Post

‘রৌজা’ গীতিকবিতা পর্ব (৪)

May 19, 2024

Original Author আযাহা সুলতান

340
View

৩১ 
‘কপাল’ ‘কপাল’ করে সান্ত¦না 
কপালে বিধি লিখেনি অজ্ঞতা, 
‘ভাগ্যে যা আছে ঘটবে ঘটনা’ 
বদলায় না অমন বিধিলেখা।

বরাতের পরে নির্ভর করে 
বসে থাকলে কি হবে ঘরে? 
চেষ্টা যদি হয় না অত তা 
খণ্ডে কি কখনো দুঃখরেখা?।

আদরের বন্ধন যত শক্ত হবে 
ততই বাড়বে মায়ার পিছুটান, 
দয়াপরবশের আদতে ধাবলে 
কঠিন দলদল থেকে উত্থান।

সুলভে যদি পাওয়া যায় কিছু 
ফেলনা তা—কদর নেই এতটু! 
অতি কষ্টে অর্জন না হলে হাঁ, 
বোঝা যাবে না শ্রমের মর্যাদা॥ 
১৭ ভাদ্র, ১৪২৪—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম


৩২ 
দয়াময়, 
পৃথ্বী শান্তির আবাস করো সুখময় 
হিংস্রমন হোক অহিংস অমিয়ময়—
দয়াময়!

আজকে যে চারি দিকে দ্বন্দ্ববিগ্রহ 
আজকে যে জাতিতে জাতিতে নিগ্রহ! 
পুড়ছে হিংসার দাবানলে জগন্ময় 
তা হলে কি বুঝব কি দুষ্টের জয়? 
দয়াময়!।

হৃদয়বান, 
নিষ্ঠুরে নেই তোমার আদানপ্রদান 
তবে কেন ফুটছে অনিষ্টের কামান? 
হৃদয়বান!

যেদিকে দেখি আজ ভালো দেখছি নে 
যেদিকে দেখছি চলছে মন্দের প্রভাবনে! 
হত্যায় নেমেছে হত্যা যাদের কাম্য নয় 
তা হলে কীসে অহিংস পরম ধর্ম হয়? 
দয়াময়!। 
১৯ ভাদ্র, ১৪২৪—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম


৩৩ 
আমি বুঝি না কোনটে আবেদ, 
কোথা প্রভেদ—
ঈশ্বর প্রভু আল্লাহ খোদা গড ভগবান। 
আমি জানি না উঁচুনিচু কী ভেদ, 
জাতীয় বিভেদ—
হিন্দু মুসলমান বৌদ্ধ ইহুদ খ্রিস্টান॥

আমি জানি শুধু এটুকু 
বুঝি শুধু কান্না আর দুঃখ, 
মানি তিনিই একক—তিনিই পৃথক 
সকল জাতি ও সর্ব নামের এক স্থান—
হিন্দু মুসলমান বৌদ্ধ ইহুদ খ্রিস্টান॥

ওই তারা কত গোপনে খুঁজিছে, 
নীরবে ডাকিছে—
সেখানেও বলছে তিনি—আছি আছি। 
এই এরা কী সাড়ম্বরে স্মরিছে, 
প্রার্থনা করিছে—
এখানেও হাতছানি সেই—আমি আছি॥

কোথা নেই তাঁর উপস্থিতি? 
কীসে নেই তাঁর প্রণয়প্রীতি? 
বোঝাই কারে সুনীতি—কে শুনে সুকথা? 
সবখানে তিনি ও সমান্তরালে অবস্থান—
ঈশ্বর প্রভু আল্লাহ খোদা গড ভগবান॥ 
২২ ভাদ্র, ১৪২৪—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম 

৩৪ 
ঘুমাতে পারি না বিন্দুমাত্রেক 
ঘুমিয়ে গেছে কি বিশ্ববিবেক? 
দুনিয়া চলছে বিধ্বস্ত হতে 
মানুষে মানুষের যুদ্ধসংঘাতে॥

কী হবে নাজানি দুনিয়াতে আর 
কেয়ামত স্পষ্ট নিকটে দেখা যার! 
মানুষই উন্নতি মানুষই পতনেক 
মানুষই ধ্বংস মানুষই হিতেক॥

কত হবে আর পৃথিবীতে অশান্তি? 
কত থাকব আর দুষ্টকরে জিম্মি? 
তুমি যদি চাও মুখ তুলে বারেক 
সৃষ্টি হতে পারে শান্তি-ভুঁই আরেক॥ 
২৪ ভাদ্র, ১৪২৪—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম 

৩৫ 
কারে জানাব অভিযোগ 
কারে বলি মনের দুখ! 
কে আছে শোনার লোক 
কে দেবে সান্ত্বনাসুখ।

মনে রইল মনের দরদ 
প্রকাশি পাই নে পথ, 
বয় না স্রোত মরানদ 
কীসে পাই সজলমুখ॥

দিলের জ্বালা বড় জ্বালা 
গাঁথব কী প্রেমের মালা! 
গাইব কী গান সুরেলা 
দুঃখে দুঃখে কণ্ঠ মূক।

চৌদিকে ব্যথার কোলাহল 
কোথা পাই সেই মনোবল, 
ঘুমে শুনি কান্নার রোল 
অসহায়ত্বে ভাঙে বুক॥ 
২৫ ভাদ্র, ১৪২৪—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম


