Post

‘রৌজা’ গীতিকবিতা পর্ব (১)

May 15, 2024

Original Author আযাহা সুলতান

245
View

কার কণ্ঠে বাজছে আযাহা সংগীত? 
আমার ছন্দহারা জীবনের গীত। 
হৃদয়ের ভালোবাসা তোমার লাগি 
আছে—থাকবে অনন্ত-অনন্তে জাগি, 
আমাকে যে ঋণী করলে বন্ধু অধিক॥ ⇢



১ 
‘সুবহানাল্লাহ ওয়ালহামদুলিল্লাহ 
লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ 
রব্বানা রব্বানা 
ডাকায়ও অসংখ্য ভুল চাই গো ক্ষমা।

রহিম-রহমান তুমি অতি দয়ালু 
আমার ভুলপারে দিয়েছ মুহাম্মদু॥

‘আল্লাহুম্মা ছাল্লিআলা ছায়্যিদিনা 
মুহাম্মদুর রাসুলুল্লাহ’ 
প্রার্থনা প্রার্থনা 
গুনাগারে এতটুকু করো ওগো দয়া।

তুমি ছাড়া নেই গতি এ আমার 
কবুল করো বান্দার তওবা নছুহার॥

‘রব্বিগফিরলি ওয়াতুব আলাইয়্যা ইন্নাকা 
আনআতাত্তাউয়্যাবুল গফুরা’ 
দেখো না দেখো না 
গুনাহের দপ্তরে যত যা হয়েছে জমা।

মেহেরবান দয়ালু শত নাম তোমার 
এ নাম জপনে কী যে প্রশান্তি বান্দার॥

‘ইয়া গাফফারু আন্তা গফুরুর রহিমা 
ইয়া রব্বি ওয়ারব্বুল আলা’ 
গুনা গুনা আর গুনা 
গুনাহে ডুবে গেছে তোমার এ বান্দা।

তুমি ক্ষমা করলে ক্ষমা পাই আমি 
ক্ষমা করো হে বান্দার সমস্ত গুনাহি॥ 
৮ বৈশাখ, ১৪২২—মানামা, আমিরাত


২ 
উপাস্য উপাস্য 
বিধাতার যা সৃষ্ট। 
উপাস্য উপাস্য 
সকল মাতাপিতার কষ্ট॥

উপাস্য উপাস্য 
স্বদেশভূমির তুচ্ছঘাস। 
উপাস্য উপাস্য 
জন্মভূমির উচ্চাকাশ॥

উপাস্য উপাস্য 
সৃষ্টি যেসব প্রশস্য। 
উপাস্য উপাস্য 
বিধাতার যা সৃষ্ট॥

উপাস্য উপাস্য 
দুস্থজীবন দৈন্যবেলা। 
উপাস্য উপাস্য 
শ্রান্তপথিক পান্থশালা॥

উপাস্য উপাস্য 
উপকারী সত্তাগুলি। 
উপাস্য উপাস্য 
নিবেদিত আত্মাবলি॥

উপাস্য উপাস্য 
ন্যায়নীতির মানস্য। 
উপাস্য উপাস্য 
বিধাতার যা সৃষ্ট॥ 
১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২২—মানামা, আমিরাত 
৩ 
আকাশে ঠেকাও হে ওই নিবেদিত মস্তক 
পরোপকারে যে নিজেকে উৎসর্গ করছে। 
অনিষ্টের অদৃষ্টে লাগাও তুমি নমনতিলক 
সরল ও সুন্দরের পথ স্পষ্ট দেখুক সে॥

পৃথিবী ধ্বংস করণে উদ্যত যারা 
বিবেচনা করুক তাদের চিন্তাধারা, 
ধন্য হোক মানুষের ঠিকানা গড়ার চিন্তক 
মানুষ বাঁচানোর মিছিলে যারা নেমেছে। 
আকাশে ঠেকাও হে ওই নিবেদিত মস্তক 
পরোপকারে যে নিজেকে উৎসর্গ করছে॥

মানুষ হলেও মানুষ হওয়া যে বড় কঠিন 
মানুষের থাকতে হয় কিছু তো গুণাবলি। 
একপাশে ছাগছানা ওপাশে নিজশিশুটিন 
স্তন্যদানে মা ওঁর চেয়ে মানুষ কে বড় বলি॥

না, রাজ্যের শাসক কেউ বড় নয় 
হাঁ, কুঁড়ের ঘরে আঁকে পরের স্বপ্নজয়, 
বিজয়ের মাঠে অশ্রুময় পরাজয়ের বন্দক 
মহান-মহত্তম অন্যের দুখে দুখী যে। 
আকাশে ঠেকাও হে ওই নিবেদিত মস্তক 
পরোপকারে যে নিজেকে উৎসর্গ করছে॥ 
১২ আষাঢ়, ১৪২২—মানামা, আমিরাত


৪ 
আমার রব কত যে মহান 
চাইলে ভিক্ষাপাত্রে দেওয়ার পারে বাদশাহি দান, 
অহংকারে ফেরেশতাকেও বানাতে পারে শয়তান 
আমার রব কত যে মহান।

এ ক্ষুদ্রক অবনি—এ আমার জিন্দেগানি 
আমার কাছে কী যে বৃহৎ আমিই জানি, 
তাঁর কাছে হাজার সিন্ধু বিন্দুপরিমাণ—
আমার রব কত যে মহান॥

অসীম তিনি অসীম তাঁর রচনা 
পরমবিশ্ব চরমবিশ্ব অনন্তবিশ্ব আমার কাছে অজানা, 
পৃথিবীর ফুলফল যা দিয়েছে আমায় শোকর-শোকরানা 
অসীম তিনি অসীম তাঁর রচনা।

