ছোট চাকরি, কম মাইনে—সংসারে এটাই আসল পাপ,
বিনিময়ে জোটে শুধু অবহেলা আর তীব্র মানসিক চাপ।
সবটুকু ঢেলে দিয়েও মেলেনি একটুখানি ঠাঁই,
অপমানের এই চাদরে ঢাকা ছাড়া আর কোনো গতি নাই।
কথায় কথায় খোঁটা আসে, আসে তাচ্ছিল্যের হাসি,
চারপাশে যেন ঝুলছে এক অদৃশ্য রশির ফাঁসি।
একটুও সহ্য হয় না উপস্থিতি, ঘরে রাখাটাই মস্ত দায়,
প্রতিটি মুহূর্ত কাটে বিষাক্ত এক চরম অসহায়তায়।
মানুষ মরে গেলে যে সুগন্ধি মাখানো হয় গায়,
যাতে পচনের গন্ধটা ঢাকা পড়ে লাশের আঙিনায়—
তেমন একটা পারফিউম মেখে পড়ে থাকার তীব্র সাধ জাগে,
জীবন্ত লাশের দুর্গন্ধ যেন আর কারও না গায়ে লাগে।
লজ্জায় মাথা নিচু আজ, চারপাশটা ভীষণ অন্ধকার,
বেঁচে থেকেও মরে থাকার এই গ্লানি সহ্যের বাইরে আর।
শূন্য পকেটের মূল্যে কেনা এই জীবনের যন্ত্রণাময় শ্বাস,
অযোগ্যতার সিলমোহরে ঢাকা পড়েছে শেষ বিশ্বাসের আকাশ।
ঘরের কোণে পড়ে থাকা এক টুকরো ভাঙা আয়নার মতো,
লুকিয়ে রাখা যায় না আর এই ক্ষতের পর নতুন ক্ষত।
যোগ্যতার মাপকাঠিতে মাপা এই চেনা পৃথিবীর আঙিনায়,
অসহায় অস্তিত্বের অবসান ঘটে এক বুক চরম নিরাশায়।
সেই তীব্র সুগন্ধির চাদর জড়িয়ে এবার ঘুম আসুক চোখে,
যেখানে আর কোনো খোঁটা থাকবে না এই নিস্প্রাণ বুকে।
পচনের গন্ধ তো ঢাকা পড়বে পারফিউমের সেই কৃত্রিম ঘ্রাণে,
শান্তি আসুক এবার নিভে যাওয়া এই মরণোন্মুখ প্রাণে।
নিত্যদিনের নীরব কান্নায় ভেজে ঘরের এই পাষাণ মেঝে,
সব স্বপ্ন চিরতরে বিদায় নিয়েছে আজ নিস্তব্ধ সেজে।
অর্থের নিষ্ঠুর খেলায় পরাজিত অস্তিত্ব কেবলই ডুবে যায় গোধূলি বেলায়।