Story

বাবার আদর

November 7, 2026

8 views

আমাদের বাড়ির উঠোনে যখন দুপুরের রোদটা হেলে পড়ত, ঠিক তখনই রান্নাঘরের টিনের চালে একটা দোয়েল এসে শিস দিত। আজকের দুপুরটা অন্য দিনের মতো শান্ত ছিল না। গোটা বাড়ির বাতাসে যেন এক অদ্ভুত অস্থির আনন্দ আর চাপা উত্তেজনা থমথম করছিল। তখন কেবল মোবাইল ফোনের টু-জি ইন্টারনেট চালু হয়েছে জেলা শহরে। গ্রামের বাজারে গিয়ে সাইবার ক্যাফের ভাঙা কিবোর্ডে রোল নম্বর টাইপ করে রেজাল্ট দেখার পর আমার হাত কাঁপছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘ-ইউনিটের মেধা তালিকায় আমার নাম এসেছে,৪৭তম। সাইকেলটা নিয়ে যখন গ্রামের কাঁচা রাস্তা দিয়ে তীব্র গতিতে প্যাডেল ঘুরিয়ে বাড়ি ফিরছিলাম, চোখের জলের কারণে ধানের খেতের আলগুলো ঝাপসা হয়ে আসছিল। বাড়ির উঠোনে সাইকেলটা আছড়ে ফেলে চিৎকার করে ডাকলাম, "মা! ও মা!"

মা তখন টিউবওয়েলের পাড়ে হাঁড়িপাতিল মাজছিলেন। আমার চিৎকার শুনে আঁচলে হাত মুছতে মুছতে দৌড়ে এলেন। "কী হইছে রে বাপ? অ্যাক্সিডেন্ট করছিস নাকি?"

"মা, আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়েছি! আমি চান্স পেয়েছি মা!"

মা স্তব্ধ হয়ে এক মুহূর্ত আমার মুখের দিকে চেয়ে রইলেন। তারপর ভেজা হাতেই আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরে ডুকরে কেঁদে উঠলেন। সেই কান্নায় কোনো দুঃখ ছিল না, ছিল আজন্ম লালিত এক স্বপ্নপূরণের স্বস্তি। পাশের বাড়ির চাচি, মেজো কাকা, চাচাতো ভাইবোনেরা খবর পেয়ে একে একে উঠোনে এসে ভিড় করল। কারও হাতে একমুঠো বাতাসা, কেউ মাথায় হাত বুলিয়ে দোয়া করছে, পাড়ার ছোট ছেলেরা চেঁচামেচি শুরু করেছে। এক নিমিষে আমাদের জীর্ণ উঠোনটা একটা ছোটখাটো মেলায় রূপ নিল। চারপাশের সবার চোখেমুখে উপচে পড়ছিল খুশির ঝিলিক।

আমি ভিড়ের মধ্য দিয়ে চোখ দুটো ঘুরিয়ে কাউকে খুঁজছিলাম।

ঘরের দাওয়ায় কাঠের পুরোনো খুঁটিটায় হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন বাবা,মোতাহার হোসেন। পরনে একটা শতচ্ছিন্ন, বহুবার ধোয়া খাটো লুঙ্গি, গায়ে একটা মলিন সুতির স্যান্ডো গেঞ্জি। মুখে কোনো কথা নেই, চোখে কোনো নড়চড় নেই। কাঠফাটা রোদের মতো এক আশ্চর্য স্তব্ধতা তাঁর পুরো মুখমণ্ডল জুড়ে পাথরের মতো জমে ছিল।

আমি ভেবেছিলাম, বাবা হয়তো এগিয়ে আসবেন। হয়তো তাঁর সেই খসখসে, লাঙলের ফলায় শক্ত হয়ে যাওয়া হাতখানা আমার পিঠে রেখে বলবেন,‘শাবাশ ব্যাটা!’ কিন্তু তিনি কিছুই করলেন না। কেবল পকেট থেকে তামার পানের ডিব্বাটা বের করে একটা শুকনো সুপারি মুখে পুরলেন। তারপর উঠোনের ভিড়টাকে যেন উপেক্ষা করেই ধীরপায়ে মেঠোপথ ধরে হেঁটে চলে গেলেন চকের জমির দিকে।

আমার বুকের ভেতরে আনন্দের রেশটা যেন হঠাৎ এক নিমেষে ঠান্ডা হয়ে গেল। আমি বুঝতে পারলাম না,বাবা কি খুশি হলেন, নাকি কোনো কারণে অসন্তুষ্ট হলেন? তাঁর কি মনে হলো ঢাকায় পড়ার এই বিপুল খরচ তিনি টানতে পারবেন না? নাকি আমার এই অর্জন তাঁর কাছে একেবারেই নগণ্য মনে হলো?

