রৌজা
রৌজা
আযাহা সুলতান
রৌজা
আযাহা সুলতান
প্রথম প্রকাশ
জুন, ২০২১
গ্রন্থস্বত্ব
লেখক
প্রচ্ছদ
অনিন্দ্য হাসান
প্রকাশক
একেএম নাসির উদ্দিন আহমেদ
জলছবি প্রকাশন
বাড়ি নং ৪৩/৯/৪, শ্যামলী হাউজিং (তৃতীয় তলা)
ব্লক ‘বি’, সড়ক নং ৬, শেখেরটেক, আদাবর, ঢাকা-১২০৭
ঊসধরষ : লধষপযযধনর২০১৫@মসধরষ.পড়স
ওঝইঘ : ৯৭৮-৯৮৪-৯২৬৪৮-৯-৭
মূল্য ২৪০ টাকা
পরিবেশক
১/এ, পুরানা পল্টন লাইন (৩য়তলা),
কক্ষ নং ২, পল্টন, ঢাকা- ১০০০
ফোন : ০১৭ ১২০৯ ২৪৯২,
ঊ-সধরষ : নধহমধষরনফ৭১@মসধরষ.পড়স
অনলাইন পরিবেশক
িি.িলধষপযযধনর.ড়ৎম
০১৮১৭১২৭৮০৭
ৎড়শড়সধৎর.পড়স
১৬২৯৭
----------------------------------------------------------
ঈড়ঢ়ুৎরমযঃ @ ডৎরঃবৎ
জড়ুিধ নু অুধযধ ঝঁষঃধহ
চঁনষরংযবফ নু অকগ ঘধংরৎ টফফরহ অযসবফ, ঔধষপযযধনর চৎড়শধংযড়হ, উযধশধ.
চঁনষরংযবফ রহ ঔঁহব, ২০২১
চৎরপব ঞশ. ২৪০ টঝ $ ৬
উৎসর্গ
অকালপ্রয়াত মেজো মামা—
মওলানা সৈয়দ মুহাম্মদ ইসহাক
ভূমিকা
‘রৌজা’ ‘রৌশন জালাল’ সংস্করণ। মূলত ‘গীতিকাব্য’ বহু বছর আগে একবার প্রকাশ করা হয়েছিল। ওই প্রকাশের কোনো কপি না থাকায়—প্রকাশের সন-তারিখ উল্লেখ করা গেল না। পরের সংস্করণ জুন ২০২১ সালে জলছবি প্রকাশন থেকে প্রকাশ করা হয়। তবে রৌশন জালালের কোনেকটা গান রৌজাতে স্থান পায়নি। এর সমস্ত গান বাতিল হয়ে ‘রৌজা’ রূপান্তরিত হয়। কারণ? ‘রৌজা’র প্রথম সংস্কণের ভূমিকাতে ছিল। প্রকাশের পর দেখা যায়, কয়েকটি গানের শব্দে ও বাক্যে কিঞ্চিৎ ভুলত্রুটি থেকে যায় এবং যাওয়াটাই স্বাভাবিক। কারণ, সৃষ্টির সৃষ্টি নিখুঁত হওয়া দুষ্কর। তাই এবারের সংস্করণটি আরেকটু হালনাগাদ করে প্রকাশ করণে এই উদ্যোগ।
কাব্যটি মূলত হামদধারার। তা সত্ত্বেও বিভিন্ন ধারার গান রয়েছে। কবিতা সাধনার বিষয় এবং তারচেয়ে আরও বেশি সাধনার বিষয় বোধহয় গান বা গীতিকবিতা। কী? একজন সাধকের যুগসাধনার ফল তার যে-কোনো সৃষ্টি। হোক সেটা ক্ষুদ্র অথবা অক্ষুদ্র। জানি, এই যুগে এমন কিছুর সফলতা কামনা করাও ভুল? কারণ? মানুষ মনে হয় এখন বই পড়াতে অনাগ্রহী। তবু আগ্রহীদের সৃষ্টি থেমে থাকে না এবং থাকবে না। অনাদর-অবহেলা এই সমাজেরই অংশ। ভালোমন্দ যে-কোনো কিছু সৃষ্টি করতে গেলে স্রষ্টাকে আঘাত পেতেই হয় ও হবে। আঘাত যেখানে নেই সেখানে কোনো ধরনের সৃষ্টি গড়ে তোলা মুশকিলই না, একেবারে অসম্ভবও হতে পারে। বিধাতাকে ধন্যবাদ। তিনি আমাকে এতটুকু পথ সফর করিয়েছেন। ওনার দয়া ছাড়া আসলে কোনো কর্মই সফল বা সম্পন্ন নয়। হাঁ, এগুলো অনেকটা জীবনমুখী ও দেশাত্মবোধক এবং ইসলামিক ধারার গান-গজল বটে। সর্বতপ্রসঙ্গে মাতাপিতার স্মরণে স্রষ্টার প্রশংসার স্তুতিমাত্র।
—আযাহা সুলতান
কার কণ্ঠে বাজছে আযাহা সংগীত?
আমার ছন্দহারা জীবনের গীত।
হৃদয়ের ভালোবাসা তোমার লাগি
আছে—থাকবে অনন্ত-অনন্তে জাগি,
আমাকে যে ঋণী করলে বন্ধু অধিক॥ ⇢
১
‘সুবহানাল্লাহ ওয়ালহামদুলিল্লাহ
লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’
রব্বানা রব্বানা
ডাকায়ও অসংখ্য ভুল চাই গো ক্ষমা।
রহিম-রহমান তুমি অতি দয়ালু
আমার ভুলপারে দিয়েছ মুহাম্মদু॥
‘আল্লাহুম্মা ছাল্লিআলা ছায়্যিদিনা
মুহাম্মদুর রাসুলুল্লাহ’
প্রার্থনা প্রার্থনা
গুনাগারে এতটুকু করো ওগো দয়া।
তুমি ছাড়া নেই গতি এ আমার
কবুল করো বান্দার তওবা নছুহার॥
‘রব্বিগফিরলি ওয়াতুব আলাইয়্যা ইন্নাকা
আনআতাত্তাউয়্যাবুল গফুরা’
দেখো না দেখো না
গুনাহের দপ্তরে যত যা হয়েছে জমা।
মেহেরবান দয়ালু শত নাম তোমার
এ নাম জপনে কী যে প্রশান্তি বান্দার॥
‘ইয়া গাফফারু আন্তা গফুরুর রহিমা
ইয়া রব্বি ওয়ারব্বুল আলা’
গুনা গুনা আর গুনা
গুনাহে ডুবে গেছে তোমার এ বান্দা।
তুমি ক্ষমা করলে ক্ষমা পাই আমি
ক্ষমা করো হে বান্দার সমস্ত গুনাহি॥
৮ বৈশাখ, ১৪২২—মানামা, আমিরাত
২
উপাস্য উপাস্য
বিধাতার যা সৃষ্ট।
উপাস্য উপাস্য
সকল মাতাপিতার কষ্ট॥
উপাস্য উপাস্য
স্বদেশভূমির তুচ্ছঘাস।
উপাস্য উপাস্য
জন্মভূমির উচ্চাকাশ॥
উপাস্য উপাস্য
সৃষ্টি যেসব প্রশস্য।
উপাস্য উপাস্য
বিধাতার যা সৃষ্ট॥
উপাস্য উপাস্য
দুস্থজীবন দৈন্যবেলা।
উপাস্য উপাস্য
শ্রান্তপথিক পান্থশালা॥
উপাস্য উপাস্য
উপকারী সত্তাগুলি।
উপাস্য উপাস্য
নিবেদিত আত্মাবলি॥
উপাস্য উপাস্য
ন্যায়নীতির মানস্য।
উপাস্য উপাস্য
বিধাতার যা সৃষ্ট॥
১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২২—মানামা, আমিরাত
৩
আকাশে ঠেকাও হে ওই নিবেদিত মস্তক
পরোপকারে যে নিজেকে উৎসর্গ করছে।
অনিষ্টের অদৃষ্টে লাগাও তুমি নমনতিলক
সরল ও সুন্দরের পথ স্পষ্ট দেখুক সে॥
পৃথিবী ধ্বংস করণে উদ্যত যারা
বিবেচনা করুক তাদের চিন্তাধারা,
ধন্য হোক মানুষের ঠিকানা গড়ার চিন্তক
মানুষ বাঁচানোর মিছিলে যারা নেমেছে।
আকাশে ঠেকাও হে ওই নিবেদিত মস্তক
পরোপকারে যে নিজেকে উৎসর্গ করছে॥
মানুষ হলেও মানুষ হওয়া যে বড় কঠিন
মানুষের থাকতে হয় কিছু তো গুণাবলি।
একপাশে ছাগছানা ওপাশে নিজশিশুটিন
স্তন্যদানে মা ওঁর চেয়ে মানুষ কে বড় বলি॥
না, রাজ্যের শাসক কেউ বড় নয়
হাঁ, কুঁড়ের ঘরে আঁকে পরের স্বপ্নজয়,
বিজয়ের মাঠে অশ্রুময় পরাজয়ের বন্দক
মহান-মহত্তম অন্যের দুখে দুখী যে।
আকাশে ঠেকাও হে ওই নিবেদিত মস্তক
পরোপকারে যে নিজেকে উৎসর্গ করছে॥
১২ আষাঢ়, ১৪২২—মানামা, আমিরাত
৪
আমার রব কত যে মহান
চাইলে ভিক্ষাপাত্রে দেওয়ার পারে বাদশাহি দান,
অহংকারে ফেরেশতাকেও বানাতে পারে শয়তান
আমার রব কত যে মহান।
এ ক্ষুদ্রক অবনি—এ আমার জিন্দেগানি
আমার কাছে কী যে বৃহৎ আমিই জানি,
তাঁর কাছে হাজার সিন্ধু বিন্দুপরিমাণ—
আমার রব কত যে মহান॥
অসীম তিনি অসীম তাঁর রচনা
পরমবিশ্ব চরমবিশ্ব অনন্তবিশ্ব আমার কাছে অজানা,
পৃথিবীর ফুলফল যা দিয়েছে আমায় শোকর-শোকরানা
অসীম তিনি অসীম তাঁর রচনা।
মাতাপিতা স্বজন সন্তানসন্ততি স্ত্রীর বন্ধন
আহা আহা কী মায়াডোরে বাঁধলে কেমন,
আমি ভুলতে পারি না আরাধ্য এ অবদান—
আমার রব কত যে মহান॥
২২ শ্রাবণ, ১৪২২—মানামা, আমিরাত
৫
নিয়তির মালিক আমার নিয়ন্তা
তুমি চালাও বলে আমি চলন্তা।
তুমি জানাও বলে আমি জানি
তুমি দাও বলে আমি ধনী
তোমার দয়ায় আমি উচ্চতা।
নিয়তির মালিক আমার নিয়ন্তা॥
কৃপাবান, আমায় করেছ ইনসান
শোকরান, দিয়েছ সর্বোপরি স্থান।
তুমি মহান—মহৎ দিলের অধিকারী
তোমার গুণগান কেমনে যে করি
কী যাচনে প্রকাশ করি কৃতজ্ঞতা।
নিয়তির মালিক আমার নিয়ন্তা॥
২১ চৈত্র, ১৪২২—মানামা, আমিরাত
৬
বিশ্বসৃষ্টির স্রষ্টা তুমিই এক জন
তোমার পায়ে মাথা নত সর্বক্ষণ।
বলে অনেকে তুমি নাকি নেই?
বুঝি না বলে তারা কোন যুক্তিতে
আমি তো দেখছি হাজারো নিদর্শন!
বিশ্বসৃষ্টির স্রষ্টা তুমিই এক জন॥
দেখা যদি দিতেও তুমি চাক্ষুষ
বিশ্বাস হতো না—আমি যে মানুষ।
কোরান পুরাণ গীতা বাইবেলে
মানুষ হতে পারেনি যে আদলে
কোথা সে পাবে আর জ্ঞানধন!
বিশ্বসৃষ্টির স্রষ্টা তুমিই এক জন॥
২৫ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৩—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
৭
তুমি আছ আমি আছি এত যে কাছাকাছি
এত যে তোমার আমার মাঝে বোঝাবুঝি!
তবু আমি বুঝি না কিছু—চলছি অপথে
আমায় তবে চালাচ্ছ কেন তুমি ভুলের পথে?
কেন তবে ঘটাচ্ছ মন ও মস্তিষ্কে জোঝাজুঝি?।
তুমি কত সরল হলে—আমায় করলে বঙ্কিম
কী সাধ্য ছিল আমার হই অবাধ্যতায় অসীম?
আমার অন্তরে সব সময় তোমার বাস
আমায় তবে দিলে না একটু বোঝার আভাস!
আর কত রাখবে হে বন্ধু সান্ত¦নার মাঝামাঝি?।
১৯ আষাঢ়, ১৪২৩—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
৮
কেউ বলে তুমি আছ—কেউ বলে নেই
কেউ বলে দেখি আমি মনের আয়নাতে।
আমি বলি—ঠিক আছে ঠিক আছে
তুমি আমি সে থাকি-না তফাতে যে,
মধ্যিখানে না রই দোটানার টানাটানিতে॥
এপার নয় ওপার মধ্যম কোনো আশ্রম নেই
কূলকিনারা হারালে সমস্ত বিপর্যয় মধ্যমেই।
মনে যে করে চলছি আমি সঠিক
দেখা যায় আসলেই সে ভ্রান্তপথিক,
আসলে কোনো ঠিকানা নেই ধারণার পথে॥
২ শ্রাবণ, ১৪২৩—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
৯
যে যাই ভাবে ভাবুক গে তোমে
আমি আছি তোমার ভরসা পরে।
যে যত বিদ্রূপ করে করুক গে হে
তুমি আছ—থাকবে আমার অন্তরে॥
এই এত হাজার নিদর্শন তোমার
দেখে যারা বুঝে না—কী বলি আর!
আমি শুধু করছি দুঃখ—বলছি দরদে
মানুষ বানাইয়েও বানালে না সবারে!।
ওই আকাশ আর এই মাটি দর্শনে
খুঁজে পায় না তোমার নিগূঢ়তথ্য যে!
আমি চিন্তা করি আর ভাবি মনে মনে
চক্ষুষ্মান ও জ্ঞানবান করলে তাদেরে!।
তুমি এখন বলছ হাসি—চাও কি ধরায়?
আমি বলব না—দিলে কমত কোথায়!
ফরমানে তুমি যদি থাকো বান্দায় খুশে
নাফরমানি থেকে বাঁচাও জীবন-আখেরে॥
৮ শ্রাবণ, ১৪২৩—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
১০
শোকরান শোকরান
আল্লাহ তুমি মহান—কত মেহেরবান—
শোকরান শোকরান।
যা কিছু আমায় করেছ দান তুলনা ছাড়া
বৃষ্টি বায়ু মিষ্টি জল কত যে অমিয়ধারা।
তোমার দয়ার সাগরে আমি ভাসমান—
শোকরান শোকরান॥
আমার এ জিন্দেগি
ধন্য যে কী—অপূর্ণ রাখোনি এতটি—
আমার এ জিন্দেগি।
আমি কভু অবাধ্য তবুও আমার প্রতি কৃপা
রোগে-শোকে ফেলে আবার দান করো শেফা।
দুর্যোগ-দুর্দিনদ্বারা বোঝাও যে কতখান—
শোকরান শোকরান॥
১৪ শ্রাবণ, ১৪২৩—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
১১
আল্লাহ মহান আল্লাহ মহীয়ান
আল্লাহ রহিম ও রহমান।
আল্লাহ বিধান আল্লাহ বিধিয়ান
আল্লাহ দরদি ও দয়াবান॥
আল্লাহু আল্লাহ আল্লাহু আল্লাহ
লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ইল্লাল্লাহ,
চলুক হরদম অন্তরে এ জিকিরগান॥
আল্লাহ শাসক আল্লাহ সহায়ক
আল্লাহ অমেয় ও অমায়িক।
আল্লাহ শ্রাবক আল্লাহ বিচারক
আল্লাহ ন্যায়পর ও নৈয়ায়িক॥
আল্লাহ আল্লাহ আল্লাহু সুর
হৃদয়ে লাগে কী যে মধুর,
এ নামের টানে বাইর হোক প্রাণ॥
১৭ শ্রাবণ, ১৪২৩—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
১২
জান্নাতের সুখে কাঁদে না মন বড়বেশি
মন কাঁদে শুধু তোমার দিদারের লাগি।
যদি তোমার দেখা পেয়ে কখনো স্বামী
দোজখে হাবিয়া মিলে ধন্য ধন্য আমি॥
যেখানে যখন কেউ কারও নয়
‘ইয়া নাফসি’ ‘ইয়া নাফসি’ ভয়
সেখানে আমার অভয় আছ তুমি
তোমার ছায়াতলে বারো সূর্যতাপ কী॥
যা গুনা—যত অপরাধ করেছি প্রভু
তোমার অপরাধীরে ক্ষমা করো তবু।
অপূর্ব দৃষ্টান্তবিচার করবে আর-রহমান
হবে না কিছু রহিমের রহমতের সমান॥
কেয়ামতের ময়দান যতই সুকঠিন
ক্ষমার অন্তরে গফুর রইবে সেদিন
দীন-বেদীন করবে জপে দয়ার আশাটি
গুনাগার চাইবে কেবল মনিবের স্নেহদৃষ্টি॥
২২ শ্রাবণ, ১৪২৩—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
১৩
আমার ভালোবাসা তোমার জন্যে
আছে প্রিয়—থাকবে জনম-জনম,
আমি চলে গেলেও কোনেকদিনে
আমার ভালোবাসা রইবে অনুপম॥
জ্বেলে যাব এই প্রেমের প্রদীপ
তোমায় পাওয়ার সকল উদগ্রীব,
আমার প্রেমে থাকে যদি দৈন্য
ক্ষমা করো বন্ধু পরম প্রিয়তম॥
প্রকৃত প্রেম পায় না স্থান বরণ্য
সত্য প্রেমের দিয়া জ্বলে হরদম,
সততার পথে কাঁটা বলে জঘন্য
চলনা রুখে দেওয়া ভুল একদম॥
হতাশার কুয়াশায় ঢাকা যেই নগর
প্রহর হবে না জ্বলেও শত দিবাকর,
দৃঢ় আত্মবিশ্বাস থাকে যার মনে
দিশা পাবে সে বেদিশার মাধ্যম॥
২৭ শ্রাবণ, ১৪২৪—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
১৪
কে তুমি?
কখনো আমায় নিমজ্জন করো
দুঃখের অকূল সমুদ্র্রে।
কে তুমি?
কখনো আবার ভাসাও তবে
সুখের আনন্দ-জোয়ারে॥
প্রকৃতি? না না—মনে তো হয় না
সুকৃতি? হলেও হতে পারে তা
সমীক্ষায় যা মিলে মিলুক—আরাধনায়
শান্তি মনের গভীরে॥
মনে হয়!
কেউ তো আছে ভালোমন্দ করণে
সমস্ত কিছুর শাসনে।
মনে হয়!
কে যেন অদৃশ্যহাতে ধরে আছে
বিশ্বহাতল দৃঢ় মনে॥
তোমার ধারণায়? যা বলে বলুক
আমার সাধনায়? সন্দ অহেতুক
দীনতা ঘুচুক সকল আঁধার অন্তরের
প্রসন্নতা আসুক ফিরে॥
২৮ শ্রাবণ, ১৪২৪—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
১৫
কী উদ্দেশ্যে এতসব আয়োজন বন্ধু!
কী দোষে আবার ফানা?
কেন তবে আমায় দিয়ে কামনার সিন্ধু!
রচে চলেছ প্রয়োজন বিনা?।
চৌদ্দ নম্বরে আমার এ জিন্দেগি
চৌদ্দ রকমে হয়েছে তালি!
যদিওবা আমার মধ্যেই সব বেরঙ্গি
তবে এক ঘরে কেন ভিন্নতা?।
কী আশা তোমার মনে—কী যে উদ্দিষ্ট!
তুমি কর্তা ভালো জানো গতিক।
আমারে বিবেকবুদ্ধি দিয়ে করছ পথভ্রষ্ট!
আমি বান্দা ইশারার মালিক॥
তুমি যদি পাশে থাকো বেদনহারী
আমি কেন দরদে মরি!
সবকিছু আয়ত্তাধীন—হাতে তোমারি
তবে কেন এত অবাধ্যতা?।
২৯ শ্রাবণ, ১৪২৪—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
১৬
মানুষ বড় আজব জীব
নিজের মধ্যে শয়তানি
খুঁজে আর গেয়ে বেড়ায়
অপরের দোষত্রুটি!
