আমার আমি যতো ভালো, পুরো দুনিয়া তত বা তার চেয়ে কম নয় বরং অনেক বেশী ভালো।তাই নিজেকেই জানতে হবে।নিজের সাথেই বুঝাপড়া করতে হবে প্রতিনিয়ত।আসলে আমি কী চাই? সেই চাওয়া পাওয়া কতটুকু বৈধ বা অবৈধ! আমার চাওয়া পাওয়ার জন্য যে সময়, শক্তি, শ্রম, অর্থ, জায়গা ব্যয় ও ব্যবহার করছি তা'তে স্রষ্টা ও তার সৃষ্টির হক আদায়ে ব্যর্থ বা স্বার্থপরতার সাথে প্রতি মুহুর্তে বঞ্চিত করছি কীনা সে চিন্তা বা কিঞ্চিত ভাবোদয় হয় কী? দায়বদ্ধতা, দায়িত্ব ও কর্তব্য, অধিকার, অনধিকার, মানবতা, সদাচার, সত্য, স্নেহ-শ্রদ্ধা, মায়া-মমতা নিত্যকার জীবনের অভিধানে দিন দিন ঝাঁপসা হয়ে হতাশার অতল তলে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।এই সুন্দর পৃথিবীকে আরো সুশোভিত করতে, স্বশিক্ষিত ও সুশিক্ষিত সোনার মানুষ গড়ে তুলে অবনতি আর বিধ্বংসী কড়াল গ্রাস থেকে পুরো জাতিকে রক্ষা করার মহান দায়িত্বভার কে নিবে? আমাকেই নিতে হবে, তোমাকে, আপনাকে, আপন-পর, কাছের-দূরের সবাইকে নিতে হবে। তাছাড়া আমরা দুঃসময়ের পথে, শংকা, উৎকন্ঠা, নিরাপত্তাহীনতার মধ্য দিয়ে অনিশ্চিত জীবন যাপন করে যেতে ইচ্ছায় অনিচ্ছায় বাধ্য হবো।আর আগামী প্রজন্মের জন্য রেখে যেতে হবে বসবাসের অযোগ্য, অভিশপ্ত দুনিয়া সহ নির্মম, দুর্দর্শ এক অত্যাচারী শ্রেণী যে বা যারা তাদের উপর দিয়ে ভয়ানক অত্যাচারের ষ্টীমরোলার চালাবে পৈশাচিক উল্লাসে।পাথর চোখে দেখা, নির্বাক হয়ে নিষ্পেষিত হওয়ার অপেক্ষারত শ্রেণী, গোষ্ঠী ও জাতির দেখা মিলছে এবং বার বার মিলবে।
যুগে যুগে সুসভ্য জনগন শক্তি, শ্রম, মেধা, বুদ্ধিমত্তা, উন্নত সংস্কৃতি ও দূরদর্শিতা দিয়ে তিলে তিলে এক একটি সভ্যতা প্রতিষ্ঠিত করেছিল। ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নামিয়ে ধূলোয় মিশিয়ে দিয়েছে বিপথগামী, অযোগ্য, অথর্ব, উচ্চাভিলাষী, উত্তরসূরিরা।এদের পরের উত্তরসূরিরা আরো ভয়ানক। সভ্যতা গড়াতো দূরের কথা বরং পৃথিবী নামক গ্রহটাকে মহাবিশ্ব থেকে মুছে দিতে আনবিক, পারমানবিক, রাসায়নিক, হাইড্রোজেন, তেজস্বী বোমা তৈরিতে পাগলামির বিধ্বংসী প্রতিযোগিতায় লিপ্ত।
০৭/০৭/২০১৮
নয়াটোলা, রমনা,
ঢাকা।