মা আমার কাঁধে হাত রেখে ফিসফিস করে বললেন, "তোর বাপের স্বভাব তো জানিসই বাপ। পাথরের কি আর মুখ দিয়া কথা ফোটে? তুই মন খারাপ করিস না।"

কিন্তু মন খারাপ না করে উপায় ছিল না। শৈশব থেকেই এই মানুষটাকে আমি কোনোদিন পুরোপুরি পড়তে পারিনি। মা যদি হন আষাঢ়ের অঝোর বর্ষণ, যাঁর স্নেহ-মমতা চোখ দিয়ে, কথা দিয়ে, আদর দিয়ে উপচে পড়ে,বাবা ছিলেন এক নিঃশব্দ হিমালয়। কোনোদিন মাথায় হাত রেখে আদর করেননি, কোনোদিন কোলে তুলে নিয়ে মেলায় ঘুরাননি। শৈশবে কোনো বায়না নিয়ে বাবার সামনে দাঁড়ালে ভয়ে বুক কাঁপত। বাবা কেবল বলতেন, "পড়াশোনা ঠিকমতো করিস। ফাঁকিবাজি করলে পেটে ভাত জুটবে না।" এই এক বাক্যেই তাঁর সমস্ত অভিভাবকত্ব সীমাবদ্ধ ছিল বলে আমার মনে হতো।

ঢাকায় যাওয়ার দিনটা চলে এল খুব দ্রুতই। আশ্বিনের এক ভোরে কুয়াশার চাদর যখন গ্রামের বাঁশঝাড় ঢেকে ফেলেছে, তখন বাড়ির সামনে এসে দাঁড়িয়েছে একটা রিকশা। আমার একমাত্র টিনের ট্রাঙ্ক আর একটা তোশক দড়ি দিয়ে বাঁধা হয়েছে রিকশার পেছনে।

মা সকাল থেকেই ডুকরে কাঁদছিলেন। আমার ব্যাগের এক কোণে তিনি ভরে দিয়েছিলেন এক বয়াম চালভাজা, নারকেলের নাড়ু আর কিছু শুকনো চিঁড়ে। বারবার আমার গাল ছুঁয়ে চুমু খাচ্ছিলেন আর আঁচল দিয়ে চোখ মুছছিলেন।

"শহরে কত গাড়িঘোড়া, রাস্তা পার হওয়ার সময় ডানে-বাঁয়ে তাকাবি বাপ। শরীরের দিকে খেয়াল রাখিস। কোনো খারাপ ছেলের পাল্লায় পড়িস না..." মায়ের কান্নায় সকালের বাতাসটাও যেন ভারী হয়ে উঠল।

অথচ বাবা? বাবা তখন বারান্দার এক কোণে বসে দা দিয়ে একটা বাঁশের কঞ্চি চাঁছছিলেন। যেন তাঁর ঘরে কোনো ঘটনাই ঘটছে না, যেন তাঁর একমাত্র ছেলে এই প্রথম একা কোনো এক অচেনা ইট-পাথরের শহরে পাড়ি জমাচ্ছে না। তাঁর এই নির্বিকার নির্লিপ্ততা দেখে আমার বুকের ভেতর এক তীব্র অভিমান দানা বেঁধে উঠল। মনে মনে ভাবলাম, আমি না থাকলে বোধহয় এই মানুষটার কোনো ফারাকই পড়বে না। সংসারে তো একটা ভাত খাওয়ার পেট কমবে!

রিকশায় ওঠার সময় আমি বাবার কাছে গিয়ে মাথা ঝুঁকিয়ে পা ছুঁয়ে সালাম করলাম।

বাবা হাতের দা-টা মাটিতে রাখলেন। কিন্তু আমার দিকে সরাসরি তাকালেন না। তাঁর হাতটা আমার মাথায় এক সেকেন্ডের ভগ্নাংশের জন্য যেন একটু কাঁপল, কিন্তু কোনো আশীর্বাদের শব্দ তাঁর ঠোঁট চিরে বের হলো না। আমি ঘুরে গিয়ে রিকশায় বসলাম। রিকশাওয়ালা প্যাডেলে চাপ দিতেই পেছনের চাকা ঘুরে উঠল।

"এই খোকন, শোন।"

বাবার গম্ভীর, কর্কশ ডাক শুনে আমি পেছনে তাকালাম। বাবা ধীরপায়ে রিকশার কাছে এগিয়ে এলেন। তাঁর লুঙ্গির কোঁচড় থেকে একটা পুরোনো কাপড়ের থলে বের করলেন। থলেটা খুলে তিনি আমার হাতের তালুতে কিছু একটা গুঁজে দিলেন।

