কলেজের প্রথম দিন নিয়ে মানুষের অনেক রকম গল্প থাকে। কারও প্রথম দিন মনে থাকে নতুন জামার গন্ধের জন্য, কারও মনে থাকে অচেনা মুখের ভিড়, আবার কারও মনে থাকে এমন একটি মানুষের কথা, যার সঙ্গে প্রথম দেখা হওয়ার মুহূর্তটাকে তখন বিশেষ কিছু মনে হয়নি। আমারও সেদিন বিশেষ কোনো পরিকল্পনা ছিল না। শুধু ভেবেছিলাম, নতুন কলেজে গিয়ে একটা ভালো জায়গায় বসব, ক্লাস শেষ হলে বাড়ি ফিরব, আর পরদিন থেকে সবকিছু হয়তো একটু সহজ হয়ে যাবে। তখনও জানতাম না, সেই সাধারণ সকালটাই একদিন আমার জীবনের সবচেয়ে বেশি মনে পড়া সকালগুলোর একটি হয়ে থাকবে।
জুলাইয়ের সকাল। আগের রাতের বৃষ্টিতে রাস্তাগুলো ভেজা, কিন্তু বাতাসে গরমের আঠালো ভাব একটুও কমেনি। ঘুম থেকে উঠেই মনে হয়েছিল, আজ নিশ্চয়ই দেরি হয়ে যাবে। মা তখনও রান্নাঘরে ব্যস্ত। আমাকে দেখে বললেন, “আজ কিন্তু প্রথম দিন। দেরি করে গিয়ে সবার সামনে দাঁড়িয়ে থাকিস না।”
আমি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে শার্টের কলার ঠিক করতে করতে বললাম, “কলেজে যাচ্ছি, চাকরির ইন্টারভিউ দিতে না।”
মা হেসে বললেন, “প্রথম দিন বলে কথা। মানুষজন তোকে দেখে কী ভাববে সেটাও একটা ব্যাপার।”
“আমি কী মানুষজনকে দেখতে যাচ্ছি, না মানুষজন আমাকে?”
মা কোনো উত্তর দিলেন না। শুধু টিফিনের বাক্সটা ব্যাগে ঢুকিয়ে দিয়ে বললেন, “যা, বেশি কথা বলিস না।”
বাবা তখন বারান্দায় বসে পত্রিকা পড়ছিলেন। আমাকে দেখে পত্রিকার ওপর দিয়ে একবার তাকিয়ে বললেন, “সময়মতো ফিরিস।”
“কলেজে যাচ্ছি, বাবা। অফিসে না।”
“কলেজের প্রথম দিনেই এত কথা শিখে গেলি?”
আমি হেসে বেরিয়ে এলাম।
কলেজের গেটের সামনে পৌঁছাতেই বুঝলাম, মা অকারণে চিন্তা করেননি। গেটের ভেতর-বাইরে নতুন মুখের ভিড়। কেউ বন্ধুর সঙ্গে দাঁড়িয়ে, কেউ মোবাইলে ব্যস্ত, কেউ আবার এমনভাবে চারপাশ দেখছে যেন ভুল করে কোনো অচেনা শহরে চলে এসেছে। কয়েকজনের হাতে নতুন খাতা, কারও কাঁধে ঝকঝকে ব্যাগ। সবাই যেন নিজেদের পুরোনো পরিচয়টা বাড়িতে রেখে এসেছে এবং এখানে এসে নতুন করে পরিচিত হওয়ার অপেক্ষায়।
আমি ক্লাসরুম খুঁজতে খুঁজতে দ্বিতীয় তলায় উঠে গেলাম। দরজার পাশে লেখা—২০৭। ভেতরে ঢুকে প্রথমেই চোখ গেল বেঞ্চগুলোর দিকে। সামনের দিকের বেঞ্চগুলো প্রায় ভরে গেছে। সেখানে বসা ছেলেমেয়েদের দেখে মনে হলো, তারা প্রথম দিন থেকেই কলেজের সব নিয়মকানুন মুখস্থ করে এসেছে। মাঝের সারিগুলোতেও কয়েকজন বসে পড়েছে। পেছনের দিকে গিয়ে দেখলাম, জানালার পাশে শেষ বেঞ্চটা খালি।
আমি এক মুহূর্তও ভাবলাম না।
ব্যাগটা রেখে জানালার পাশে বসে পড়লাম।
জানালার বাইরে কলেজের পুরোনো মাঠ দেখা যাচ্ছিল। মাঠের এক পাশে কয়েকটা কদমগাছ, ভেজা পাতায় পানি জমে আছে। দূরে দুজন কর্মচারী দাঁড়িয়ে কথা বলছিল। আমি মনে মনে ঠিক করে ফেললাম, এই জায়গাটাই আমার।
কিছুক্ষণ পর একজন ছেলে দরজায় দাঁড়িয়ে চারপাশ দেখে সরাসরি আমার দিকে এগিয়ে এল। তার চেহারায় এমন একটা আত্মবিশ্বাস ছিল, যেন কলেজটা তার বাবার সম্পত্তি এবং আমি তার জায়গা দখল করে বসে আছি।
সে বেঞ্চের সামনে দাঁড়িয়ে বলল, “ভাই, এখানে কেউ বসেছে?”
