ওরা বলে, বর্ষা এলে কেবল বৃষ্টি ঝরে,
জল–কাদায় ভরে ওঠে পথ;
চারদিকে নোংরা, স্যাঁতস্যাঁতে।
অথচ গত বর্ষায় মাতম উঠেছিল গোটা দেশে।
মাথার ওপর ছাতা হয়ে ছিল অদম্য সাহস,
আর পায়ের তলায় ছিল রক্তের বন্যা।
সেই রক্তের ছোঁয়ায় মাটি ভিজে গেলেও
স্যাঁতস্যাঁতে হয়নি, নোংরা লাগেনি কারও।
সেই রক্ত হাতে করে বুকে–মাথায় মেখেছে কেউ কেউ;
ঘাড় বাঁকিয়ে উঠে দাঁড়িয়েছে বুলেটের সামনে।
গত বর্ষায় আকাশ যত কেঁদেছে,
তার চেয়েও বেশি কেঁদেছে দেশ।
রাজধানী থেকে কান্না ছড়িয়েছে সবখানে—
পূর্বে, পশ্চিমে, উত্তরে, দক্ষিণে— সব কোণে।
তবে কান্নাই শেষ কথা নয়।
অশ্রু দিয়ে শুরু, রক্ত দিয়ে শেষ।
রক্তের স্রোতে একে একে স্তিমিত হয়েছে
শোষণ, অত্যাচার, নির্যাতন, নিপীড়ন;
দিকভ্রান্ত হয়েছে বুলেট, কার্তুজ, গ্রেনেড;
ভেঙে পড়েছে ক্ষমতার মসনদ।
তাই বর্ষা এলে
ভেজা মাটির গন্ধে মিশে থাকে বারুদের ঘ্রাণ,
বিপ্লবের কালিতে লেখা হয় শেকল ভাঙার গান।
লাখো কণ্ঠে উচ্চারিত হয়— “ইনকিলাব জিন্দাবাদ”।
১৫ জুলাই ২০২৫ || পাবনা