পকেট হাতড়ে দুইশত ত্রিশ টাকা পেলো। মাস শেষ হতে আরো চার দিন বাকী আছে। মনটা বিষিয়ে আছে সেই সকাল হতে খালেকের। মাসের শেষ সপ্তাহটা শেষই হতে চায়না। কেরানীর চাকুরী করে সামান্য বেতনে গ্রামাঞ্চলেই বেঁচে থাকা সম্ভব না, তার উপর ঢাকা শহর।
অফিসে এসে দেখে বড় সাহেবের মেজাজ খারাপ হয়ে আছে। পিয়ন মাসুদের সাথে তার ভালো সম্পর্ক। কম বেতনের লোকদের মধ্যে ভালো সম্পর্ক থাকে। মাসুদকে একবার বলল পকেটের কথা। মাসুদ কিছু না বলে মাথা ঝাঁকাল শুধু। মাঝে মাঝেই মাসুদের কাছ হতে টাকা ধার নেয় খালেক। মাসুদ তার চেয়ে কম বেতন পায়। কিন্তু সে বিয়ে করেনি। ঝাড়া হাত পায়ের মানুষ। তার পকেটে সবসময় টাকা থাকে। আজও বোধহয় তার কাছে টাকা চাইতে হবে।
-মাসুদ, তোমার পকেটের কি অবস্থা?
-আপনের টাকা শর্ট পড়ছে খালেক ভাই?
-হ্যাঁ। বোঝোই তো, ঢাকা শহরে দুই বাচ্চা নিয়ে সংসার চালানো কত কঠিন।
-ঠিক আছে ভাই। চিন্তা কইরেন না। টাকা আজ পেয়ে যাবেন। তবে আজ আমি দেবো না। আমি আজ ব্যবস্থা করে দেবো।
-সেটা কোথা থেকে দিবা?
-আপনে কিছু চিন্তা কইরেন না। আমি যা বলমু, ঠিক তাই করবেন। তাহলেই হয়ে যাবে।
-এটা কি বল্লা? আমাকে আবার কি করতে হবে?
-দুপুরে বলবো। তখন আপনাকে ডাক দিমু। মাসুদ বলল।
খালেক ভেবেই পেলোনা, কি করতে যাচ্ছে মাসুদ। চুরি টুরি করবে নাকি আবার? নিজের চেয়ারে বসে সাত পাঁচ ভেবে ভেবে একা একা ঘামাতে লাগলো খালেক।
দুপুরের দিকে পুরো অফিস ব্যস্ত হয়ে গেলো। শাহাদাত সাহেব নাকি আসবেন। দেশের বড় একজন কনট্রাক্টর। উনার একটা ফাইল এখানে আটকে আছে। সড়ক জনপথের অফিস মানেই মাঝে মাঝে বড় বড় রথী মহারথীদের পায়ের ধুলা পড়ে। উনি চিটাগাং এ সীতাকুণ্ডে ঢাকা-চিটাগাং রোডের ফোর লেইনের ত্রিশ কিলোমিটারের কাজটা নাকি আজ পেয়ে যাবেন। খালেক বুঝে উঠতেই পারেনা, মানুষ কিভাবে শত শত কোটি টাকার কাজ পায়? মানুষ এত টাকাইবা কোথায় পায়! আজ নাকি ঐ ফাইলটা ছেড়ে দেয়ার অর্ডার এসেছে মন্ত্রীর অফিস হতে।
শাহাদাত সাহেব এসেই বড় সাহেবের অফিসে ঢুকলেন। তখনই মাসুদ এসে তাকে ডাক দিলো। খালেক উঠে গিয়ে জিজ্ঞেস করলো,
-কি হয়েছে?
-শাহাদাত সাহেবের সময়ের দাম আছে। উনি বেশি সময় থাকবেন না। সর্বোচ্চ দশ মিনিট। উনি চিটাগাং এসেছেন শুধু এ ফাইলটা ছুটানোর জন্যেই। আমি আপনি দুজনেই এখন অফিসের গেটের কাছে দাঁড়িয়ে থাকবো। উনি যখন বের হবেন, তখন আপনি আমার সাথে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকবেন। আমি যা করবো, আপনি তাই করবেন।
মনের ভেতর একগাদা দ্বিধা নিয়ে খালেক বলল, ঠিক আছে।
সত্যি সত্যিই শাহাদাত সাহেব কিছুক্ষণের মধ্যেই বেরিয়ে এলেন। অফিস হতে বেরোবার গেঁটের কাছে দুজনেই দাঁড়িয়ে আছে। শাহাদাত সাহেব সেখানে পৌঁছাতেই মাসুদ তাঁকে একটা সালাম দিয়ে বলল,
-ভালো আছেন, স্যার?
খালেকও কিছু চিন্তা না করেই একই কাজ করে বসলো,
-আসসালামু আলাইকুম স্যার। ভালো আছেন?
শাহাদাত সাহেবের সাথে আসা তার ব্রীফকেস বহনকারী লোকটা শাহাদাত সাহেবের কাছে এসে খালেককে দেখিয়ে গলা নামিয়ে বলল,
-ইনি খালেক। এ অফিসের কেরানী।
-হুম, ভালো আছি। দুজনকেই মিষ্টি খাবার টাকা দাও জামাল, বলেই শাহাদাত সাহেব বেরিয়ে গেলেন।
জামাল নামের লোকটা পকেট হতে দুটো খাম বের করে দুজনের দিকে এগিয়ে দিলো।
ওরা দুজনেই হাত বাড়িয়ে খাম দুটো নিতেই জামাল নামের লোকটা দ্রুত বেরিয়ে গেলো।
মাসুদ মুচকি হেসে বলল, খালেক ভাই, খামটা খুলে গুনে দেখেন।
খালেক খামটা খুলে নোটগুলো দেখেই চমকে গেলো। টাকাগুলো গুনতে গিয়ে তার চোখ ছলছল করে উঠলো। তার দুই মাসের বেতনের চেয়েও বেশী।
Comments
Be this story’s first reader
+20 XPNobody has commented yet. Sign in, read it, and be first with a thoughtful comment to earn the bonus.
Sign in to claimFirst reader
You were first.
+0 XP
Yours is the first word this story has heard. Its writer will see it.
You also earned the First Reader honour.