২১
আমি চাই না গো রব আসমানে স্থান
আমার অন্তরে রাখুন মাটিমাতৃর টান।
করতে পারি দুর্ভোগ-দুর্ভিক্ষ দেশের গপ
দেখতে পারি উপবাসী ও বুভুক্ষুদের সব,
না হোক কবে আয়াশি জিন্দেগির বয়ান।
আমার অন্তরে রাখুন মাটিমাতৃর টান॥
আন-বান-শান কত কী যে হয় যে কথন
নিঃস্বদের কাতারে দাঁড়িয়েছে কে? ক-জন?
ওই যে দেশলাইটা পুড়ছে কী ব্যথা
তুচ্ছ বলেই তার হয় নে কোনো কথা,
দরদ পায় নে যে, হয় না সে দরদবান।
আমার অন্তরে রাখুন মাটিমাতৃর টান॥
৫ ভাদ্র, ১৪২৪—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
২২
প্রশস্য প্রশস্য
বিধি আর বিধান প্রশস্য
জগতের সমস্ত কিছুই প্রশস্য।
চন্দ্র-সূর্য-গ্রহ-তারা-নক্ষত্র
বাতাস-বন্যা-বৃষ্টি-বাদল-অভ্র
ধুলোবালি-মাঠ-মাটি-খেত-ফসল শস্য।
প্রশস্য প্রশস্য
জগতের সমস্ত কিছুই প্রশস্য॥
দানব দেবতা
জীবজন্তু আর মানুষ-মহাত্মা
কোনো কিছুই সৃজিত হয়নি অযথা।
বন-বনানী-টিলা-শৈল-শিলা
ঘাস-লতা-ফুল-ফল-গাছপালা
নদনদী-সাগর-ডোবা-জল-জলজ নস্য।
প্রশস্য প্রশস্য
জগতের সমস্ত কিছুই প্রশস্য॥
৫ ভাদ্র, ১৪২৪—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
২৩
দেখাবে আর কত প্রভু দুনিয়ার রং?
কতই আছে বলো আর স্বার্থের ধরন?
জন্ম হতে দেখাচ্ছ গিরগিটি কত প্রকার
আজও দেখে যাচ্ছি রূপ পালটানো তার!।
বুকে টেনে নিয়ে পিঠে মারছে ছুরি
মৃত্যুকূপে ধাক্কা দিচ্ছে সেজে দিশারি!
ধোঁকা খাচ্ছে—খাবে অন্ধবিশ্বাসীগণ—
কতই আছে বলো আর স্বার্থের ধরন?।
একই কলমে লেখা হয়েও কপাল
কারও বদনসিবি তো কারও সুকপাল!
ভাইয়ের দুঃখবিপদে ভাইয়ের কী হাসি
সত্য বলতে পারে না—মায়ের মন দুখী!।
এখানে আপন না আপন পর তো পর
জানপ্রাণ দিতেছে জান নেওয়ার অন্তর!
বোঝা বড় কঠিন অই বেইমানির লক্ষণ—
কতই আছে বলো আর স্বার্থের ধরন?।
৬ ভাদ্র, ১৪২৪—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
২৪
এখানে নয় কেউ—আমিও আমার
এই আছি তো এই নেই!
মাটিতে মিশে কবে মাটি আবার
ইয়ত্তা কি তার আছেই।
জমিয়ে ওঠে শ্রীকান্তের বাজার
দেরি কতক্ষণ কুয়াশায় ঢাকার!
এই দেখো আছি এখন হট্টগোলে
এই দেখো নীরবযাত্রা মুহূর্তেই॥
জীবন ঝিলমিল—আলো-আঁধার
এই দৃশ্যমান এই অদৃশ্য!
ভঙ্গুর শহরে তবু পসরা সাজার
রীত কেন বুঝি নে রহস্য।
পদেপদে কাঁটা—জিল্লতি অশেষ
ছাড়ছি না তবু লালসার দেশ!
কী চিত্রিত মানুষ—বিচিত্র সংসার
যাচ্ছি—কিন্তু আশা ছাড়ছি নেই॥
৭ ভাদ্র, ১৪২৪—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
২৫
সত্যপূজন নিত্যভজন
ধর্মকর্ম আরাধনা
কিছুই সফল না,
যতক্ষণ মিথ্যাসাধন
নিন্দার বন্দনা
অন্তরে ঘুচে না।
কী পুণ্যলাভ? সাধুতাভাব?
অঙ্গে যদি রয় যে অভাব?
মনের মন ঠিক না হলে
পূর্ণ নয় কোনো সাধনা—
সত্যপূজন নিত্যভজন
ধর্মকর্ম আরাধনা॥
জন্ম হতে যে মনেতে
হয়নি অনুভব
করছি কী সব!
দ্বন্দ্ব করতে এ জগতে
আসিনি কব
ক্ষমা চাই রব।
অনুশোচনা যে করে না
মানুষ সে হতে পারে না,
ভুলের ভুল বুঝতে পারলে
কবুল হয় সব প্রার্থনা—
সত্যপূজন নিত্যভজন
ধর্মকর্ম আরাধনা॥
৭ ভাদ্র, ১৪২৪—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
২৬
কী করলাম—করছি কী
ভাবছি বসে তা,
জগতে কি আসা কেবল
খেয়েদেয়ে যাওয়া?