মুঠো খুলে দেখি,পাঁচশো টাকার কতগুলো মুচড়ানো, ঘামে ভেজা নোট। এই নোটগুলোর গায়ে মাটির সোঁদা গন্ধ, পাটের আঁশের গন্ধ আর আমার বাবার গায়ের চেনা ঘামের গন্ধ লেগে ছিল। তখনকার দিনে সেই টাকার অঙ্কটা কোনো সাধারণ অঙ্ক ছিল না,পুরো আড়াই হাজার টাকা।আমি অবাক হয়ে বাবার মুখের দিকে তাকালাম। আমাদের সংসারে আড়াই হাজার টাকা মানে অন্তত তিন মাসের পুরো সংসারের বাজেট। এই টাকা বাবা কোথায় পেলেন? বাবা আমার চোখের দিকে চাইলেন না। তিনি দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখলেন রাস্তার ধারের একটা মরা বাবলা গাছের দিকে। অত্যন্ত নীরস ও নিচু গলায় বললেন:

"খাওয়া-দাওয়ায় কোনো কষ্ট করিস না। শরীর ঠিক না থাকলে পড়াশোনা হবে না। আর শোন,যতদিন আমি বেঁচে আছি, তোর টাকার জন্য কোনো চিন্তা নাই। তুই শুধু তোর কাজটা ঠিকমতো করবি।"

বলেই তিনি আর এক মুহূর্তও দাঁড়ালেন না। এক ঝটকায় পেছনে ঘুরে লম্বা লম্বা পায়ে বাড়ির ভেতরে চলে গেলেন। রিকশা চলতে শুরু করল। মেঠোপথ পেরিয়ে বড় রাস্তার দিকে এগোতে এগোতে আমি সেই ঘামে ভেজা নোটগুলোর দিকে তাকিয়ে রইলাম। এক অদ্ভুত অপরাধবোধ আর দ্বিধায় আমার চোখ ভিজে এল। যে মানুষটা মুখে একটিও স্নেহের কথা বললেন না, তিনি আমার হাতে তুলে দিয়ে গেলেন নিজের সমস্ত সঞ্চয়, হয়তো বা নিজের রক্ত জল করা শেষ সম্বলটুকু। কিন্তু তবুও কেন তিনি আমাকে একবার বুকে জড়িয়ে ধরলেন না? কেন একবার বললেন না,‘তোর জন্য আমার গর্ব হচ্ছে’?বাবার মনের এই অতল গভীরতা পরিমাপ করার মতো বয়স বা পরিপক্বতা তখনো আমার হয়ে ওঠেনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস আমার মতো এক মফস্বলের ছেলের চোখ পুরোপুরি ধাঁধিয়ে দিল।সূর্যসেন হলের এক স্যাঁতসেঁতে গণরুমে আমার সিট হলো। একটা রুমে চব্বিশটি ছেলে গাদাগাদি করে থাকা। পড়াশোনার পরিবেশ নেই বললেই চলে, গভীর রাত পর্যন্ত চিৎকার, রাজনীতি আর আড্ডা। কিন্তু আমার মাথায় সার্বক্ষণিক ঘুরত বাবার সেই কথাটি,‘তুই শুধু তোর কাজটা ঠিকমতো করবি।’

মাস শেষ হওয়ার আগেই বাড়ি থেকে পোস্ট অফিসের মানি অর্ডারের মাধ্যমে টাকা পৌঁছে যেত। কোনো মাসে চারশো, কোনো মাসে পাঁচশো। কোনো কোনো মাসে যখন আমার বাড়তি বই কেনার প্রয়োজন হতো, মাকে চিঠিতে লিখতাম। মা হয়তো বাবাকে বলতেন। ঠিক তিন দিনের মাথায় বাড়তি টাকা এসে হাজির হতো। কিন্তু সেই মানি অর্ডারের কুপনে কোনোদিন বাবার এক অক্ষরের কোনো বার্তা লেখা থাকত না। কেবল প্রেরকের জায়গায় কাঁপাকাঁপা অক্ষরে লেখা থাকত,মোতাহার হোসেন।

আমি জানতাম না, সেই টাকাগুলো কীভাবে আসত। অনেক পরে, ছুটিতে বাড়ি গিয়ে একদিন বিকেলে চকের হাটে চা খেতে বসেছিলাম। চায়ের দোকানি করিম চাচা আমাকে দেখে বললেন, "কীরে খোকন, ঢাকা শহর কেমন লাগে? তোর বাপ কিন্তু তোর জন্য জান বাজি রাখছে। এই বুড়ো বয়সে নিজের ভাগের দুই বিঘা জমির এক বিঘা বন্ধক দিয়া দিল। নিজের গায়ে একটা নতুন স্যান্ডো গেঞ্জি পর্যন্ত তোলে না। চৈত্র মাসের রোদে যখন সবাই ঘরে ফেরে, তোর বাপ তখন অন্যের জমিতে বদলা খাটে।"