আমি বললাম, “না।”
“তাহলে বসি?”
“বসো।”
সে ব্যাগটা নামিয়ে আমার পাশে বসে বলল, “ধন্যবাদ। আজ থেকে আমরা প্রতিবেশী।”
আমি হেসে ফেললাম। “তোমার নাম কী?”
“শাওন। আর তোমার?”
“রুদ্র।”
“রুদ্র—ভালো নাম। তবে চেহারা দেখে মনে হচ্ছে তুমি বেশি কথা বলো না।”
আমি বললাম, “প্রথম দিনেই এত গবেষণা করছ কেন?”
শাওন গম্ভীর মুখ করে বলল, “আমি মানুষ পর্যবেক্ষণ করি। ভবিষ্যতে কাজে লাগবে।”
“কী কাজে?”
“এখনো জানি না। তবে কোনো না কোনো কাজে লাগবেই।”
তার সঙ্গে কথা বলার পাঁচ মিনিটের মধ্যেই বুঝে গেলাম, ছেলেটা স্বাভাবিক নয়। তবে বিরক্তিকরও নয়। বরং অচেনা জায়গায় এমন একজনকে পাশে পাওয়া বেশ স্বস্তির ছিল।
ক্লাস শুরু হওয়ার কয়েক মিনিট আগে দরজার কাছে আবার একটা মেয়ে এসে দাঁড়াল। হাতে দুটো বই, কাঁধে নীল ব্যাগ। সে ভেতরে ঢুকে খালি জায়গাগুলো দেখে শেষ বেঞ্চের দিকে এগিয়ে এল। আমাদের সামনে এসে থামল।
“এই জায়গাটা খালি?”
শাওন আমার দিকে তাকাল। তারপর আমার উত্তর দেওয়ার আগেই বলল, “খালি। তবে বসার আগে কিছু নিয়ম আছে।”
মেয়েটি ভ্রু কুঁচকে বলল, “কী নিয়ম?”
“এই বেঞ্চে বসলে আমাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে হবে।”
মেয়েটি একবার শাওনের দিকে, তারপর আমার দিকে তাকাল। “বন্ধুত্ব না করলে?”
শাওন বলল, “তাহলে একা বসতে হবে।”
মেয়েটি মৃদু হেসে বলল, “তা হলে নিয়মটা খুব কঠিন না।”
সে আমাদের পাশের জায়গাটায় বসে পড়ল।
আমি তখন জানালার বাইরে তাকিয়ে ছিলাম। কেন জানি না, হঠাৎ নিজের খাতাটা বন্ধ করে তার দিকে তাকালাম।
সে বই খুলে বসেছে। মুখে কোনো বিশেষ ভাব নেই। চারপাশের হৈচৈ যেন তাকে খুব একটা বিরক্ত করছে না। কয়েক সেকেন্ড পর সে আমার দিকে তাকিয়ে বলল, “তোমার নাম রুদ্র, তাই তো?”
