Post

‘রৌজা’ গীতিকবিতা পর্ব (২)

May 17, 2024

Original Author আযাহা সুলতান

321
View

১১ 
আল্লাহ মহান আল্লাহ মহীয়ান 
আল্লাহ রহিম ও রহমান। 
আল্লাহ বিধান আল্লাহ বিধিয়ান 
আল্লাহ দরদি ও দয়াবান॥

আল্লাহু আল্লাহ আল্লাহু আল্লাহ 
লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ইল্লাল্লাহ, 
চলুক হরদম অন্তরে এ জিকিরগান॥

আল্লাহ শাসক আল্লাহ সহায়ক 
আল্লাহ অমেয় ও অমায়িক। 
আল্লাহ শ্রাবক আল্লাহ বিচারক 
আল্লাহ ন্যায়পর ও নৈয়ায়িক॥

আল্লাহ আল্লাহ আল্লাহু সুর 
হৃদয়ে লাগে কী যে মধুর, 
এ নামের টানে বাইর হোক প্রাণ॥ 
১৭ শ্রাবণ, ১৪২৩—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম


১২ 
জান্নাতের সুখে কাঁদে না মন বড়বেশি 
মন কাঁদে শুধু তোমার দিদারের লাগি। 
যদি তোমার দেখা পেয়ে কখনো স্বামী 
দোজখে হাবিয়া মিলে ধন্য ধন্য আমি॥

যেখানে যখন কেউ কারও নয় 
‘ইয়া নাফসি’ ‘ইয়া নাফসি’ ভয় 
সেখানে আমার অভয় আছ তুমি 
তোমার ছায়াতলে বারো সূর্যতাপ কী॥

যা গুনা—যত অপরাধ করেছি প্রভু 
তোমার অপরাধীরে ক্ষমা করো তবু। 
অপূর্ব দৃষ্টান্তবিচার করবে আর-রহমান 
হবে না কিছু রহিমের রহমতের সমান॥

কেয়ামতের ময়দান যতই সুকঠিন 
ক্ষমার অন্তরে গফুর রইবে সেদিন 
দীন-বেদীন করবে জপে দয়ার আশাটি 
গুনাগার চাইবে কেবল মনিবের স্নেহদৃষ্টি॥ 
২২ শ্রাবণ, ১৪২৩—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম 

১৩ 
আমার ভালোবাসা তোমার জন্যে 
আছে প্রিয়—থাকবে জনম-জনম, 
আমি চলে গেলেও কোনেকদিনে 
আমার ভালোবাসা রইবে অনুপম॥

জ্বেলে যাব এই প্রেমের প্রদীপ 
তোমায় পাওয়ার সকল উদগ্রীব, 
আমার প্রেমে থাকে যদি দৈন্য 
ক্ষমা করো বন্ধু পরম প্রিয়তম॥

প্রকৃত প্রেম পায় না স্থান বরণ্য 
সত্য প্রেমের দিয়া জ্বলে হরদম, 
সততার পথে কাঁটা বলে জঘন্য 
চলনা রুখে দেওয়া ভুল একদম॥

হতাশার কুয়াশায় ঢাকা যেই নগর 
প্রহর হবে না জ্বলেও শত দিবাকর, 
দৃঢ় আত্মবিশ্বাস থাকে যার মনে 
দিশা পাবে সে বেদিশার মাধ্যম॥ 
২৭ শ্রাবণ, ১৪২৪—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম 

১৪ 
কে তুমি? 
কখনো আমায় নিমজ্জন করো 
দুঃখের অকূল সমুদ্র্রে। 
কে তুমি? 
কখনো আবার ভাসাও তবে 
সুখের আনন্দ-জোয়ারে॥

প্রকৃতি? না না—মনে তো হয় না 
সুকৃতি? হলেও হতে পারে তা 
সমীক্ষায় যা মিলে মিলুক—আরাধনায় 
শান্তি মনের গভীরে॥