দেশ ছেড়ে যব দেশে দেশে
শেষসংবাদ পৌঁছে যাবে,
কীর্তিকলাপ ওঠবে ভেসে
চর্চা করবে জাহাঁ।
কী করলাম—করছি কী
ভাবছি বসে তা॥
কামাই হয়েছে যা দিনেরাতে
না এলে কই কোনো কাজে,
জন্ম ব্যর্থ—কর্ম অযোগ্যতে
কথাটি রইবে মাঝে।
কতক ফুলে সুগন্ধ—কতকে হারা
কতকে কিছু নেই সৌন্দর্য ছাড়া,
জীবন যদি হয় না কোনো ধারা
মরণ বড় বেদিশা।
কী করলাম—করছি কী
ভাবছি বসে তা॥
৮ ভাদ্র, ১৪২৪—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
২৭
আল্লাহ তুমি পরিপুষ্ট করো
নীলের মতো মানুষের জীবন
স্বচ্ছ সুন্দর উচ্চ উৎকৃষ্টমন।
আল্লাহ তুমি পৃথিবীর গ্লানিকর
ভেসে নাও নুহের প্লাবনের মতন
ফুলেফলে শস্যশ্যামলে হোক পূরণ॥
আল্লাহ তুমি রক্ষা করো সবে
করেছিলে যেরূপ কাহাফিঘুমে
করেছিলে ইউসুফ ইউনুস ইব্রাহিমে।
আল্লাহ তুমি ভরপুর করো তবে
যেভাবে করেছিলে নহরে জমজমে
পারো তুমি সুচের ছিদ্রে হাতির চলন॥
৯ ভাদ্র, ১৪২৪—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
২৮
দমেদমে হরদমে তোমারে কুর্নিশ
জাতীয় পরিচয়ে আমি মুসলিমিন।
জাতীয়তার পরিচয়ে করলে মানুষ
হুঁশজ্ঞানে সৃষ্টি তোমার তুলনাহীন॥
নবিরাসুল করলে নাকো দেবতা
তারচেয়ে বরং বিবেকবান হওয়া।
তারচেয়ে আরও বড় মনুমনুষ্যতা
যা তোমার কাম্য নৃ-থেকে পাওয়া॥
তাতে যদি থাকি খোদা পিছিয়ে
ক্ষমা চাই—আল্লাহ তুমি ক্ষমাসীন।
রেখো সব সময় মঙ্গলে জড়িয়ে
করতে পারি কর্ম-ভালো রাতদিন॥
১০ ভাদ্র, ১৪২৪—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
২৯
অন্তরদুঃখে হাসি হাসি
বিলাতে পারে কে ভালোবাসা রাশি রাশি?
অন্তরদুঃখে হাসি হাসি।
বিষাদের বৃক্ষতলে বসি
গাইতে পারে কে আনন্দের গীতরাশি?
অন্তরদুঃখে হাসি হাসি॥
মনে রেখে মনের জ্বালা
চলতে পারে কে করিয়ে মুখ উজালা?
মনে রেখে মনের জ্বালা।
ভুলিয়ে করতে পারে কে কর্ম আদর্শী?
অন্তরদুঃখে হাসি হাসি॥
হাতে নিয়ে ধ্বংসবীণা
গড়তে পারে কে সুন্দরের রাজ্যরচনা?
হাতে নিয়ে ধ্বংসবীণা।
সইয়ে অপমান-লাঞ্ছনা
করতে পারে কে শান্তির বন্দ্যবন্দনা?
হাতে নিয়ে ধ্বংসবীণা॥
আঘাত-আঘাতে যত ঘায়েল
ততই হতে পারে কে অনুরাগী পায়েল?
আঘাত-আঘাতে যত ঘায়েল।
অনুরাগে হতে পারে কে রাগের বশবশী?
অন্তরদুঃখে হাসি হাসি॥
১১ ভাদ্র, ১৪২৪—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম
৩০
মাওলা তোমার প্রেমসাগরে
আমার এ পানসি প্রণয়তরী
ছেড়ে দিছি—বাইতে পারি
সেই সামর্থ্য দাও আমারে
দাও হে বন্ধু পুরোপুরি।
তুমি বড় প্রেমধন হে মোহন
তোমার মতো কে সে সুজন
হে সুজন—ঘাটে ঘাটে তুমিই
আমার একমাত্র অর্থকড়ি॥
আমার আশেকি বন্দেগি
তোমার প্রেম-এবাদতে হরদমেতে
ঝোঁকাও তারে—চালাও সেপথে
তুমি যদি দাও না দিশি
আমি যে দিশেহারী।
তোমার ওই ভালোবাসা ছাড়া
কেমনে চলে এই জীবনধারা
তুমি বিনে চাই নে কিছুই
চাই না কোনো আহামরি॥
১৩ ভাদ্র, ১৪২৪—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম