কিছু মানুষ আমাদের জীবনে এতটাই স্বাভাবিকভাবে উপস্থিত থাকেন যে, তাঁদের উপস্থিতির মূল্য আমরা আলাদা করে বুঝতে পারি না।
বাবা তেমনই একজন মানুষ।
ছোটবেলায় মনে হয়, বাবা শুধু শাসন করেন।
কৈশোরে মনে হয়, বাবা আমাদের বোঝেন না।
যৌবনে মনে হয়, বাবা পুরোনো চিন্তার মানুষ।
আর একদিন, যখন নিজের কাঁধে দায়িত্ব এসে পড়ে, তখন হঠাৎ মনে হয়—
“আমার বাবা কীভাবে এত কিছু সামলেছিলেন?”
সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই এই বইয়ের জন্ম।
এ বই কোনো একজন বাবার গল্প নয়।
এখানে যে বাবা আছেন, তিনি হয়তো আপনার বাবা।
হয়তো আমার বাবা।
হয়তো পাশের বাড়ির সেই নীরব মানুষটি, যিনি প্রতিদিন ভোরে বেরিয়ে যান আর রাতে ক্লান্ত শরীরে ঘরে ফেরেন।
বাবারা খুব অদ্ভুতভাবে ভালোবাসেন।
তাঁরা ভালোবাসেন, কিন্তু প্রকাশ করেন না।
কাঁদেন, কিন্তু চোখের জল দেখান না।
কষ্ট পান, কিন্তু বলেন—“কিছু হয়নি।”
নিজের প্রয়োজন কমিয়ে সন্তানের প্রয়োজনকে বড় করেন।
তাঁদের ভালোবাসার ভাষা কখনো টাকা,
কখনো শাসন,
কখনো অপেক্ষা,
কখনো একটি ফোনকল,
কখনো রাত জেগে দরজার দিকে তাকিয়ে থাকা।
আর কখনো শুধু একটি বাক্য—
“সাবধানে যাস।”
এই ছোট্ট বাক্যের ভেতরেও একজন বাবার পুরো পৃথিবী লুকিয়ে থাকতে পারে।
এই বই লিখতে গিয়ে আমি বারবার একটি কথাই অনুভব করেছি—
বাবাকে আমরা যতটা দেখি, বাবা তার চেয়েও অনেক বেশি কিছু।
তাঁর হাসির পেছনে ক্লান্তি আছে।
তাঁর নীরবতার পেছনে চিন্তা আছে।
তাঁর রাগের পেছনে ভয় আছে।
আর তাঁর কঠোরতার পেছনে আছে অসীম ভালোবাসা।
হয়তো এই বই পড়তে পড়তে কোনো এক জায়গায় আপনার নিজের বাবার কথা মনে পড়বে।
হয়তো মনে পড়বে তাঁর সঙ্গে কাটানো কোনো বিকেল।
হয়তো মনে পড়বে তাঁর পুরোনো সাইকেল।
হয়তো মনে পড়বে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে ফিরে যাওয়ার দৃশ্য।
হয়তো মনে পড়বে তাঁর বকা।
অথবা সেই দিনটির কথা, যেদিন আপনি শেষবার বাবার হাত ধরেছিলেন।
যদি এমন হয়, তাহলে কিছুক্ষণ বইটি বন্ধ রাখবেন।
বাবা কাছে থাকলে তাঁর পাশে গিয়ে বসবেন।
আর যদি দূরে থাকেন, তাঁকে একটি ফোন করবেন।
শুধু বলবেন—
“বাবা, কেমন আছো?”
হয়তো তিনি অবাক হয়ে বলবেন,
“কী হয়েছে?”
আপনি কিছু বলবেন না।
কারণ কিছু ভালোবাসার ব্যাখ্যা প্রয়োজন হয় না।
এই বই সেই না-বলা ভালোবাসার গল্প।
বাবার ভালোবাসার গল্প।