আমি একটু অবাক হয়ে বললাম, “হ্যাঁ। জানলে কীভাবে?”
সে আমার খাতার দিকে ইশারা করল। “খাতার ওপর নাম লেখা আছে।”
আমি খাতার দিকে তাকিয়ে একটু অস্বস্তি বোধ করলাম। এতক্ষণে বুঝলাম, প্রথম দিনেই নিজের নামটা খুব বড় করে লিখে রেখেছিলাম।
শাওন সঙ্গে সঙ্গে বলল, “তোমার পরিচয় দেওয়ার দরকার নেই, রুদ্র। গোটা ক্লাস তোমার খাতার মাধ্যমে তোমাকে চিনে ফেলবে।”
মেয়েটি এবার হেসে ফেলল।
“আমি মেঘলা,” সে বলল।
শাওন বলল, “মেঘলা? নামটা আজকের আবহাওয়ার সঙ্গে খুব মানানসই।”
মেঘলা জানালার বাইরে তাকিয়ে বলল, “আকাশ মেঘলা না হলে নামটা বদলে ফেলব নাকি?”
“না, তবে আজ তোমার নামের পক্ষে প্রাকৃতিক প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে।”
আমি হেসে ফেললাম। মেঘলাও হাসল। সেদিন প্রথমবার তার হাসিটা দেখেছিলাম। তখন জানতাম না, অনেক বছর পরেও সেই হাসিটা আমার স্মৃতিতে এত স্পষ্ট থাকবে।
প্রথম ক্লাসে শিক্ষক এসে উপস্থিতির খাতা খুললেন। একে একে নাম ডাকতে লাগলেন। কেউ ‘জি স্যার’ বলছে, কেউ ‘উপস্থিত’, কেউ আবার এমনভাবে উত্তর দিচ্ছে যেন সেনাবাহিনীর প্যারেড চলছে। শাওন আমার কানে কানে মন্তব্য করছিল, আর আমি হাসি চেপে রাখার চেষ্টা করছিলাম।
মেঘলা একবার আমাদের দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলল, “প্রথম দিনেই ধরা খেতে চাও?”
শাওন বলল, “ধরা খেলে তো পরিচিতি হবে।”
মেঘলা মাথা নাড়ল। “তোমাদের সঙ্গে বসে আমার ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা হচ্ছে।”
আমি বললাম, “তুমি চাইলে সামনে গিয়ে বসতে পারো।”
“না,” সে জানালার বাইরে তাকিয়ে বলল, “এখান থেকেই ভালো দেখা যায়।”
“কী?”
“সবকিছু।”
সেদিন কথাটা খুব সাধারণ মনে হয়েছিল। এখন ভাবলে মনে হয়, মানুষ কখনো কখনো এমন কিছু কথা বলে যায়, যার অর্থ সে নিজেও তখন জানে না।
দুপুরের দিকে ক্লাসের ফাঁকে শাওন আমাদের দুজনকে নিয়ে ক্যান্টিনে গেল। কলেজের ক্যান্টিনটা খুব একটা বড় নয়। টিনের চাল, পুরোনো কাঠের টেবিল, দেয়ালে বিবর্ণ কিছু পোস্টার আর এক কোণে সবসময় ফুটতে থাকা চায়ের কেটলি। শাওন ভেতরে ঢুকেই ঘোষণা করল, “এই জায়গাটাই আসল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।”
মেঘলা বলল, “কেন?”
“ক্লাসে শিক্ষকরা যা শেখান, এখানে মানুষ সেটা প্রয়োগ করে।”
আমি বললাম, “যেমন?”
শাওন একটা বিস্কুট তুলে নিয়ে বলল, “বন্ধুত্ব, অর্থনীতি, রাজনীতি—সব।”
মেঘলা হেসে বলল, “তুমি কি সবকিছুর সঙ্গে রাজনীতি জুড়ে দাও?”