মাতাপিতা স্বজন সন্তানসন্ততি স্ত্রীর বন্ধন 
আহা আহা কী মায়াডোরে বাঁধলে কেমন, 
আমি ভুলতে পারি না আরাধ্য এ অবদান—
আমার রব কত যে মহান॥ 
২২ শ্রাবণ, ১৪২২—মানামা, আমিরাত


৫ 
নিয়তির মালিক আমার নিয়ন্তা 
তুমি চালাও বলে আমি চলন্তা। 
তুমি জানাও বলে আমি জানি 
তুমি দাও বলে আমি ধনী 
তোমার দয়ায় আমি উচ্চতা। 
নিয়তির মালিক আমার নিয়ন্তা॥

কৃপাবান, আমায় করেছ ইনসান 
শোকরান, দিয়েছ সর্বোপরি স্থান। 
তুমি মহান—মহৎ দিলের অধিকারী 
তোমার গুণগান কেমনে যে করি 
কী যাচনে প্রকাশ করি কৃতজ্ঞতা। 
নিয়তির মালিক আমার নিয়ন্তা॥ 
২১ চৈত্র, ১৪২২—মানামা, আমিরাত 

৬ 
বিশ্বসৃষ্টির স্রষ্টা তুমিই এক জন 
তোমার পায়ে মাথা নত সর্বক্ষণ। 
বলে অনেকে তুমি নাকি নেই? 
বুঝি না বলে তারা কোন যুক্তিতে 
আমি তো দেখছি হাজারো নিদর্শন! 
বিশ্বসৃষ্টির স্রষ্টা তুমিই এক জন॥

দেখা যদি দিতেও তুমি চাক্ষুষ 
বিশ্বাস হতো না—আমি যে মানুষ। 
কোরান পুরাণ গীতা বাইবেলে 
মানুষ হতে পারেনি যে আদলে 
কোথা সে পাবে আর জ্ঞানধন! 
বিশ্বসৃষ্টির স্রষ্টা তুমিই এক জন॥ 
২৫ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৩—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম


৭ 
তুমি আছ আমি আছি এত যে কাছাকাছি 
এত যে তোমার আমার মাঝে বোঝাবুঝি! 
তবু আমি বুঝি না কিছু—চলছি অপথে 
আমায় তবে চালাচ্ছ কেন তুমি ভুলের পথে? 
কেন তবে ঘটাচ্ছ মন ও মস্তিষ্কে জোঝাজুঝি?।

তুমি কত সরল হলে—আমায় করলে বঙ্কিম 
কী সাধ্য ছিল আমার হই অবাধ্যতায় অসীম? 
আমার অন্তরে সব সময় তোমার বাস 
আমায় তবে দিলে না একটু বোঝার আভাস! 
আর কত রাখবে হে বন্ধু সান্ত¦নার মাঝামাঝি?। 
১৯ আষাঢ়, ১৪২৩—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম 

৮ 
কেউ বলে তুমি আছ—কেউ বলে নেই 
কেউ বলে দেখি আমি মনের আয়নাতে। 
আমি বলি—ঠিক আছে ঠিক আছে 
তুমি আমি সে থাকি-না তফাতে যে, 
মধ্যিখানে না রই দোটানার টানাটানিতে॥

এপার নয় ওপার মধ্যম কোনো আশ্রম নেই 
কূলকিনারা হারালে সমস্ত বিপর্যয় মধ্যমেই। 
মনে যে করে চলছি আমি সঠিক 
দেখা যায় আসলেই সে ভ্রান্তপথিক, 
আসলে কোনো ঠিকানা নেই ধারণার পথে॥ 
২ শ্রাবণ, ১৪২৩—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম


৯ 
যে যাই ভাবে ভাবুক গে তোমে 
আমি আছি তোমার ভরসা পরে। 
যে যত বিদ্রূপ করে করুক গে হে 
তুমি আছ—থাকবে আমার অন্তরে॥

এই এত হাজার নিদর্শন তোমার 
দেখে যারা বুঝে না—কী বলি আর! 
আমি শুধু করছি দুঃখ—বলছি দরদে 
মানুষ বানাইয়েও বানালে না সবারে!।

ওই আকাশ আর এই মাটি দর্শনে 
খুঁজে পায় না তোমার নিগূঢ়তথ্য যে! 
আমি চিন্তা করি আর ভাবি মনে মনে 
চক্ষুষ্মান ও জ্ঞানবান করলে তাদেরে!।

তুমি এখন বলছ হাসি—চাও কি ধরায়? 
আমি বলব না—দিলে কমত কোথায়! 
ফরমানে তুমি যদি থাকো বান্দায় খুশে 
নাফরমানি থেকে বাঁচাও জীবন-আখেরে॥ 
৮ শ্রাবণ, ১৪২৩—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম


১০ 
শোকরান শোকরান 
আল্লাহ তুমি মহান—কত মেহেরবান—
শোকরান শোকরান। 
যা কিছু আমায় করেছ দান তুলনা ছাড়া 
বৃষ্টি বায়ু মিষ্টি জল কত যে অমিয়ধারা। 
তোমার দয়ার সাগরে আমি ভাসমান—
শোকরান শোকরান॥

আমার এ জিন্দেগি 
ধন্য যে কী—অপূর্ণ রাখোনি এতটি—
আমার এ জিন্দেগি। 
আমি কভু অবাধ্য তবুও আমার প্রতি কৃপা 
রোগে-শোকে ফেলে আবার দান করো শেফা। 
দুর্যোগ-দুর্দিনদ্বারা বোঝাও যে কতখান—
শোকরান শোকরান॥ 
১৪ শ্রাবণ, ১৪২৩—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম 
 

Comments

    Please login to post comment. Login