মনে হয়! 
কেউ তো আছে ভালোমন্দ করণে 
সমস্ত কিছুর শাসনে। 
মনে হয়! 
কে যেন অদৃশ্যহাতে ধরে আছে 
বিশ্বহাতল দৃঢ় মনে॥

তোমার ধারণায়? যা বলে বলুক 
আমার সাধনায়? সন্দ অহেতুক 
দীনতা ঘুচুক সকল আঁধার অন্তরের 
প্রসন্নতা আসুক ফিরে॥ 
২৮ শ্রাবণ, ১৪২৪—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম


১৫ 
কী উদ্দেশ্যে এতসব আয়োজন বন্ধু! 
কী দোষে আবার ফানা? 
কেন তবে আমায় দিয়ে কামনার সিন্ধু! 
রচে চলেছ প্রয়োজন বিনা?।

চৌদ্দ নম্বরে আমার এ জিন্দেগি 
চৌদ্দ রকমে হয়েছে তালি! 
যদিওবা আমার মধ্যেই সব বেরঙ্গি 
তবে এক ঘরে কেন ভিন্নতা?।

কী আশা তোমার মনে—কী যে উদ্দিষ্ট! 
তুমি কর্তা ভালো জানো গতিক। 
আমারে বিবেকবুদ্ধি দিয়ে করছ পথভ্রষ্ট! 
আমি বান্দা ইশারার মালিক॥

তুমি যদি পাশে থাকো বেদনহারী 
আমি কেন দরদে মরি! 
সবকিছু আয়ত্তাধীন—হাতে তোমারি 
তবে কেন এত অবাধ্যতা?। 
২৯ শ্রাবণ, ১৪২৪—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম


১৬ 
মানুষ বড় আজব জীব 
নিজের মধ্যে শয়তানি 
খুঁজে আর গেয়ে বেড়ায় 
অপরের দোষত্রুটি!

ভুল নিজে আগাগোড়া 
বলে পরের ভুলের কথা 
অপরাধ যার ক্ষমা-অযোগ্য 
তার বড় গলাবাজি!।

জান দেয় জান যে নেয় 
বিষমনের মুখে মধু বেশি 
আপন দূরে পর কাছে 
তুলনা নেই আপনালি!

আমি খাই আমি বাঁচি 
আমার লাভে আমি আছি 
আমার স্বার্থে আঘাত হলে 
বেঠিক সব দুনিয়াদারি!।

এমন কিছু মানুষ আছে 
মানুষ নামের বদনাম 
নিজের স্বার্থ ঠিক থাকলে 
সাত খুনেরও মাফ!

দেখলে কারও সাধুরূপ 
সাধু ভাবা বড় ভুল 
সাধুর দ্বারাই হয় বেশি 
অনিষ্ট বা মহা ক্ষতি॥

পূর্বপুরুষ কী ছিল 
জমিদার না ভিখেরি? 
আমি কী পেরেছি 
সেটাই হোক জরুরি।

কুঁড়ের ঘরে জন্ম হলে 
কুঁড়ো মনের কে বলে? 
রাজমহলে যদি জন্মে 
হয় কি সব উদারচিত্তি?।

ছাই ওড়লে আকাশে 
ছাই হয় না তারা যেমনি 
গোবরে ফুটলে পদ্মফুল 
গোবর তেমন হয় না দামি।

নিচুমন উচ্চাসন লাভে 
ক শুনি ভালো কী হবে? 
নিজ থেকে ভালো না হলে 
কী হবে শত উপদেশযুক্তি?। 
৩০ শ্রাবণ, ১৪২৪—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম


১৭ 
মনে বড় বেদনা রইল জড়ি 
এ জন্মের কোনো মানে নাই! 
চলে যাব অপূর্ণের মাঝে ফিরি 
জীবন কী? কিছুই তো বুঝি নাই!