“না। চায়ের সঙ্গে চিনি জুড়ি।”
আমরা তিনজন চা নিলাম। টাকা দিতে গিয়ে মেঘলা পকেট থেকে টাকা বের করল। শাওন সঙ্গে সঙ্গে বলল, “না না, প্রথম দিনেই আমাদের সম্মান নষ্ট করো না।”
মেঘলা বলল, “সম্মান আর পাঁচ টাকার চায়ের মধ্যে সম্পর্কটা কী?”
“অনেক গভীর সম্পর্ক।”
“তাহলে তুমি দাও।”
শাওন পকেট হাতড়ে কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, “আমার টাকা আজ বাড়িতে বিশ্রাম নিচ্ছে।”
আমি হেসে ফেললাম। মেঘলা শেষ পর্যন্ত তিনজনের চায়ের দাম দিয়ে দিল।
শাওন চায়ের কাপ হাতে নিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে বলল, “রুদ্র, বিষয়টা লক্ষ করেছিস?”
“কী?”
“আজকের চা।”
মেঘলা ভ্রু তুলল। “চায়ের মধ্যে আবার কী আছে?”
শাওন রহস্যময় মুখ করে বলল, “গল্পের শুরু।”
মেঘলা এবার সরাসরি বলল, “তুমি কি সবকিছুর মধ্যে প্রেম খুঁজে পাও?”
শাওন বলল, “না। তবে প্রেম যদি নিজে থেকে এসে দাঁড়ায়, তাকে ফিরিয়ে দেওয়া ঠিক না।”
মেঘলা মাথা নেড়ে চায়ে চুমুক দিল। আমি কোনো কথা বললাম না। কিন্তু অদ্ভুতভাবে কথাটা আমার মনে থেকে গেল।
বিকেলের দিকে কলেজের নোটিশ বোর্ডের সামনে ভিড় হলো। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য নাম নেওয়া হবে। শাওন আমাকে প্রায় টেনে নিয়ে গেল।
“তুই নাম দিবি।”
“কিসের?”
“কিছু একটা।”
“কিছু একটা কী?”
“সেটা পরে দেখা যাবে।”
আমি নাম দিতে রাজি হচ্ছিলাম না। মেঘলা পাশে দাঁড়িয়ে সব শুনছিল। শেষ পর্যন্ত সে বলল, “তুমি সবকিছুতেই এত ভয় পাও কেন?”
আমি বললাম, “ভয় না। ইচ্ছা নেই।”
“ইচ্ছা না থাকলে ভালো। কিন্তু শুধু অন্যরা কী ভাববে সেটা ভেবে কিছু না করলে সমস্যা।”
আমি তার দিকে তাকিয়ে বললাম, “তুমি তাহলে কী করবে?”
“ডিবেট।”
“তুমি বিতর্ক করো?”
“হ্যাঁ।”
শাওন সঙ্গে সঙ্গে বলল, “তাই তো বুঝেছিলাম। কথা বলার ধরন দেখেই বোঝা যায়।”
মেঘলা বলল, “তোমার সঙ্গে বিতর্ক করলে জেতা কঠিন হবে।”
শাওন বলল, “কারণ?”
“তুমি যুক্তি দিয়ে কথা বলো না।”
“তা হলে?”
“শব্দ দিয়ে।”
শাওন কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, “আমি অপমানিত।”
আমরা সবাই হেসে ফেললাম।
শেষ ক্লাসের সময় হঠাৎ আবার বৃষ্টি নামল। প্রথমে টুপটাপ, তারপর কিছুক্ষণের মধ্যে জানালার কাচে একটানা শব্দ হতে লাগল। শিক্ষক পড়াচ্ছিলেন, কিন্তু আমাদের অনেকের মন তখন জানালার বাইরে। মাঠের ওপর বৃষ্টির পর্দা নেমে গেছে। গাছগুলো আরও সবুজ দেখাচ্ছে।
মেঘলা বই বন্ধ করে জানালার দিকে তাকিয়ে বলল, “বৃষ্টির সময় কলেজটা অন্যরকম লাগে।”
আমি বললাম, “তুমি সবকিছুর মধ্যে কিছু না কিছু খুঁজে পাও, তাই না?”