ভুল নিজে আগাগোড়া
বলে পরের ভুলের কথা
অপরাধ যার ক্ষমা-অযোগ্য
তার বড় গলাবাজি!।
জান দেয় জান যে নেয়
বিষমনের মুখে মধু বেশি
আপন দূরে পর কাছে
তুলনা নেই আপনালি!
আমি খাই আমি বাঁচি
আমার লাভে আমি আছি
আমার স্বার্থে আঘাত হলে
বেঠিক সব দুনিয়াদারি!।
এমন কিছু মানুষ আছে
মানুষ নামের বদনাম
নিজের স্বার্থ ঠিক থাকলে
সাত খুনেরও মাফ!
দেখলে কারও সাধুরূপ
সাধু ভাবা বড় ভুল
সাধুর দ্বারাই হয় বেশি
অনিষ্ট বা মহা ক্ষতি॥
পূর্বপুরুষ কী ছিল
জমিদার না ভিখেরি?
আমি কী পেরেছি
সেটাই হোক জরুরি।
কুঁড়ের ঘরে জন্ম হলে
কুঁড়ো মনের কে বলে?
রাজমহলে যদি জন্মে
হয় কি সব উদারচিত্তি?।
ছাই ওড়লে আকাশে
ছাই হয় না তারা যেমনি
গোবরে ফুটলে পদ্মফুল
গোবর তেমন হয় না দামি।
নিচুমন উচ্চাসন লাভে
ক শুনি ভালো কী হবে?
নিজ থেকে ভালো না হলে
কী হবে শত উপদেশযুক্তি?।
৩০ শ্রাবণ, ১৪২৪—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
১৭
মনে বড় বেদনা রইল জড়ি
এ জন্মের কোনো মানে নাই!
চলে যাব অপূর্ণের মাঝে ফিরি
জীবন কী? কিছুই তো বুঝি নাই!
খাওয়াদাওয়া আর চাওয়া
এটাই কি জীবনের পাওয়া?
কাজ কোনো হলো না কাজের
জীবন গেল বৃথা ও বৃথায়!।
যা হলো—হয়ে গেল শ্রী-বিশ্রী
আর তো কিছু করার নাই।
শেষ করতে তোমার জিকিরি
এতটু হায়াত-এ-জিন্দেগি চাই।
চাই না আর অযোগ্যধন
চাই না অনর্থে জড়ুক মন!
সার্থক জনম হতে পারে
বাকি দিনে যেন পথটু পাই॥
১ ভাদ্র, ১৪২৪—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
১৮
দিনের আলো না হোক
রাতের আঁধার না হোক,
তোমার রৌশনে হোক
রৌশন ‘রৌজা’ রৌশন জালাল॥
দুনিয়ার দস্তুর না হোক
নিয়মের ধারক না হোক,
নিন্দার দ্বন্দ্ব হোক
অনিন্দ্য ‘রৌজা’ রৌশন জালাল॥
নিয়তির নির্ভরক না হোক
নীতির নির্দেশক না হোক,
ন্যায়ের আদর্শ হোক
প্রতীকী ‘রৌজা’ রৌশন জালাল॥
প্রকৃত প্রদর্শক না হোক
প্রকৃতির সাধক না হোক,
সত্যের আরাধক হোক
যথার্থ ‘রৌজা’ রৌশন জালাল॥
২ ভাদ্র, ১৪২৪—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
১৯
সৃষ্টি আমি স্রষ্টাবিদ্বেষ কত যে বেমানান
স্রষ্টা আছে-কি-নেই আছি বোকার তর্কে!
ঘরের কোণে মাপি আকাশের ব্যবধান
খুঁজি না সমাধান—কী আছে ঘরের রক্ষে?।
এ প্রকৃতি—বিশ্বচরাচর সচল কেমনে?
এ গ্রহতারা—নক্ষত্রসমূহ ঘুরছে কীভাবে?
এ বৃষ্টিবাদল—তুফানহাওয়া বইছে কীসে?
স্রষ্টার হাজারো হাজিরি রয়েছে সপক্ষে॥
ওই যে মাঠেঘাটে ফুটছে নানান ফুল
কী মুগ্ধতায় ছড়াচ্ছে সৌরভ চার দিকে!
এই যে ক্ষুদ্র লতায় ধরছে আশ্চর্য ফল
এমন উৎস তারা পাচ্ছেবা কোত্থেকে?।
যেদিকে দেখিনে কেন, সৃষ্টি তুলনাহীন
যেদিকে দেখি মনে হর সবকিছু নমিন!
কারে মেনে চলছে আসমান ও জমিন
স্রষ্টার কিবা যায়—দুনিয়া থাকে-না বিপক্ষে॥
৩ ভাদ্র, ১৪২৪—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
২০
মনে মনে ভাবছি
ভেবে ভেবে কত কী অনুভব করছি—
ক্ষুদ্র মনের কী হবে পরিণতি!
জনে জনে বলছি
বলে বলে মুখের লালা মুখেই ঢাকার্ছি—
মনটা বড় রাখলে কী ক্ষতি?।
কারে কিছু দিতে নাই পারলে
নাইবা কারও উপকারে এলে,
গনে গনে দেখছি
দেখে দেখে নিজেকে বোঝাপড়া করছি—
নিয়ত ভালো তো ভালো নিয়তি॥
হতে হতে প্রাণ
হয়ে হয়ে হতে পারে কে জগন্মহান—
তুলনা নয় ভবে এ আত্মার!
দিতে দিতে দান
দিয়ে দিয়ে হওয়া যায় আকাশসমান—
দেওয়ার মতো সুখ কই আর?।
হৃদয়ের কাতারে নাম যার শীর্ষ
জয় করতে পারে সে পুরো বিশ্ব,
ক্ষণে ক্ষণে বুঝছি
বুঝে বুঝে বোঝাই কারে কাজের কথাটি—
ভালো কর্মের ফল হয় ভালোটি॥
৪ ভাদ্র, ১৪২৪—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
২১
আমি চাই না গো রব আসমানে স্থান
আমার অন্তরে রাখুন মাটিমাতৃর টান।
করতে পারি দুর্ভোগ-দুর্ভিক্ষ দেশের গপ
দেখতে পারি উপবাসী ও বুভুক্ষুদের সব,
না হোক কবে আয়াশি জিন্দেগির বয়ান।
আমার অন্তরে রাখুন মাটিমাতৃর টান॥
আন-বান-শান কত কী যে হয় যে কথন
নিঃস্বদের কাতারে দাঁড়িয়েছে কে? ক-জন?
ওই যে দেশলাইটা পুড়ছে কী ব্যথা
তুচ্ছ বলেই তার হয় নে কোনো কথা,
দরদ পায় নে যে, হয় না সে দরদবান।
আমার অন্তরে রাখুন মাটিমাতৃর টান॥
৫ ভাদ্র, ১৪২৪—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
২২
প্রশস্য প্রশস্য
বিধি আর বিধান প্রশস্য
জগতের সমস্ত কিছুই প্রশস্য।
চন্দ্র-সূর্য-গ্রহ-তারা-নক্ষত্র
বাতাস-বন্যা-বৃষ্টি-বাদল-অভ্র
ধুলোবালি-মাঠ-মাটি-খেত-ফসল শস্য।
প্রশস্য প্রশস্য
জগতের সমস্ত কিছুই প্রশস্য॥
দানব দেবতা
জীবজন্তু আর মানুষ-মহাত্মা
কোনো কিছুই সৃজিত হয়নি অযথা।
বন-বনানী-টিলা-শৈল-শিলা
ঘাস-লতা-ফুল-ফল-গাছপালা
নদনদী-সাগর-ডোবা-জল-জলজ নস্য।
প্রশস্য প্রশস্য
জগতের সমস্ত কিছুই প্রশস্য॥
৫ ভাদ্র, ১৪২৪—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
২৩
দেখাবে আর কত প্রভু দুনিয়ার রং?
কতই আছে বলো আর স্বার্থের ধরন?
জন্ম হতে দেখাচ্ছ গিরগিটি কত প্রকার
আজও দেখে যাচ্ছি রূপ পালটানো তার!।
বুকে টেনে নিয়ে পিঠে মারছে ছুরি
মৃত্যুকূপে ধাক্কা দিচ্ছে সেজে দিশারি!
ধোঁকা খাচ্ছে—খাবে অন্ধবিশ্বাসীগণ—
কতই আছে বলো আর স্বার্থের ধরন?।
একই কলমে লেখা হয়েও কপাল
কারও বদনসিবি তো কারও সুকপাল!
ভাইয়ের দুঃখবিপদে ভাইয়ের কী হাসি
সত্য বলতে পারে না—মায়ের মন দুখী!।
এখানে আপন না আপন পর তো পর
জানপ্রাণ দিতেছে জান নেওয়ার অন্তর!
বোঝা বড় কঠিন অই বেইমানির লক্ষণ—
কতই আছে বলো আর স্বার্থের ধরন?।
৬ ভাদ্র, ১৪২৪—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
২৪
এখানে নয় কেউ—আমিও আমার
এই আছি তো এই নেই!
মাটিতে মিশে কবে মাটি আবার
ইয়ত্তা কি তার আছেই।
জমিয়ে ওঠে শ্রীকান্তের বাজার
দেরি কতক্ষণ কুয়াশায় ঢাকার!
এই দেখো আছি এখন হট্টগোলে
এই দেখো নীরবযাত্রা মুহূর্তেই॥
জীবন ঝিলমিল—আলো-আঁধার
এই দৃশ্যমান এই অদৃশ্য!
ভঙ্গুর শহরে তবু পসরা সাজার
রীত কেন বুঝি নে রহস্য।
পদেপদে কাঁটা—জিল্লতি অশেষ
ছাড়ছি না তবু লালসার দেশ!
কী চিত্রিত মানুষ—বিচিত্র সংসার
যাচ্ছি—কিন্তু আশা ছাড়ছি নেই॥
৭ ভাদ্র, ১৪২৪—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
২৫
সত্যপূজন নিত্যভজন
ধর্মকর্ম আরাধনা
কিছুই সফল না,
যতক্ষণ মিথ্যাসাধন
নিন্দার বন্দনা
অন্তরে ঘুচে না।
কী পুণ্যলাভ? সাধুতাভাব?
অঙ্গে যদি রয় যে অভাব?
মনের মন ঠিক না হলে
পূর্ণ নয় কোনো সাধনা—
সত্যপূজন নিত্যভজন
ধর্মকর্ম আরাধনা॥
জন্ম হতে যে মনেতে
হয়নি অনুভব
করছি কী সব!
দ্বন্দ্ব করতে এ জগতে
আসিনি কব
ক্ষমা চাই রব।
অনুশোচনা যে করে না
মানুষ সে হতে পারে না,
ভুলের ভুল বুঝতে পারলে
কবুল হয় সব প্রার্থনা—
সত্যপূজন নিত্যভজন
ধর্মকর্ম আরাধনা॥
৭ ভাদ্র, ১৪২৪—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
২৬
কী করলাম—করছি কী
ভাবছি বসে তা,
জগতে কি আসা কেবল
খেয়েদেয়ে যাওয়া?
দেশ ছেড়ে যব দেশে দেশে
শেষসংবাদ পৌঁছে যাবে,
কীর্তিকলাপ ওঠবে ভেসে
চর্চা করবে জাহাঁ।
কী করলাম—করছি কী
ভাবছি বসে তা॥
কামাই হয়েছে যা দিনেরাতে
না এলে কই কোনো কাজে,
জন্ম ব্যর্থ—কর্ম অযোগ্যতে
কথাটি রইবে মাঝে।
কতক ফুলে সুগন্ধ—কতকে হারা
কতকে কিছু নেই সৌন্দর্য ছাড়া,
জীবন যদি হয় না কোনো ধারা
মরণ বড় বেদিশা।
কী করলাম—করছি কী
ভাবছি বসে তা॥
৮ ভাদ্র, ১৪২৪—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
২৭
আল্লাহ তুমি পরিপুষ্ট করো
নীলের মতো মানুষের জীবন
স্বচ্ছ সুন্দর উচ্চ উৎকৃষ্টমন।
আল্লাহ তুমি পৃথিবীর গ্লানিকর
ভেসে নাও নুহের প্লাবনের মতন
ফুলেফলে শস্যশ্যামলে হোক পূরণ॥
আল্লাহ তুমি রক্ষা করো সবে
করেছিলে যেরূপ কাহাফিঘুমে
করেছিলে ইউসুফ ইউনুস ইব্রাহিমে।
আল্লাহ তুমি ভরপুর করো তবে
যেভাবে করেছিলে নহরে জমজমে
পারো তুমি সুচের ছিদ্রে হাতির চলন॥
৯ ভাদ্র, ১৪২৪—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
২৮
দমেদমে হরদমে তোমারে কুর্নিশ
জাতীয় পরিচয়ে আমি মুসলিমিন।
জাতীয়তার পরিচয়ে করলে মানুষ
হুঁশজ্ঞানে সৃষ্টি তোমার তুলনাহীন॥
নবিরাসুল করলে নাকো দেবতা
তারচেয়ে বরং বিবেকবান হওয়া।
তারচেয়ে আরও বড় মনুমনুষ্যতা
যা তোমার কাম্য নৃ-থেকে পাওয়া॥
তাতে যদি থাকি খোদা পিছিয়ে
ক্ষমা চাই—আল্লাহ তুমি ক্ষমাসীন।
রেখো সব সময় মঙ্গলে জড়িয়ে
করতে পারি কর্ম-ভালো রাতদিন॥
১০ ভাদ্র, ১৪২৪—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
২৯
অন্তরদুঃখে হাসি হাসি
বিলাতে পারে কে ভালোবাসা রাশি রাশি?
অন্তরদুঃখে হাসি হাসি।
বিষাদের বৃক্ষতলে বসি
গাইতে পারে কে আনন্দের গীতরাশি?
অন্তরদুঃখে হাসি হাসি॥
মনে রেখে মনের জ্বালা
চলতে পারে কে করিয়ে মুখ উজালা?
মনে রেখে মনের জ্বালা।
ভুলিয়ে করতে পারে কে কর্ম আদর্শী?
অন্তরদুঃখে হাসি হাসি॥
হাতে নিয়ে ধ্বংসবীণা
গড়তে পারে কে সুন্দরের রাজ্যরচনা?
হাতে নিয়ে ধ্বংসবীণা।
সইয়ে অপমান-লাঞ্ছনা
করতে পারে কে শান্তির বন্দ্যবন্দনা?
হাতে নিয়ে ধ্বংসবীণা॥
আঘাত-আঘাতে যত ঘায়েল
ততই হতে পারে কে অনুরাগী পায়েল?
আঘাত-আঘাতে যত ঘায়েল।
অনুরাগে হতে পারে কে রাগের বশবশী?
অন্তরদুঃখে হাসি হাসি॥
১১ ভাদ্র, ১৪২৪—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
৩০
মাওলা তোমার প্রেমসাগরে
আমার এ পানসি প্রণয়তরী
ছেড়ে দিছি—বাইতে পারি
সেই সামর্থ্য দাও আমারে
দাও হে বন্ধু পুরোপুরি।
তুমি বড় প্রেমধন হে মোহন
তোমার মতো কে সে সুজন
হে সুজন—ঘাটে ঘাটে তুমিই
আমার একমাত্র অর্থকড়ি॥
আমার আশেকি বন্দেগি
তোমার প্রেম-এবাদতে হরদমেতে
ঝোঁকাও তারে—চালাও সেপথে
তুমি যদি দাও না দিশি
আমি যে দিশেহারী।
তোমার ওই ভালোবাসা ছাড়া
কেমনে চলে এই জীবনধারা
তুমি বিনে চাই নে কিছুই
চাই না কোনো আহামরি॥
১৩ ভাদ্র, ১৪২৪—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
৩১
‘কপাল’ ‘কপাল’ করে সান্ত¦না
কপালে বিধি লিখেনি অজ্ঞতা,
‘ভাগ্যে যা আছে ঘটবে ঘটনা’
বদলায় না অমন বিধিলেখা।
বরাতের পরে নির্ভর করে
বসে থাকলে কি হবে ঘরে?
চেষ্টা যদি হয় না অত তা
খণ্ডে কি কখনো দুঃখরেখা?।
আদরের বন্ধন যত শক্ত হবে
ততই বাড়বে মায়ার পিছুটান,
দয়াপরবশের আদতে ধাবলে
কঠিন দলদল থেকে উত্থান।
সুলভে যদি পাওয়া যায় কিছু
ফেলনা তা—কদর নেই এতটু!
অতি কষ্টে অর্জন না হলে হাঁ,
বোঝা যাবে না শ্রমের মর্যাদা॥
১৭ ভাদ্র, ১৪২৪—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
৩২
দয়াময়,
পৃথ্বী শান্তির আবাস করো সুখময়
হিংস্রমন হোক অহিংস অমিয়ময়—
দয়াময়!
আজকে যে চারি দিকে দ্বন্দ্ববিগ্রহ
আজকে যে জাতিতে জাতিতে নিগ্রহ!
পুড়ছে হিংসার দাবানলে জগন্ময়
তা হলে কি বুঝব কি দুষ্টের জয়?
দয়াময়!।
হৃদয়বান,
নিষ্ঠুরে নেই তোমার আদানপ্রদান
তবে কেন ফুটছে অনিষ্টের কামান?
হৃদয়বান!
যেদিকে দেখি আজ ভালো দেখছি নে
যেদিকে দেখছি চলছে মন্দের প্রভাবনে!
হত্যায় নেমেছে হত্যা যাদের কাম্য নয়
তা হলে কীসে অহিংস পরম ধর্ম হয়?
দয়াময়!।
১৯ ভাদ্র, ১৪২৪—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
৩৩
আমি বুঝি না কোনটে আবেদ,
কোথা প্রভেদ—
ঈশ্বর প্রভু আল্লাহ খোদা গড ভগবান।
আমি জানি না উঁচুনিচু কী ভেদ,
জাতীয় বিভেদ—
হিন্দু মুসলমান বৌদ্ধ ইহুদ খ্রিস্টান॥
আমি জানি শুধু এটুকু
বুঝি শুধু কান্না আর দুঃখ,
মানি তিনিই একক—তিনিই পৃথক
সকল জাতি ও সর্ব নামের এক স্থান—
হিন্দু মুসলমান বৌদ্ধ ইহুদ খ্রিস্টান॥
ওই তারা কত গোপনে খুঁজিছে,
নীরবে ডাকিছে—
সেখানেও বলছে তিনি—আছি আছি।
এই এরা কী সাড়ম্বরে স্মরিছে,
প্রার্থনা করিছে—
এখানেও হাতছানি সেই—আমি আছি॥
কোথা নেই তাঁর উপস্থিতি?
কীসে নেই তাঁর প্রণয়প্রীতি?
বোঝাই কারে সুনীতি—কে শুনে সুকথা?
সবখানে তিনি ও সমান্তরালে অবস্থান—
ঈশ্বর প্রভু আল্লাহ খোদা গড ভগবান॥
২২ ভাদ্র, ১৪২৪—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
৩৪
ঘুমাতে পারি না বিন্দুমাত্রেক
ঘুমিয়ে গেছে কি বিশ্ববিবেক?
দুনিয়া চলছে বিধ্বস্ত হতে
মানুষে মানুষের যুদ্ধসংঘাতে॥
কী হবে নাজানি দুনিয়াতে আর
কেয়ামত স্পষ্ট নিকটে দেখা যার!
মানুষই উন্নতি মানুষই পতনেক
মানুষই ধ্বংস মানুষই হিতেক॥
কত হবে আর পৃথিবীতে অশান্তি?
কত থাকব আর দুষ্টকরে জিম্মি?
তুমি যদি চাও মুখ তুলে বারেক
সৃষ্টি হতে পারে শান্তি-ভুঁই আরেক॥
২৪ ভাদ্র, ১৪২৪—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
৩৫
কারে জানাব অভিযোগ
কারে বলি মনের দুখ!
কে আছে শোনার লোক
কে দেবে সান্ত¦নাসুখ।
মনে রইল মনের দরদ
প্রকাশি পাই নে পথ,
বয় না স্রোত মরানদ
কীসে পাই সজলমুখ॥
দিলের জ্বালা বড় জ্বালা
গাঁথব কী প্রেমের মালা!
