইরে শুধুমাত্র শারীরিক সৌন্দর্য দিয়ে জনপ্রিয় হন, তাদের জন্য তো এটা আরো বেশি নির্মম হয়ে উঠে।
সিল্ক স্মিতার ক্ষেত্রেও অনেকটাই এরকম হয়েছিল। একসময় যাঁকে ঘিরে সিনেমার বাজার সরগরম ছিল, সময়ের পরিবর্তনে সেই মানুষটিই চলচ্চিত্রশিল্পের প্রান্তিক চরিত্রে পরিণত হন। মাত্র ৩৫ বছর বয়সেই তিনি একা হয়ে পড়েছিলেন। তার সাথে ছিল ব্যক্তিগত জীবনের নানা টানাপোড়েন আর আর্থিক সংকট।
সিল্ক স্মিতা একটি সুন্দর জীবন চেয়েছিলেন। ভালোবাসার একটি সম্পর্ক আর একটি সংসার চেয়েছিলেন। কিন্তু সেটি তার কপালে আর জোটেনি। ১৯৯৬ সালে মাত্র ৩৫ বছর বয়সে তিনি আ*ত্ম*হ*ত্যা করেন। যদিও তার এই মৃত্যু অনেক রহস্যে ঘেরা।
মিডিয়ায় প্রকাশ হওয়া তার সুই*সা/ইড নোটে তিনি লিখেছিলেন, "অভিনেত্রী হওয়ার জন্য আমাকে কতটা পরিশ্রম করতে হয়েছে, সেটা শুধু আমি জানি। অথচ জীবনে কেউ আমাকে ভালোবাসেনি।.... অনেক মানুষ আমার শরীর ব্যবহার করেছে। অনেকেই আমার কাজ ও পরিশ্রম থেকে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করেছে।"
আমার মনে হয় পরীমনি সিল্কস্মিতার পথেই হাঁটছেন। এবং একদিন হয়তো তিনিও স্মিতার মতো বলবেন, "আমি কোথাও সুখ খুঁজে পাইনি।"
এবং একসময় তিনিও হয়তো একটা সুস্থির-শান্তির জীবনের আকাঙ্খা নিয়ে বলবেন, "Do you know how much I longed for that life?"