সে একটু ভেবে বলল, “হয়তো। সবকিছু যদি শুধু যেমন আছে তেমনই দেখি, তাহলে মনে রাখব কীভাবে?”
আমি কোনো উত্তর দিলাম না।
সেদিন প্রথমবার মনে হলো, মেয়েটা শুধু কথা বলে না; কথার ভেতরেও কিছু রেখে যায়।
কলেজ ছুটি হলো। বৃষ্টি তখনও থামেনি। শাওন দৌড়ে সিঁড়ি দিয়ে নেমে গেল। যাওয়ার আগে পেছন ফিরে চিৎকার করে বলল, “রুদ্র, কাল কিন্তু দেখা হবে!”
আমি মাথা নাড়লাম।
গেটের কাছে এসে দেখি মেঘলা ছাতা খুলেছে। সে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে বলল, “তোমার ছাতা নেই?”
“না।”
“তাহলে?”
“বৃষ্টি একটু কমলে যাব।”
সে আকাশের দিকে তাকিয়ে বলল, “আজ কমবে বলে মনে হয় না।”
তারপর ছাতাটা একটু এগিয়ে ধরে বলল, “চাইলে কিছুটা পথ আসতে পারো।”
আমি কয়েক সেকেন্ড চুপ করে রইলাম। তারপর বললাম, “না, তুমি যাও। আমি চলে যাব।”
মেঘলা বলল, “ঠিক আছে।”
সে চলে গেল।
আমি কিছুক্ষণ গেটের পাশে দাঁড়িয়ে তার চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থাকলাম। নিজের ওপরই একটু বিরক্ত হলাম। কেন যে গেলাম না, নিজেই জানি না। হয়তো তখনও আমি বুঝিনি, কিছু কিছু মুহূর্তকে খুব স্বাভাবিক ভেবে এড়িয়ে গেলে পরে সেগুলোই অস্বাভাবিকভাবে মনে পড়ে।
বাড়ি ফিরতে ফিরতে জামার কাঁধ ভিজে গিয়েছিল। দরজা খুলতেই মা রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এলেন।
“এত দেরি হলো কেন?”
“বৃষ্টি।”
মা আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, “বৃষ্টি তো আজ সারাদিনই ছিল। কলেজ কেমন লাগল?”
আমি জুতো খুলতে খুলতে বললাম, “ভালো।”
“বন্ধু হয়েছে?”
“একজন।”
“শুধু একজন?”
আমি একটু থেমে বললাম, “আর একজন ছিল।”
মা মুচকি হেসে বললেন, “ছেলে না মেয়ে?”
আমি মায়ের দিকে তাকালাম। তিনি এমনভাবে হাসছিলেন, যেন উত্তরটা আগেই জানেন।
“মা!”
“আচ্ছা, আচ্ছা। খেতে আয়।”
রাতে পড়ার টেবিলে বসে খাতা খুললাম। পরদিনের ক্লাসের কিছুই তখন মাথায় ঢুকছিল না। জানালার বাইরে বৃষ্টির শব্দ হচ্ছিল। হঠাৎ নতুন একটা খাতা বের করে প্রথম পাতায় লিখলাম—
কলেজ — প্রথম দিন
তার নিচে লিখলাম—
রুদ্র
শাওন
মেঘলা
কিছুক্ষণ নাম তিনটার দিকে তাকিয়ে থাকলাম। তারপর খাতা বন্ধ করে ফেললাম।
সেদিন মেঘলাকে নিয়ে কোনো স্বপ্ন দেখিনি। তাকে ভালো লাগছে—এমন কথাও ভাবিনি। প্রেমের মতো বড় কোনো শব্দের সঙ্গে তার নাম জুড়িনি। শুধু মনে হয়েছিল, কাল আবার কলেজে যেতে ইচ্ছে করছে।
আর সেই অনুভূতিটাই ছিল আমার গল্পের সবচেয়ে ছোট অথচ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শুরু।
কারণ কিছু গল্পের শুরুতে ভালোবাসা থাকে না। থাকে শুধু—পরের দিন আবার দেখা হবে, এই সামান্য অপেক্ষা।