৩৬ 
মহাত্মারা কেমন ছিলেন 
কে কেমনি মহৎ কত, 
হয়তো আমার বাবার মতো। 
চলে-বলে কেমন ছিলেন 
কে কেমনি নম্রনত, 
হয়তো আমার বাবার মতো॥

তাদের যাপন কেমনেতে 
হয়েছিল এই ভবেতে, 
ধর্মকর্ম-সত্য-আদর্শেতে 
মিথ্যা দলে যেত—
হয়তো আমার বাবার মতো॥

সাধন-শোধন-আরাধনে 
মগ্ন কিবা থাকত বেশি, 
সৃষ্টিসেবায়—স্রষ্টাকে ভালোবাসি। 
নিষ্ঠা-নৈষ্ঠিক-আচরণে 
নিরপেক্ষ—নিখুঁত বেশি, 
সৃষ্টিসেবায়—স্রষ্টাকে ভালোবাসি॥

হয়নি হয়তো এমন কিছু 
তাদের হাতে কর্মনিচু, 
ভুলেগোলে হলে তুচ্ছু 
মরত দুঃখে শত—
হয়তো আমার বাবার মতো॥ 
২৬ ভাদ্র, ১৪২৪—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম 

৩৭ 
কবরস্থানে 
এখানে না এলে বুঝতে পারে কে 
জীবনের মানে। 
সসম্মানে 
এখানে দাঁড়িয়ে পল-দু-পল নীরবতা 
করে দেখো মনে॥

এই যে দালানবাড়ি—বড় বড় ইমারত 
এই যে সুখের সংসার—ধনজনের মহব্বত, 
কিছুই কি হবে সঙ্গী কালকের যাত্রাক্ষণে? 
কবরস্থানে॥

ক্ষুদ্রকার 
চরকার মতো ঘুরে আসতে জীবন 
পলকে পার। 
বেসুমার 
হয়েছে যা ভারী হিসাবের খাতা 
বওয়ানো ভার॥

ছোট্ট এ পরিসরে যা কিছু হয়েছে উপার্জন 
কী জানি কী হতে পারে হাসি কিবা ক্রন্দন, 
বড় ডরে আছি হিসাবনিকাশের লেনদেনে—
কবরস্থানে॥ 
২৭ ভাদ্র, ১৪২৪—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম


৩৮ 
বাবার কবরের পাশে যেন আমার কবর হয় 
মায়ের ভালোবাসা সেখানে আছে—পাব নিশ্চয়। 
জীবদ্দশায় যে-ভালোবাসার ছোঁয়া কভু পাইনি 
মৃত্যুর পরে দেখতে চাই—চাইব তার রূপখানি॥

জন্ম থেকে ছুটতে ছুটতে সাত সমুদ্র পার 
এপার থেকে হাতছানি দেখা যায় না আর, 
বিচ্ছেদের বিন্দু দুঃখ সিন্ধু সুখের সমান নয়—
বাবার কবরের পাশে যেন আমার কবর হয়॥

অভিমানের বেড়াজালে ভেঙেছিল যেই মন 
ক্ষমা নেই হয়তো যত করি আল্লাহনাম জপন। 
আমার ঈশ্বর আমার মাতাপিতাতে জানি 
মাতাপিতার চরণে কিবা আমার জান্নাতখানি॥

ওপার গিয়ে যদি পাই তাদের স্নেহের পরশ 
এপারের সমস্ত বিরাগ মুছে বন্ধন হবে সরস, 
এতটুকু প্রার্থনা তোমার দরবারে প্রভু-দয়াময়—
বাবার কবরের পাশে যেন আমার কবর হয়॥ 
২৮ ভাদ্র, ১৪২৪—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম


৩৯ 
মাত্র এসেছি যাপন হয়নি অধিক 
আবার যাওয়ার চলছে প্রস্তুতি! 
মাত্র বসেছি জিরাইনি খানিক 
হইচই পড়ে গেল নিত্যনিতি!

বাঃ বাঃ বাঃ লা-জবাব তুমি 
জবাব নেই তোমার রচন আমি, 
ভাঙাগড়ার গ্রন্থন আশ্চর্য নিয়তি॥

কী পরিপাটি সাজানো কারখানা 
এসে দেখি কী সুন্দর আয়োজন! 
চলছে কারে করতে বরণবন্দনা 
আমায় ঘিরে এত কী প্রয়োজন!

কান্নার ভেতরে বলছি—শুনেনি 
তারপর হাসছি কী আর কাঁদিনি, 
এবার দুনিয়ার কান্না আমার প্রতি॥ 
২৯ ভাদ্র, ১৪২৪—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম


৪০ 
ভেঙে যাবে হাটের মেলা 
ভেঙে যাবে রঙের খেলা, 
ভেঙে যাবে দেহের ভেলা 
মাঠেঘাটে নামবে কুয়াশা॥

পড়ে যাবে যাওয়ার গোল 
কার আগে কে পাবে কূল, 
কার আগে কে হয় মকবুল 
লেগে যাবে কী ধুমধাড়াক্কা॥

খোলা হবে কাজের খাতা 
দেখা হবে প্রাপ্যযোগ্যতা, 
নিঃস্ব না বিশ্ব—না যা তা 
লিখা হয়েছে আমলনামা॥

এখানে যে রাজার রাজা 
ওখানে সে কাটবে সাজা, 
শেষ হলে সব ঘষামাজা 
বন্ধ হবে চিরবেচাকেনা॥ 
২৯ ভাদ্র, ১৪২৪—ডি সি রোড, চট্টগ্রাম 

Comments

    Please login to post comment. Login