গাইব কী গান সুরেলা
দুঃখে দুঃখে কণ্ঠ মূক।
চৌদিকে ব্যথার কোলাহল
কোথা পাই সেই মনোবল,
ঘুমে শুনি কান্নার রোল
অসহায়ত্বে ভাঙে বুক॥
২৫ ভাদ্র, ১৪২৪—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
৩৬
মহাত্মারা কেমন ছিলেন
কে কেমনি মহৎ কত,
হয়তো আমার বাবার মতো।
চলে-বলে কেমন ছিলেন
কে কেমনি নম্রনত,
হয়তো আমার বাবার মতো॥
তাদের যাপন কেমনেতে
হয়েছিল এই ভবেতে,
ধর্মকর্ম-সত্য-আদর্শেতে
মিথ্যা দলে যেত—
হয়তো আমার বাবার মতো॥
সাধন-শোধন-আরাধনে
মগ্ন কিবা থাকত বেশি,
সৃষ্টিসেবায়—স্রষ্টাকে ভালোবাসি।
নিষ্ঠা-নৈষ্ঠিক-আচরণে
নিরপেক্ষ—নিখুঁত বেশি,
সৃষ্টিসেবায়—স্রষ্টাকে ভালোবাসি॥
হয়নি হয়তো এমন কিছু
তাদের হাতে কর্মনিচু,
ভুলেগোলে হলে তুচ্ছু
মরত দুঃখে শত—
হয়তো আমার বাবার মতো॥
২৬ ভাদ্র, ১৪২৪—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
৩৭
কবরস্থানে
এখানে না এলে বুঝতে পারে কে
জীবনের মানে।
সসম্মানে
এখানে দাঁড়িয়ে পল-দু-পল নীরবতা
করে দেখো মনে॥
এই যে দালানবাড়ি—বড় বড় ইমারত
এই যে সুখের সংসার—ধনজনের মহব্বত,
কিছুই কি হবে সঙ্গী কালকের যাত্রাক্ষণে?
কবরস্থানে॥
ক্ষুদ্রকার
চরকার মতো ঘুরে আসতে জীবন
পলকে পার।
বেসুমার
হয়েছে যা ভারী হিসাবের খাতা
বওয়ানো ভার॥
ছোট্ট এ পরিসরে যা কিছু হয়েছে উপার্জন
কী জানি কী হতে পারে হাসি কিবা ক্রন্দন,
বড় ডরে আছি হিসাবনিকাশের লেনদেনে—
কবরস্থানে॥
২৭ ভাদ্র, ১৪২৪—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
৩৮
বাবার কবরের পাশে যেন আমার কবর হয়
মায়ের ভালোবাসা সেখানে আছে—পাব নিশ্চয়।
জীবদ্দশায় যে-ভালোবাসার ছোঁয়া কভু পাইনি
মৃত্যুর পরে দেখতে চাই—চাইব তার রূপখানি॥
জন্ম থেকে ছুটতে ছুটতে সাত সমুদ্র পার
এপার থেকে হাতছানি দেখা যায় না আর,
বিচ্ছেদের বিন্দু দুঃখ সিন্ধু সুখের সমান নয়—
বাবার কবরের পাশে যেন আমার কবর হয়॥
অভিমানের বেড়াজালে ভেঙেছিল যেই মন
ক্ষমা নেই হয়তো যত করি আল্লাহনাম জপন।
আমার ঈশ্বর আমার মাতাপিতাতে জানি
মাতাপিতার চরণে কিবা আমার জান্নাতখানি॥
ওপার গিয়ে যদি পাই তাদের স্নেহের পরশ
এপারের সমস্ত বিরাগ মুছে বন্ধন হবে সরস,
এতটুকু প্রার্থনা তোমার দরবারে প্রভু-দয়াময়—
বাবার কবরের পাশে যেন আমার কবর হয়॥
২৮ ভাদ্র, ১৪২৪—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
৩৯
মাত্র এসেছি যাপন হয়নি অধিক
আবার যাওয়ার চলছে প্রস্তুতি!
মাত্র বসেছি জিরাইনি খানিক
হইচই পড়ে গেল নিত্যনিতি!
বাঃ বাঃ বাঃ লা-জবাব তুমি
জবাব নেই তোমার রচন আমি,
ভাঙাগড়ার গ্রন্থন আশ্চর্য নিয়তি॥
কী পরিপাটি সাজানো কারখানা
এসে দেখি কী সুন্দর আয়োজন!
চলছে কারে করতে বরণবন্দনা
আমায় ঘিরে এত কী প্রয়োজন!
কান্নার ভেতরে বলছি—শুনেনি
তারপর হাসছি কী আর কাঁদিনি,
এবার দুনিয়ার কান্না আমার প্রতি॥
২৯ ভাদ্র, ১৪২৪—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
৪০
ভেঙে যাবে হাটের মেলা
ভেঙে যাবে রঙের খেলা,
ভেঙে যাবে দেহের ভেলা
মাঠেঘাটে নামবে কুয়াশা॥
পড়ে যাবে যাওয়ার গোল
কার আগে কে পাবে কূল,
কার আগে কে হয় মকবুল
লেগে যাবে কী ধুমধাড়াক্কা॥
খোলা হবে কাজের খাতা
দেখা হবে প্রাপ্যযোগ্যতা,
নিঃস্ব না বিশ্ব—না যা তা
লিখা হয়েছে আমলনামা॥
এখানে যে রাজার রাজা
ওখানে সে কাটবে সাজা,
শেষ হলে সব ঘষামাজা
বন্ধ হবে চিরবেচাকেনা॥
২৯ ভাদ্র, ১৪২৪—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
৪১
ব্যস্ত শহরে
আমি কি খুঁজে পাব তাঁরে?
আমার প্রাণের বঁধুয়ারে?
ব্যস্ত শহরে॥
অগণিত মানুষ
কারও থাকবে না হুঁশ
অগণিত মানুষ।
আশঙ্কা—হারিয়ে যাই ভিড়ে—
ব্যস্ত শহরে॥
বন্ধু আমার
পদেপদে ভুল ছিল যার
করুণা কি মিলে তার?
বন্ধু আমার॥
এই সেই রৌদ্রপ্রান্তর
বন্ধ হয়েছে ছায়াঘর
এই সেই রৌদ্রপ্রান্তর।
ইয়া—ইয়া নাফসি আতঙ্কস্বরে—
ব্যস্ত শহরে॥
২৯ ভাদ্র, ১৪২৪—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
৪২
অপরাধ যদি করে থাকি প্রভু
বলতে পারি নে হয়নি দোষ।
মানুষ হয়ে জন্মেছি বলে কভু
বলতে পারি চলেছি বেহুঁশ॥
প্রায়শ্চিত্তে যখন এলাম ভবে
ভুলে ভুলে যে থাকতে হবে,
তবু ভালোমন্দের তুলাদণ্ডে
থাকে যেন মন্দপাল্লা রোষ॥
কী করতে কী যে করি কখন
বুঝতে পারি না মানুষ আমি।
করার পরে ‘হায়’ ‘হায়’ জপন
বিধানের বিধান করেছ তুমি॥
আমার দোষে আমিই দোষী
বলি—অপরাধ কপালের বেশি,
এক দোষ ঢাকতে দশ করি
দশ ঢাকতে হাজার কোশ॥
৩০ ভাদ্র, ১৪২৪—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
৪৩
দে হে তোরা দে
ছেড়ে এবার দে,
ওই যে দাঁড়ায় আছে
আমার যাত্রা নে’।
ঢোলঢ্যাঁডড়া পিটিয়ে দিয়ে
জানিয়ে দে খবর প্রিয়ে,
শুভাশুভাকাঙ্ক্ষী মিলেমিশে
আসুক-না বিদায়ে॥
এই যে এ রাজপ্রাসাদ
কতক্ষণ আর মায়াকাঁদ!
এলাম-গেলাম শূন্য হাত
দেখুক বিশ্ব বিস্ময়ে।
যাচ্ছি কেমন—কীমতে
পারছি কিছু সঙ্গে নিতে?
ভাবো আপন গভীর চিতে
আছে চিন্তার খে॥
৩০ ভাদ্র, ১৪২৪—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
৪৪
পাপেপুণ্যে এ অরণ্যে
আছি আমি নির্বাসনি,
কী যে সব খুঁজছি হন্যে
আমিও কিবা নাজানি!
পাচ্ছি যা কামনাতে
মলিন তা মলিনেতে,
ঘরেপরে এ আঁধারে
তবু কেন কাঁদাকাঁদি?।
চলছে খেলা হট্টগোল
ভুলে আছি সবকিছু,
ফুরায় বেলা বুঝি ভুল
তবে কী ফল ছুটি পিছু?
সাধারণ জ্ঞান নেই যার
মানুষ হওয়া দায় তার,
জঘন্যতা আছে কার?
চিন্তা বড় তার লাগি॥
৩০ ভাদ্র, ১৪২৪—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
৪৫
এত মমতা দিলে কেন দিলে প্রভু?
দিলে না যখন অর্থকড়ি সামর্থ্য!
এত দুঃখবাণী কেন শোনাও তবু?
করলে যখন কর্ণপাতে অসামর্থ্য!
দেখেশুনে পাই নে উপায়
মানুষ আমি বড় নিরুপায়,
তোমার হাতের লাঠি যাদের ঘায়
তারা যে দেখেও দেখে না গর্ত!।
নীরব আজ ধরণি দেখছে তামাশা
ভাষা নেই বোঝানোর—কোনো রাস্তা!
মানুষের দরদে কাঁদে না যে দ্রষ্টা
বুঝে না কাল তার সেই নীরবতা!
আজকে যাদের দুঃখমহা
কালকে হয়তো হবে সুরাহা,
কিন্তু তাদের দুর্দশারই কান্নাবহা
থাকবে না কেউ দেখার মতো॥
৩০ ভাদ্র, ১৪২৪—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
৪৬
কী সুন্দর করে সাজালে খোদা বিশ্বরে
আমারে করলে কত কত মহব্বত।
কী নুরালা আছে আরও তোমার ঘরে
আমি যে করতে পারি না অনুভব॥
এত জ্ঞানহীন আমারে করলে
আমি বুঝেও বুঝি না ছলছলে,
দেখেও দেখি না ভালো মনে ভালোরে
মন্দ আমায় গ্রাস করছে অনবরত॥
‘হায় হায় হায়’ করছে সঙ্গী আমায়
সব সময় চলছি বিপথ অবলম্বনে।
তুমি যে তবু তোমার কল্যাণী ছায়ায়
আগলে রাখো আমে কত দয়াদানে॥
এ সম্মান কী—কী বুঝি আমি
হতে পারিনি যখন রত্ন দামি,
রতনের মর্যাদা জহুরি বুঝতে পারে
রতনের কারবারে যার সিদ্ধ হস্ত॥
৩১ ভাদ্র, ১৪২৪—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
৪৭
দিনশেষে দিলে কেন এ চেতনা?
কিছুই যে বুঝি না বিভু বুঝি না!
এ দায়ভার কেমনে যে করি বহনা?
কিছুই যে জানি না বন্ধু জানি না॥
অভাবের বেড়াজালে আটকায়
অধমে রাখলে ধনমোহমায়ায়!
এখন যদি বল ‘তাল-সুর চাই’
বেতাল বাঁশির সুর ফিরাই কী মনা?
মনহীন জ্ঞানহীন হীন হীনে রাখি
অসময়ে ডাক দিলে মেলতে আঁখি!
কী যে করি উপায় হাতেকলমে শিখি
নিরুপায় হয়ে ভাবছি বসে—করি কী॥
আজ্ঞাবাণী শুনছি গভীর স্বপনে
অস্থির হয়ে আছি নিগূঢ় ভাবনে!
জড়তা ঘুচুক তবে বাকি জীবনে
এ বেশ—রাজবেশ ত্যাগী হই নির্জনা॥
৩১ ভাদ্র, ১৪২৪—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
৪৮
যখন আমি গভীর মনোযোগে শুনি
শুনতে পাই মর্মোপদেষ্টার আদিষ্টবাণী,
আমার জন্যে হয়েছে যা নির্দিষ্ট পারী
তার বেশি চাওয়া হলে জিন্দেগি ভারী॥
ওজন যত বাড়বে তত কঠিন হবে বহন
কথাটি না বুঝলে চলার পথে কষ্ট ভীষণ,
জীবন তো এক মহাছিদ্র—বহুল সুরেসুরি
যেদিক ফুঁকি সেদিক বাজবে অপূর্ব বাঁশুরি॥
ক্ষুদ্রলতা-পথ-পর্বত যে যার কর্তব্যরতক
একটা মক্ষী হয়নি সৃষ্টি অনাবশ্য-অনর্থক,
আমার কাজে আমি বড়—মৌচাকে মধুকরী
সবার রাজ্যে সবে শ্রেষ্ঠ বোঝা বড় দরকারি॥
এখানে অরণ্যবাস কেউ নয় রাজাধিরাজ
মানুষ-অমানুষ মিলেমিশে প্রাণের এক সমাজ,
সবার জন্যে সবার দরদ থাকা চাই জড়াজড়ি
হৃদ্যতা ভুলে যেন না হয় কিছু জোরাজুরি॥
৩১ ভাদ্র, ১৪২৪—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
৪৯
মন বলে, নাই...মন বলে, হায়...
মন বলে, কোথা তবে মমতার কুলায়।
মন বলে, এ...মন বলে, সে...
মন বলে, আমি কেবল ভাবনার প্রচ্ছায়!।
ভালো লাগে না, ভালো লাগে না,
ভালো লাগে না এত উঁচুনিচু।
ভালো লাগে না, ভালো লাগে না,
ভালো লাগে না অনেক কিছু।
এই হাট, এই মাঠ, এই আকাশ
সর্বসব দোলছে স্বার্থের দোলায়॥
মন বলে, কেমনে...মন বলে, বুঝে নে...
মন বলে, লালপাহাড় থেকে যোজনযোজনে।
মন বলে, দু...মন বলে, সু...
মন বলে, ভালোমন্দ সব নিজের কারণে!।
ভালো হোক, ভালো হোক,
ভালো হোক যত নিকৃষ্ট মান।
ভালো হোক, ভালো হোক,
ভালো হোক সমস্ত অনিষ্টপ্রাণ।
এই মায়ার গৃহ, এই মাটির স্নেহ
ছেড়ে যেতে হবে অজানায়॥
১ আশ্বিন, ১৪২৪—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
৫০
নিদারুণ সুরে ওঠছে কী ঝঙ্কারি
আমার গহিন অন্তরে-রি-অন্তরি,
কার নূপুরের ব্যথার আহাজারি
ভেসে আসছে কানে আমারি॥
কী করুণ আওয়াজ—সকরুণ ধ্বনি
হাওয়ায় হাওয়ায় বাজছে শুনি,
কোথা কে ধর্ষিতা বলছে চিৎকারি—
আল্লাহ তুমি ছাড়া কে রক্ষাকারী॥
‘বাঁচাও বাঁচাও’ ‘আল্লাহ আল্লাহ’ সব
কে শুনে কার ডাক চারি দিকে রব!
কে বাঁচায় কারে—ঘরে আগুন সবারি
জীবন যার বাঁচাতে ব্যস্ত-দৌড়াদৌড়ি॥
দেখছে বিশ্ব আজ নিঃস্বদের খেলা
দেখছে মানবতা কী রূপরঙে উজালা,
এঘর জ্বললে ওঘর বাঁচে কেমন করি?
সহজ কথাটা ভাবে কে—কার দরকারি॥
১ আশ্বিন, ১৪২৪—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
৫১
ভাবি না কেন যে আমি
নিন্দনীয়ও হতে পারে স্মরণীয় নামি—
ভাবি না কেন যে আমি।
মাঠে মাঠে চরায় গরু সেজে রাখাল
রাধা বিনে কে চিনে ব্রজের গোপাল।
হাল চালায় বলরাম পায় সীতা
রামায়ণ রচে চোর—রত্নাকর দেবতা!
বনবাসে রাম গেলে রাবণ হয় দামি—
ভাবি না কেন যে আমি॥
যা ভাবি তা কাজে আসে না
যা কাজের তা কখনো ভাবি না—
যা ভাবি তা কাজে আসে না।
কাছের রত্ন তুচ্ছ লাগে সর্বদা
দূরের পাথর রত্নচেয়ে দামি সদা।
বাইরের অপূর্বতায় মুগ্ধ হই সবে
ভেতরের স্নিগ্ধতা বুঝি কে কবে?
কেনে পিতা ছাড়া পুত্র হয় জগৎস্বামী—
ভাবি না কেন যে আমি॥
২ আশ্বিন, ১৪২৪—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
৫২
আল্লাহ আমায় করো না কারও করুণার নির্ভর
তার আগে নিভে দিয়ো আমার জীবনের প্রহর।
তবু যদি প্রাণের বায়ু চালাও হরদম
দুঃখদুর্ভিক্ষে যেন স্থির রাখো কদম,
গ্লানির সুখ থেকে কষ্টের নির্মলাশ্রু অনেক প্রখর।
আল্লাহ আমায় করো না কারও করুণার নির্ভর॥
নত করো প্রভু বারবার করো তোমার কদমে মাথাটি
কারও দয়ায় ডুবিয়ে করো না ক্রীতদাসের জিন্দেগি।
এ দয়া নির্দয় থেকে বড় নির্দয় অরে
অতি বোঝা হয়ে দাঁড়ায় প্রাণের পরে,
গঞ্জনার সঞ্জীবনী অমৃতচে ভালো বিষযন্ত্রণালহর।
আল্লাহ আমায় করো না কারও করুণার নির্ভর॥
৩ আশ্বিন, ১৪২৪—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
৫৩
ধন্য করো ধন্য করো ধাতা
যারা হামেশ মার খাচ্ছে যেথা।
পূর্ণ করো পূর্ণ করো অপূর্ণতা
সর্বহেরে নিঃস্ব হচ্ছে কোথা॥
দাও দাও রাজ্য ফিরে তাদের
বাস্তুহারা হয়েছে যে উদ্বাস্তুদের,
ভাণ্ডারেতে নেই তোমার হ্রস্বতা—
পূর্ণ করো পূর্ণ করো অপূর্ণতা॥
গণ্য হোক গণ্য হোক তারা
নিজের ঘরে বেগানা আজ যারা।
বরণ্য হোক বরণ্য হোক সারা
জঘন্যতায় হেরে যাচ্ছে কারা॥
নারাজ হয়ে থেকো না আর তুমি
ভুল হতেও পারে মানুষ আমি,
মানুষ আমরা—মানুষ বলে কথা—
ধন্য করো ধন্য করো ধাতা॥
৪ আশ্বিন, ১৪২৪—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
৫৪
জগদীশ্বর হে
জগন্মন কেন এত নীরন্ধ্র যে?
কেন এত অকৃতজ্ঞ ও অপ্রসন্ন সে?
জগদীশ্বর হে॥
দুঃখকোনো সংকটে দেখা যায়
জানপ্রাণ দিতেছে সন্দেহ নাই,
উদ্ধারপর—কে তুমি চিনি নাই
ভালো হয় সরে দাঁড়ালে—
জগদীশ্বর হে॥
কেন এমন তবে
কেন হয় আসে না বুঝে!
বুঝি শুধু সবে ‘হামবড়া’ ভাবে—
কেন এমন তবে?।
আসমানে হয় যার অবস্থান
থাকে না তার আর মাটির টান,
মাটিতে যার বাসস্থান
বিরক্ত বেশি তার ধুলোতে—
জগদীশ্বর হে॥
৫ আশ্বিন, ১৪২৪—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
৫৫
কত? আর কত সংঘাতে বিবর্ণ হবে ধরা?
আর কত রক্তে রক্তিম হবে মাটিমৃত্তিকা?
আর কত যুদ্ধ? ধ্বংস? মনুষ্যত্বের কান্না?
আর কত অশ্রুঝরে বইবে বিশ্বে শান্তিধারা?
কত হবে নিরীহরা লাঞ্ছিত আর?
কত হবে হত্যা মানব ও মানবতার?
কেন এত রোষারোষি? হানাহানি? রক্তবহা?।
ক-দিনের জিন্দেগি? কেন থাকে না স্মরণ?
ক-দিন আর কতক্ষণ থাকতে পারি বরং?
এতসব—এসব কার জন্য? কীসের জন্য করণ?
এতসব কাজে এসেছে কার? আসবে কখন?
তবে কেন, কী স্বার্থে লড়াই? লড়ালড়ি?
কেন, কী হাসিলে রক্তক্ষয়ী বাড়াবাড়ি?
কীসের এত পোদ্দারি? এত কীসের দাম্ভিকতা?।
এই আছি, এই নেই—দুর্বলের এত বড়াই কী?
এই দেখি হারাতে বসেছে সবার বিবেকবুদ্ধি!
আজকে প্রভুর ঘরও নেই নিরাপদের সাক্ষী!
আজকে প্রভুর ঘরেও রক্তবন্যা বইতে দেখছি!
মন্দির যদি হয় প্রভুর আরাধনালয়?
মসজিদ কি খোদার এবাদতখানা নয়?
কেন তীর্থভূমি—উপাসনালয়েও দাঙ্গাহাঙ্গামা খাড়া?।
এখানে কেন এই জাতীয় বিদ্বেষ বুঝছি না!
