১৪১
করেছি যা অপরাধ কদম-কদমে,
খোদা, ক্ষমা করলে ক্ষমা মিলে অধমে।
হে খোদা আমায় মাফ করে দে,
হে খোদা আমায় মাফ করে দে॥
শুনেছি খোদা তুমি বড় দয়ালু
তোমার দয়ার কাছে বড় না কিছু;
ক্ষমা করতে পারো তুমি বড় দোষীকেই—
হে খোদা আমায় মাফ করে দে,
হে খোদা আমায় মাফ করে দে॥
ক্ষমা পাওয়ার কী তোমার খাস ভাষা,
তুমি মনে ওঠিয়ে বলাও এ মুখ দিয়ে তা।
মেহেরবান আছে তোমার মতো কাঁহা,
মেহেরবান আছে তোমার মতো কাঁহা॥
যত গুনাগারই বান্দা হয়-না কেন
তোমার ক্ষমার কাছে খুবই নগণ্য;
বান্দা তো করে না দোষ আর বুঝেসুজেই—
হে খোদা আমায় মাফ করে দে,
হে খোদা আমায় মাফ করে দে॥
১৯ চৈত্র, ১৪২৭—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
১৪২
তোমার আদালতে সূক্ষ্ম বিচার হবে যেদিন
বিচারের কাঠগড়ায় আমি আসামি সেদিন,
কী বিচার করবে আমার বিচারক প্রভু তুমি
পুণ্যের খাতায় তো শূন্য ছাড়া পাবে না খুঁজি!।
যা কিছু করলাম এ সাধন-শোধনে অর্জন
কাজে আসবে না হয়তো এ আমার উপার্জন,
দরদভরা ছলছল জলচোখে চেয়ে যদি থাকি—
কী বিচার করবে আমার বিচারক প্রভু তুমি॥
সইতে পারি না যেখানে এতটু রৌদ্রতাপ
সইব কেমনে বলো সেই বারো সূর্যের উত্তাপ,
এত বড় দিলের অধিকারী হয়ে বন্ধু তুমি
বান্দারে দিতে পারবে এমন কঠোর শাস্তি!।
মনে তো হয় না এত নির্দয় হতে পারবে
বিশ্বাসীবান্দা যাক-না ডুবে যত গুনাগুনাহে,
মন শুধু বলে একথা—দয়াময় বিরাট দরদি—
কী বিচার করবে আমার বিচারক প্রভু তুমি॥
২১ চৈত্র, ১৪২৭—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
১৪৩
আজানের সুর কী সুমধুর
শোনাচ্ছে মুয়াজ্জিন পাঁচ ওয়াক্ত আজান,
এ আজানে আছে জীবন ক্ষয়ের আহ্বান
শুনেও বুঝবে না মূঢ়!
প্রতিটি আজানে কম্পন
যার ভেতরে হবে না সে ইমানে দুর্বল,
নামাজেই করবে তারে শয়তানে দখল—
নামাজেরই এটা বিশেষণ॥
মসজিদে দিলে দৌড়
হওয়া যায় মসজিদি—খাঁটি নামাজি নই,
বান্দা বনা কঠিন—বন্দেগি হোক-না যতই
কপালকালো এদ্দূর!
দুহাতে তসবির জপন
এক ওয়াক্ত ছুটে গেল হায়—কী আফসোস,
কাল হাশরে জবাব দেবো কী—প্রাণে উশখুশ—
মুনাফেকের হবে লক্ষণ॥
২২ চৈত্র, ১৪২৭—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
১৪৪
প্রভু
কীজন্যে আর?
লও বুঝে এবার
তোমার এ দায়িত্বভার।
কভু
পাঠালে ধরণিতে
শতাব্দিপর শতাব্দিতে
আমার মতো বেকার?
নীরবে ও নিভৃতে
চলে গেল অশ্রুতে,
মনে রাখল না সংসার—
প্রভু
কীজন্যে আর?।
যাসব
এ করাচ্ছ নিশ্চয়
কাজে আসবে না মনে হয়?
মানুষ চায় মানুষের ক্ষয়!
এসব
কাজকর্ম আমার
হয়তো মনোনিত তোমার?
মানুষের কাছে কিছু নয়!।
এটাই নিয়মধারা
মানুষ বলে আমরা,
মনে রাখি না উপকার—
প্রভু
কীজন্যে আর?।
২৪ চৈত্র, ১৪২৭—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
১৪৫
প্রতিটি মুহূর্তে কাঁদছে মন আমারি
কেমনে যাই এই মায়ার বাড়ি ছাড়ি!
প্রিয়জনদের মাঝে কত ওঠাবসা
প্রিয়জনদের সাথে কত হাসিঠাট্টা,
কেমনে থাকব হয়ে চিরনিভৃতচারী!
প্রতিটি মুহূর্তে কাঁদছে মন আমারি॥
প্রিয়ের এতই হাসাহাসি—পাশে বসি
একটুতেই আবার অভিমান করে কী!