শুনে আমার হাতের চায়ের কাপ কেঁপে উঠেছিল। বুকটা যেন চিরে রক্ত বের হতে লাগল। ছুটিতে বাড়ি গেলে আমি লক্ষ্য করতাম,বাবার পরনের লুঙ্গিটা আরও বেশি ফেকাসে হয়ে গেছে। পায়ের চামড়ার চটি জোড়ার ফিতা ছিঁড়ে যাওয়ায় একটা তামার তার দিয়ে জোড়াতালি দেওয়া। অথচ সেই মানুষটাই প্রতি মাসের এক তারিখে পোস্ট অফিসে গিয়ে আমার জন্য টাকা পাঠিয়ে দিতেন কোনো ব্যর্থতা ছাড়া। বাড়িতে আমি যতক্ষণ থাকতাম, বাবার সাথে আমার তেমন কোনো কথা হতো না। বাবা ঘরে ঢুকলে আমি আড়ষ্ট হয়ে যেতাম। বাবা জিজ্ঞেস করতেন, "পড়াশোনা কেমন চলছে?"

আমি বলতাম, "ভালো।"

বাবা বলতেন, "হুঁ। মন দিয়া পড়িস।"

ব্যস, এইটুকুই। আমাদের পিতা-পুত্রের কথোপকথন কোনোদিনই এই দুই-তিন বাক্যের সীমারেখা অতিক্রম করতে পারেনি। মা মাঝে মাঝে বলতেন, "তুই তোর বাপের সাথে একটু কথা কস না ক্যান? মানুষটা সারাটাদিন তোর চিন্তায় মরে।"

আমি মাকে বলতাম, "মা, বাবা তো আমার মুখের দিকে চেয়ে কথাই বলেন না। আমি কী বলব?"

মা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলতেন, "সব কথা কি আর মুখে বলা যায় রে বোকা?"

বিশ্ববিদ্যালয়ের চার বছর কীভাবে যে ঝড়ের গতিতে কেটে গেল, টেরই পেলাম না। মাস্টার্স শেষ করে আমি পুরোদমে বিসিএস আর ব্যাংক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে শুরু করলাম। ঢাকায় একটা মেসে উঠে দুটো টিউশনি করে নিজের খরচ চালাতাম, কারণ বাবাকে আর কোনোভাবেই বোঝা দিতে চাইনি।

অবশেষে সেই দিনটি এল। বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক (এডি) পদের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হলো।

তালিকায় আমার রোল নম্বরটা দেখে আমি যেন নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। আমি চাকরি পেয়েছি! একটি প্রথম শ্রেণির সরকারি ব্যাংকের চাকরি! মেসের বন্ধুদের মিষ্টি খাইয়ে আমি সোজা চলে গেলাম ফার্মগেটের একটা পাবলিক টেলিফোন বুথে। তখন বাড়িতে একটা সাধারণ বাটন ফোন কেনা হয়েছিল।

ফোনের রিং বাজতেই ওপার থেকে মায়ের কণ্ঠ ভেসে এল, "হ্যালো, খোকন?"

"মা! আমার চাকরি হয়ে গেছে মা! বাংলাদেশ ব্যাংকে চাকরি পেয়েছি আমি!" আমি বুথের ভেতর দাঁড়িয়ে চিৎকার করে কাঁদছিলাম। ওপার থেকে মায়ের উচ্ছ্বসিত কান্নার শব্দ এল। মা চিৎকার করে উঠোন কাঁপিয়ে বাবাকে ডাকতে লাগলেন, "ও শুনছো! ও খোকনের বাপ! দৌড়ায়ে আসো! তোমার ছেলের চাকরি হইছে গো! বড় ব্যাংকের বড় অফিসার হইছে!"

কিছুক্ষণ পর ভারী একটা নিঃশ্বাসের শব্দ ফোনের ওপার থেকে ভেসে এল। বাবা ফোনটা হাতে নিয়েছেন। আমার হৃৎপিণ্ড তখন ড্রামের মতো বাজছিল। আজ, অন্তত আজকের এই দিনে বাবা নিশ্চয়ই কিছু একটা বলবেন! আজ নিশ্চয়ই তাঁর সেই বরফ জমা প্রাচীরটা ভেঙে পড়বে!

"বাবা! শুনতে পাচ্ছ? আমি অফিসার হয়েছি বাবা!"

ওপারে কয়েক সেকেন্ডের নিস্তব্ধতা। কেবল বাবার ভারী নিঃশ্বাসের ওঠানামা। তারপর অত্যন্ত শান্ত, নির্লিপ্ত গলায় বাবা কেবল দুটি শব্দ উচ্চারণ করলেন:

"শুনলাম। ভালো।"

আমার বুকের ভেতর এক অচেনা শূন্যতা এসে আছড়ে পড়ল। ‘শুনলাম। ভালো।’,কেবল এইটুকুই? যে ছেলেটি আজ তাঁর বংশের দারিদ্র্যের শৃঙ্খল ভেঙে এক রাজকীয় পদে বসতে যাচ্ছে, যার জন্য তিনি নিজের জীবনের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়াই করেছেন, সেই ছেলের এত বড় অর্জনের পর তাঁর প্রতিক্রিয়া কেবল এই দুই শব্দের?