এখানে কেন যে সমতার বনিবনা হয় না!
ওখানে কার কেমন বসবাস কেউ জানি না!
ওখানে কার কোথায় স্থান? কোথায় ঠিকানা?
তবু রাখি বিবাদ? হিংসাবিদ্বেষ জারি?
মানুষে মানুষে মানুষের ব্যবধান তৈরি?
দেশযুদ্ধে—ধর্মযুদ্ধে লাভ? মানুষের ধ্বংস ছাড়া?।
১০ আশ্বিন, ১৪২৪—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
৫৬
আল্লাহ আল্লাহ জপ হে মন
আল্লাহ ছাড়া কেউ না আপন,
নেই কিছু আর শান্তি তেমন
আল্লাহনামের জপের মতন॥
আল্লাহ একক সর্বসবি
তাঁর মতো কিছু না হবি,
ভুলে গেলে অচল সবি
ভুলো না মন অমূল্যকথন॥
মনরে বোঝাতে হয় না অত
মন বুঝে না হেন কিছু তো,
পাইনে খুঁজে—দেখি না তো
মনের তুল্য মনের মতন॥
মন পারে না এমন কিছু
কর্ম উচ্চ থেকে তুচ্ছনিচু,
মনের চালক আমিই প্রভু
যেমন চালাই চলবে তেমন॥
১১ আশ্বিন, ১৪২৪—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
৫৭
আল্লাহ তোমার ভালোবাসারি
মধ্যে চাই গো দিতে পাড়ি,
বেহেশত-দোজখ বুঝি নারি
বুঝি না হাশরনশর তোমারি॥
প্রেমের ওই এবাদতে
পার করো এ মহব্বতে,
তোমার সেই প্রেম বিনাতে
চাই না কিছু চাই না দূরি॥
দোষী হতেও পারি হাজার
দোষে আমার কাজকারবার,
তোমার আছে দয়া বেসুমার
হোক-না যতই দোষ আমার॥
পারাপারে তুমি পারক
সৃষ্টি আমি যতবা নারক,
তারক—তুমিই তারক
আছি আমি এই ভরসা করি॥
১৪ আশ্বিন, ১৪২৪—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
৫৮
তুমি খোদা করলে আমায়
সৃষ্টিবড় শ্রেষ্ঠ ধরায়,
আমি বান্দা বন্দেগি হায়
করতে পারিনি এ যোগ্যতায়॥
করতে পারিনি তোমার এবাদত
পারিনি করতে কোনো কর্মমহৎ,
কদম-কদমে হচ্ছে যে আফসোস তাই॥
কীভাবে যে কেমন করে
আল্লাহ তোমার শেষবিচারে,
নাজাত মিলে আছি ডরে
গুনাগারের হবে কী উপায়॥
দেখি না কোনেকটি গুণের স্থান
ভরসা করছি তবে তুমি দয়াবান
পার করবে যে-কোনো দয়ারই ওসিলায়॥
১৩ কার্তিক, ১৪২৪—মানামা, আমিরাত
৫৯
পারীণ আমি পাড়ি দেওয়ার
সময় যখন হবে গো যাওয়ার,
বন্দি রাখতে পারবে কে আর
সংসারে নেই এই কারাগার॥
নিয়তির ওই নীতির ধারায়
বাঁধা আছি কোন মিহিসুতায়,
ছিন্ন হতে নাই দেরি নাই—
এই দেখা এই দেখবে না আর॥
দুদিনের এই সফরে আসি
মুসাফির আমি ভুলে বসি,
কালকে আবার যাত্রাবাঁশি
বাজবে ফিরতে মনে না রাখি॥
এখন আমার হচ্ছে যেতে
আসা যেমন শূন্য হাতে,
ধন্য কীসের এই জগতে?
বড়ই নগণ্য এ রঙের বাজার॥
২২ কার্তিক, ১৪২৪—মানামা, আমিরাত
৬০
বিপদে-আপদে জীবনের সকল সংঘাতে
তুমি আছ বলে কেন বসে থাকি রক্ষার্থে!
থাকলে বুঝি চক্ষু মুদি
আপদবলা যাবে কাটি?
আঘাত-আঘাতে—প্রতিঘাতে হবে দাঁড়াতে!।
না না না—বিধি, তুমি আছ রক্ষার্থে ঠিক
আমি যে চোখবুজে আছি সেটাই বেঠিক!
হলাম না যদি অগ্রসর
কেমনে তুমি দেবে বর?
বাজার ছাড়ি কীসের দোকানদারি পর্বতে?।
২৪ অগ্রহায়ণ, ১৪২৪—মানামা, আমিরাত
৬১
প্রিয় তোমার প্রেমের হাটে
সওদাগরি চাই করতে লাটে,
ঘুরাও না আর দূরের মাঠে
ভিড়তে দাও নাও তীর্থঘাটে॥
ক্লান্ত বন্ধু হয়েছি অধিক
ঘুরতে ঘুরতে দিগবিদিক,
দেখাও এবার পথ সঠিক
চলতে পারি ঠিক বাটে॥
ছিলাম অনেক দ্বিধাদ্বন্দ্বে
পাইনি কিছুই সন্ন্যাসব্রতে,
জড়িয়ে সকল কাজকামেতে
দেখছি শান্তি ভবের নাটে॥
ভুলিয়ে সব সংসারের মায়া
কোথায় মিলে সুখের ছায়া,
ঘরের কোণে যায় পাওয়া
আত্মপ্রত্যয় থাকলে বটে॥
২৩ পৌষ, ১৪২৪—মানামা, আমিরাত
৬২
অঝরে নয়নে কাঁদছি মনে মনে
এই যে প্রীতির সংসার আপনজনে,
বেঁধেছি আজ এত মায়ার বাঁধনে
চলে যাব কাল—রাখবে কি স্মরণে?
অঝরে নয়নে কাঁদছি মনে মনে॥
এত হাসাহাসি আনন্দের উৎসব
এত মাতামাতি আজকের কলরব,
এত আড্ডাআড্ডি বান্ধবের সরব
ভুলেও কি কবে কেউ নেবে মনে?
অঝরে নয়নে কাঁদছি মনে মনে॥
না গো না—ভুলে যেতে পারি না, না
ক্ষণাতিথির কিছুই হয় না আপনা,
ভালোবাসা ভালোবাসি সব বর্ণবর্ণনা
আড়াল হতেই ভুলে যাবে ক্ষণে!
অঝরে নয়নে কাঁদছি মনে মনে॥
২৫ পৌষ, ১৪২৪—মানামা, আমিরাত
৬৩
‘হায় হায়’ ‘চাই-ই চাই’ কেন বুঝি না, বুঝি না
কীসের ঘরবাড়ি, ভাইবন্ধু, আপনজনা!
আজ গেলে কাল পর
কাল গেলে সব বিস্মর,
চার দিনশেষে কারও মনে থাকবে না, থাকবে না।
কীসের ঘরবাড়ি, ভাইবন্ধু, আপনজনা॥
স্ত্রী, সন্তানসন্ততি, মাতাপিতা আপন—কী আপন
কতই স্নেহবন্ধনে বেঁধে রেখেছি সারাক্ষণ!
রাজা আমি—কাল ভিক্ষুক
একে একে ফিরাবে মুখ,
পারের ঘাটে কেউ কারে চিনবে না, চিনবে না।
কীসের ঘরবাড়ি, ভাইবন্ধু, আপনজনা॥
২৭ পৌষ, ১৪২৪—মানামা, আমিরাত
৬৪
কিছুই তো বুঝি নে আমি
কেমনে ভালোবাসলে প্রাণের বন্ধুরে পাব আমি—
কিছুই তো বুঝি নে আমি॥
কেমনে কীভাবে ভালোবাসতে হয়
আমার যে জানা নেই কোনো প্রণয়,
আমি জানি নে গো কীসে হয় ভালোবাসা দামি—
কিছুই তো বুঝি নে আমি॥
কেমনে প্রিয় হয় প্রিয়ের
আমি তো জানি না কীভাবে মিলে মন প্রেমিকের—
কেমনে প্রিয় হয় প্রিয়ের॥
নাজানি কেমনে পাই বন্ধুর দেখা
কী অর্থ জীবনের বন্ধুরে অদেখা,
জানি না কেমনে হতে পারি বন্ধুর প্রকৃত প্রেমী—
কিছুই তো বুঝি নে আমি॥
১১ মাঘ, ১৪২৪—মানামা, আমিরাত
৬৫
প্রতিটি মুহূর্তে ভাবছি
যেমনি হোক আজকে কাটছি।
প্রতিটি মুহূর্তে ভাবছি
নাজানি কী হবে কালকের গতি!।
প্রতিটি মুহূর্তের নানান বিশ্লেষণে
ওঠে আসছে নানা তথ্য প্রতিক্ষণে,
বিশ্বের রহস্য উন্মোচনে
কেউ হতাশ—কেউ ঈশ্বরে বিশ্বাসী॥
অবাকমনে বলে দেখি,
‘হায়’ ‘হায়’ ছাড়া করার আছে কী।
সবাকমনে বলে দেখি,
স্রষ্টা আছে চেষ্টা করলে দোষ কী!।
“যে যা বলে বলুক কানটা তো আছে
অনেকে অনেক কিছু বলবে পাছে,
ঘামালে বেশি মাথা নষ্ট যে”
এই আস্থার মাঝে যারা—তারা নস্যি॥
৩০ মাঘ, ১৪২৪—মানামা, আমিরাত
৬৬
ঈশ্বরে অস্বীকার—কে হে নিরীশ্বরবাদ
তুমি কি গো নও সৃষ্টির সেরা আবাদ?
দেখো তোমার অবয়বে
চিহ্ন আছে কি না তবে,
মানো না মানো সবখানে পরম হাত॥
এ মাটিতে—আকাশে-বাতাসে যত দর্শন
অনুসন্ধান করো বন্ধু পেতে পারো নিদর্শন।
সসীম হলে সসীম জ্ঞান
অসীমে অসম্ভব সন্ধান,
তিনি মহান—মানতে হবে অদ্বয়বাদ॥
১ ফাল্গুন, ১৪২৪—মানামা, আমিরাত
৬৭
জীবনে জীবন হোক সুন্দর মরণে মরণ
আর কী আমি রেখে যাই স্মরণে স্মরণ।
যদি হয় ভুল কোনো অপ্রতুল
মরেও ঘুচবে না এ গণ্ডগোল,
যত হোক ভালো মন্দরা ছাড়ে না পেছন।
জীবনে জীবন হোক সুন্দর মরণে মরণ॥
নিজেরে নিজে কে দিতে পারে ফাঁকি
নিজের মধ্যে যদি নিজে উপস্থিত থাকি।
কেটে যায় জীবন ভালো করণে
মন্দেক আঁচড়ে ধূলিসাৎ বনে,
এমন কোনো কর্ম নয় জন্ম হয় বিস্মরণ।
জীবনে জীবন হোক সুন্দর মরণে মরণ॥
১৬ আষাঢ়, ১৪২৫—মানামা, আমিরাত
৬৮
তুমি ছাড়া দরদ কেউ বুঝে না
এ জগৎ স্বার্থ বুঝে আপনা আপনা!
ভাই বলি বন্ধু বলি
স্বার্থের মাঝে সকলি,
নিজের ভালো না হলে পা রাখে না।
এ জগৎ স্বার্থ বুঝে আপনা আপনা॥
আমারে আমি সঁপতে পারে না সবে
নিজের খেয়ে পরের জন্য কেন ভাবে!
খুব কম জনে পারে
হৃদয়ের মালিক হবারে,
দেওয়ার অন্তর সকলেরি হয় না।
এ জগৎ স্বার্থ বুঝে আপনা আপনা॥
২০ আষাঢ়, ১৪২৫—মানামা, আমিরাত
৬৯
আমি শুনেছি—যত জেনেছি
বুঝেছি অন্তরের অন্তরে,
মানতে পারি নে তুমি নেই।
আমি ঘুরেছি—যত দেখেছি
চিনেছি যেসব অচেনারে,
বলতে পারি তুমি জগজ্জুড়েই॥
পেয়েছি পেয়েছি তোমায়
আনন্দ ও সুখ-দুঃখ-কান্নায়,
তুমি যদি থাকো না জীবনে
জীবনটা এত রঙের কেমনেই॥
আমি ভেবেছি—পথে নেমেছি
নিয়েছি খবর নিয়মের,
তুমি ছাড়া গতি নেই নিয়তির।
আমি পড়েছি—সঙ্কটে গড়েছি
খুঁজেছি পথ সমাধানের,
তুমি আছ বলে কৃতিত্ব আমির॥
বলে বলুক-না কেউ চিন্তে ছাড়া
ভাবে-না ভাবুক ভালো তারা,
মন্দ যেন গ্রাসে না আমাকে
আমায় বাঁচাও তুমি দ্বন্দ্ব থেকেই॥
২২ শ্রাবণ, ১৪২৫—মানামা, আমিরাত
৭০
কে তুমি ভাই করছ না
ঈশ্বরের আরাধনা?
তোমার সাধনা ভুল।
কে তুমি ভাই মানছ না
প্রদর্শকের নির্দেশনা?
তোমার রাস্তাও গোল॥
পাবে না পাবে না কোনো শান্তি
হবে না হবে না কোনো সুগতি,
নিয়তি ভালো করা যাবে না
যতক্ষণ-না হৃদয়ে গণ্ডগোল—
তোমার সাধনা ভুল॥
সময় যদি চলে যায়—যায়
হাসিঠাট্টা অবহেলায়,
পেছন তো ফিরে আসবে না।
মাঠের শেষপ্রান্তে এসে হায়
খুঁজলে প্রথমে হারায়,
তবে কি হবে আর পাওনা?।
বোঝার মাঝে রইলে বেবুঝ
খোঁজার মাঝে না করি খোঁজ,
জানাতে না রাখি সু-জানাশোনা
বলে গেলে—ভুল শুধু ভুল—
তোমার রাস্তাও গোল॥
২৭ ভাদ্র, ১৪২৫—মানামা, আমিরাত
৭১
মন রে
বলছি—শোনো তা হলে
বোকা হয়ো না তুমি।
তোমারে
ভুলিয়ে রাখুক সকলে
ভুলো না বন্ধুরে তুমি॥
যত হয়েছে সংসার আপন
কাজে এসেছে কার? কখন?
লেনদেন বাড়িয়ে ফিরেছে শূন্যে
জগৎ হয়েছে কার ঠিকানা দামি?
বোকা হয়ো না তুমি॥
অমনে
যেতে হবে—রেখো স্মরণে
কাজে আসবে না কোনোটি।
জীবনে
করেছ কী—সঙ্গী পাবে তারে
জমা রইবে কামাই এতটি॥
হৃদয়ে মানুষ হলেও সবাই
হৃদ্যিক বনা সকলের দায়,
হতে পারো তো হৃদয়হৃদ্যে মানুষ
তবেই তুমি সফল—একমাত্র নামি—
বোকা হয়ো না তুমি॥
৭ আশ্বিন, ১৪২৫—মানামা, আমিরাত
৭২
পৃথিবীর এ রংতামাশা তবে
কালকেও রইবে,
রইবে অনন্তকাল
আমি শুধু রইব না কাল।
কালকেও বাগানে ফুল ফুটবে
কালকেও কাননে পাখিরা গাইবে,
কালকেও হাসিমাতি এসব দিনরাত্রি
চলছে চক্রটি—চলবে সমান্তরাল—
আমি শুধু রইব না কাল॥
আমি রহি বা না রহি
ফরক পড়বে নাহি,
কে কারে মনে রাখে—রাখবে
আমার মতো কত আসবে-যাবে।
দুনিয়াটা আপনা আপনা ভাবনা
আপনা আপনা বাঁচনে জল্পনা,
কল্পনা—কে কারে পিছে ফেলবে
চলছে দৌড়—চলবে আগামী কাল—
আমি শুধু রইব না কাল॥
১৭ আশ্বিন, ১৪২৫—মানামা, আমিরাত
৭৩
বিষয়টা আমাকে বড়বেশি ভাবায়
রহস্যটা জানাবে কি বন্ধু আমায়?
এরকম করলে কেন জীবনী
দুনিয়ার জীবনধারা এমনি,
কেউ হাসছে আর কেউ ভাসছে কান্নায়!
রহস্যটা জানাবে কি বন্ধু আমায়?।
কারও ঘর নেই আর কারও সুবর্ণবাড়ি
কার অশ্রুয় ভাসছে কারও প্রমোদতরী!
অভাব-উপোসে কেউ মরছে
কেউ ভোজনে হাওয়ায় ওড়ছে,
কেউ কৃতজ্ঞতা ভুলছে শ্রম বিনে পায়!
রহস্যটা জানাবে কি বন্ধু আমায়?।
২২ আশ্বিন, ১৪২৫—মানামা, আমিরাত
৭৪
আমার মনে এ আফসোস
রয়ে গেল প্রিয়ে,
নাই বলতে নাই আমার
কোনো যোগ্যতাই গিয়ে!
না হতে পারলাম জ্ঞানীগুণী জন
না করতে পারলাম কর্মশোভন,
জন্ম নিতে পারিনি আমি
কোনো সৌন্দর্য নিয়ে!
আমার মনে এ আফসোস
রয়ে গেল প্রিয়ে॥
তোমার মনে এ প্রশ্ন
থাকতে পারে বন্ধু,
কী হলাম বা না হলাম
খেদ কেন শুধু?
মানুষ হয়েও কেউ কেউ রাড়
মানুষ হওয়াটা বিরাট ব্যাপার,
হতে পারলাম কি মানুষ?
আছি বড় সংশয়ে।
আমার মনে এ আফসোস
রয়ে গেল প্রিয়ে॥
২২ আশ্বিন, ১৪২৫—মানামা, আমিরাত
৭৫
করুণাময়!
তোমার কারুণ্যে ডুবে আছি নিশ্চয়,
নিশ্চয় তুমি দয়ালু—না, নেই সংশয়
দয়াময়!
তুমি ‘হও’ বললেই হয়ে যায় তাহা
তুমি ‘রও’ বললে থেমে যাবে জাহাঁ,
তোমার হাতেই ভাঙাগড়ার বলয়
দয়াময়!
নিশ্চয় তুমি দয়ালু—না, নেই সংশয়॥
দরদবান!
দরদের অশ্রু যারা নিভৃতে পিয়ে যান,
তারা আর কত বাড়াবে ওপারের শান
কৃপাবান!
“এখানে লাঞ্ছিত কারা—ওখানে সার্থক”
বুভুক্ষু বুঝে না প্রভু ভালোমন্দের ফরক,
উপোসির কাছে বেকার মঙ্গলজয়
করুণাময়!
তোমার কারুণ্যে ডুবে আছি নিশ্চয়॥
৩০ আশ্বিন, ১৪২৫—মানামা, আমিরাত
৭৬
প্রার্থক আমি তোমার বারে আল্লাহ
করছি না নিজের ভালোর সুখকামনা।
না করছি সন্তানের মঙ্গলপ্রার্থনা
জগতে বজায় থাকুক শান্তিশৃঙ্খলা॥
রক্ষা কর—করো পৃথিবীর ক্ষয়
ঘটছে—ঘটবে বিশাল বিপর্যয়,
তুমি রক্ষক আছ বলে সান্ত¦না—
প্রার্থক আমি তোমার বারে আল্লাহ॥
আমার যেতে হবে—দিন বেশি নেই
যাওয়ারই ডাক ভেসে আসছে কানে।
মুমূর্ষুর দোয়া কবুল হয় কি জানি নে
সুখী হোক—সুখী করো বাস্তুহারা সবেই॥
দেখি বিলীন হর পুরের পর পুর
শুনি গভীর ঘুমে ভাঙনের সুর,
সর্বহারাদের কী দরদভরা কান্না—
প্রার্থক আমি তোমার বারে আল্লাহ॥
৩ কার্তিক, ১৪২৫—মানামা, আমিরাত
৭৭
হায় প্রভু! হায় প্রভু!
পৃথিবী আর কত—কী পরিমাণ নিঠুর হবু?
হায় প্রভু! হায় প্রভু!
পিতার হাতে পুত্রের খুন
পুত্রের হাতে পিতা!
ভাইয়ের হাতে ভাইয়ের খুন
স্বাভাবিক আজকের পৃথিবীটা!
বাকি আর রইল কী তবু?
হায় প্রভু! হায় প্রভু!।
আর কত! আর কত!
হৃদয়হীনের প্রেমের বাজারে প্রেমিকের হত?
আর কত! আর কত!
স্বামীর চক্রান্তে স্ত্রীর কতল
স্ত্রীর চক্রান্তে স্বামী!
