ভিড়ের চাদর ভেদ করে যখন হঠাৎ
চোখে পড়ে যায় তোমার মেঘের মতো এলোমেলো চুল,
তখন মনে হয় শহরের এই ব্যস্ত ট্রাফিক সিগন্যালের মাঝেও
একটা আলাদা দুপুর ঘুমিয়ে আছে।
অফিসের ক্লান্ত জামাকাপড় আর বাসের জানালার
ধুলো ঝেড়ে ফেলে হঠাৎ কেন যেন মনে পড়ে যায়
কোনো এক অবুঝ খামের ভেতরের না-বলা কথাগুলোর কথা।
তুমি হয়তো এক লহমায় বলে ওঠো, চ
লো না এমন কোথাও চলে যাই
যেখানে রোদ আর মেঘের লুকোচুরি খেলা শেষ হয় না।
ছবি, তোমার চোখের ওই অতল গভীরতায়
ঠিক কীসের এমন ইশারা লুকিয়ে থাকে
যা এই যান্ত্রিক শহরকে নিমেষে থমকে দেয়?
পকেট থেকে একটা চিরুনি বের করতে গিয়ে
আচমকা হাতের ছোঁয়া লেগে যায়,
যেন বহুদূরের কোনো চেনা নদীর জল এসে ছুঁয়ে যায় কংক্রিটের বুক।
চায়ের কাপে চুমুক দেওয়ার ফাঁকে কথাগুলো
হঠাৎ থেমে যায়, আর খাতার সাদা পাতায়
জমে ওঠে অচেনা কোনো এক বিষণ্নতা।
রাস্তার মোড়ে যখন লাল-হলুদ বাতির আলো
তোমার মুখের ওপর আলো পড়ে,
তখন নিজের অজান্তেই মনে হয়
এই পথচলা কখনো ফুরোবার নয়।
ছবি, তুমি যখন আলগোছে রোদচশমাটা নামিয়ে তাকাও,
তখন মনে হয় যেন এই পুরো শহরের সমস্ত ট্রাম-বাস,
কোলাহল আর ব্যস্ততা এক পলকে স্তব্ধ হয়ে গেছে।
সব ভিড় আর কোলাহল ফুরোলে,
শুধু তোমার চোখের ওই রোদচশমার ছায়াটাই
আমার সারা জীবনের ঠিকানা চিনে নেওয়ার একমাত্র পথ হয়ে থাকে।