"খাওন-দাওন করিস ঠিকমতো," বাবা যোগ করলেন। "ঢাকায় জিনিসপত্রের দাম বেশি। সাবধানে চলিস।"

বলেই খট করে ফোনের লাইনটা কেটে গেল। আমি টেলিফোনের রিসিভারটা কানে ধরে স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম। চোখ দিয়ে কেন যেন টপটপ করে জল পড়তে লাগল। এ আনন্দের জল নয়, এ এক গভীর, অপ্রাপ্তির বেদনা। বাবা কি কোনোদিনই আমাকে ভালোবাসতে পারবেন না? তাঁর কি কোনো অনুভূতি নেই? কেন তিনি এমন পাথরের মতো? চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর প্রথম মাসের বেতন পেলাম।অ্যাকাউন্টে যখন বেতনের টাকাটা ঢুকল, আমার জীবনের সমস্ত ক্লান্তি যেন এক নিমিষে মুছে গেল। কত বছর ধরে শুধু অভাব আর হিসেব করে চলা জীবন! আজ আমার নিজের উপার্জিত অর্থ। টাকাটা তুলে আমি সোজা চলে গেলাম নিউমার্কেটে। বন্ধুদের জন্য কিছু নয়, নিজের জন্য একটা সাধারণ জামাও কিনলাম না। আমার মাথায় তখন কেবল একটিই চিন্তা ঘুরছিল।

আমি নিউমার্কেটের সেরা কাপড়ের দোকানে গেলাম। বাবার জন্য কিনলাম ধবধবে সাদা রঙের একখানা খাঁটি সুতির ফাইন পাঞ্জাবি,যার কলারে খুব সূক্ষ্ম সুতোর কাজ করা। সাথে নিলাম একটা অফ-হোয়াইট রঙের মার্জিত সুতি ফতুয়া, যা বাবা গরমে দাওয়ায় বসে গায়ে দিতে পারবেন। আর নিলাম পাবনার তাঁতের বোনা মিহি সুতোর একখানা গাঢ় নীল পাড়ের চমৎকার লুঙ্গি। এই প্রথম জীবনের টাকায় কেনা উপহার।

মার জন্য নিলাম একটি লালচে জামদানি শাড়ি।

পরদিন সকালেই ছুটির দরখাস্ত জমা দিয়ে বাসে চেপে রওনা হলাম গ্রামের উদ্দেশ্যে। ব্যাগভর্তি মিষ্টি আর সেই নতুন কাপড়ের প্যাকেট। বাসের জানালায় মাথা রেখে পুরো পথ আমি কেবল বাবার মুখের ভাবটা কল্পনা করার চেষ্টা করছিলাম। বাবা যখন পাঞ্জাবিটা হাতে নেবেন, তিনি কি এবারও নির্বিকার থাকবেন? তিনি কি এবারও একটিবার হাসবেন না?

বিকেলে যখন আমি বাড়ির উঠোনে গিয়ে নামলাম, বাবা তখন দাওয়ায় বসে তামাকের হুঁকো টানছিলেন। আমাকে হঠাৎ দেখে তিনি ভ্রু সামান্য কোঁচকালেন।

"ছুটি পাইছিস?"

"হ্যাঁ বাবা, দুদিনের ছুটি নিয়ে এলাম।"

মা ঘর থেকে বের হয়ে এসে আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন। আমি ব্যাগ থেকে মিষ্টির প্যাকেট বের করে মায়ের হাতে দিলাম। তারপর সেই নতুন কাপড়ের প্যাকেটগুলো বের করলাম।

প্রথমে মায়ের হাতে শাড়িটা দিলাম। মা শাড়িটা বুকে চেপে ধরে আনন্দে কাঁদতে কাঁদতে সারা ঘরে ঘুরে বেড়াতে লাগলেন, যেন কোনো অমূল্য রত্ন পেয়েছেন।

এরপর আমি এগিয়ে গেলাম বাবার দিকে।

হাঁটু গেড়ে বাবার পায়ের কাছে বসলাম। ব্যাগ থেকে বের করলাম সেই সাদা পাঞ্জাবি, অফ-হোয়াইট ফতুয়া আর সুন্দর লুঙ্গিটা।

"বাবা, এটা আমার জীবনের প্রথম বেতনের টাকায় কেনা। তোমার জন্য এনেছি।"