প্রিয়ার চক্রান্তে প্রিয়ের কতল
ছলনার হাটে মরছে প্রেমিকপ্রেমী!
সাঙ্ঘাতিকতা আর বাড়বে কতটু?
হায় প্রভু! হায় প্রভু!।
৭ কার্তিক, ১৪২৫—মানামা, আমিরাত
৭৮
গেল রে গেল মনে হয়
দিন বেশি রইল না!
ফেলো রে ফেলো হে ভাই
দুর্ভাগ্যের এ বেচাকেনা॥
ভেঙেচুরে এলে তুফান
আমার যদি থাকে না স্থান,
ভেবে দেখো তোমার অবস্থান
অক্ষুণ্ন রইবে কি না।
ফেলো রে ফেলো হে ভাই
দুর্ভাগ্যের এ বেচাকেনা॥
অর্থের লোভে আত্মহারা
কে ভাবছ শুধু স্বার্থ?
“অতি লোভে তাঁতি নষ্ট”
বুঝতে চাও কথাটার অর্থ॥
“বুদ্ধি হলে নয়েতে হয়
না-বুদ্ধি নব্বইয়েও নয়”
পুরানে পুরোনো কথা কয়?
আজকে ভাবা যায় না?
গেল রে গেল মনে হয়
দিন বেশি রইল না॥
১১ কার্তিক, ১৪২৫—মানামা, আমিরাত
৭৯
বিবেকবান করো খোদা তাদের
বিবেকহীন কাজ যারা করছে।
স্থান কোথায় এর দেখাও এদের
বেহেশতে যেতে নিজেও মরছে॥
জমেছে যে কী গ্লানির পাহাড়
দেখাও তারে উপায় কী তার,
জান্নাতের সুখ তো অনেক দূরের
দোজখে হাবিয়া মরে তো কপটে॥
বোঝাও তারে—তাদের দরদ দিয়ে
পরের দরদ বুঝে না যে—যারা।
নিজের হারাও—কিছু না হারালে
অন্যের দুঃখ বুঝবে না তারা॥
ধর্মের প্রতীকী বুকে আঁকি
কর্ম যারা করছে অধার্মিকী,
কেমন ধর্মের অনুসারী এরা?
স্বার্থহাসিলে গানধর্মের গাইছে॥
১৩ কার্তিক, ১৪২৫—মানামা, আমিরাত
৮০
মা, আমার কপালে লাগাও শুভ্রতিলক
মনের সমস্ত কালিমা দূর হোক নিমেষে।
মা, আমায় দোয়া করো দিব্য হোক চোখ
সব সময় মনিবের পদছায়া দেখে সে॥
সারা জীবনের অন্ধমনের সন্দ আমার
দ্বন্দ্ব ভুলে প্রভুর বন্দনে ঝুঁকুক এবার,
তাঁকে ছাড়া যে গতি নেই বুঝুক মূর্খ
সফল হওয়া যায় না কোনো ছদ্মবেশে।
মা, আমার কপালে লাগাও শুভ্রতিলক
মনের সমস্ত কালিমা দূর হোক নিমেষে॥
আমায় কী আশায় আশান্বিত করে মা
কে জাগায় মনে—দেখা কেন সে দে না!
বলো তবে কী আদবে নমিলে তাঁরে হাঁ
পাওয়া যায় সে গোপন আশিকের ঠিকানা॥
আমি পেতে চাই না আলোর আকাশ
যদি সেই সুবর্ণতায় না থাকে ওঁর বাস,
বিদায়কালে এ আশ্বাসে মনে পাক সুখ
ছিলেন তিনি সাথে, আছেন ভালোবেসে।
মা, আমায় দোয়া করো দিব্য হোক চোখ
সব সময় মনিবের পদছায়া দেখে সে॥
১৫ কার্তিক, ১৪২৫—মানামা, আমিরাত
৮১
বেসেছি ভালো যাঁরে গোপনে গোপনে
এ ভালোবাসার কথা বলি তাঁরে কেমনে।
কেমন করে জানাই প্রিয়রে মনের কথা
মনেতে রইল পাওয়ার কী যে আকুলতা,
কী যে উন্মুখ হয়ে আছে পরান মিলনে।
বেসেছি ভালো যাঁরে গোপনে গোপনে॥
সবকিছু ভুলতে পারি—পারি না বন্ধুরে
বন্ধুর ভালোবাসা ছাড়া অসার এ মর্ম রে।
জীবনের সার হোক তবে এই শুধু তপ
মরণে যে করে যেতে পারি বন্ধুর জপ,
এ বিনে চাই নে কিছু আর চাই নে মনে।
বেসেছি ভালো যাঁরে গোপনে গোপনে॥
২১ কার্তিক, ১৪২৫—মানামা, আমিরাত
৮২
আমার মাথা নত করো তোমার পদতলে
যত দিন আছি এ ভূতলে।
আমি দুঃখকষ্টেও মাথা রাখি যেন পর্বতের মতো উঁচু—
থাকি বিপদ-আপদেও অটলে।
যত দিন আছি এ ভূতলে॥
কোনো প্রলোভনের লোভন প্রাসাদে
এই মাথা নত করো না কোনো শর্তে,
অভাব-উপোসে দিতে পারি জীবন বিসর্জন—
নিতে পারি না ধিক্কার ঝুলিঝুলে।
যত দিন আছি এ ভূতলে॥
আমি করিনি—করি না—করাও না কারে তোয়াজ
না করাও আল্লাহ কারও তোষামোদী।
এই জীবন ছোট হতে হতে মিলে যাক-না শেষাবধি—
তবু যেন হীনাত্মার পরিচয় না দি’।
না করাও আল্লাহ কারও তোষামোদী॥
নপুংসকের জিন্দেগির বাদশাহিচেয়ে
পুংসকের ভিক্ষার ঝুলির তুলনা নেইয়ে,
সৃষ্টির কোনো কিছুই ছোট হওয়া দোষের না—
দোষ—হলে আত্মা ছোটর মালিকি।
না করাও আল্লাহ কারও তোষামোদী॥
২৫ কার্তিক, ১৪২৫—মানামা, আমিরাত
৮৩
বিধি,
শোনাও না আর ঘাসের কান্না
বলতে চেয়েও অনেক কিছু পারি না।
করতে চাই না আর শান্তির কলরব
সত্যকথা বলার মাঝে দুঃখ হে রব॥
বিধি,
দেখাও না আর বিধানের বিধান
ফেরেশতা যত-না তারচে বেশি শয়তান।
আজকের জিন্দেগি কালকে গল্পগুজব—
সত্যকথা বলার মাঝে দুঃখ হে রব॥
বিধি,
ভাগ্যিস মানুষে দাওনি অদৃশ্যশক্তি
তুমি স্রষ্টা আছ বলে কভু মানতো না যুক্তি।
এটুকু পেয়ে এতটুকুন মানুষের গর্ব কত
আরেকটু পেলে তুমি জানো মানুষ কী হতো॥
বিধি,
কোথা আছে দেখাও নরাধমের ধাম
আমাকে জানতে হবে হীনাত্মার পরিণাম।
তা হলে স্তব্ধ করে দাও আমার ভৈরব—
সত্যকথা বলার মাঝে দুঃখ হে রব॥
২৭ কার্তিক, ১৪২৫—মানামা, আমিরাত
৮৪
শোকরান
দিলে তুমি অপরূপ পথের সন্ধান,
গীতিয়ান
গাওয়ালে বেসুরের কণ্ঠে সুরের গান।
ভুলা যায় না—যাবে না অমৃত এ দান—
শোকরান॥
কোনো দিন
ভাবিনি আমি এমন মঞ্চ পাব একদিন,
সীমাহীন
এই দয়া—আমাকে ঋণী করছে দিনদিন।
নিজেরে ভুলতে পারি—পারি না এ মান—
শোকরান॥
আমার
ভুবনে আছে—থাকুক বেদনার পাহাড়,
তোমার
জিকিরে প্রকাশ না হোক মনের আঁধার।
আমারে লুকাতে পারি—পারি না এ ঘ্রাণ—
শোকরান॥
২ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫—মানামা, আমিরাত
৮৫
মরণ তো আছে একদিন
মরতে হবে আমারি,
তা যেন মরণের মতো হয়
এতটুকু কামনা করি।
জিন্দেগি যাইবা দিলে শোকরিয়ে
লাঞ্ছনার মৃত্যু দিয়ো না প্রিয়ে,
এই মন হাসিখুশির মধ্যে দিয়ে
করে নিয়ো তোমারি।
মরণ তো আছে একদিন
মরতে হবে আমারি॥
এলাম-গেলাম এরকম যেন
না হয় এ জিন্দেগি,
এ জিন্দেগির কোনো মানে নেই
তুমিই তো বলেছ সুধী।
জীবন কী জ্ঞাত করো আমায়
যদি হয় ভালো কিছু করে যাওয়ায়,
তবে যেন হয় জীবনটা তাই
করো জীবন পুরোপুরি।
মরণ তো আছে একদিন
মরতে হবে আমারি॥
১১ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫—মানামা, আমিরাত
৮৬
স্মরণ করবে কি পৃথিবী আমারে?
আমি চলে গেলে কাল পৃথিবী থেকে?
করলাম কি কাজ এমন একটিবারে?
মনে রাখার মতো পৃথিবী আমাকে?
আমিও পৃথিবীর স্বজন একজন
করতে চেয়েছি পৃথিবীকে আপন,
আমারও স্বপ্ন ছিল তবে কর্ম-ইয়াদে—
মনে রাখার মতো পৃথিবী আমাকে॥
সবাই তো আসে পৃথিবীতে শূন্য হাতে
শূন্যে ফিরে—জীবনটা বুঝে কয় জনে,
যে বুঝে জন্মের মানে পারে কিছু হতে
সে রেখে যেতে পারে অবদান স্মরণে।
গুণীরা চায় না কবে বরণীয় হোক
স্মরণীয় হতে পারলেই বরেণ্যলোক,
আফসোস—পারিনি ইয়াদগার হতে—
মনে রাখার মতো পৃথিবী আমাকে॥
২৯ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫—মানামা, আমিরাত
৮৭
আর কারে বোঝাব মনের দুঃখ আমি
তুমি ছাড়া বোঝার কে আছে অন্তর্যামী।
পিতা বুঝে না পুত্রের মত
পুত্র বুঝে না পিতার দরদ,
ভবে বুঝে স্বার্থের জপ—বুঝো শুধু তুমি—
আর কারে বোঝাব মনের দুঃখ আমি॥
ভাই-বন্ধু-স্বজন যত মনে করি আপন
শোনালে শুনে না কেউ কষ্টের কথন।
ধন থাকলে পূজে জনে
জন থাকলে ডরায় ক্ষণে,
মন থাকলে—নিঃস্বার্থ একমাত্র তুমি—
আর কারে বোঝাব মনের দুঃখ আমি॥
২২ বৈশাখ, ১৪২৬—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
৮৮
কোথায় আছ প্রাণের বন্ধু আমার
কেমনে পাই তোমারে?
কোথায় গেলে মিলে দেখা তোমার
চেতন কিবা ঘুমের ঘোরে?
দেখল যারা তোমায় মনশ্চক্ষে
ভুলল জগৎ আর ভুলল নিজেকে!
আমায় কবে ভুলাবে ‘সত্য’ বলে
ধন্য মরণ মনসুরে।
কোথায় আছ প্রাণের বন্ধু আমার
কেমনে পাই তোমারে?।
বলে কি তারা বুঝে আসে না
বিশ্বের সৃষ্টি এমনি?
আমি বুঝি—তুমি না থাকলে
সমস্তের শৃঙ্খলা কেমনি?
যত সহজে গাই জীবনের গান
তত সহজ কিরে অজানার সন্ধান?
নিজেরে আমি বুঝি না যেখানে
তোমায় বুঝি কী করে¬¬?
কোথায় আছ প্রাণের বন্ধু আমার
কেমনে পাই তোমারে?।
৩০ বৈশাখ, ১৪২৬—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
৮৯
স্রষ্টা! তুমি যদি সৃষ্টি করো আমায়
না না—আমার কোনো সন্দেহ নাই।
তবে? মনে কেন জানি ভাবায়
অনেক কথা শুনি তাই॥
এত ভালো দেখালে জগৎ
তবু জগতের মনে দ্বিমত,
কোথা থেকে আসে ভেবে না-পাই—
না না—আমার কোনো সন্দেহ নাই॥
আমি তো মহাদিবসের ভয়ে আছি
কোথায় স্থান আমার কেঁদে যাচ্ছি।
কী হবে সেদিনের রূপরং ভাবছি
আমার মধ্যে আমি নাই॥
যে যা ভাবে ভাবুক গে
ভাবনার বলে মরুক গে,
আমি বাঁচি—আমারে দাও প্রচ্ছায়—
স্রষ্টা! তুমি যদি সৃষ্টি করো আমায়॥
১৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
৯০
ফলবান বৃক্ষ দেখছি—
কেমনে ফলছে ফল।
বর্ষিত আসমান দেখছি—
কেমনে বর্ষে জল॥
নদী কেনে বয়ে চলছে
সাগরে মিশে ঢেউ তুলছে,
এই বিশ্ব আর এই মহাচক্র
দেখে যাচ্ছি অবিরল॥
পাই নে ভেবে কূলকিনারা—
ফুল বিনে ফল কেনে।
বটের গাছে ক্ষুদ্র গোটা—
লতার ফসল মণে মণে॥
শূন্যে কেনে ভাসছে পাথর
জলে কেনে ডুবছে না গতর,
হাজারো আশ্চর্যে জগদ্দর্শন
তবু মানবহৃদে ছল॥
২৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
৯১
আমি জানি না আরাধনা
না জানি কোনো প্রার্থনা,
তুমি তো জানো অন্তরের খবর।
আমি বলতে চাই এক
বলে ফেলি আরেক,
আমার বয়ানে নেই যেরযবর॥
এ জীবনের অর্জন কী
শূন্য ছাড়া পাই নে খুঁজি,
আঁকাজোকা দেখছি অকার্যকর॥
তোমার বাণী শুদ্ধ চলনে
নয় শুদ্ধ পাঠ করণে,
আমি তো শুদ্ধ পড়েও করি ভুল!
এ আমার এ বন্দেগি
পায় কেমনে জিন্দেগি?
তুমি যদি দাও না ছাড় একচুল?।
আমার কী হবে—হবে কী
ভাবছি সেদিনের গতি কী,
আমার মধ্যে নেই আমার অন্তর॥
২৩ আষাঢ়, ১৪২৬—মানামা, আমিরাত
৯২
আমার প্রভু দয়াময়
করলে আমায় সৃষ্টি নিশ্চয়,
নিশ্চয় তিনি করুণাময়।
ছিলাম আমি বিক্ষিপ্তে
নিয়ে এলে প্রভু অস্তিত্বে,
পেলাম আমি বিরাট পরিচয়॥
যদি হই তাতে কৃতঘ্নমনা
আমারে আমি স্বীকার করি না,
আমারে আমি করি বঞ্চনা।
না বুঝে—বুঝে কে বেশি
নিজেরে নিজে বানায় দোষী,
আমাতে ভালো কম বোঝার হৃদয়॥
১৩ শ্রাবণ, ১৪২৬—মানামা, আমিরাত
৯৩
মেহেরবান,
তোমার মেহেরবানির শোকরিয়া
আদায় করতে পারি না—পারি না জনম-জনমে।
সুমহান,
তোমার মহানতার গুণবর্ণনা করিয়া
শেষ করা যায় না—যায় না কোনো কালির কলমে॥
আমার জবানে কী প্রশংসা করি আমি
শত-হাজার-কোটি প্রশংসার ঊর্ধ্বে তুমি;
গুণবান,
তোমার গুণগান যেতে পারি গাহিয়া
অতটু জ্ঞানের পরিধি বাড়াও—বাড়াও এ মনে॥
জীবনে,
তুমি ছাড়া সবকিছু অর্থহীন ও ধোঁকা
অনর্থের ধোঁকায় ধোঁকায় রেখো না আমাকে।
কেমনে,
কোন সেই সাধনে পাই তোমারি দেখা
আমারে চালাও—চালাও সেই গন্তব্যেরই পথে॥
যেপথে রেখেছ তুমি তোমার সন্ধান
আমার কমিয়ে দাও সেপথের ব্যবধান;
রহমান,
তোমার রহমতে নেও আমায় ঢাকিয়া
আমি পথ খুঁজে পাই—পাই যেন অসীম মহাশূন্যে॥
১৩ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬—মানামা, আমিরাত
৯৪
তোমার মহব্বতে এসেছি পৃথিবীতে
আবার চলে যাব তোমার আদেশে,
মাঝখানে কিছু সময় এলোমেলোতে
কেটেছে জানি আমার—বুঝি শেষে॥
সবকিছু চলে—চলছে তোমার ইশারায়
গ্রহ-তারা-নক্ষত্র সবকিছু নিয়মশৃঙ্খলায়,
আমায় অনিয়মে ঘুরায় কে বিপরীতে?
মাঝখানে কিছু সময় এলোমেলোতে॥
আমি চলতে পারি কী দক্ষতার বলে
তুমি যদি দাও না চলনের ক্ষমতা,
চালনের মালিক তুমিই চালাচ্ছ বলে
চলছি আমি মনে করি সঠিক রাস্তা॥
তুমি দিয়ে যাচ্ছ যখন পথের দিশা
আমাকে পথ ভুলায় কোন সর্বনাশা,
কে সে পথভ্রষ্ট চালিত করে বিপথে?
তোমার মহব্বতে এসেছি পৃথিবীতে॥
২৬ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬—মানামা, আমিরাত
৯৫
সৃজক!
আমায় ক্ষুদ্র করেছ দুঃখ নেই
করো না কভু ক্ষুদ্রমনা।
পৃথক!
তোমার থেকে করেছ ভালো
অন্তর থেকে করো না॥
সৃষ্টির যত নীচত্ব দেখালে তুমি
অল্প প্রাণের জন্যে কাঁদি আমি,
আফসোস!
বড় জগতে জন্ম নিয়েই
ছোট দুনিয়ার ভাবনা॥
দেখেছি!
আসমান-জমিনের পার্থক্য কী
তারচেয়ে অধিক অন্তর।
পেয়েছি!
যতটু যা সমাধানের মিল
ভাবের ঘোরের ভেতর॥
হৃদয়ে যদি হওয়া যায় বড়
সকল তক্ত তার কাছে ক্ষুদ্র,
মানুষ!
নিবেদিত প্রাণ হতে পারলে
নেই প্রাণের তুলনা॥
৬ পৌষ, ১৪২৬—মানামা, আমিরাত
৯৬
নিরন্তর আমার এ অন্তর
কাঁদছে শুধু কাঁদছে!
কীজন্যে অন্তরের এ কান্না
আমিও কিছু বুঝি নে।
যত যা পেয়েছি ধন্য জীবন
যত যা পাইনি দুখী না মন,
কী রেখে যাচ্ছি এটাই কথন
কী দিলাম পৃথিবীকে।
নিরন্তর আমার এ অন্তর
কাঁদছে শুধু কাঁদছে॥
যা করলাম—করেছি যা জীবনে
সবই মনে হয় ভুল!
আপন আপন করে মরেছি শুধু
আপনচে নেই অতুল।
জীবনের শেষপ্রান্তে এসে বুঝছি
পিঠের আঘাতচে বুকের ব্যথা কী!
আপনার বলে থাকে কিছু যদি
আপন কর্মের মাঝে।
নিরন্তর আমার এ অন্তর
কাঁদছে শুধু কাঁদছে॥
২৬ পৌষ, ১৪২৬—মানামা, আমিরাত
৯৭
শ্রেষ্ঠ কর্মে
স্রষ্টার ধর্মে
দেখলাম যা নিদর্শন,
চৌকস সক্ষমে
সৃষ্টি কর্মক্ষমে
করা হয়েছে সৃজন।
মনেপ্রাণে যা চিনাল
মন ভালো তো সব ভালো,
বৃক্ষরাজি ফুলে
প্রাণের মূলে
পেয়েছি সন্ধান অতুলন।
শ্রেষ্ঠ কর্মে
স্রষ্টার ধর্মে
দেখলাম যা নিদর্শন॥
দুখীর দরদে
দুখীই জুটে
এটাই দুখীর নিয়তি,
সুখীর আনন্দে
সুখীই ছুটে
দুয়েতে বড়ই সংগতি।
জ্ঞাতিতে জ্ঞাতির টান
জ্ঞাতি ছাড়া সব সমান,
বৃষ্টির জলে
নদী সজলে
দেখি নে বিরূপ কখন।
চৌকস সক্ষমে
সৃষ্টি কর্মক্ষমে
করা হয়েছে সৃজন॥
৩০ পৌষ, ১৪২৬—মানামা, আমিরাত
৯৮
ধনী,
তোমার দুনিয়াতে এসেছিলাম
চাইনি লেনের হাত।
দানী,
দেনে অধিকারিত্ব চেয়েছিলাম
প্রাণের জগন্নাথ॥
তুমি দিলে না বলে সামর্থ্য
দিতে পারিনি আমি কিছুই তো,
ভাগ্যের ভাণ্ড এতটা নিকৃষ্ট
মনে বড় ঘাত।
ধনী,
তোমার দুনিয়াতে এসেছিলাম
চাইনি লেনের হাত॥
ওই,
দুখীরা আমার সামনে কেঁদে যায়
বড়ই আমার দুখ।
কই,
সুখীরা হেসে যাচ্ছে হাসুক সদায়
এ প্রার্থনায় সুখ॥
অকৃতজ্ঞকারীর নেই সদ্গতি
হিংসাকারীরও তদ্রূপ নেই উন্নতি,
জীবনের স্মরণে রেখে যাচ্ছি কী
মিলাতে বসি খাদ।
ধনী,
তোমার দুনিয়াতে এসেছিলাম
চাইনি লেনের হাত॥
১০ মাঘ, ১৪২৬—মানামা, আমিরাত
৯৯
বাবার কোলে নিরাপদ নয়
না মায়ের কোলে আপদহীন—
আজকের শিশু!