খাওয়াদাওয়া আর চাওয়া 
এটাই কি জীবনের পাওয়া? 
কাজ কোনো হলো না কাজের 
জীবন গেল বৃথা ও বৃথায়!।

যা হলো—হয়ে গেল শ্রী-বিশ্রী 
আর তো কিছু করার নাই। 
শেষ করতে তোমার জিকিরি 
এতটু হায়াত-এ-জিন্দেগি চাই।

চাই না আর অযোগ্যধন 
চাই না অনর্থে জড়ুক মন! 
সার্থক জনম হতে পারে 
বাকি দিনে যেন পথটু পাই॥ 
১ ভাদ্র, ১৪২৪—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম


১৮ 
দিনের আলো না হোক 
রাতের আঁধার না হোক, 
তোমার রৌশনে হোক 
রৌশন ‘রৌজা’ রৌশন জালাল॥

দুনিয়ার দস্তুর না হোক 
নিয়মের ধারক না হোক, 
নিন্দার দ্বন্দ্ব হোক 
অনিন্দ্য ‘রৌজা’ রৌশন জালাল॥

নিয়তির নির্ভরক না হোক 
নীতির নির্দেশক না হোক, 
ন্যায়ের আদর্শ হোক 
প্রতীকী ‘রৌজা’ রৌশন জালাল॥

প্রকৃত প্রদর্শক না হোক 
প্রকৃতির সাধক না হোক, 
সত্যের আরাধক হোক 
যথার্থ ‘রৌজা’ রৌশন জালাল॥ 
২ ভাদ্র, ১৪২৪—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম


১৯ 
সৃষ্টি আমি স্রষ্টাবিদ্বেষ কত যে বেমানান 
স্রষ্টা আছে-কি-নেই আছি বোকার তর্কে! 
ঘরের কোণে মাপি আকাশের ব্যবধান 
খুঁজি না সমাধান—কী আছে ঘরের রক্ষে?।

এ প্রকৃতি—বিশ্বচরাচর সচল কেমনে? 
এ গ্রহতারা—নক্ষত্রসমূহ ঘুরছে কীভাবে? 
এ বৃষ্টিবাদল—তুফানহাওয়া বইছে কীসে? 
স্রষ্টার হাজারো হাজিরি রয়েছে সপক্ষে॥

ওই যে মাঠেঘাটে ফুটছে নানান ফুল 
কী মুগ্ধতায় ছড়াচ্ছে সৌরভ চার দিকে! 
এই যে ক্ষুদ্র লতায় ধরছে আশ্চর্য ফল 
এমন উৎস তারা পাচ্ছেবা কোত্থেকে?।

যেদিকে দেখিনে কেন, সৃষ্টি তুলনাহীন 
যেদিকে দেখি মনে হর সবকিছু নমিন! 
কারে মেনে চলছে আসমান ও জমিন 
স্রষ্টার কিবা যায়—দুনিয়া থাকে-না বিপক্ষে॥ 
৩ ভাদ্র, ১৪২৪—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম 

২০ 
মনে মনে ভাবছি 
ভেবে ভেবে কত কী অনুভব করছি—
ক্ষুদ্র মনের কী হবে পরিণতি! 
জনে জনে বলছি 
বলে বলে মুখের লালা মুখেই ঢাকার্ছি—
মনটা বড় রাখলে কী ক্ষতি?।

কারে কিছু দিতে নাই পারলে 
নাইবা কারও উপকারে এলে, 
গনে গনে দেখছি 
দেখে দেখে নিজেকে বোঝাপড়া করছি—
নিয়ত ভালো তো ভালো নিয়তি॥

হতে হতে প্রাণ 
হয়ে হয়ে হতে পারে কে জগন্মহান—
তুলনা নয় ভবে এ আত্মার! 
দিতে দিতে দান 
দিয়ে দিয়ে হওয়া যায় আকাশসমান—
দেওয়ার মতো সুখ কই আর?।

হৃদয়ের কাতারে নাম যার শীর্ষ 
জয় করতে পারে সে পুরো বিশ্ব, 
ক্ষণে ক্ষণে বুঝছি 
বুঝে বুঝে বোঝাই কারে কাজের কথাটি—
ভালো কর্মের ফল হয় ভালোটি॥ 
৪ ভাদ্র, ১৪২৪—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম

Comments

    Please login to post comment. Login