বাবা হুঁকোটা একপাশে রাখলেন। তাঁর সেই খসখসে হাত দুটো বাড়িয়ে কাপড়ের প্যাকেটটা নিলেন।আমি নিশ্বাস বন্ধ করে তাঁর মুখের দিকে তাকিয়ে রইলাম। একটি বার,একটি বার কি তাঁর চোখে আনন্দের ঝিলিক দেখা যাবে? বাবা প্যাকেটটা খুললেন। সাদা পাঞ্জাবির কাপড়ে হাত দিয়ে একটু দেখলেন। তারপর অফ-হোয়াইট ফতুয়াটা দেখলেন। তাঁর মুখের পেশিগুলোতে কোনো পরিবর্তন হলো না। চোখ দুটো যেমন শান্ত ছিল, তেমনই রইল।

তিনি খুব স্বাভাবিক ও নির্বিকার গলায় বললেন, "এত দামি কাপড় কেনার কী দরকার ছিল? সাদা কাপড় চকের কাদামাটিতে নষ্ট হয়ে যাবে। আর ঘরে তো আমার দুইটা লুঙ্গি আছেই। টাকাগুলো এভাবে অপচয় না করে ব্যাংকে জমাতে পারতিস।"

কথাগুলো বলে তিনি কাপড়গুলো বারান্দার এক কোণে রাখা পুরোনো কাঠের তক্তপোশের ওপর রেখে দিলেন। তারপর উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, "গোসল করে নে। মা তোর জন্য হাঁসের মাংস রেঁধেছে।"

আমার সমস্ত শরীর যেন অবশ হয়ে গেল। চোখের জল লুকানোর জন্য আমি দ্রুত বাথরুমের দিকে পা বাড়ালাম। বুকের ভেতরটা দুমড়েমুচড়ে যাচ্ছিল অভিমানে। এত আশা নিয়ে, এত আনন্দ নিয়ে উপহারগুলো এনেছিলাম! মানুষটা কি এতটাই নির্মম? একটি ধন্যবাদ, একটি মৃদু হাসির দামও কি আমার এই প্রথম উপার্জনের ছিল না? মা পেছনে এসে আমার মাথায় হাত রাখলেন। "খোকন, মন খারাপ করিস না বাপ। তোর বাপের ধাতই এমন..."

"না মা," আমি রুদ্ধ কণ্ঠে বললাম। "বাবার কোনো মন নেই। বাবা কাউকে ভালোবাসতে পারেন না। আমি আজীবন শুধু তাঁর এই পাথর রূপটাই দেখে গেলাম।"

সেদিন রাতে খাবার টেবিলে আমি বাবার সাথে আর কোনো কথা বললাম না। বাবাও নিঃশব্দে খেয়ে উঠে চলে গেলেন। রাতের গ্রাম নিঝুম হয়ে এল। ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক আর দূর থেকে আসা শিয়ালের হাঁক ছাড়া কোথাও কোনো শব্দ নেই।

আমি ঘরের বিছানায় শুয়ে সিলিংয়ের বাঁশের আড়ার দিকে তাকিয়ে ছিলাম। বুকের ভেতর জমে থাকা অভিমানটা কিছুতেই হালকা হচ্ছিল না। ভাবছিলাম, পরদিনই প্রথম বাসে ঢাকায় ফিরে যাব। এই পাথুরে ভিটায় থাকার কোনো মানে হয় না।

রাত তখন আনুমানিক দেড়টা কি দুটো। হঠাৎ আমার ঘরের দরজায় মৃদু টোকা পড়ল।

"খোকন... ও খোকন, ঘুমাইছিস?" মায়ের চাপা, ফিসফিস করা গলা।

আমি উঠে গিয়ে দরজা খুললাম। "কী হয়েছে মা? এত রাতে?"

মা আমার হাতটা চেপে ধরলেন। তাঁর চোখ দুটো অন্ধকারেও কেমন জ্বলজ্বল করছিল। মা কোনো কথা না বলে আমার আঙুল ধরে টেনে নিয়ে চললেন পেছনের বারান্দার দিকে।

"চুপচাপ আমার সাথে আয়। কোনো আওয়াজ করবি না। দেখবি আয় তোর বাপ কী করে।"

আমি অবাক হয়ে মায়ের পিছু পিছু পা টিপে টিপে গেলাম। আমাদের পুরোনো টিনের ঘরের পেছনের কাঠের জানালাটার একদিকের কপাট সামান্য আলগা ছিল। সেই ফাঁক দিয়ে ভেতরের ঘরের একাংশ দেখা যায়। ভেতরে টিমটিম করে জ্বলছে কেরোসিনের কুপিবাতি।

মা ফিসফিস করে বললেন, "জানালা দিয়ে চেয়ে দেখ।"

আমি সাবধানে জানালার ফাঁক দিয়ে ঘরের ভেতরে তাকালাম।

আর যে দৃশ্যটি আমি দেখলাম,মুহূর্তের মধ্যে আমার পায়ের তলার মাটি যেন সরে গেল। আমার হৃৎস্পন্দন থমকে গেল, চোখের পলক স্তব্ধ হয়ে গেল।