এরচে জগতে আর কী হয়
সুরক্ষিত স্থান সন্তানসন্ততির—
বলো হে প্রভু?
দয়াহীন কেন আজ?
এমন স্নেহবন্ধনের মাঝ?
আদরের চুম্বনে বিষের কাজ!
কেন ফলপ্রসূ?
বলো হে প্রভু?।
কতটা নির্মম হলে যে মানুষ
হতে পারে সন্তানের হন্তারক—
কতটা পশুত্বপর?
নির্দয় কত হলে হয় অমানুষ
দেখার বাকি ছিল বোধহয়—
মাতাপিতার অন্তর!
দেখালে মা’র আঁচলাশ্রমে!
সন্তানের বিপদ কী জন্মে!
বাবার ছায়াতলে ক কী মর্মে?
আপদমুক্ত কমু?
বলো হে প্রভু?।
১৪ মাঘ, ১৪২৬—মানামা, আমিরাত
১০০
তোমরা বলছ,
তোমরা উন্নতির দিকে নিয়ে যাচ্ছ পৃথিবী?
আমরা বলছি,
আমরা সবে বিলুপ্তির পথে আছি ঘুরিফিরি!
তোমাদের কথা আর আমাদের দেখা
দুয়ের পার্থক্য যেন আলোকবর্ষ ব্যবধা!
চিন্তা কী,
নিজের ধ্বংস নিজেরাই করছি মিলেমিশি!।
কোথা শুনেছি,
পাশের ঘর পুড়লে নিজের ঘর পুড়বে!
কথা সত্যি,
দাঁড়িয়ে তামাশা দেখনেওয়ালারও রক্ষা নে!
ভাবছি—আমাদের গতি যাই হোক-না
তোমাদের জন্যে রইল মঙ্গলকামনা;
প্রার্থনা করি,
আমরা না থাকি—থাকুক তোমাদের বসতি॥
১৭ মাঘ, ১৪২৬—মানামা, আমিরাত
১০১
কে তুমি হৃদয়বান?
স্বর্গ পেতে করছ বান্ধবে আহ্বান?
কর্ম তোমার মহান!
ভালো, বন্ধু ভালো,
গাঁট্টিগাঁঠুরিতে মুসাফির হলে হলো?
বোঝা চাই নিষ্ঠাবান?।
তবে বুঝে আসে না কথাটি
কোন স্রষ্টার তুমি প্রতিনিধি?
আদেশ করছেন তোমায় বিধি?
গুমরাহিকে পথ দেখান!।
ঠিক আছে যুক্তি!
তুমি কি ভাবছ তুমিই সঠিক পথী?
এতই কি সহজ মুক্তি?
জীবনের এ বন্দেগি,
বলতে পারে কে পাবে জিন্দেগি?
মনে করি-না যতই শুদ্ধি!।
আমার কপালকালো এবাদত
কর্মদোষে কিবা আমার আপদ!
হয়তো আমিই পথভ্রষ্টদের অগ্রজ
নরককুণ্ডে আগে স্থান!।
৭ ফাল্গুন, ১৪২৬—মানামা, আমিরাত
১০২
তোমার ভালোবাসা ছাড়া আছে কী
জীবনে
কিছুই খুঁজে পাই নে মনে মনে।
তোমার প্রেমের কূলহারা—অকূল
সাগরে
ভেসে যেতে চায় মন বারেবারে॥
বন্ধু আমারে ভাসাও তোমার অপার
ভালোবাসায়
এই মন তোমার প্রেমে যাক-না হারায়,
আমি ডুবতে চাই সীমানা হারিয়ে
অসীমে।
তোমার প্রেমের কূলহারা—অকূল
সাগরে॥
আমি তো এখন আর আমার মধ্যেই
নেই
একেমন আশেক তুমি বানালে আমে।
তোমারে কোথায় গেলে পাই—কওনা
কেমনে?
আমার তো কাটে না দিন তুমি বিনে॥
তুমি তুমি তুমি জপের জপছি মালা
হরদম
আমার একূল-ওকূল দুকূলের প্রিয়তম,
আমি কি পাব না তোমাকে চাহার এ
সসীমে?
তোমার ভালোবাসা ছাড়া আছে কী
জীবনে॥
২ চৈত্র, ১৪২৬—মানামা, আমিরাত
১০৩
তোমাকে এমন করে
কেন চাহে মন,
জানি না জানি না
জানে মন।
আমাকে কেমন করে
করলে তুমি পাগল,
দিওয়ানা দিওয়ানা
পলে পল॥
আমি কীভাবে বলি
চাহাতের এ কথাগুলি,
বলো-না বলো-না
মনের পাগলামির কথা
কেমনে করি বর্ণন?
তোমাকে এমন করে
কেন চাহে মন॥
আমার প্রাণের প্রিয়তম
কোথায় আছ সখা?
পাব কি পাব কি
তোমার দেখা?
যদিওবা আমার চাহনে
নেই কোনো ধারা,
দেবে কি দেবে কি
এ প্রেমে ধরা?।
রবে মনে দুঃখ এই
পেলে না বন্ধু তোমারে,
যাবে না যাবে না
না পাওয়ার বিরহব্যথা
ভুলা যাবে না কখন!
তোমাকে এমন করে
কেন চাহে মন॥
১৮ চৈত্র, ১৪২৬—মানামা, আমিরাত
১০৪
এ-জীবনে চাইনি এজন্যে
নাম ও সম্পদ!
ও-জীবনে পাই না যদি
ভালো কোনো পদ?
এ-জীবন আর ও-জীবনের মাঝে
জানি না কী তার—কত পার্থক্য যে?
তবু মনের প্রশান্তি এটাই বলে
ক্ষণের শান্তি গলদ!
এ-জীবনে চাইনি এজন্যে
নাম ও সম্পদ॥
এখানে দিনেরাতে যে বা যারা
বেয়েছে অশ্রুবারি!
ওখানে নিশ্চিত সে ও তারা
পিবে সুপেয় কাউসরি?
এখানে সুখের হাতে যারা প্রতিনিয়ত লুঠ
ওখানে নিশ্চয়ই তাদের উপহার রাজমুকুট?
দুঃখকুঁড়ের দুখীরা সেখানেই
সুখে হারাবে হদ!
এ-জীবনে চাইনি এজন্যে
নাম ও সম্পদ॥
২২ চৈত্র, ১৪২৬—মানামা, আমিরাত
১০৫
চারি দিকে আমার আজ
বইছে বিষম বাতাস!
কি জানি আছি কয় দিন
থাকব পৃথিবীর মাঝ।
আপন যাচ্ছে আপনে ছাড়ি
সারা বিশ্বে আজ মহামারী!
কার জন্যে কে কাঁদবে
স্তব্ধ কান্নার আওয়াজ!
চারি দিকে আমার আজ
বইছে বিষম বাতাস॥
চলে যায় যাক-না ছেড়ে
বিপদে ফেলে বান্ধবে!
করব না আমি কখনো
এতটু অবহেলা দায়িত্বে।
এবাদতে আছে যত-না পুণ্য
তারচেয়ে প্রাণের সেবা গণ্য;
কার আছে নসিবে করার
ভালো একটুখানি কাজ!
কি জানি আছি কয় দিন
থাকব পৃথিবীর মাঝ॥
২৪ চৈত্র, ১৪২৬—মানামা, আমিরাত
১০৬
কোথায় তোমার লয়ের মাঝে মাটি?
রোধ-রোধ-রোধ করে দাও রোধী।
কোথায় তোমার লাঞ্ছিত সেই জাতি?
ধন-ধন-ধন্য করো তাদের তুমি॥
কোথায় কারা হতভাগ্যে
অশ্রেু ভাসছে প্রতিনিয়তে?
কোথায় মানুষ নিরুপায়ে বিপথগামী?
রক্ষ-রক্ষ-রক্ষা করো ওদের তুমি॥
কোথায় দেশে অবিচারের বিচারালয়?
চুর-চুর-চুরমারে দাও ভেঙেচুরি।
কোথায় ত্রাসের রাজত্বটা হচ্ছে বড়ই?
ধ্বং-ধ্বং-ধ্বংস করো ধ্বংসকারী॥
কোথায় কোথায় পীড়াদায়ে
ওঠছে দাসত্বেরই মহল গড়ে?
কোথায় হচ্ছে—হবে মজলুমেতে জুলুমি?
রুখ-রুখ-রুখে দাও সর্বনাশে তুমি॥
২ বৈশাখ, ১৪২৭—মানামা, আমিরাত
১০৭
তোমার অতি লাভের অই লোভলালসায়
ঠকি আমি—ঠকতে রাজি আছি গো ভাই।
আমায় ঠকাও হে নিঃসঙ্কোচে
তুমি ঠকিয়ো না নিজেরে নিজে,
জিতে নাও জীবন-বাজারের বেচাকেনায়॥
এখানে যত যাই-ই করে যাও হেরাফেরি
ওখানে তত তাই-ই নিতে হবে দুহাত ভরি।
হিসাবের হেরফেরে লাভবান
মনে করা ভুল কেউ বুদ্ধিমান,
পুড়ে সে—যে বিশ্বাসের ঘরে আগুন লাগায়॥
৫ বৈশাখ, ১৪২৭—মানামা, আমিরাত
১০৮
একদিন স্বপ্নে দেখছি
ভিখারি হয়ে পথে পথে ঘুরছি,
পাওয়ার লালসে মন বেদিশে ছুটছে না!
আরেকদিন স্বপ্নে দেখছি
রাজ্যের রাজা হয়ে বসেছি,
পেতে পেতে পাওয়ার সাধ আর মিটছে না!।
পাহাড়পর্বত এককরে দৌড়ছি
লোভে যত বাড়ল লাভের কারবার
মনের মধ্যে কমলো তত শান্তির হার!
‘সুখ’ ‘সুখ’ করে কত খুঁজছি
সুখ যে গেল আর আর ফিরে এলো না!।
ঘুম ভেঙে ভাবছি এবার
শান্তি যা কমের স্বপ্নে ছিল আমার,
সুখ তা বড়ের স্বপ্নে হলো যুদ্ধের ময়দান!
এবার পল এসেছে বলার
কে কী বুঝেছ বন্ধু হে আমার?
সুখের চেয়ে শান্তির কত কত ব্যবধান?।
কেমনে বোঝাই যা আমি বুঝেছি
পেতে চাইবে যত বেশি সুখ
বাড়বে ততই অশান্তির দুখ!
বড় আশা বড় দুঃখ কেন বলছি?
বড় বিপদে না পরলে কেউ বুঝবে না!।
১১ বৈশাখ, ১৪২৭—মানামা, আমিরাত
১০৯
তোমাদের মাঝে এসেছিল
পথিক এক পথহারা,
পুরো দিন তোমাদের পাশে থেকে
পেল না সাড়া!
চলে গেল মুসাফির পথহারা॥
এসেছিল প্রেমের সওগাত নিয়ে
ফিরে গেল গোপনে অশ্রু ঝরিয়ে!
দরদে দরদে নিজের মনে নিজে
পুড়ে হলো সারা—
চলে গেল মুসাফির পথহারা॥
এই শহরে আসেনি কিছু পেতে
দিতে এসেছিল মগর,
পাথেয় কি নিতে পারল কি জানি
বহুদূরে আপন ঘর।
ছিল বড়ই এক লম্বা সফর॥
ফিরে গেল পথিক নিজের ঘরে
নিতে পারল কি কিছু উপহারে!
আত্মসম্মানে কী যে ব্যাঘাত হবে
শূন্য হাতে ফেরা—
চলে গেল মুসাফির পথহারা॥
১৪ বৈশাখ, ১৪২৭—মানামা, আমিরাত
১১০
শোনো হে প্রভু
বান্দার এতটু ফরিয়াদ,
বান্দা তোমার করছে মুনাজাত।
ভুলেও যে কভু
ডাকেনি তোমায়,
জানি না সে কেমনে মুক্তি পায়!
গুনাগার আজ
তোমার দরবারে তুলেছে হাত।
শোনো হে প্রভু
বান্দার এতটু ফরিয়াদ॥
মাওলা ওগো হে
হে মাওলা আমার,
করো না আমারে কঠিনে পার।
আল্লাহ আল্লাহ ওহে
আল্লাহ রহিম-রহমান,
জুখিয়ো না আমার বাঁ-মিজান।
পথহারা আজ
তওবায় ফিরে চাইছে নাজাত।
শোনো হে প্রভু
বান্দার এতটু ফরিয়াদ॥
১৭ বৈশাখ, ১৪২৭—মানামা, আমিরাত
১১১
চাইছি খোদা তোমার
সেই কঠিনদিনে পার,
হে করুণাময় আমার
ওগো করুণার আধার।
ওই বিচারের ময়দানে
তুমি বড় রোষাননে,
হিসাবের কড়া মিজানে
করবে বান্দার বিচার।
চাইছি খোদা তোমার
সেই কঠিনদিনে পার॥
অপরাধ যদিওবা হয়েছে
লাঞ্ছিত করো না আমাকে,
জান্নাত দিয়ো না বরঞ্চে
বাঁচাইয়ো জাহান্নাম থেকে।
পারি না সইতে তপ্ত এই
সইব কেমনে দহন সেই,
অপরাধীর প্রতি সদয়দৃষ্টে
চাইয়ো শুধু একবার।
হে করুণাময় আমার
ওগো করুণার আধার॥
৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭—মানামা, আমিরাত
১১২
কুন
ফায়াকুন ফায়াকুন
কুন ফায়াকুন।
অতুলুন
আল্লাহ তুমি ও তোমার বানানোন
কত যে অতুলুন।
কুন ফায়াকুন॥
লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুওয়া
আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির।
কি প্রশংসা করি তোমার ধাতা
তুমি যে কী তুলনাহীন প্রতিষ্ঠাতা,
হয়েই হচ্ছে জাহাঁ আজও প্রসারুণ—
কুন ফায়াকুন॥
আল্লাহু
লা-ইলাহা ইল্লা হুওয়াল
হাইয়্যুল কাইয়্যূম।
ভঙ্গ্য
ভঙ্গুর শহরে আগামী কাল
ওড়বে পূর্বের ধোঁয়াধূম।
তুমি হাইয়্যুল কাইয়্যূম॥
লাকাদ খালাকনাল ইনসানা
ফি-আহসানি তাকওয়িম।
তোমার মেহেরবানির শোকরিয়া
আদায় করতে পারিনি—মানবদুনিয়া,
আবার করবে? করো—করতে পারি পুরুণ—
কুন ফায়াকুন॥
২৪ আষাঢ়, ১৪২৭—মানামা, আমিরাত
১১৩
ঘর থেকে বের হলে তুমি মানুষ
মিলো মানুষের সাথে,
দেখেছ কি মানুষে বিভেদ?
ঘরে এলে ধর্মকেন্দ্রে জাতীয় হুঁশ
পেলে শত সঙ্কেতে!
নিজেকে প্রশ্ন করেছ আবেদ?।
রক্তমাংসে অভিন্ন মানুষ তুমি
কে তোমারে ভিন্ন করল জানো কি?
জাতের কারিগর কে হে তিনি
এক ঘর থেকে পৃথকে
প্রতিষ্ঠা করল নানান ভেদ!
নিজেকে প্রশ্ন করেছ আবেদ?।
জন্ম হয়েই পেলে কি দেখা বর্ণর
জন্মেছ কোন লোকালয়ে?
জেনেছ ক্রমান্বয়ে যত যা!
মৃত্যু তোমাকে নিয়ে গেল কবর
চিতা-কফিনে শোয়ায়ে!
রাখল খালি বর্ণের চিহ্নটা॥
স্রষ্টা আছে নির্ভেজাল সত্য এটা
সৃষ্টির দুঃসাধ্য স্রষ্টাকে খুঁজে লওয়া!
সত্যের মাঝে থাকে স্রষ্টার ছায়া
সত্যপথ অবলম্বনে
আসবে বাধা পাহাড়সমেত!
নিজেকে প্রশ্ন করেছ আবেদ?।
১১ ভাদ্র, ১৪২৭—মানামা, আমিরাত
১১৪
আমি না ভালো পুত্র হতে পারলাম
না কারও ভালো ভাই!
না হতে পারলাম জায়ার ভালো স্বামী
না পিতা ভালো এতটাই!
যারা আমার লাগি নেমেছে হাঁটু পানিতে
আমি তাদের লাগি পারিনি গলা ডুবাতে,
যাদের লাগি ডুবে গেছি একেবারেই
তাদের চক্ষুশূল—দুখটাই!।
আমি কী পেলাম জীবন থেকে
হিসাব করিনি কোনো কাজে।
জীবন দিয়ে যাচ্ছে কী পৃথিবীকে
বসি তার হিসাব মিলাতে।
আফসোস রইল যতই দেওয়ার ব্যর্থতায়
বেহিসাবি থাক গে লেনা পাওয়ার খাতায়,
উপকারীর উপকার করতে পারলাম না
দুঃখ মনে একটাই॥
১৩ আশ্বিন, ১৪২৭—মানামা, আমিরাত
১১৫
কে আছে পৃথিবীতে—দেখি না তো
আমার মায়ের মতো।
কার আছে—ছিল এ বাসনা মহত্ত্ব?
দেয় অন্তর প্রসারিত—
আমার মায়ের মতো॥
চেয়েছে দিতে পৃথিবীকে ভরিয়ে
দু-হাত বাড়িয়ে সবটুকু উজাড়িয়ে,
এমন হৃদয়ের মালিক যদি সকলে হতো?
আমার মায়ের মতো॥
মিলত না হয়তো খোঁজাখুঁজি—এলান করি
গরিব আর গরিবি।
থাকত না হয়তো জগতীর কষ্ট—টানাটানি
অভাব আর অভাবী—
গরিব আর গরিবি॥
অন্তরে বাদশা অন্তরে ফকির
অন্তরে কার উত্তমের জিকির,
কীসের ফিকির হাতখোলা যার অনবরত?
আমার মায়ের মতো॥
১৮ আশ্বিন, ১৪২৭—মানামা, আমিরাত
১১৬
একবার প্রাসাদ ছেড়ে
নেমে এসে দেখো-না
সমৃদ্ধির মালিক!
আর্তমানুষের মনঃকান্না
একবার অনুভব করো-না
কী কারুণিক!।
আকাশে বসবাসের ঘর
বুঝে পাবে না মানবেতর,
রাস্তার পাশে যেই জিন্দেগি
পুছো তারে জীবন কী
বুঝো তো রাস্তা ঠিক।
একবার প্রাসাদ ছেড়ে
নেমে এসে দেখো-না
সমৃদ্ধির মালিক॥
আসবে না কোনো কাজে
প্রতিষ্ঠা করলে যা
তিলে তিলে গড়ে!
বেরিয়ে পড়ো পথে হাঁ,
দেখো কোথায় মানবতা
খাচ্ছে পোকামাকড়ে!।
প্রাণের সেবায় পাবে যা
রাজমহলে পাবে না তা,
জীব-জীবনের উপকারে
চাও-না একবার মরে
মরণে কী স্বস্তিক।
একবার প্রাসাদ ছেড়ে
নেমে এসে দেখো-না
সমৃদ্ধির মালিক॥
২২ আশ্বিন, ১৪২৭—মানামা, আমিরাত
১১৭
আর ভালো লাগছে না বিধি
বিদঘুটে জীবন।
আর দেখতে পারছি নে অবলী
অবলাদের পীড়ন।
ধর্ষণ—এক হতে একশ
বাঁচতে পারছে না শিশু-বৃদ্ধ!