প্রিয়ের এ ভালোবাসাবাসি কী মধুর
এ ভালোবাসাতে নেই বেদনার সুর,
এমন আনন্দ-জীবন নেবে তুমি কাড়ি!
প্রতিটি মুহূর্তে কাঁদছে মন আমারি॥
২৫ চৈত্র, ১৪২৭—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
১৪৬
প্রতিদানের আশা করছি না কোনো
কিছু নেই আমার দানের প্রাপ্য।
তবু তোমার দয়ার আশা রাখছি বড়
না থাক আমার এতটু পুণ্য॥
মিলে মিলুক-না স্থান ওই ওখানে
এখানেও থাকবে প্রত্যাশা বড় মনে,
যে-কোনো উপায়ে পার করবে তুমি
নাহলে তুমি রহমান কেন?
না থাক আমার এতটু পুণ্য॥
কিছু নিতেই পারি নে যেখান থেকে
সেখানে কীসের হাজি আর গাজি।
যা নিয়ে যাচ্ছি—হয়তো আমলের ভারে
হবে ওয়াল দোজখের খুঁটি॥
‘চা’ চাইব না লাসভেগাসের জিন্দেগি
দিলেও খুশি চট্টেশ্বরীর নিরিবিলি বাড়ি,
না দিলেও ভালো—কোনো দুঃখ নেই
তোমার আনন্দে আমার আনন্দ।
কিছু নেই আমার দানের প্রাপ্য॥
২৭ চৈত্র, ১৪২৭—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
১৪৭
মালিক,
আমার সব মালিকানায় রেখে যাচ্ছি
কিছুই নিচ্ছি না।
খালিক,
তুমি খালি হাতেই পাঠিয়েছিলে
খালিই যাচ্ছি না।
রেখে যাচ্ছি সুলতানি প্রাসাদ
এতটু পেরেছি করেছি আবাদ,
এলেও
আসতে পারে কার উপকারে
না এলে না।
মালিক,
আমার সব মালিকানায় রেখে যাচ্ছি
কিছুই নিচ্ছি না॥
পাওয়ায়,
বলতে ইচ্ছে হয়—পৃথিবীর বাদশাহি
দিলে না আমায়।
দেওয়ায়,
নিজেকেও দিয়ে যেতে না পারলে
কী দেওয়া তাই।
‘আমার’ ‘আমার’ করে জমিয়ে
শান্তি নেই যাওয়ায় এতটা রাখিয়ে,
কালকে
হিসাবের ভারী দপ্তর বইতে কেউ
এগিয়ে আসবে না।
মালিক,
আমার সব মালিকানায় রেখে যাচ্ছি
কিছুই নিচ্ছি না॥
২৮ চৈত্র, ১৪২৭—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
১৪৮
আমার এ গান
তোমার মনে পাবে কি একটু স্থান?
গাইলাম যা এতখান
আমার এ গান।
তাল-লয়-সুর বেতালে ঘোর
স্বরলিপির ভুল পারিনি করতে দূর,
মুখ্য-অন্তরা রইল ছন্দহারা বেজান—
আমার এ গান॥
গানের কী গাই কী বুঝি
তুমি গাওয়ালে বলে গেয়েছি এতটি।
হবে কি বন্দেগি এ গায়িকি?
গানের কী গাই কী বুঝি।
আমার কণ্ঠ তোমার সুর
দুয়ের ভালোবাসায় এলাম এতদূর,
তবেই বুঝি দুয়ের ভালোবাসার টান—
আমার এ গান॥
২৯ চৈত্র, ১৪২৭—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
১৪৯
ইয়া—
ইয়া ইলাহি, ইয়া ইলাহি
চাইছি দয়া চাইছি।
ইয়া—
ইয়া নাফসি, ইয়া নাফসি
জপছি মালা জপছি॥
জান নেই জানের প্রাণে
প্রাণ নেই প্রাণের মনে,
আমার—
কী হবে কী হবে গতি
কাঁপছি ভয়ে কাঁপছি—
জপছি মালা জপছি॥
এই—
এতখানি, এতটু জিন্দেগানি
ভুলাল কী মোহে নাজানি।
অই—
মন্ত্রণাকারী, পথভ্রষ্ট দিশারি
পালাল পিঠ দেখিয়ে দৌড়ি॥
হায় হায়—কণ্ঠ শুকায়
এখন আমার কী উপায়,
কখন—
কী করতে কী করো তুমি
মরছি ডরে মরছি—
জপছি মালা জপছি॥
৩০ চৈত্র, ১৪২৭—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
সমাপ্ত
⇢ আমার বেসুরা কথা তোমার সুস্বরে
কী মোহিত করে দেখো দুনিয়ারে।
আমি চাপা পড়ে গেলেও যেতে পারি
তুমি কাঁপাতে পারো জগৎ কণ্ঠছাড়ি,
তোমাতে আছে সেসুরের মূর্ছনা গতিক॥