ঘরের কোণে তক্তপোশের ওপর বসে আছেন আমার বাবা,মোতাহার হোসেন। তাঁর গায়ে সেই পুরোনো গেঞ্জিটা নেই। তিনি খালি গায়ে বসে আছেন। আর তাঁর কোলের ওপর মেলে ধরা রয়েছে আমার কিনে দেওয়া সেই ধবধবে সাদা পাঞ্জাবিটা। কুপিবাতির মায়াবী, হলুদ আলোয় আমি দেখলাম,আমার সেই কঠিন, নির্বিকার, পাথরের মতো বাবা কাঁপাকাঁপা হাতে পাঞ্জাবির সূক্ষ্ম সুতোর কাজগুলো ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখছেন। তিনি পাঞ্জাবিটা দুই হাতে তুলে নিজের মুখের কাছে নিয়ে গেলেন। কাপড়ের ভাঁজে নাক গুঁজে গভীর এক নিঃশ্বাস নিলেন, যেন সেই নতুন কাপড়ের সুবাসে তিনি তাঁর সন্তানের শরীরের গন্ধ খুঁজছেন।

তারপর... তারপর যা ঘটল, তার জন্য পৃথিবীর কোনো সন্তান প্রস্তুত থাকে না।

বাবা সেই সাদা পাঞ্জাবিটি নিজের বুকের সাথে এমন শক্ত করে চেপে ধরলেন, যেন কোনো এক অমূল্য সম্পদকে কেউ ছিনিয়ে নিয়ে যাবে। তাঁর কাঁধ দুটো প্রবলভাবে কেঁপে উঠল।

এবং সেই মানুষটি,যাঁকে আমি আমার চব্বিশ বছরের জীবনে কোনোদিন এক ফোঁটা চোখের জল ফেলতে দেখিনি, যিনি কোনোদিন কোনো শোকে কাতর হননি,তিনি সেই পাঞ্জাবিটি বুকে চেপে ধরে শব্দহীনভাবে, অঝোরে কাঁদছেন!

তাঁর দুই চোখের কোণ বেয়ে অবিরল ধারায় জল গড়িয়ে পড়ছে। সেই অশ্রু গিয়ে ভিজিয়ে দিচ্ছে আমার দেওয়া নতুন সাদা পাঞ্জাবির বুক। বাবা পাঞ্জাবিটার ওপর বারবার হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন, আর বিড়বিড় করে বলছেন, "আমার বাপ... আমার খোকন সোনা... আমার বাজান রে..."

বাবার মুখ দিয়ে কোনো চিৎকার বের হচ্ছিল না। সে এক নিঃশব্দ, বুকফাটা কান্না,যে কান্নায় মিশে ছিল সারাজীবনের অপূর্ণতার অবসান, ত্যাগের চরম সার্থকতা, আর এক অনন্ত, বাঁধভাঙা গর্ব।

তিনি বারবার পাঞ্জাবিটা দেখছেন, কলারটা সোজা করছেন, বোতামগুলো স্পর্শ করছেন। যেন বিশ্বাসই করতে পারছেন না যে এই রাজকীয় পোশাকটি তাঁর সেই ছোট্ট খোকনের টাকায় কেনা, যে খোকন একদিন তাঁর আঙুল ধরে হাঁটতে শিখেছিল।

জানালা ধরে দাঁড়িয়ে থাকা আমার হাত দুটো থরথর করে কাঁপতে লাগল। আমার চোখের বাঁধ ভেঙে গেল। চোখের জলের নোনা স্বাদে আমার মুখ ভিজে গেল।

মা আমার পাশে দাঁড়িয়ে আঁচল দিয়ে চোখ মুছছিলেন। তিনি আমার কানে ফিসফিস করে বললেন:

"দেখলি তো তোর বাপের পাথর রূপ? যেদিন তুই চান্স পেয়েছিলি, সেদিন চকের জমিতে গিয়ে লোকটা একা একা সিজদায় পড়ে কেঁদেছিল। যেদিন তুই চাকরি পেলি, সেদিন রাতে সারারাত জায়নামাজে বসে মোনাজাত করেছে। আর আজ তোর সামনে কিছু বলতে পারল না, কারণ বাপেরা নাকি সন্তানের সামনে কাঁদতে পারে না রে বাপ! বাপেরা দুর্বলতা দেখাতে পারে না। সংসার চালাতে গেলে তাদের পাথর হয়েই থাকতে হয়। কিন্তু তাদের বুকের ভেতরের ভালোবাসার নদীটা যে কত গভীর, তা শুধু উপরওয়ালাই জানে।"