হাজার ধর্ষিতার আর্তনাদে
কাঁদছে শুধু মন।
আর ভালো লাগছে না বিধি
বিদঘুটে জীবন॥
নিচের বিচারালয় আমি নাহয়
বানালাম নড়বড়!
ওপরে তোমার দণ্ডবিধান বলে
কেন অকার্যকর?
ভয়ঙ্কর—শাস্তি এত ভয়াল
মানুষ কেন মানুষের কাল?
আদি হতে এপর্যন্ত দেখছি
লুঠেরাদের উত্তরণ।
আর ভালো লাগছে না বিধি
বিদঘুটে জীবন॥
২৪ আশ্বিন, ১৪২৭—মানামা, আমিরাত
১১৮
যাত্রী আমি দূরের
পথহারা-না-পথহারা।
জীবনসুষ্ঠু সুরের
সবহারা-না-সবহারা।
জনমদুঃখ নিয়ে
জন্মেছিলাম বলে,
পাইনি হয়তো ধারা—
পথহারা-না-পথহারা॥
এটুকু এ জিন্দেগানি
ভুলুয়া-ই-ভুলুয়া বাঃ।
মনে থাকলেই মানী
সফলতা-ই-সফলতা।
সরলতার মাঝে
ব্যথা হয়তো আছে,
সত্যের পথে যারা—
সবহারা-না-সবহারা॥
১ কার্তিক, ১৪২৭—মানামা, আমিরাত
১১৯
আমার জীবনের গল্প
যা সাজালে ভালো—অতি অল্প।
আমার অভিযোগ? না, নেই মোটেও—
ধন্য, আমি ধন্য
জিন-ফেরেশতা করোনি কোনো,
মানুষ বলেই ধন্য বলি আমাকে॥
করতে পারতে বিশ্রী কীটপতঙ্গ
করোনি আমার এত অসুন্দর অঙ্গ,
এই ধনে ধনী মানি সবার থেকে—
মানুষ বলেই ধন্য বলি আমাকে॥
তার ওপরে সূক্ষ্ম
দিলে যারে এতটু মস্তিষ্ক।
মনে হলে? মনের দুঃখ রয় না একটুও—
আরও দেখি হাত-পা
চোখের আলো কী যে তা,
আমিই বুঝি এর দাম কতটুকু॥
কখনো পারি না—পারব না যে
ভুলে যাব তোমায় এতটা কষ্টে,
কৃতজ্ঞতার ধারা বওয়াও এ বুকে—
মানুষ বলেই ধন্য বলি আমাকে॥
২৯ কার্তিক, ১৪২৭—মানামা, আমিরাত
১২০
আল্লাহ তুমি বান্দারে
এত ভালোবাসলে?
এত তোমার বড় মন!
কত বিপদ-আপদ দিয়ে
পরীক্ষা করো—করলে,
দায়—তোমারে বোঝন!।
ওই যে তারা ডাকছে তোমে
কী নম্রতা দেখা যাচ্ছে নমে!
ভেতরে কার কী বক্রতা
তুমিই জানো তবে—
তবু করোনি কারও জীবনাশোভন।
আল্লাহ তুমি বান্দারে
এত ভালোবাসলে?
এত তোমার বড় মন!।
কারে কে কত ভালোবাসি
অন্তরের খবর?
তুমি জানো আমি জানি।
জগতে বলে বলুক-না
তারা যদি জানত,
তুমি হতে না অন্তর্যামী!।
করলে যারে মনের রাজা
ধনের রাজ্যে নাইবা প্রজা!
এ মন তো দিতে পারতে
যারে-তারে—সবারে—
শোকর—বোঝালে তা যখন।
আল্লাহ তুমি বান্দারে
এত ভালোবাসলে?
এত তোমার বড় মন!।
৩০ কার্তিক, ১৪২৭—মানামা, আমিরাত
১২১
জীবনে একবিন্দু সুখ
উপলব্ধি করতে পারিনি!
তবু আমি সুখে আছি।
সুখ যদিওবা আমাকে
আপন বলেই মানেনি
কী? শান্তিও নেই কাছাকাছি?
তবু আমি সুখে আছি॥
“সুখচে তবে শান্তি ভালো
জীবন হলো সাদাকালো,
এই আলো এই আঁধার
প্রহর কিছুটা আঁধার বেশি”
তবু আমি সুখে আছি॥
সুখের রাজ্য গড়ে যদি
ভোগী অশান্তির অসুখে!
ওই সুখের সুখ কোথা।
কুঁড়ের ঘরে যদি হয়
আরামের ঘুম নিশ্চিন্তে
বলো, এরচে বড় সুখ কোনটা?
ওই সুখের সুখ কোথা॥
“স্বাস্থ্য সকল সুখের মূল
অর্থকড়ি সবকিছুর কূল,
অর্থ ছাড়া জীবন অচল
পুণ্য কামাইয়েও লাগে কড়ি”
তবু আমি সুখে আছি॥
১১ অগ্রহায়ণ, ১৪২৭—মানামা, আমিরাত
১২২
আমি এমনিতেই নিঃস্ব আছি
আরও নিঃস্ব করো ঈশ্বর আমায়।
কে কতটু হাসে বিদ্রূপের হাসি
তা শুধু একবার দেখতে চাই॥
খুশি যারা হবে আমার নিঃস্বতে
হায়, আমি যদি পারতাম দিতে,
এমন কিছু—তাদের স্মরণীয় করায়—
তা শুধু একবার দেখতে চাই॥
কী মরা মরলাম আপনালিতেই
আপনেরাই দেখি শত্রুবড় সবচে।
ভাই দেখি বন্ধু দেখি সব স্বার্থেই
স্বার্থশেষে কারে দেখি না কাছে॥
উপকার করলে অপকার জানি
বুঝতে চেয়েছিলাম কতটা আমি,
বুঝেছি—জলঢালা বালুচরে পুরাই—
আরও নিঃস্ব করো ঈশ্বর আমায়॥
১৩ অগ্রহায়ণ, ১৪২৭—মানামা, আমিরাত
১২৩
প্রভু,
যতক্ষণ রাখো দেহে প্রাণ
স্থির রেখো আমার কদম
সকল দুঃখকষ্টে অবিচল।
কভু,
দুর্বল করো না মনের জোর
বিপদ-আপদ শত আসুক
আত্মবিশ্বাস রেখো অটল॥
তোমার ওপর যত আস্থা
কোনো
অবস্থাতেই ভেঙো না তা,
নত যদি করো মাথা—করো
তোমার চৌকাঠের তল—
আত্মবিশ্বাস রেখো অটল॥
আমার
এই—এতটু কামনা তবে
না না—পেতে মোটেই না
খাবারও ইচ্ছা না কাত্থেকে।
তোমার
কাছে একটু আবদার তবে
অতটু চাওয়ারও বাঞ্ছা নেই
এটুকু দ্বিকর করো আমাকে॥
তুমি পরীক্ষা করবে—করো
কিন্তু
যতই করো-না দরদ বড়,
সততার দেয়াল ভাঙতে
করো না চাহাতে দুর্বল—
আত্মবিশ্বাস রেখো অটল॥
৯ পৌষ, ১৪২৭—মানামা, আমিরাত
১২৪
ফেলে সংসারের মোহে
ভুলালে বন্দেগির রাহে
বলো, কী দোষ বান্দার?
তবু দোষী মানি নিজেরে
খোদা মাফ করো হে
ক্ষমা কি আছে আমার?।
বায়ান্নটি বছর পার করালে প্রভু
তোমায় এমন করে একবারও
ডাকালে না কভু!
কী হতো জন্ম হতে
মনটা তোমার পদে
ঝুঁকে রাখলে আর—
বলো, কী দোষ বান্দার?।
যেই রূপ দেখালে মানুষের
ঘুমের ঘোরেও মনে পড়ের
ভুললেও ভুলতে পারি না!
চিনালে চিনালে জগতের
যেসব ব্যবসা লেনদেনের
জানালে—কাজে আসবে না!।
এখন কি সময় আর জিন্দেগি খুঁজি?
জ্ঞান দিলে তো দিলে গো আনি
শেষপ্রান্তে বুঝি!
করি তো করি কতটু
হয় তো হবে একটু
নাহয় তো বেকার—
বলো, কী দোষ বান্দার?।
২৪ পৌষ, ১৪২৭—মানামা, আমিরাত
১২৫
‘স্বগর্’ ‘স্বর্গ’ করে যারা মরছে আর মারছে
প্রভু তুমি বলো, স্বর্গ কি তারা পেয়েছে?
‘ধর্ম’ ‘ধর্ম’ করে যত যারা বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে
বলো, তারা প্রকৃত ধার্মিক হতে পারছে?।
ভালো দেখালে কেউ বোঝা চাই ভালো?
কে জানে কার অন্তরে কত বিষকালো!
বাইরের রূপে সাধুসন্ন্যাসী দেখা যাচ্ছে
বলো, তারে কি সাধুমানব বলা যাবে?।
‘ইসলাম’ ‘ইসলাম’ করে যত যারা ছুটছে
বলো, কতটুকু ইসলামে তত তারা আছে?
‘কোরান’ ‘কোরান’ বলে উলটোপথে চলছে
তুমি বলো, সে কোরান মোটেও বুঝছে?।
যতই-না দেখাবে দেখাও পরিষ্কার পথ
বিপদী ঘুরেফিরে দেখবে শুধুই আপদ!
‘বিপদ’ ‘বিপদ’ করে সুপথ যারা দেখাচ্ছে
বলো, তারা আসলেই কি সুপথে আছে?।
যে-ধর্মকে করে দিলে তুমি পরিপূর্ণ কবে
লক্ষ নবিরাসুল ও মুহাম্মদের শুভাগমনে!
প্রতিষ্ঠিত করেই রাখলে কেয়ামত পর্যন্তে
আবার কোন প্রতিষ্ঠার ডঙ্কা নতুন ঢঙে?।
তোমার কথা যদি হয় তবে ‘না’ ‘না’
আকাশ-পেটুকেরা দুঃসাহস পায় কোথা!
ফেরকা ফেরকায় আর কত ফেরকা বাড়বে?
কেন ওদের ডানহাত ধরছ না তা হলে?।
কুচক্রীর চক্র চক্রহারে কেবল বাড়ালে
‘মার মার’ ‘কাট কাট’ কোথায় ইসলামে?
এভাবে ধর্মপ্রতিষ্ঠা কোথায় তুমি বললে?
দুষ্টের হাতে ধর্মের রশি ছেড়ে রাখলে!।
গাঁট্টিগাঁঠুরে বন্দি করলে ধর্মের সৌন্দর্য
যাযাবরের জিন্দেগিতে কীসের ধর্মৈশ্বর্য?
ধর্মের সৌন্দর্য বিনষ্টে যতসব মতলবি নামছে!
বলো হে, চিল্লেটিল্লে এসব কোথা কোরানে?।
‘ধর্মে কিছুই অসুন্দর নেই’ তুমি বললে
তবে গাঁট্টিগুঁট্টি থালাবাসন কোমরে বেঁধে
এ ধর্মের শালীনতা শেখাল কে তাদেরকে?
ধর্ম তোমার তুমি কেন হাসছ পরিহাসে!।
জানি, বিপথ-গুমরাহি করছ যারে তুমি
পথ পাবে না সে সুপথেও আসি জানি!
এটাই ইসলাম, থাকি-না যতই ইসলামে
শয়তান তো ধোঁকা দেয় ফেরেশতা সেজে!।
আরও জানি তোমার ভূরি ভূরি আদেশ
জানি না কে কতটু বোঝল সেই উপদেশ!
আমরা তো দেখছি আজ কেবলই বিদ্বেষ
দাবানলের মতো জ্বলছে হিংসায় দেশবিদেশ!।
কোথাও ধর্মবাদ কোথাও মানবতাবাদ
দোহাইয়ে দুইয়ে করছে শুধু নিজস্বার্থহাত!
নব্যধার্মিক নেমেছে ধর্ম প্রতিষ্ঠা করতে
আখেরি দুনিয়া বুঝি এটাকেই বললে?।
শান্তির ছায়াতলে যারা আসতে চাচ্ছে
ভয়ের চোটে তারা ধর্মান্তরিত ভুলছে!
যেন সত্তর হাজার ডিগ্রি আগুন জ্বেলে
তুমি বসে আছ মানবজাহাঁ পুড়তে!।
এতই সহজ করলে কোরানের বাণী
বঙ্কিম বোঝল না তোমার সেই জবানি!
পথপায়িকেই কেবল বিপথগামী করছে
বলো, তাদের স্থান আছে কোন রৌরবে?।
যেকথা শোনাতে বললে তা শোনাচ্ছি
যা তুমি ইশারা করলে তা আমি লিখছি!
অনেকে বললে বলুক আমাকে দোষী
তোমার সৌন্দর্যে দেবে অসুন্দরে খামচি!।
আদেশ করবে তুমি যা ঘুমে ও জাগরণে
পালন করব আমি তা অক্ষরে অক্ষরেই।
তোমার সুন্দরের ধর্ম ও কর্মের রক্ষার্থে
কথাজিহাদের বাণী লিখাও প্রভু আমৃতে্যু॥
১৮ ফাল্গুন, ১৪২৭—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
১২৬
হে রব,
তুমি তো জানো মনের খবর সব
আমি আছি কোন মনোরথ;
নিতে পারি তোমার শপথ
তা হলে আমার গলদ?।
হে রব,
আজীবন শুনে আসছি গল্পগপ
মন বলবান তো সব বলবৎ;
আমি হাঁটছি ধরে সেপথ
তা হলে আমার গলদ?।
হে শান্তিকামী,
আমি তো আগুন নিভাতে থামি
তবে আমার জিন্দেগি উত্তপ্ত মরুভূমি!
তবু হয়নি গামী-বিপথ—
তা হলে আমার গলদ?।
বন্ধু হে,
আর কত রাখবে বন্দি নিঃস্বকরে?
এবার তবে খুলে দাও-না বন্ধন;
অভাবের দরদ ভুলি কিছুক্ষণ
অভাব দূরি হোক সারাক্ষণ॥
বন্ধু তবে,
ফরিয়াদ মাত্র এতটু তোমার কাছে
নিজের জন্য করি না হা-হুতাশন;
হাঁ, তাদের জন্যেই প্রার্থন
অভাব দূরি হোক সারাক্ষণ॥
দ্বন্দ্ববাদের যে,
মনমানসিকতা মন্দ বলে
চার পাশ দোষে দোষী হবে তা হলে?
আর চাই নে তবে কৈফিয়ত—
তা হলে আমার গলদ॥
১৯ ফাল্গুন, ১৪২৭—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
১২৭
প্রভু!
বুঝে আসে না মোটেও
দুনিয়ার এ নিয়মনীতি কিছু,
যে তোমাকে করে না স্মরণ ভুলেও
তারে তুমি করো কত উঁচু!।
তবু!
বোঝার গভীরে নেমেও
পারি নে বুঝতে একটুকিছু,
যে তোমার মালা জপে ঘুমেও
তারে তুমি রাখো এত নিচু!।
না না,
এতেও কোনো অভিযোগ নেই
হাঁ হাঁ,
জানতে বড়ই ইচ্ছে করে;
তোমার রশি ধরে আছে পিছু?
তারে তুমি রাখো এত নিচু!।
মন?
মন আমার হলেও
মনের মালিক হলে মাত্র তুমি,
দুনিয়ার কাছে লুকাতে পারি সবটুকু
তোমার কাছে করব বোকামি!।
ধন?
ধন তোমার—তাতে ভুলেও
অধিকার খাটাতে পারি না আমি,
তুমি যারে খুশি তারে দিয়ে দাও
অসন্তুষ্টি না আমার—না আমি॥
এবার শুনি?
অসুবিধায় আমার মতো না যারা
আরও বেকায়দায়?
বাইরের সৌন্দর্য দেখি আমরা!
হাঁ, অন্তরে পিছে বলে আছে কিছু—
তারে তুমি রাখো এত নিচু?।
২০ ফাল্গুন, ১৪২৭—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
১২৮
ভাগ্যগুণে ভাগ্যদোষে
ঘটবে সকল কিছু!
এই কথাকে মাথায় নিয়ে
আছি ভাগ্যের পিছু!
হা করে সব বসে আছি
ভাগ্যে দেওয়া খাওয়া খাচ্ছি!
কাজকর্ম দরকার কীসের
যেমনে চলে চলুক নিচু!
ভাগ্যগুণে ভাগ্যদোষে
ঘটবে সকল কিছু॥
আরে আরে খাইছি হুঁচোট
অন্ধসেজে হাঁটতে পারি!
দোষ কেন এ আমার হবে
ভাগ্যে দিলো মাথায় বারি!
এটাও ভাগ্য ওটাও ভাগ্যি
দোষ কিছু না আমার আমি!
এই জাতি কি মানুষ হবে
ভাগ্যগানে থাকলে উঁচু?
ভাগ্যগুণে ভাগ্যদোষে
ঘটবে সকল কিছু॥
২১ ফাল্গুন, ১৪২৭—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
১২৯
কে তুমি আমাকে
জাগালে ঘুমের থেকে
মুসাফির পথ ভুলে?
এই বাংলার নদীর কূলে।
ছিলাম কী নিদ্রাসুখে
চিন্তার বোঝা বাড়ালে ডেকে,
অধম আমি জন্মি ভূতলে—
এই বাংলার নদীর কূলে॥
এখানে কত সৃষ্টিকারকেরা
সৃষ্টি করে হলে মহান স্রষ্টা,
আমি যেতে পারি মশাল জ্বেলে?
এই বাংলার নদীর কূলে?।
কী ভূত চাপালে বুকে
সরালে আরও বসে চেপে!
না, হটবে না সে পিছে—
তবু মিনতি করি কী যে।
দূর দূর করে তাড়ালে
যায় কিছুটা দূরে সরে,
আপদ দেখি আবার ঘাড়ে!
তবু মিনতি করি কী যে॥
ওরে যা, সংসারের যা ক্ষতি
বিরক্ত আর কত হবে বধূটি?
মধুটি জড়ালে কী বধূর আঁচলে!
এই বাংলার নদীর কূলে॥
২২ ফাল্গুন, ১৪২৭—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
১৩০
ধন্য মা ধন্য
জন্মেছি এজন্য
তোমার আঁচলে
বঙ্গভূমির কোলে।
পূর্ণ তা পূর্ণ
অপরূপরূপে সম্পূর্ণ
পেয়েছি আলো ঝলমলে
বঙ্গভূমির কোলে॥
পুকুরডোবা জলজলজ
নদনদী ও বনবনজ,
হাওয়াবাতাস যা বহালে
পুণ্য হাঁ পুণ্য
অনন্য এ ভূতলে
বঙ্গভূমির কোলে।
ধন্য মা ধন্য
জন্মেছি এজন্য
তোমার আঁচলে॥
এ-কর্ণফুলী হতে
ও-কর্ণঝরা পর্যন্তে
দেখে দেখে অপূর্বতা
ভরবে না মন ভরবে না।
জনম ও জনমে
হাজারো জনমে
এলে ও গেলে কিবা
ভরবে না মন ভরবে না॥
শ্রেণিবিন্যাস গাছগাছালি
সুশীতল ছায়ানিরালি,
শ্যামলিমা শ্যামলে
বর্ণ বাঃ বর্ণ
কী সুবর্ণ মাটি বিছালে
বঙ্গভূমির কোলে।
ধন্য মা ধন্য
জন্মেছি এজন্য
তোমার আঁচলে॥
২৩ ফাল্গুন, ১৪২৭—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
১৩১
আমি দেখেছি যা আঁখিমেলে
কী মায়াভরা ছায়াশ্যামলে,
বঙ্গোপসাগরের কূলে।
আমি জন্মেছি যেই গৃহতলে
বাংলাদেশের মাটির কোলে,
আসতে চাই পুনর্জন্মালে—
বঙ্গোপসাগরের কূলে॥
কোথায় এমন ঋতুর বদল?
কোথায় এমন প্রকৃতির দখল?
কোথায় এমন ঝরনা অবিরল?
বয়ে ছলছল—কী মধুর সুরে!
বঙ্গোপসাগরের কূলে॥
আমি বাংলামায়ের সন্তান
মা মাটি আমার কত মহান,
আমি কী যে ভাগ্যবান।
দেখেছি মায়ের সৌন্দর্য হাজারখান
আমি চাই না আর মঙ্গলে স্থান,
এ মাটিতে মিশে থাকবে প্রাণ—
আমি কী যে ভাগ্যবান॥
কোথা এমন বৃষ্টিবাদল হলে?
কোথা এমন নদীকলকলে চলে?
কোথা এমন পাখিদের উতরোলে?
দেখা পাবে স্বর্গ ঘরে-ঘরে?
বঙ্গোপসাগরের কূলে॥
২৪ ফাল্গুন, ১৪২৭—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
১৩২
আহা কী সুন্দর—কত মনোহর বাংলার মাঠঘাট বাবুর কুলায়;
আমি বারবার যেন ফিরে আসি—আসিতে চাই এই বাংলায়।
বাংলা আমার ভাষা—বাংলা আমার দেশ—বাংলা প্রাণোদ্দীপ্তরবি;
আমি যেখানে যাই—ফিরে পেতে চাই—বাংলার মুখোজ্জ্বল ছবি—
হিজলের বন—ডাহুকডাকা সন্ধ্যা—বলাকার সারি—বাঁশের ঝুলনায়।
আমি বারবার যেন ফিরে আসি—আসিতে চাই এই বাংলায়॥
গাঙডুবি ঢাকী—হাঁড়িধোয়া আঠারোবাকি মুগ্ধ করেছে যারে;
শত জনমে এসেও ভরিবে না মন—সিনানি বাংলা-রত্নাকরে।
বনবনানী পাহাড়পর্বত খালবিল মেঠোপথ পাখপাখালির রব;
এদেশে জন্ম আমার—ধন্য আমার জন্ম দেখে অপূর্বতা সব—
খেয়াতরী পারাপার—কী সুদৃশ্য হাট—হট্টগোলে বটের ছায়ায়।
আমি বারবার যেন ফিরে আসি—আসিতে চাই এই বাংলায়॥
২৬ ফাল্গুন, ১৪২৭—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
১৩৩
হে জননী জন্মভূমি আমার
জন্ম নিলাম কোলে তোমার,
ভোগ করলাম সুবিধা যতটারে
ততটা দেয়ার কর্তব্যে পড়ে—
ক্ষমা করো মা সন্তানেরে॥
তোমার মাটির বেড়েছে সম্মান
কত সাধুসাধক পিরমুর্শিদান,
এলো-গেল যুগেযুগে কালেকালে
তুমি কী ভাগ্যবতী হলে—
ক্ষমা করো মা সন্তানেরে॥
এলো হিন্দুত্বে, এলো মুসলিমত্বে,
এলো বৌদ্ধত্বে, এলো খ্রিস্টত্বে,
এলো এলো এলো এলো গাইল একত্রে
তোমার শানমানের গান সকলে
তুমি কী ভাগ্যবতী হলে—
ক্ষমা করো মা সন্তানেরে॥
সুসন্তান যত ভালো চিন্তিত
ভাগ্যছাড়া এলো আর গেল,
দিতে চেয়েও পারে না কিছু দিতে
হাজার চেষ্টা করেও ব্যর্থ ধরাতে—
ক্ষমা করো মা সন্তানেরে॥
সকলে তো আর হতে পারে না
ভাগ্যবান ও কপাল চওড়া,
মায়ের স্তনের কাছে ঋণগ্রস্ত থেকে
চলে যেতে হয়—যায় দুঃখ রেখে—
ক্ষমা করো মা সন্তানেরে॥
তবু যে যতটুকু পারে—সম্ভব
বাড়াতে চেষ্টক স্বদেশের গৌরব,
সব সময় স্বদেশোন্নয়নের চিন্তক
স্বদেশের কাছেই অবহেলিত হয়ে
চলে যেতে হয়—যায় দুঃখ রেখে—
ক্ষমা করো মা সন্তানেরে॥
২৮ ফাল্গুন, ১৪২৭—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
১৩৪
আবার পৃথিবীতে আসার
বড়ই ইচ্ছে হচ্ছে প্রভু,
“আসার কোনো সুযোগ নেই”
তা তো জানি সবও।
তবে দেখে এদের কাণ্ডকারখানা
মনে বড় জাগছে আসার কামনা!
পরের কথা ছেড়ে দিলাম
পর তো ধোঁকা দেবু!
আবার পৃথিবীতে আসার
বড়ই ইচ্ছে হচ্ছে প্রভু॥
আপনজনেরা এমন কেন
জানার খুবই ইচ্ছা,
যা জেনেছি শেষপ্রান্তে এসে
জানানো গেল না কিচ্ছা।
তবু এই এতটুকু বলে যাচ্ছি—
নিজের কথা মনে রাখবে সবি;
নিজের জনেরা যা দেবে ব্যথা
মরতে পারবে না শুধু!
আবার পৃথিবীতে আসার
বড়ই ইচ্ছে হচ্ছে প্রভু॥
২৯ ফাল্গুন, ১৪২৭—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
১৩৫
গান
তাদের গেয়ে যাও মন
আমার মতো না যাদের জীবন,
চোখের জলে যারা ডুবেছে আজীবন।
শান
তাদের প্রচার করো সারাক্ষণ
যারা আঘাত পেয়ে সহ্যে অতুলন,
নৈঃশব্দে চলতে পারে পিতার মতন।
গান
তাদের গেয়ে যাও মন॥
মন বড় যার তার উন্নতি বড়
ছোট মনের গতি সব সময় পড়ো,
মান
তাদের বাড়ে যারা ছোট হন।
গান
তাদের গেয়ে যাও মন॥
মন,
গেয়ো না গীত তাদের
আপন হয়ে লুঠে সম্ভ্রম আপনের,
যাদের কাছে কোনো দাম নেই নিজের।
ধন,
যাদের কাছে প্রিয় সন্তানের
তাদের কাছে ইজ্জত নেই অন্যের,
দূরে থাকা ভালো কাছ থেকে ওদের।
মন,
গেয়ো না গীত তাদের॥
স্বার্থপরের সাথে থাক বন্ধুত্ব করা
এক পা চলাও হবে বোকামি করা,
জান
দেওয়ার বন্ধুও থাকে কিছু জন।
গান
তাদের গেয়ে যাও মন॥
১ চৈত্র, ১৪২৭—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
১৩৬
অই আসমান তাকে ছুঁতে দাও
যে মানুষের মন ছুঁতে পারবে,
এই জমিনে তাকেই ঐশ্বর্য দাও
যে পৃথিবীর উপকারে আসবে।
তুমি তো দিলে দিতে পারো জানি
পলকে কারে রাজ্যের বাদশাহি!
ছোট করে বলি? আমি ভালো আছি—
আমার শোকরিয়ার শেষ নেই।
এই জমিনে তাকেই ঐশ্বর্য দাও
যে পৃথিবীর উপকারে আসবে॥
আত্মা বড় দেবে? দাও পুরো তাকে
নিজের ভুলে যে পরের ভাববে,
মর্যাদার মালিক করবে? করো তাকে
যার অন্তরে অন্যের মান বুঝবে।
মানুষের মর্যাদা বুঝে না যে—যারা
পায় আবার মানুষের মর্যাদা তারা!
জোরগলায় বলতে পারি একথা—
ধনরাজ্যের মালিক বনে কারুনে।
এই জমিনে তাকেই ঐশ্বর্য দাও
যে পৃথিবীর উপকারে আসবে॥
৩ চৈত্র, ১৪২৭—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
১৩৭
অগায়কে গায়িকিগলা দাও
অশিল্পীকে বানাও মহাশিল্পী,
অকবিকে কবিত্ব কী শেখাও
বোঝা দায় তোমার কারিগরি—
সত্যি বড় কারিগর প্রভু তুমি!।
বুদ্ধির সাগরে সাঁতারে কাকে
বোকার তকমা লাগাও পলকে,
শিক্ষায় পাণ্ডিত্য মস্তবড় করে
একটুতেই দেখাও আবার মূর্খামি—
সত্যি বড় কারিগর প্রভু তুমি!।
অজ্ঞানীকে জ্ঞানী করে কত
জ্ঞানীকে অজ্ঞানীতে নামাও,
অসম্মানিকে সম্মান দিয়ে যত
সম্মানিকে কী যে লাঞ্ছিত করাও—
সাধ্য না তোমায় বোঝার মতো!।
কাঙালকে রাজ্যবান করে বড়
রাজ্যের মালিকে রাজ্যহারা করো,
অহংকারীকে ডুবায়ে জলে আরও
জগতীর জন্যে বানাও নিদর্শনী—
সত্যি বড় কারিগর প্রভু তুমি!।
৮ চৈত্র, ১৪২৭—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
১৩৮
গাওয়ালে, গাওয়াও আরও গান
হে মহামহিম সুরকার!
মনোবীণা নিচ্ছে জিকিরের টান
সচল রেখো হৃৎযন্ত্রের তার!
গানের মধ্যেই তোমায় খুঁজি
গানের মধ্যেই তোমায় পূজি,
গানে গানে হলাম—হয়ে নি
দিওয়ানা ও গাগল আর—
হে মহামহিম সুরকার॥
বুঝি না বুঝি না গাই কী মাথামুণ্ডু
তুমি সুর দাও বলে গাই শুধু!
বলি, গাওয়াও যখন ভালোবেসে বন্ধু
গাইতে পারি যেন আমৃত্যু।
হয়তো রেখেছ তাতে এবাদত
নাহলে কেন এত মহব্বত,
বাদকও তুমি—শ্রোতাও তুমি
তুমি বাজালে বাজে বেতার—
হে মহামহিম সুরকার॥
১২ চৈত্র, ১৪২৭—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
১৩৯
আল্লাহ আল্লাহ যতই জপি ততই কী ভালো লাগে
এই নাম জপনে কী যে প্রশান্তি ও শান্তি লাগে মনে!
কোকিলের স্বর কী মধুর রে
হয়তো আল্লাহর সেই জিকিরে,
বাগে ফুটে কুসুমকলি আল্লাহনামের অই অনুরাগে।
এই নাম জপনে কী যে প্রশান্তি ও শান্তি লাগে মনে॥
আল্লাহু আল্লাহ লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ ইল্লাল্লাহু ইল্লাল্লাহ
যত জপি ততই মন বলে আরও জপি আল্লাহ আল্লাহ!
এ নামের সেই জিকিরগানে
দেওয়ানা মন—কে দিওয়ানে,
রহমানের রহমতের ছায়াতলে থাকবে সে আরামে।
এই নাম জপনে কী যে প্রশান্তি ও শান্তি লাগে মনে॥
১৫ চৈত্র, ১৪২৭—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
১৪০
নমস্য নমস্য
বিধির সব সৌন্দর্য,
নমস্য নমস্য
মাতাপিতা অবশ্য।
নমস্য নমস্য
সৃষ্টি যেসব শ্রেষ্ঠ,
নমস্য নমস্য
মানুষ যেসব স্পষ্ট।
নমস্য নমস্য
স্রষ্টা যারা উপহাস্য।
নমস্য নমস্য
বিধির সব সৌন্দর্য॥
নমস্য নমস্য
কষ্টে চলে সহাস্য,
নমস্য নমস্য
দুঃখে স্থির মানস্য।
নমস্য নমস্য
কর্মে যারা নিষ্ঠ,
নমস্য নমস্য
সৃষ্টে যারা বলিষ্ঠ।
নমস্য নমস্য
জগতে যা প্রশস্য।
নমস্য নমস্য
বিধির সব সৌন্দর্য॥
১৮ চৈত্র, ১৪২৭—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
১৪১
করেছি যা অপরাধ কদম-কদমে,
খোদা, ক্ষমা করলে ক্ষমা মিলে অধমে।
হে খোদা আমায় মাফ করে দে,
হে খোদা আমায় মাফ করে দে॥
শুনেছি খোদা তুমি বড় দয়ালু
তোমার দয়ার কাছে বড় না কিছু;
ক্ষমা করতে পারো তুমি বড় দোষীকেই—
হে খোদা আমায় মাফ করে দে,
হে খোদা আমায় মাফ করে দে॥
ক্ষমা পাওয়ার কী তোমার খাস ভাষা,
তুমি মনে ওঠিয়ে বলাও এ মুখ দিয়ে তা।
মেহেরবান আছে তোমার মতো কাঁহা,
মেহেরবান আছে তোমার মতো কাঁহা॥
যত গুনাগারই বান্দা হয়-না কেন
তোমার ক্ষমার কাছে খুবই নগণ্য;
বান্দা তো করে না দোষ আর বুঝেসুজেই—
হে খোদা আমায় মাফ করে দে,
হে খোদা আমায় মাফ করে দে॥
১৯ চৈত্র, ১৪২৭—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
১৪২
তোমার আদালতে সূক্ষ্ম বিচার হবে যেদিন
বিচারের কাঠগড়ায় আমি আসামি সেদিন,
কী বিচার করবে আমার বিচারক প্রভু তুমি
পুণ্যের খাতায় তো শূন্য ছাড়া পাবে না খুঁজি!।
যা কিছু করলাম এ সাধন-শোধনে অর্জন
কাজে আসবে না হয়তো এ আমার উপার্জন,
দরদভরা ছলছল জলচোখে চেয়ে যদি থাকি—
কী বিচার করবে আমার বিচারক প্রভু তুমি॥
সইতে পারি না যেখানে এতটু রৌদ্রতাপ
সইব কেমনে বলো সেই বারো সূর্যের উত্তাপ,
এত বড় দিলের অধিকারী হয়ে বন্ধু তুমি
বান্দারে দিতে পারবে এমন কঠোর শাস্তি!।
মনে তো হয় না এত নির্দয় হতে পারবে
বিশ্বাসীবান্দা যাক-না ডুবে যত গুনাগুনাহে,
মন শুধু বলে একথা—দয়াময় বিরাট দরদি—
কী বিচার করবে আমার বিচারক প্রভু তুমি॥
২১ চৈত্র, ১৪২৭—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
১৪৩
আজানের সুর কী সুমধুর
শোনাচ্ছে মুয়াজ্জিন পাঁচ ওয়াক্ত আজান,
এ আজানে আছে জীবন ক্ষয়ের আহ্বান
শুনেও বুঝবে না মূঢ়!
প্রতিটি আজানে কম্পন
যার ভেতরে হবে না সে ইমানে দুর্বল,
নামাজেই করবে তারে শয়তানে দখল—
নামাজেরই এটা বিশেষণ॥
মসজিদে দিলে দৌড়
হওয়া যায় মসজিদি—খাঁটি নামাজি নই,
বান্দা বনা কঠিন—বন্দেগি হোক-না যতই
কপালকালো এদ্দূর!
দুহাতে তসবির জপন
এক ওয়াক্ত ছুটে গেল হায়—কী আফসোস,
কাল হাশরে জবাব দেবো কী—প্রাণে উশখুশ—
মুনাফেকের হবে লক্ষণ॥
২২ চৈত্র, ১৪২৭—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
১৪৪
প্রভু
কীজন্যে আর?
লও বুঝে এবার
তোমার এ দায়িত্বভার।
কভু
পাঠালে ধরণিতে
শতাব্দিপর শতাব্দিতে
আমার মতো বেকার?
নীরবে ও নিভৃতে
চলে গেল অশ্রুতে,
মনে রাখল না সংসার—
প্রভু
কীজন্যে আর?।
যাসব
এ করাচ্ছ নিশ্চয়
কাজে আসবে না মনে হয়?
মানুষ চায় মানুষের ক্ষয়!
এসব
কাজকর্ম আমার
হয়তো মনোনিত তোমার?
মানুষের কাছে কিছু নয়!।
এটাই নিয়মধারা
মানুষ বলে আমরা,
মনে রাখি না উপকার—
প্রভু
কীজন্যে আর?।
২৪ চৈত্র, ১৪২৭—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
১৪৫
প্রতিটি মুহূর্তে কাঁদছে মন আমারি
কেমনে যাই এই মায়ার বাড়ি ছাড়ি!
প্রিয়জনদের মাঝে কত ওঠাবসা
প্রিয়জনদের সাথে কত হাসিঠাট্টা,
কেমনে থাকব হয়ে চিরনিভৃতচারী!
প্রতিটি মুহূর্তে কাঁদছে মন আমারি॥
প্রিয়ের এতই হাসাহাসি—পাশে বসি
একটুতেই আবার অভিমান করে কী!
প্রিয়ের এ ভালোবাসাবাসি কী মধুর
এ ভালোবাসাতে নেই বেদনার সুর,
এমন আনন্দ-জীবন নেবে তুমি কাড়ি!
প্রতিটি মুহূর্তে কাঁদছে মন আমারি॥
২৫ চৈত্র, ১৪২৭—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
১৪৬
প্রতিদানের আশা করছি না কোনো
কিছু নেই আমার দানের প্রাপ্য।
তবু তোমার দয়ার আশা রাখছি বড়
না থাক আমার এতটু পুণ্য॥
মিলে মিলুক-না স্থান ওই ওখানে
এখানেও থাকবে প্রত্যাশা বড় মনে,
যে-কোনো উপায়ে পার করবে তুমি
নাহলে তুমি রহমান কেন?
না থাক আমার এতটু পুণ্য॥
কিছু নিতেই পারি নে যেখান থেকে
সেখানে কীসের হাজি আর গাজি।
যা নিয়ে যাচ্ছি—হয়তো আমলের ভারে
হবে ওয়াল দোজখের খুঁটি॥
‘চা’ চাইব না লাসভেগাসের জিন্দেগি
দিলেও খুশি চট্টেশ্বরীর নিরিবিলি বাড়ি,
না দিলেও ভালো—কোনো দুঃখ নেই
তোমার আনন্দে আমার আনন্দ।
কিছু নেই আমার দানের প্রাপ্য॥
২৭ চৈত্র, ১৪২৭—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
১৪৭
মালিক,
আমার সব মালিকানায় রেখে যাচ্ছি
কিছুই নিচ্ছি না।
খালিক,
তুমি খালি হাতেই পাঠিয়েছিলে
খালিই যাচ্ছি না।
রেখে যাচ্ছি সুলতানি প্রাসাদ
এতটু পেরেছি করেছি আবাদ,
এলেও
আসতে পারে কার উপকারে
না এলে না।
মালিক,
আমার সব মালিকানায় রেখে যাচ্ছি
কিছুই নিচ্ছি না॥
পাওয়ায়,
বলতে ইচ্ছে হয়—পৃথিবীর বাদশাহি
দিলে না আমায়।
দেওয়ায়,
নিজেকেও দিয়ে যেতে না পারলে
কী দেওয়া তাই।
‘আমার’ ‘আমার’ করে জমিয়ে
শান্তি নেই যাওয়ায় এতটা রাখিয়ে,
কালকে
হিসাবের ভারী দপ্তর বইতে কেউ
এগিয়ে আসবে না।
মালিক,
আমার সব মালিকানায় রেখে যাচ্ছি
কিছুই নিচ্ছি না॥
২৮ চৈত্র, ১৪২৭—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
১৪৮
আমার এ গান
তোমার মনে পাবে কি একটু স্থান?
গাইলাম যা এতখান
আমার এ গান।
তাল-লয়-সুর বেতালে ঘোর
স্বরলিপির ভুল পারিনি করতে দূর,
মুখ্য-অন্তরা রইল ছন্দহারা বেজান—
আমার এ গান॥
গানের কী গাই কী বুঝি
তুমি গাওয়ালে বলে গেয়েছি এতটি।
হবে কি বন্দেগি এ গায়িকি?
গানের কী গাই কী বুঝি।
আমার কণ্ঠ তোমার সুর
দুয়ের ভালোবাসায় এলাম এতদূর,
তবেই বুঝি দুয়ের ভালোবাসার টান—
আমার এ গান॥
২৯ চৈত্র, ১৪২৭—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
১৪৯
ইয়া—
ইয়া ইলাহি, ইয়া ইলাহি
চাইছি দয়া চাইছি।
ইয়া—
ইয়া নাফসি, ইয়া নাফসি
জপছি মালা জপছি॥
জান নেই জানের প্রাণে
প্রাণ নেই প্রাণের মনে,
আমার—
কী হবে কী হবে গতি
কাঁপছি ভয়ে কাঁপছি—
জপছি মালা জপছি॥
এই—
এতখানি, এতটু জিন্দেগানি
ভুলাল কী মোহে নাজানি।
অই—
মন্ত্রণাকারী, পথভ্রষ্ট দিশারি
পালাল পিঠ দেখিয়ে দৌড়ি॥
হায় হায়—কণ্ঠ শুকায়
এখন আমার কী উপায়,
কখন—
কী করতে কী করো তুমি
মরছি ডরে মরছি—
জপছি মালা জপছি॥
৩০ চৈত্র, ১৪২৭—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
সমাপ্ত
⇢ আমার বেসুরা কথা তোমার সুস্বরে
কী মোহিত করে দেখো দুনিয়ারে।
আমি চাপা পড়ে গেলেও যেতে পারি
তুমি কাঁপাতে পারো জগৎ কণ্ঠছাড়ি,
তোমাতে আছে সেসুরের মূর্ছনা গতিক॥