আমি আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারলাম না।

দরজা ঠেলে ভেতরে ঢোকার কোনো সাহস আমার ছিল না। আমি জানালার ওপাশেই ধপাস করে মাটিতে বসে পড়লাম। দুই হাতে মুখ ঢেকে আমি নিঃশব্দে কাঁদতে লাগলাম।

এতদিন আমি ভেবেছিলাম বাবা আমাকে ভালোবাসেন না। এতদিন আমি খুঁজে বেড়িয়েছি মায়ের মতো প্রকাশ্য স্নেহ, মিষ্টি কথা আর মাথার ওপর হাতের আলতো ছোঁয়া। আমি বুঝতেই পারিনি,মা হলেন সেই দৃশ্যমান নদী, যার কুলকুল ধ্বনি সবাই শুনতে পায়; আর বাবা হলেন সেই মাটির নিচের অদৃশ্য ফল্গুধারা, যা কোনো শব্দ করে না, কোনো আলো দাবি করে না, কিন্তু নিঃশব্দে মাটির সমস্ত রুক্ষতাকে দূর করে গাছটিকে চিরসবুজ করে বাঁচিয়ে রাখে।

বাবা নির্বিকার ছিলেন, কারণ তিনি যদি ভেঙে পড়তেন, তবে সংসারের হাল কে ধরত? বাবা শক্ত ছিলেন, কারণ তাঁর সেই কঠোরতার আড়ালেই তো আমার সমস্ত আত্মবিশ্বাস গড়ে উঠেছিল! তিনি নিজের সমস্ত শখ, সমস্ত ইচ্ছে, সমস্ত অহংকার ধুলোয় মিশিয়ে দিয়ে শুধু চেয়েছিলেন তাঁর সন্তান যেন এই পৃথিবীর বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে।

আহা! এটাই বুঝি বাবার আদর! এই আদরে কোনো কথার ফুলঝুরি থাকে না, কোনো চপল আলিঙ্গন থাকে না। এই আদরের ভাষা হলো ত্যাগ, এই আদরের রূপ হলো নিঃশব্দ অশ্রু, আর এর গভীরতা পরিমাপ করার মতো কোনো দাঁড়িপাল্লা এই নশ্বর পৃথিবীতে আজও তৈরি হয়নি।

ভোরের আলো যখন ফুটতে শুরু করল, কুয়াশা ভেদ করে পূর্ব আকাশে রক্তিম সূর্য উঁকি দিল।

আমি ঘর থেকে বের হয়ে এলাম। বারান্দায় তখন বাবা দাঁড়িয়ে আছেন।

আজ তাঁর গায়ে কোনো পুরোনো মলিন ফতুয়া নেই। তিনি পরেছেন আমার দেওয়া সেই অফ-হোয়াইট ফতুয়া আর নতুন লুঙ্গিটি। যদিও পাঞ্জাবিটা পরম যত্নে তুলে রাখা আছে বাক্সে, হয়তো ঈদের দিনের জন্য।

বাবার মুখে সেই চিরচেনা স্বাভাবিক গম্ভীর ভাব। তিনি উঠোনের দিকে তাকিয়ে বললেন, "উঠেছিস? ঢাকায় কখন যাবি? সকালের বাসটা ধরলে ভিড় কম পাবি।"

আমি এগিয়ে গেলাম। কোনো দ্বিধা ছাড়া, কোনো ভয় ছাড়া, শৈশবের সমস্ত জমে থাকা আড়ষ্টতা ভেঙে আমি দুই হাতে বাবাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলাম।

বাবার শরীরটা এক মুহূর্তের জন্য যেন পাথরের মতো জমে গেল। তিনি এমন কিছুর জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলেন না। কিন্তু পরক্ষণেই আমি অনুভব করলাম,একজোড়া শীর্ণ, খসখসে, লাঙলের ফলায় শক্ত হয়ে যাওয়া হাত ধীরে ধীরে আমার পিঠের ওপর নেমে এল। বাবা আমাকে বুকের সাথে চেপে ধরলেন। তাঁর সেই স্পর্শে ছিল এক অনন্ত পৃথিবীর উত্তাপ, যার চেয়ে বড় কোনো আশ্রয়, যার চেয়ে বড় কোনো আশীর্বাদ এই মহাবিশ্বে আর কোথাও নেই।

 

Picked up where you left off

Comments

Borhan Mahmud was this story’s first reader

+20 XP

    Please login to post comment. Login

  • Borhan Mahmud 5 minutes ago First reader

    এক্সিলেন্ট লিখেছেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বাবার স্নেহ একটা পাথরের দেয়ালের পেছনে থাকে। আমরা অবোধ সন্তানেরা শুধু তাঁর ঐ দেয়ালটাকেই দেখি। গল্পের বিষয়বস্তুর প্রেক্ষাপটে দারুণ হয়েছে, ভাই। শুভেচ্ছা নেবেন।